রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
মানব মনের বিচিত্র গতি-প্রকৃতি কোনও বাঁধাধরা নিয়ম মানে না। তাই কখন মানুষ কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে তার পূর্বাভাষ পাওয়া শক্ত। কোন কথায় কার মনে কোন প্রতিক্রিয়া তীব্রতা পাবে, তার কোন ঠিক ঠিকানা থাকে না। এমন হতেই পারে শত অনুযোগ-অভিযোগ গায়ে-না-মাখা সর্বংসহা মানুষটি আচমকা একদিন কোন একটি সাধারণ কথার অন্য কোনও গূঢ় অভিপ্রায় ভেবে বসলেন। আর মূহুর্তের মধ্যে এমনই এক মারাত্মক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন যাতে ভবিষ্যতের ব্যক্তিসম্পর্ক টুকরো টুকরো হয়ে গেল!
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা এমনই আকস্মিক এক মাঝবয়সী উচ্চ মধ্যবিত্ত দম্পতি। অভাব নেই। সেই অর্থে অপ্রাপ্তি নেই, নেই দুর্দশাও! স্বামী বিবাহযোগ্য সন্তান সফল। সকালে তারা যে যার অফিসে যাবার পর আচমকা মাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না! ছেলে অবাক! এমন তো কখনও ঘটে না! বাবাকে জানালো! পোস্টপেড কানেকশন সুতরাং ব্যাল্যান্স না থাকার প্রশ্নই নেই, বাবা বললেন হয়তো নেট-ওয়ার্ক নেই! ঘণ্টা দুই কাটল। এর মধ্যে বাবা ছেলে ক্রমাগত ফোনে চেষ্টা করে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৩: মা সারদা নিজের কষ্ট গোপন রাখতেন

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৭: অনুসরণ/৮

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২১: মহারাজ অফ শান্তিনিকেতন

তবে কি শরীর খারাপ হল? সাত-পাঁচ ভেবে পাশের বাড়িতে ফোন করে দেখা হল, তারা জানালেন দরজা ধাক্কা দিতেও কেউ দরজা খুলছে না! বাবা ছেলে আগেভাগে বাড়িতে ছুটে এলেন তাঁদের কাছে থাকা ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখা গেল ভয়ঙ্কর মর্মান্তিক পরিণতি মধ্যবয়েসী মহিলা বাথরুমে বালতিতে জল খুলে হাত ডূবিয়ে কব্জির শিরা কেটে আত্মহত্যা করেছেন। কেন কোন অবস্থায় একজন মানুষ এরকম চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন সে উত্তর হতভাগ্য স্বামী বা সন্তান কারো কাছে ছিল না! যেহেতু অস্বাভাবিক মৃত্যু অফিসে বা যে কমপ্লেক্সে থাকতেন সেখানে মানুষের অকারণ কৌতুহল মেটাতে হল। পুলিসের জবাবদিহি সহ্য করতে হল। তারপর জীবনের ছন্দ বদলে বেঁচে থাকতে হল তাদের।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৫: গাঙচিল

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৯: খাণ্ডবদহনের প্রেক্ষিতে জরিতা,লপিতা ও ঋষি মন্দপালের উপাখ্যানের আজ প্রাসঙ্গিকতা কোথায়?

প্রতিমার ক্ষেত্রেও সেরকমই কিছু ঘটে গেল। অমলেন্দু তার একটা কথায় তাকে বিশ্বাস করেছিল। হ্যাঁ প্রতিমার ভুল হয়েছিল। কমবয়সের হয়তো খানিকটা শারীরিক মোহ তাকে এমন একটা অবৈধ সম্পর্কের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল! আজকের সময় যাকে টক্সিক সম্পর্ক বলা হয় খানিকটা তেমন। একটা ভয়ংকর সাংসারিক আবর্ত-এর মধ্যে থেকে শেষমুহূর্তে নিজেকে বাঁচিয়েছিল প্রতিমা! অমলেন্দুর সঙ্গে সম্বন্ধটা তখনই এসেছিল নতুন সম্পর্ককে আঁকড়ে অমলেন্দুকে অবলম্বন করে আবার নতুনভাবে বাঁচতে শুরু করেছিল প্রতিমা। প্রতিমা মুখে যা বলেছিল সেটাকেই বিশ্বাস করায় অমলেন্দুকে মনে মনে ভালোবাসার সঙ্গেও শ্রদ্ধা করতে শুরু করেছিল প্রতিমা। কিন্তু এতদিন পর অমলেন্দু হঠাৎ করে সেই পুরনো কথাটা তোলায়, মনে হল যে তার মনে কোথাও যেন সন্দেহের কাঁটা রয়ে গেছে। দু’জনের মধ্যে সম্পর্কের আড়ালে সেই গোপন কাঁটাটা এখনও অমলেন্দুকে হয়তো ক্ষতবিক্ষত করে। এই একটা ঘটনা অমলেন্দুকে প্রতিমার কাছে ছোট করে দিল।
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৪: রিলেটিভিটি ও বিরিঞ্চিবাবা

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা

কুন্তল সত্যিই তাঁর পিসতুতো বোন প্রতিমা মানে পুতুকে ভালোবাসত! অমলেন্দু কখনওপ্রতিমাকে পুতু বলে ডাকেনি! কুন্তল কিন্তু এখনও বিয়ে করেননি। সফল ব্যবসায়ী, দেখতে সুন্দর। স্বাভাবিকভাবেই অনেক মেয়ে কাছাকাছি আসতে চেয়েছে। বাড়ির থেকেও সম্বন্ধ করে অনেকভাবে বিয়ের যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়েছে।কিন্তু কুন্তল রাজি হয়নি ! অমলেন্দুর সেদিনের কথাটা —
—সেদিন শ্রীরামপুর থেকে ফেরার সময় সেই চিঠিটা কুঁচিকুঁচি করে ছিঁড়ে জানালার বাইরে হাওয়ায় উড়িয়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু চিঠিতে লেখা কথাগুলো ভুলিনি!
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২০: একেজি কলিং

এই একটা কথা সব ওলটপালট করে দিল যেন আসলে কুন্তলের পর আবারও নতুন করে অমলেন্দুকে ভালবাসতে শুরু করেছিল প্রতিমা! কুন্তলের সম্পর্কটাকে একটা বন্ধ বাক্সে ভরে নিজের নাগালের বাইরে দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল! মানুষের সম্পর্কের জটিলতার মধ্যে পজেসিভ্নেস বা অধিকারবোধ সমস্যার একটা বড় কারণ! স্বামী-স্ত্রী প্রেমিক প্রেমিকা, মা-বাবা এবং তার সন্তান, বা দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু’র সম্পর্কে চিড় ধরিয়ে দেয় এই অধিকারবোধ! এমন একটা ধাক্কা যেটা একপক্ষ অন্যের কাছ থেকে আশা করেনি।

দাম্পত্যের ফাটল চার দেয়ালের বাইরের লোকেরা অনেক পরে টের পায়। অমলেন্দু বুঝতে পারল সেদিনের সেই কথোপকথনের পর প্রতিমা বদলে গিয়েছে। এক বিছানায় পাশাপাশি শুয়েও দুজনে দুটো আলাদা জগতের মানুষ হয়ে রাতটা কাটিয়ে দেয়। দু’ একবার জোর খাটাতে গিয়েও অমলেন্দু শেষ মুহূর্তে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে। এই করতে করতে একদিন মাঝরাতে অত্যন্ত শান্তস্বরে দুজনে দুজনের প্রতি অত্যন্ত কঠিন এবং রূঢ় বাক্য বিনিময় সেরে ফেলল। —চলবে।
 

অমলেন্দু পাল মৃত্যুরহস্য। পরবর্তী পর্ব আগামী বৃহস্পতিবার ৩ মার্চ, ২০২৫।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content