
দূর দূর গাছপালাকে উধাও করে ছুটেছিল ট্রেন।
পূ্র্ববঙ্গ থেকে ডিএল রায় স্ট্রিট আবার সেখান থেকে কোন সুদূরে এই ডায়মন্ডহারবার, চক্রাকারে ঘুরপাক খাচ্ছেন সুনীতি স্বামী সংসার নিয়ে। আজকের এই ভিজে রাতে দাওয়ার সিঁড়িতে চুপ করে বসে সে কথাই ভাবছিলেন। মনে পড়ছিল কলকাতা ছেড়ে রাতারাতি মফস্বলে সংসার পাতার দিনটির কথা।
দূর দূর গাছপালাকে উধাও করে ট্রেন ছুটেছিল। গ্রাম বাড়ি খাল বিল অরণ্য উপত্যকা আর মানুষ সবাইকে হারিয়ে মুছে পিছনে ফেলে কোনও এক অজানা দিগন্তের দিকে ছুটছিল তো ছুটছিলই। পাথরের মতো সিটের একধারে সুনীতি বসেছিলেন। সুধা গৌরী রাম জানলা ঘেঁষে হুটোপুটি করছিল। জানলার ধারে দুটো সিট। ওদের তিনজনেরই সেখানে বসা চাই। দুপুরের খাওয়া দাওয়া বেলাবলি সেরে বেরিয়ে পড়তে হয়েছিল। দেবু শিবু আর গোরা সঙ্গে এসেছিল ট্রেনে তুলে দিতে। বড় গাড়িতে চেপে।
দূর দূর গাছপালাকে উধাও করে ট্রেন ছুটেছিল। গ্রাম বাড়ি খাল বিল অরণ্য উপত্যকা আর মানুষ সবাইকে হারিয়ে মুছে পিছনে ফেলে কোনও এক অজানা দিগন্তের দিকে ছুটছিল তো ছুটছিলই। পাথরের মতো সিটের একধারে সুনীতি বসেছিলেন। সুধা গৌরী রাম জানলা ঘেঁষে হুটোপুটি করছিল। জানলার ধারে দুটো সিট। ওদের তিনজনেরই সেখানে বসা চাই। দুপুরের খাওয়া দাওয়া বেলাবলি সেরে বেরিয়ে পড়তে হয়েছিল। দেবু শিবু আর গোরা সঙ্গে এসেছিল ট্রেনে তুলে দিতে। বড় গাড়িতে চেপে।
দেবু বেশ কিছুদিন আগেই রিজার্ভ করে রেখেছিল কামরা। মালপত্র তো কম না, নবীন সঙ্গে ছিল তাই রক্ষে। সব কিছু গুছিয়ে তুলে একটা সিটে আদিনাথের জন্য বিছানা পেতে দিয়েছে। সবাই উঠে বসবার পর নিজেও মেঝেতে গামছা পেতে জিরোতে শুরু করেছে। সুনীতি অবাক, কিরে নবীন শরীর চলে না বাবা?
না মা দিব্য চলে, বলে চুপ। টানটান বসে চোখ বুজেছে।
মিতবাক নবীনের কাছ থেকে এর বেশি শব্দ প্রত্যাশা করে না কেউ। তবু সুনীতি বলেন,
যাও বাবা নামো, অহনই গাড়ি ছাড়বো।
নকুল মাথা নাড়ে অস্পষ্ট। অর্থাৎ নামবে না। আদিনাথ পূর্ণ শয়ন ছেড়ে তখন আধশোয়ায় সপ্রশ্ন। ওধারে মানু শঙ্কু। খুকু এদিকে। মায়ের গা ঘেঁষে। জানালার বাইরে তিন ছেলে, সবাই অবাক। ওই ছেলে নামল না। ট্রেনের সামান্য দুলুনি।গার্ডের হুইসেল। দেবু বাইরে থেকে জোরে ডাকে,
নবীন চলে আয় এখনই ট্রেন ছাড়বে।
অনুচ্চ স্বরে নবীন সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল।
না মা দিব্য চলে, বলে চুপ। টানটান বসে চোখ বুজেছে।
মিতবাক নবীনের কাছ থেকে এর বেশি শব্দ প্রত্যাশা করে না কেউ। তবু সুনীতি বলেন,
যাও বাবা নামো, অহনই গাড়ি ছাড়বো।
নকুল মাথা নাড়ে অস্পষ্ট। অর্থাৎ নামবে না। আদিনাথ পূর্ণ শয়ন ছেড়ে তখন আধশোয়ায় সপ্রশ্ন। ওধারে মানু শঙ্কু। খুকু এদিকে। মায়ের গা ঘেঁষে। জানালার বাইরে তিন ছেলে, সবাই অবাক। ওই ছেলে নামল না। ট্রেনের সামান্য দুলুনি।গার্ডের হুইসেল। দেবু বাইরে থেকে জোরে ডাকে,
নবীন চলে আয় এখনই ট্রেন ছাড়বে।
অনুচ্চ স্বরে নবীন সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৭: কেমন আছেন সুনীতি, নদীর নরম ছেড়ে সমুদ্রের নুনে!

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৭: ডেসডিমোনার রুমাল/৬

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৮: পার্ক স্ট্রিট থেকে মহর্ষি ফিরে এসেছিলেন জোড়াসাঁকোয়

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮২: ত্রিপুরা : উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রত্নভূমি ঊনকোটি
বরদা, আমি নামুম না। আমার টিকিট কাটা। ওনাগো আগে বাসায় পৌঁছাই। তবে ফিরুম। সোনাদা এত জনরে সামলাইতে পারবো না।
পলকে থমকে যায় ছেলেরা। অতর্কিত বিহ্বলতা ক্ষণিকের জন্য ঝুপ করে আধার নামায় তিনজনের মুখে। ফলে নবীনকে সঙ্গে নিয়েই সুনীতিরা চললেন।
গতিতে স্মৃতির আপাত লোপ হয়। লুপ্ত করে দেবার কাজটি করে নিদ্রা । স্মৃতির বেদনকোষে নিদ্রার রস ওষধির কাজ করে। ট্রেনের দুরন্ত গতিতে সবাই এখন ঘুমে। কেবল দুজন জেগে, সুনীতি আর নবীন। সময় উদাস। সন্ন্যাসী। এক মুহূর্ত সঞ্চয় করে না। অলৌকিক চিত্রপটে এক মুহূর্তের জন্যও দাঁড়িয়ে দেখেনা স্মৃতির ঘায়ে সত্যিই কতটা মলম লাগানো প্রয়োজন।
সন্ধ্যার আগেই ওরা পৌঁছে গেছিল ডায়মন্ডহারবার স্টেশন। বৈশাখ মাস। বাতাসে রোদের তাপ ভালোই। ঝাঁকরা একটা শিশু গাছের নিচে পাশাপাশি তিনটে চালা।প্রথমটা চায়ের দোকান। দ্বিতীয়টা সাইকেল সারাইয়ের। তৃতীয়টার ঝাঁপ বন্ধ। স্টেশনের লাগোয়া চত্বর। উঁচু-নিচু ঢিবিওয়ালা বালুময় প্রান্তর। ট্রেন থেকে নেমে সব হিমশিম। অত বাক্স পেটরা ট্রাঙ্ক তোরঙ্গ। নবীন আত্ম-জিমেদারিতে সব সামলেছে। একপাশে লম্বা কাঠের একখানা বেঞ্চ ফাঁকা পড়েছিল। শতরঞ্চি বিছিয়ে পরম সমাদরে নবীন কত্তাবাবুকে সেখানে বসিয়েছিল। পাশে মহিলাদের বসবার জন্য খড়ের চালায় ঢাকা খুপরি ঘর। সেখানেও ছুটোছুটি করে সুনীতিদের আসন জোগাড় করেছিল।
জায়গা মিলেছিল এক সময়। আছে মা আসেন বওনের একখান স্থান পাওয়া যাইছে।
পলকে থমকে যায় ছেলেরা। অতর্কিত বিহ্বলতা ক্ষণিকের জন্য ঝুপ করে আধার নামায় তিনজনের মুখে। ফলে নবীনকে সঙ্গে নিয়েই সুনীতিরা চললেন।
গতিতে স্মৃতির আপাত লোপ হয়। লুপ্ত করে দেবার কাজটি করে নিদ্রা । স্মৃতির বেদনকোষে নিদ্রার রস ওষধির কাজ করে। ট্রেনের দুরন্ত গতিতে সবাই এখন ঘুমে। কেবল দুজন জেগে, সুনীতি আর নবীন। সময় উদাস। সন্ন্যাসী। এক মুহূর্ত সঞ্চয় করে না। অলৌকিক চিত্রপটে এক মুহূর্তের জন্যও দাঁড়িয়ে দেখেনা স্মৃতির ঘায়ে সত্যিই কতটা মলম লাগানো প্রয়োজন।
সন্ধ্যার আগেই ওরা পৌঁছে গেছিল ডায়মন্ডহারবার স্টেশন। বৈশাখ মাস। বাতাসে রোদের তাপ ভালোই। ঝাঁকরা একটা শিশু গাছের নিচে পাশাপাশি তিনটে চালা।প্রথমটা চায়ের দোকান। দ্বিতীয়টা সাইকেল সারাইয়ের। তৃতীয়টার ঝাঁপ বন্ধ। স্টেশনের লাগোয়া চত্বর। উঁচু-নিচু ঢিবিওয়ালা বালুময় প্রান্তর। ট্রেন থেকে নেমে সব হিমশিম। অত বাক্স পেটরা ট্রাঙ্ক তোরঙ্গ। নবীন আত্ম-জিমেদারিতে সব সামলেছে। একপাশে লম্বা কাঠের একখানা বেঞ্চ ফাঁকা পড়েছিল। শতরঞ্চি বিছিয়ে পরম সমাদরে নবীন কত্তাবাবুকে সেখানে বসিয়েছিল। পাশে মহিলাদের বসবার জন্য খড়ের চালায় ঢাকা খুপরি ঘর। সেখানেও ছুটোছুটি করে সুনীতিদের আসন জোগাড় করেছিল।
জায়গা মিলেছিল এক সময়। আছে মা আসেন বওনের একখান স্থান পাওয়া যাইছে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪০: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে

উত্তম কথাচিত্র,পর্ব-৭২ : গলি থেকে রাজপথ
সুনীতির শরীর ভেঙে আসছে। পা দুটো অসম্ভব ভারি। মনে পাষাণভার। কিচ্ছু ভালো না লাগার ক্লান্তি। নকুল যত্নে তাঁকে বসিয়ে দিয়েছে মহিলা সংরক্ষিত কামড়ায়। আশেপাশে ভিড় করে আরো অনেকে। নোংরা মেঝে। পানের পিক ফেলা দেওয়াল। ধুলোমাখা আরশোলা এখানে ওখানে হাঁটছে। প্রশস্ত জানলা ছাড়িয়ে চোখ যাচ্ছে বহুদূর অজানা দিগন্ত। অজানা জগৎ। অজানা ঠিকানা। বৃদ্ধ স্বামী। এতগুলো ছেলেমেয়ে। কি যে করবেন সুনীতি! গোপালগঞ্জের পাকা ধানের মড়াইটা নির্লজ্জের মতো এই অসময়ে কেন ডাকছে! শান বাঁধানো পুকুর, জলগর্ভে বড়সড় মীন সংসার। দুধেল সোনা গাইয়ের সমৃদ্ধ প্রসব দিন। পূর্ণগর্ভা স্মৃতি জুড়ে শুধু ওরাই। আর এখানে কেবল নাই নাই। কোথাও সম্পন্নতার ছাই টুকুও অবশিষ্ট নাই। লালসাইলের ঝরঝরে গরম ভাত। পোনা মাছের পাতলা ঝোল। ঘন দুধের ঘরে পাতা দধি । খিদেয় পেটের মধ্যে মোচড় দিল সুনীতির। তৎক্ষণাৎ ধমক দিল নিজেকে, আউ ছি, লজ্জা শরম নাই! অভুক্ত স্বামী, পোলাপানগুলা শুকনা মুখে ঘুরে বেহায়া মাইয়া মানুষের এত খাওনের শখ আসে কোথা হইতে!!
লালপাড়ের ঘোমটাটুকু আর একটু টেনে নড়েচড়ে বসেছিলেন সুনীতি। মাথাটা সামান্য ঘুরছিল। হালকা বমি ভাব। ও কিছু না। দুপুরে মুখে কিছু তুলতে না পারবার কারণেই এমনটা, চোখটা বুঝে বসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। খুকু আদিনাথের পাশে বসে। বাচ্চারাও আছে সঙ্গে। ওদের নিয়ে চিন্তা নাই। বিশেষত নবীন যখন আছে। দেওয়ালে মাথা ঠেকিয়ে ঝিমুনি এসেছিল সামান্য। নবীনের ডাকে ভাঙলো। ওর হাতে ঠোঙা।
মা খাইয়া লন, সামান্য মুড়ি সিঙ্গারা।
আমি খামু না, তোরা খা বাবা, উনারে দে।
সবারে দেওয়া হইছে, আপনি এবার মুখে দ্যান।
সোনাদারা খাইতাছে। গাড়িও খাড়া আছে।
তর? তুই আগে খাবি।
লালপাড়ের ঘোমটাটুকু আর একটু টেনে নড়েচড়ে বসেছিলেন সুনীতি। মাথাটা সামান্য ঘুরছিল। হালকা বমি ভাব। ও কিছু না। দুপুরে মুখে কিছু তুলতে না পারবার কারণেই এমনটা, চোখটা বুঝে বসলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। খুকু আদিনাথের পাশে বসে। বাচ্চারাও আছে সঙ্গে। ওদের নিয়ে চিন্তা নাই। বিশেষত নবীন যখন আছে। দেওয়ালে মাথা ঠেকিয়ে ঝিমুনি এসেছিল সামান্য। নবীনের ডাকে ভাঙলো। ওর হাতে ঠোঙা।
মা খাইয়া লন, সামান্য মুড়ি সিঙ্গারা।
আমি খামু না, তোরা খা বাবা, উনারে দে।
সবারে দেওয়া হইছে, আপনি এবার মুখে দ্যান।
সোনাদারা খাইতাছে। গাড়িও খাড়া আছে।
তর? তুই আগে খাবি।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৩ : জনঅরণ্য: সরস্বতী না লক্ষ্মী?
মৃদুভাষী নবীন, নিজের সম্পর্কে নিশ্চুপ থাকা বলে, মা আমিও খামু। আছে। দ্যান আপনি মুখে।
ঠোঙা ধরিয়ে দিয়েই হারিয়ে যায় নবীন। উল্টো দিকের সিটে একজন অভিজাত সধবা মহিলা বসে। চোখাচোখি হতে সামান্য হাসি বিনিময়। অন্তরঙ্গ দৃষ্টি। অপরিচয়ের মেঘলা দুনিয়ায় একটু যেন আলো ফুটছে ।ভদ্রমহিলা হাসিমুখে বলেন, এত করে বলচে যকন খেয়ে নেন গো দিদি।
সুনীতি সহাস্যে মাথা নিচু করে বলেন, পাগল যত পোলাপান। ভদ্রমহিলা বেশ উৎসুক বোঝা গেল। স্বরক্ষেপণে এদেশীয় টান।
কোতা থেকে আসচেন দিদি?
কইলকাতা।
যাবেন?
ডায়মন্ডহারবার
দিদি কি যে বলেন, ডায়মন্ডহারবারের কোতায়, মানে কোন পাড়ায় তাই জিজ্ঞেস করি।
সুনীতি বোকা বনে গেছে। ফিক করে হেসে বলেন, অতশত জানিনা দিদি, পোলারা সঙ্গে আছে, চিন্তা নাই।
ঠোঙা ধরিয়ে দিয়েই হারিয়ে যায় নবীন। উল্টো দিকের সিটে একজন অভিজাত সধবা মহিলা বসে। চোখাচোখি হতে সামান্য হাসি বিনিময়। অন্তরঙ্গ দৃষ্টি। অপরিচয়ের মেঘলা দুনিয়ায় একটু যেন আলো ফুটছে ।ভদ্রমহিলা হাসিমুখে বলেন, এত করে বলচে যকন খেয়ে নেন গো দিদি।
সুনীতি সহাস্যে মাথা নিচু করে বলেন, পাগল যত পোলাপান। ভদ্রমহিলা বেশ উৎসুক বোঝা গেল। স্বরক্ষেপণে এদেশীয় টান।
কোতা থেকে আসচেন দিদি?
কইলকাতা।
যাবেন?
ডায়মন্ডহারবার
দিদি কি যে বলেন, ডায়মন্ডহারবারের কোতায়, মানে কোন পাড়ায় তাই জিজ্ঞেস করি।
সুনীতি বোকা বনে গেছে। ফিক করে হেসে বলেন, অতশত জানিনা দিদি, পোলারা সঙ্গে আছে, চিন্তা নাই।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৫: সুন্দরবনের পাখি: বিলের বালুবাটান

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!
ওই কি ছেলে আপনার?
কেডা নবীন? না দিদি ও আমার পোলা সদৃশ্য। তারপর মৃদু কণ্ঠে, আদতে ভৃত্য।
মহিলার চোখ খানিক বিস্ফারিত। দিদির দেশ কোতা?
ফরিদপুর.. উত্তর দেবার সময়টায় ভেতরে সেই আকুল ঢেউ। ঢেউয়ের বুকে গর্বের দুলুনি। গলা ঝেড়ে স্পষ্ট সুনীতি । বলেছিলেন, গোপালগঞ্জ সাব ডিভিশন। পোস্ট মাদারিপুর। গ্রাম কাঁঠালিপাড়া।
উনি ওখানকার জমিদার ছিলেন, বলতে গিয়েও মুখগহ্বরে বন্দী করে ফেলেন আজকের দিনে অনর্থক ওই শব্দগুলো।
শঙ্কু ইতিমধ্যে ঢুকেছে। মা চলো, চল, গাড়ি খাড়্যায়া।
তর বাবা!
বাবা গাড়িতে উইঠ্যা পড়ছেন। খুকু মা’রে সঙ্গে লয়্যা আয়।
খুকুর সঙ্গে চলে যেতে গিয়েও আলাপী ভদ্র মহিলার দিকে ফিরে দাঁড়ান সুনীতি। দেখেন, মহিলাটি অপলক মুগ্ধ দৃষ্টি মেলে তাঁর খুকুকেই দেখছেন।
আসি দিদি, এইডা আমার বড় কইন্যা।
স্বতঃস্ফূর্ত উষ্ণতায় ওদিক থেকে প্রত্যুত্তর আসে, বা বা ভারী লক্ষ্মীমন্ত । আপনাদের দেকা পাবো কীভাবে দিদি?
কি জানি দিদি এহনো তো ঠিকানা জানি না। গুরু চাইলে নিশ্চয় দেখা হইব !
সুখের ঢেউ আছড়েছিল সুনীতির দুস্থ বুকে। ভরাট মন নিয়ে সুনীতি উঠেছিলেন গাড়িতে। সিঙ্গারা মুড়ির স্বাদ এতক্ষণে রসনা পথে নিজের ছাপ রাখছে। মালিন্য ভুলে ছোট্ট এই বালুময় সমুদ্রাঞ্চলটিকে ভালো লাগলো সুনীতির। খুকুকে বললেন, স্থানডার একখান শ্রী আছে, শোভা আছে না রে মা?
খুকুরও ছিল তাই মত।—চলবে।
কেডা নবীন? না দিদি ও আমার পোলা সদৃশ্য। তারপর মৃদু কণ্ঠে, আদতে ভৃত্য।
মহিলার চোখ খানিক বিস্ফারিত। দিদির দেশ কোতা?
ফরিদপুর.. উত্তর দেবার সময়টায় ভেতরে সেই আকুল ঢেউ। ঢেউয়ের বুকে গর্বের দুলুনি। গলা ঝেড়ে স্পষ্ট সুনীতি । বলেছিলেন, গোপালগঞ্জ সাব ডিভিশন। পোস্ট মাদারিপুর। গ্রাম কাঁঠালিপাড়া।
উনি ওখানকার জমিদার ছিলেন, বলতে গিয়েও মুখগহ্বরে বন্দী করে ফেলেন আজকের দিনে অনর্থক ওই শব্দগুলো।
শঙ্কু ইতিমধ্যে ঢুকেছে। মা চলো, চল, গাড়ি খাড়্যায়া।
তর বাবা!
বাবা গাড়িতে উইঠ্যা পড়ছেন। খুকু মা’রে সঙ্গে লয়্যা আয়।
খুকুর সঙ্গে চলে যেতে গিয়েও আলাপী ভদ্র মহিলার দিকে ফিরে দাঁড়ান সুনীতি। দেখেন, মহিলাটি অপলক মুগ্ধ দৃষ্টি মেলে তাঁর খুকুকেই দেখছেন।
আসি দিদি, এইডা আমার বড় কইন্যা।
স্বতঃস্ফূর্ত উষ্ণতায় ওদিক থেকে প্রত্যুত্তর আসে, বা বা ভারী লক্ষ্মীমন্ত । আপনাদের দেকা পাবো কীভাবে দিদি?
কি জানি দিদি এহনো তো ঠিকানা জানি না। গুরু চাইলে নিশ্চয় দেখা হইব !
সুখের ঢেউ আছড়েছিল সুনীতির দুস্থ বুকে। ভরাট মন নিয়ে সুনীতি উঠেছিলেন গাড়িতে। সিঙ্গারা মুড়ির স্বাদ এতক্ষণে রসনা পথে নিজের ছাপ রাখছে। মালিন্য ভুলে ছোট্ট এই বালুময় সমুদ্রাঞ্চলটিকে ভালো লাগলো সুনীতির। খুকুকে বললেন, স্থানডার একখান শ্রী আছে, শোভা আছে না রে মা?
খুকুরও ছিল তাই মত।—চলবে।
* ধারাবাহিক উপন্যাস (novel): দেওয়াল পারের দেশ (Dewal Parer Desh)। লিখছেন জয়িতা দত্ত (Dr. Jayita Dutta), বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, হুগলি মহসিন কলেজ।


















