বুধবার ১১ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

সুন্দরবনের অরণ্যে লক্ষ্মী প্যাঁচার পরিবার। ছবি: সংগৃহীত।

প্রায় পনেরো বছর আগের কথা। পুজোর ছুটির পর স্কুল খুলেছে। টিচার্স রুমে ঢোকার মুখেই দেখি আমার সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকারা দাঁড়িয়ে, আর আমাদের শিক্ষাকর্মী গীতাদি আধ বালতি জলে একটা ন্যাকড়া চোবাচ্ছে। আমাকে দেখেই এক তরুণ সহকর্মী বললেন, “স্যার, আমাদের স্কুলের এবার দৈন্যদশা কাটবে। লক্ষ্মীর বাহন এসেছে।”

দেখি, সত্যিই টিচার্স রুমটা খুব নোংরা। টেবিল, বেঞ্চ ও মেঝেতে যত্রতত্র সাদা মলের ছড়াছড়ি। এদিক ওদিক চোখ চালিয়ে লক্ষ্মীর বাহনটিকে খোঁজার চেষ্টা করতেই আর এক তরুণ সহকর্মী বললেন, “ওই যে কার্নিশে পুরনো ফাইলের স্তুপের ওপর উনি বসে।” দেখি প্রমাণ সাইজের একটা লক্ষ্মী প্যাঁচা আমাদের দিকে মাথা ঘুরিয়ে চোখ পিটপিট করে ব্যাপারখানা বোঝার চেষ্টা করছে। হয়তো ভাবছিল, আমার এক মাসের নিশ্চিন্ত আস্তানাটা বোধহয় এবার গেল!
ব্যাগে আমার ক্যামেরা প্রায়শই থাকে। চটপট টেবিলে দাঁড়িয়ে কয়েকটা ছবি তুললাম। ফ্ল্যাশের ঝলকানিতে বোধহয় বিরক্তই হল। ইতিমধ্যে চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সে তো সেদিনের মতো। প্যাঁচাটিকে নিয়ে কী করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হল বিস্তর। শেষে স্থির হল ওকে ছুটির পর ধরে নিয়ে গিয়ে স্কুলের তিনতলায় অবস্থিত ভাঙা আসবাব ভর্তি একটি ঘরের মাচায় তুলে দিয়ে আসা হবে। সেই মতো বস্তা চাপা দিয়ে প্যাঁচাটিকে ধরে রেখে আসা হল। কিন্তু প্যাঁচা-কাণ্ড ততক্ষণে পৌঁছে গিয়েছে বহু ছাত্র-ছাত্রীর কানে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২২: য পলায়তি, স জীবতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৪: যুদ্ধ করতে সব সময় পেশীশক্তি নয়, দরকার বিশ্বাসের গল্পও

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬১: রাস্তায় গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেলে দুর্গতির কোনও সীমা থাকবে না

লক্ষ্মী প্যাঁচার চোরাকারবারিরা সর্বত্রই রয়েছে। লক্ষ্মী প্যাঁচার বাজারমূল্য খুব চড়া। পূর্ণবয়স্ক এক একটা লক্ষ্মী প্যাঁচার দাম কম করে ৫০০০ টাকা। কোন ফাঁকে চোরাশিকারীরা প্যাঁচাটিকে তুলে নিয়ে যাবে না কে বলতে পারে? ওকে বাঁচাতে গেলে আগে চাই সচেতনতা। লেগে পড়লাম ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করার কাজে।
আমরা সবাই দেখেছি লক্ষ্মী ঠাকুরের পাশে থাকে একটা সাদা প্যাঁচা। ওটা লক্ষ্মী প্যাঁচা। হিন্দু মতে লক্ষ্মী ঠাকুরের বাহন। গ্রীকরাও তাদের আরাধ্যদেবী এথেনার বাহন হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে লক্ষ্মী প্যাঁচাকে স্থান দিয়েছে। আসলে নানা ধর্মে দেবদেবীর সাথে বাহন হিসেবে বিভিন্ন প্রাণীকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের রক্ষা করার জন্য। ওই সব প্রাণীর গুরুত্ব মানুষ তখনও বুঝত। কিন্তু তখন তো আর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ছিল না।
ধর্মে মানুষের বড় ভয়। আজও তাই এই ব্যবস্থা। লক্ষ্মী প্যাঁচার উপকারিতা প্রাচীনকালের মানুষ জানত। সত্যিই এরা মানুষের বন্ধু। একটা লক্ষ্মী প্যাঁচা প্রতি রাতে গড়ে ১২টি ইঁদুর ধরে খায়। এছাড়া আরশোলাও ওদের প্রিয় খাবার। একটা লক্ষ্মী প্যাঁচা গড়ে ১/২ বছর বাঁচে। তাহলে হিসেব করে দেখা যায় এক একটা লক্ষ্মী প্যাঁচা তার জীবদ্দশায় কত শত ইঁদুর নিধন করে। তাই শুধু চাষী তো বটেই, আমাদের সবার পরম বন্ধু পাখি হল লক্ষ্মী প্যাঁচা।
কলকাতায় বৃষ্টি

কাকেদের খপ্পর থেকে উদ্ধারকারী শিক্ষকমশাই-সহ লক্ষ্মী প্যাঁচা। ছবি: লেখক।

আমাদের ছোটবেলা থেকেই সুন্দরবনের মানুষ লক্ষ্মী প্যাঁচার সাথে পরিচিত। লক্ষ্মী প্যাঁচা দেখতে ভারী সুন্দর। অন্য সব পাখির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সবচেয়ে নজর কাড়ে মুখমণ্ডল। হৃৎপিণ্ডের মতো আকৃতি। ধবধবে সাদা কিনারায় ছোট ছোট বাদামি রোম দিয়ে যেন বর্ডার আঁকা। চোখের তারা কুচকুচে কালো। আর চোখের চারপাশেও বাদামি রেখা। চঞ্চু ফ্যাকাসে সাদা, বাঁকা ও তীক্ষ্ণ। দুটো ডানার পালক হালকা ধূসর বা হালকা বাদামি। তার ওপর অসংখ্য কালো রেখা ও ফুটকি। পেট ও গলা সাদা। তার ওপরেও কালো ফুটকি। পা হলদেটে সাদা ও সাদা রোমে ঢাকা নখরগুলো খুব তীক্ষ্ণ। শিকারি পাখি বলেই ওদের চঞ্চু ও নখর খুব তীক্ষ্ণ ও বাঁকা হয়। একটা পূর্ণবয়স্ক লক্ষ্মী প্যাঁচার ওজন হয় ৪৭০ থেকে ৫৭০ গ্রাম। লম্বায় ৩২ থেকে ৪০ সেমি। অবশ্য স্ত্রী লক্ষ্মী প্যাঁচা পুরুষের চেয়ে ওজনে ও লম্বায় কিছুটা এগিয়ে।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৩: মেথরকে ডেকে এনে বসাতেন নিজের বিছানায়

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৬: জয় বাবা ফেলুনাথ: রুকুর অন্দরমহল

লক্ষ্মী প্যাঁচার বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘Tyto alba’। পৃথিবীতে এদের ৩৬ প্রকার উপ-প্রজাতির সন্ধান মেলে। জনমানবহীন মরু এলাকা, মেরু অঞ্চল, প্রবল শৈত্যসঙ্কুল পার্বত্য এলাকা এবং কিছু প্রত্যন্ত দ্বীপভূমি ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্র এদের পাওয়া যায়। আর আমাদের সুন্দরবন অঞ্চলে আমি আশৈশব লক্ষ্মী প্যাঁচা দেখে এসেছি। ওদের জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে জানা গেছে আজ থেকে ২.৫ কোটি বছর আগেকার মায়োসিন যুগে ওদের অস্তিত্ব ছিল। সম্ভবত ১০ থেকে ১৫ লক্ষ বছর আগে ওরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, উষ্ণ সাভানা অঞ্চলে ওদের উৎপত্তি হয়। তারপর তারা মনুষ্যবসতির দিকে এগিয়ে যায়। অতীতে এদের প্রিয় বাসস্থান ছিল বড় গাছের কোটর। কিন্তু ক্রমাগত বৃক্ষচ্ছেদন ও অরণ্যহনন ওদেরকে মনুষ্য বসতিতে বসবাসের জন্য অভিযোজিত করে তোলে। তাই এখন ওরা পোড়ো বাড়িতে, ঘুলঘুলিতে বা ঘরের মাচায়, যেখানে লোকজনের যাতায়াত কম, সেখানে বাসা বাঁধে।
কলকাতায় বৃষ্টি

স্কুলের মাচায় বাচ্চাদের সঙ্গে মা লক্ষ্মী প্যাঁচা। ছবি: লেখক।

অন্যান্য প্যাঁচার মতো লক্ষ্মী প্যাঁচাও দিনে খুব অস্পষ্ট দেখতে পায়। আর তাই দিনের বেলা ওদের সামনে কিছু নড়াচড়া করলে চোখটা আধবোজা করে মাথা দুলিয়ে ঠাহর করার চেষ্টা করে। কিন্তু রাতে ওদের দৃষ্টিশক্তি প্রখর। ওদের চোখের রেটিনায় দর্শন গ্রাহক রড কোশ (Rod cell) খুব বেশি ও কোন কোশ (Cone cell) খুব কম থাকায় এমনটা হয়। মানুষের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। মূলত সন্ধ্যায় ও ভোরবেলায় ওরা শিকারে বের হয়। ডানা ছড়িয়ে অনেকক্ষণ ওরা বাতাসে ভেসে উড়তে পারে বলে ওড়ার সময় ডানার শব্দ তেমন শোনা যায় না। তাছাড়া ওদের ডানা, বুক ও পেটে কালো ফুটকি অন্ধকারে শিকার কে বিভ্রান্ত করে দেয়। ফলে শিকার ধরা সহজ হয়। ইঁদুর ও আরশোলা ছাড়াও ব্যাঙ, টিকটিকি, গিরগিটি, ছোট পাখি, খরগোশ ইত্যাদি শিকার করে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২২: রামের পাদুকাগ্রহণের মাহাত্ম্য, ভরত কী রামের ছায়াশ্রিত প্রশাসক?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৭: আমুর বাজ

শব্দের উৎস শুনে লক্ষ্মী প্যাঁচার শিকার ধরার অত্যাশ্চর্য ক্ষমতা রয়েছে। ওদের মুখমণ্ডলের কিনারায় শক্ত ও ছোট বাদামি রোমের যে রেখা আছে তা আসলে শিকার ধরার জন্য অসাধারণ অভিযোজন। শিকার যদি খুব মৃদু শব্দ করে তা লক্ষ্মী প্যাঁচার ওই রোম-রেখায় প্রতিফলিত হয়ে বহুগুণ তীব্র হয়ে কানে প্রবেশ করে। সেই শব্দ বিশ্লেষণ করে ওরা শিকারের অবস্থান সঠিকভাবে নিরূপণ করতে পারে। ভারি বিস্ময়কর ক্ষমতা। তাই না?

লক্ষ্মী প্যাঁচা যে মাংসাশী পাখি তা আর বলার অপেক্ষায় রাখে না। কিন্তু ওরা হাড়গোড় ঠিকঠাক হজম করতে পারে না। কারণ ওদের পাকস্থলীতে নিঃসৃত পাচক রস অন্যান্য পাখির পাচক রসের তুলনায় কম আম্লিক। তাই ওদের মল কিংবা বমিতে হাড়ের গুঁড়ো পাওয়া যায়। আর মলের রঙ সাদা ও পরিমাণে বেশি হয়।

স্ত্রী লক্ষ্মী প্যাঁচা সাধারণত বছরে একবার বা দু’বার ডিম পাড়ে। বছরের যে কোনও সময়ে ডিম পাড়লেও ডিসেম্বর জানুয়ারি মাসেই ওরা বেশি ডিম পাড়ে। দু’এক দিনের ব্যবধানে দুই থেকে ছয়টি ডিম পাড়ে। তারপর ৩০ থেকে ৩৪ দিন ধরে ডিমে তা দেয়। ডিম ফুটে বেরোনো বাচ্চারা দেখতে হয় ভারী সুন্দর। ধবধবে সাদা, নরম রোমে ঢাকা গা। জন্মের ৫০ থেকে ৫৫ দিন পর বাচ্চারা উড়তে শেখে। প্রথম দু-এক সপ্তাহ ওরা মায়ের সঙ্গে থেকে শিকার ধরার কৌশল শেখে। তারপর মায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে অন্যত্র বাসা খুঁজে নেয়। ১০ মাস হলে ওরা প্রজননে সক্ষম হয়ে যায়।
কলকাতায় বৃষ্টি

স্কুলের কার্নিশে বসে লক্ষ্মী প্যাঁচা। ছবি: লেখক।

অন্যান্য পাখিদের মতো লক্ষ্মী প্যাঁচার নির্দিষ্ট কোনও ডাক নেই। শিকারের সময় এক রকম, প্রজননের সময় এক রকম, শিকার সেরে বাসায় ফিরে এক রকম, আবার ভয় পেলে আর একরকম শব্দ করে। কখনও তীক্ষ্ণ চ্যাঁ-চ্যাঁ, কখনও সাঁ-সাঁ, কখনও বা হিসহিস শব্দ শোনা যায়। সম্ভবত জিভ সঞ্চালন করেই ওরা শব্দের এই বৈচিত্র্য আনে। তবে শব্দ যেমনই হোক না কেন রাতের আঁধারে ওই শব্দ শুনলে গা ছমছম করতে পারে।

বাচ্চা হওয়ার পর মা লক্ষ্মী প্যাঁচা খুব বদমেজাজি হয়ে ওঠে। বাসার কাছাকাছি গেলে অনেক সময় উড়ে এসে মাথায় ঠোক্কর দেয়। তবে বর্তমানে সে সম্ভাবনা খুব কম কারণ ওরা বিলুপ্তপ্রায়। সুন্দরবন অঞ্চল থেকে তো বটেই, সারা বাংলা থেকে বট, অশ্বত্থ, শিরীষ ইত্যাদি গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। অরণ্য ধ্বংস করে গড়ে ওঠা কংক্রিটের জঙ্গল কেড়ে নিয়েছে ওদের থাকার জায়গা। বিষ প্রয়োগে মৃত ইঁদুর আমরা যত্রতত্র ফেলে দিই। লক্ষ্মী প্যাঁচারা সেইসব ইঁদুর খেয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে প্যাঁচাবাণিজ্য। উত্তর ভারতের বহু ব্যবসায়ী ধনলাভের আশায় বাড়িতে লক্ষ্মী প্যাঁচা কিনে পুজো করে। খাঁচায় বন্দি প্যাঁচা না খেয়ে কিছুদিন পরেই মারা যায়। তারপর তারা আবার প্যাঁচা কেনে। আর এভাবেই বেড়ে চলেছে লক্ষ্মী প্যাঁচার চোরাশিকার।
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৬: দীনদুখিনীর জননী সারদা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-২৬: যিনি নিরূপমা তিনিই ‘অনুপমা’

লক্ষ্মী প্যাঁচাকে বাঁচাতে হবে, ওদের অবলুপ্তি রোধ করতে হবে। এ জন্য সবার আগে চাই সচেতনতা। সুন্দরবন হল কৃষি নির্ভর এলাকা। আর এরা হল কৃষকের পরম বন্ধু। তাই ওরা যদি বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে ইঁদুরের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পাবে। দিনের বেলা ওরা প্রায় অন্ধ। আমি অনেক ছেলে ছোকরাকে দেখেছি দিনের বেলা ওদের ঢিল ছুড়ে উত্ত্যক্ত করতে। ওরা যদি দিনের বেলায় বাইরে বেরিয়ে আসে তাহলে কাকদের ঠোক্কর খেয়ে মারা যায়, নিরাপদ জায়গায় পালাতে পারে না। ওরা বাড়িতে বাসা বাঁধলে মলত্যাগ করে ঘরদোর নোংরা করে ঠিকই কিন্তু ওদের গুরুত্বের কথা ভেবে একচিলতে জায়গা আমাদের ছেড়ে দেওয়া চাই। সবচেয়ে বড় কথা চাষির লক্ষ্মী—লক্ষ্মী প্যাঁচাকে ভালবাসতে হবে।
কলকাতায় বৃষ্টি

শিকার নিয়ে উড়ন্ত লক্ষ্মী প্যাঁচা। ছবি: সংগৃহীত।

শেষে একটা আশার কথা শোনাই। আমার স্কুলের সেই প্যাঁচানি মাস তিনেক পর তিনতলার মাচায় পাঁচটা ফুটফুটে বাচ্চার জন্ম দিয়েছিল। ওখানে ওরা বড় হয়েছে নিশ্চিন্তে। তারপর তার নাতি-পুতি, নাতি-পুতির নাতি-পুতি জন্মেছে। কয়েকদিন আগে তাদেরই এক বংশধর স্কুলের রান্নাঘরের পাশে কাকের ঠোক্কর খেয়ে আহত হয়ে পড়েছিল। আমাদের এক শিক্ষকমশাই তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে আনে এবং তাকে পৌঁছে দেওয়া হয় তাদের আবাসে। সেই বছর পনেরো আগে থেকে এখনও আমাদের স্কুল লক্ষ্মী প্যাঁচাদের নিশ্চিন্ত আবাস, আর মাচার সেই ঘরটাই আমাদের স্কুলের প্যাঁচাঘর।—চলবে।
* সৌম্যকান্তি জানা। সুন্দরবনের ভূমিপুত্র। নিবাস কাকদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা। পেশা শিক্ষকতা। নেশা লেখালেখি ও সংস্কৃতি চর্চা। জনবিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের জন্য ‘দ্য সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল ২০১৬ সালে ‘আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ এবং শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান লেখক হিসেবে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ ২০১৭ সালে ‘অমলেশচন্দ্র তালুকদার স্মৃতি সম্মান’ প্রদান করে সম্মানিত করেছে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content