এই দেশ এই মাটি

পর্ব-৯৪: ত্রিপুরায় রিয়াং বিদ্রোহ

পর্ব-৯৪: ত্রিপুরায় রিয়াং বিদ্রোহ

১৯৪২-৪৩ সালে রতনমণি নামে এক সাধুর নেতৃত্বে ত্রিপুরায় ঘটেছিল রিয়াং আদিবাসী বিদ্রোহ। মূলত সামন্ততান্ত্রিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহ ঘটলেও সে সময়ে অনেক ক্ষেত্রে রতনমণির শিষ্যদের 'স্বদেশী' বলে অভিহিত করা হতো। পরবর্তী সময়ে রিয়াং বিদ্রোহকে স্বাধীনতা সংগ্রামের মর্যাদাও দেয়া হয়েছে। নৃপতি শাসিত ত্রিপুরার পার্বত্য অঞ্চলে জনজাতি সম্প্রদায়ের রিয়াং সর্দারদের বলা হতো চৌধুরী। এই চৌধুরীরা কার্যত সেদিন সামন্ত প্রভুদের মতো আচরণ করতেন। গরীব রিয়াং প্রজাদের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায়, জরিমানা ইত্যাদি নানা ভাবে তারা...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪০: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বুনো শুয়োর

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪০: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বুনো শুয়োর

সুন্দরবনের বুনো শুয়োরদের খাদ্যতালিকা অন্যান্য অঞ্চলের একই উপপ্রজাতির বুনো শুয়োরদের থেকে বেশি লম্বা। খুব বৈচিত্রপূর্ণ এদের খাদ্যতালিকা। প্রধানত উদ্ভিজ্জ খাদ্যই এরা বেশি পছন্দ করে। পাতা, ফল, বীজ, গাছের বাকল, কাদা বা মাটির মধ্যে প্রোথিত মূল, কন্দ ইত্যাদি এদের পরিচিত খাদ্য। দেখা গিয়েছে এদের গৃহীত খাদ্যের ৯০ শতাংশই উদ্ভিজ্জ খাদ্য। লম্বা ও সঞ্চরণশীল তুন্ডের সাহায্যে এরা মাটি খুঁড়ে মূল ও কন্দ বার করে খায়। তবে সুযোগ পেলে নানা ধরনের প্রাণীজ খাবার-দাবার এরা খেতে ছাড়ে না।

read more
পর্ব-৯৩: কৈলাসচন্দ্রের কাছে রাজবংশের কাহিনি শুনে ত্রিপুরার প্রতি আকৃষ্ট হন রবীন্দ্রনাথ

পর্ব-৯৩: কৈলাসচন্দ্রের কাছে রাজবংশের কাহিনি শুনে ত্রিপুরার প্রতি আকৃষ্ট হন রবীন্দ্রনাথ

বীরচন্দ্র, রাধাকিশোর, বীরেন্দ্র কিশোর ও বীরবিক্রম-ত্রিপুরার এই চারজন মাণিক্য রাজার সঙ্গেই রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক ছিল। সুদীর্ঘকাল ব্যাপী এক রাজবংশের চারজন রাজার সঙ্গে কবির সম্পর্ক নিঃসন্দেহে এক বিরল বিষয়। ত্রিপুরার রাজপরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রে যেন উদ্ভাসিত হয়েছেন এক অন্য রবীন্দ্রনাথ। কখনও তিনি রাজনীতিক, কখনও আবার অর্থনীতিবিদ। রাজ্য পরিচালনার বিষয়েও রাজাকে পরামর্শ দেন তিনি। আবার নির্ধারণ করি দেন বাজেটের মূল নীতি।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৯: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — চিতল হরিণ

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৯: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — চিতল হরিণ

চিতল হরিণ ভারত ও বাংলাদেশের সুন্দরবন অঞ্চলে বন্যপ্রাণীদের মধ্যে বৃহত্তম জনগোষ্ঠী। সুন্দরবন ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন বনাঞ্চলে ওদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ভারত বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং ভুটানে প্রচুর পরিমাণে চিতল হরিণ দেখা যায়। ভারতীয় উপমহাদেশই হল চিতল হরিণের মাতৃভূমি। যদিও পরবর্তীকালে এখান থেকে ভিন্ন ভিন্ন দেশে নিয়ে গিয়ে ওদের সংখ্যা বৃদ্ধি করানো হয়েছে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৮: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বানর

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৮: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বানর

সুন্দরবনের জঙ্গল এলাকা ছাড়া এই বানরদের লোকালয়ে দেখতে পাওয়া মুশকিল। তবে জঙ্গল থেকে ধরে আনা লালমুখো এই বানরদের ছোট থেকে পাড়ায় পাড়ায় খেলা দেখাতে দেখেছি। মানুষের পূর্বপুরুষ তো, তাই সহজেই মানুষের আদব-কায়দা শিখে নিতে পারে। বুঝে নিতে পারে মানুষের নির্দেশ। আর শৈশব ও কৈশোরে তাই পাড়ায় বানরওয়ালার ডুগডুগি বাজানোর শব্দ শুনলেই বাচ্চার দলকে দৌড়োতে দেখেছি। এখন অবশ্য সে দৃশ্য আর দেখা যায় না। যে কথা বলছিলাম, ওদের আচার-আচরণও মানুষের আচার-আচরণের সাথে অনেক সাদৃশ্যপূর্ণ। আর বুদ্ধি তো রীতিমতো তাক লাগানোর মতো।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯২: কৈলাসচন্দ্র সিংহ ছিলেন সত্যনিষ্ঠ আপসহীন এক ঐতিহাসিক

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯২: কৈলাসচন্দ্র সিংহ ছিলেন সত্যনিষ্ঠ আপসহীন এক ঐতিহাসিক

কৈলাসচন্দ্র সিংহ। কে ছিলেন তিনি? ত্রিপুরার রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটাই বা কী ছিল? ত্রিপুরার ইতিহাসের আকর গ্রন্থ হিসেবে সর্বত্র সমাদৃত 'রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস' গ্রন্থের প্রণেতা হিসেবে কৈলাসচন্দ্র সকলের কাছেই পরিচিত। সে যুগে প্রান্তীয় বাংলার এক বিশিষ্ট পণ্ডিত ছিলেন তিনি। ত্রিপুরার রাজমালা ছাড়াও আরও বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি। কৈলাসচন্দ্র ছিলেন সত্যনিষ্ঠ আপসহীন এক ঐতিহাসিক। মহারাজা বীরচন্দ্রের রাজত্বকালীন সময়ে তিনি যে ভাবে রাজার তীব্র সমালোচনা করেছেন তা ভাবলে অবাক হতে হয়!এ জন্য বীরচন্দ্রের...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৭: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — পাতিশিয়াল

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৭: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — পাতিশিয়াল

পাতিশিয়াল সুন্দরবনের জঙ্গলের বাসিন্দা। লোকালয়ে কখনওই থাকে না। তবে লোকালয় সংলগ্ন জঙ্গল এদের বেশি পছন্দ। সাধারণত পরিবারভিত্তিক দলে এরা থাকে। রাতে এদের সমবেতভাবে ‘উয়ো উয়ো উয়ো, হু হু হু, আউউউউউউ’ শব্দ করতে শোনা যায়। সাধারণতঃ নিজের এলাকা চিহ্নিত করতে একদল এমন শব্দ করে আর এক দলকে জানান দেয়। চিৎকার করার সময় ওরা মুখটাকে নেকড়েদের মতো আকাশের দিকে তুলে ধরে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৬: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — খ্যাঁকশিয়াল

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৬: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — খ্যাঁকশিয়াল

সাধারণত খ্যাঁকশিয়াল জোড়ায় জোড়ায় থাকে অর্থাৎ একটা স্ত্রী ও একটা পুরুষের জোড় থাকে। এরা পরিবারতন্ত্রে বিশ্বাসী, আর তাই ছানাপোনা নিয়ে দল বেঁধে কখনও কখনও সান্ধেবিহারে বেরোতে দেখা যায়। এরা জমির আলে কিংবা নদী ও খালের পাড়ে গর্ত খুঁড়ে তার মধ্যে বাসা বানায়। এদের বাসায় যে একাধিক মুখ থাকে তা আগেই বলেছি। আত্মরক্ষার জন্য খ্যাঁকশিয়ালরা এরকম ব্যবস্থা করে। বিপদ বুঝলেই গর্ত থেকে বেরিয়ে দৌড় দেয়।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯১: বীরচন্দ্র, রাধাকিশোর, বীরেন্দ্র কিশোর ও বীরবিক্রমের সঙ্গে কবির সুসম্পর্ক ছিল

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯১: বীরচন্দ্র, রাধাকিশোর, বীরেন্দ্র কিশোর ও বীরবিক্রমের সঙ্গে কবির সুসম্পর্ক ছিল

‘রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস’ গ্রন্থ প্রণেতা বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ কৈলাসচন্দ্র সিংহের কাছ থেকে রবীন্দ্রনাথ ত্রিপুরার কিছু কিছু ঐতিহাসিক উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়েছে। কৈলাসচন্দ্রের সঙ্গে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের সম্পর্ক ছিল আগে থেকেই। ‘ভারতী’ পত্রিকায় তাঁর প্রবন্ধ প্রকাশিত হবার পর থেকেই এই সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত আদি ব্রহ্ম সমাজের সহকারী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বাঘরোল

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বাঘরোল

বাঘরোলদের প্রধান খাদ্য মাছ, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, ব্যাঙ, সাপ ইত্যাদি। সবচেয়ে প্রিয় খাবার মাছ, আর তাই এদের সাঁতার কাটার উপযোগী পা যেমন রয়েছে, গা যাতে বেশি না ভিজে যায় সেই জন্য জল ও তাপমাত্রা প্রতিরোধী ঘন লোমের বিশেষ ধরনের দুটি স্তরে বিন্যাস রয়েছে। জলজ প্রাণী ছাড়াও পাখি, ইঁদুর, খরগোশ, পোকামাকড়, এমনকি গৃহস্থের হাঁস-মুরগি, ছাগল ছানা ইত্যাদি শিকার করতে পারে। নদী, খাঁড়ি, জলাভূমি, পুকুর সমৃদ্ধ সুন্দরবন তাই বাঘরোলদের জন্য খাবারের সমৃদ্ধ উৎস।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র

‘বালক’-এ ধারাবাহিক প্রকাশের পর এবং বই আকারে ‘রাজর্ষি’ প্রকাশের আগে রবীন্দ্রনাথ ত্রিপুরার তদানীন্তন মহারাজা বীরচন্দ্র মাণিক্যের কাছে গোবিন্দ মাণিক্যের রাজত্বকালীন ঐতিহাসিক উপাদান চেয়ে একটি পত্র পাঠান। এটিই হচ্ছে ত্রিপুরার রাজপরিবারের কাছে কবির প্রথম পত্র।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৪: ছোট নখরযুক্ত ভোঁদড়

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৪: ছোট নখরযুক্ত ভোঁদড়

ভোঁদড়ের মুখটা সামনের দিকে সামান্য সূচালো। উপরের চোয়ালের দুপাশে অর্থাৎ নাসারন্ধ্রের দুদিকে একটু নিচে শক্ত খোঁচা খোঁচা কিছু লোম থাকে। জলে ভিজলেও লোমগুলো নেতিয়ে পড়ে না। লোম গুলি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে জলের গভীরে যখন ভোঁদড় দের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় তখন ওই লোমগুলোর স্পর্শেই বুঝতে পারে কোথায় কোন গর্তে বা পাথরের আড়ালে মাছ, কাঁকড়া ইত্যাদি লুকিয়ে আছে। তারপর নখ বা দাঁতের সাহায্যে তুলে আনে তার শিকার। ভোঁদড়ের দাঁতগুলোর প্রান্ত খুব ধারালো ও তীক্ষ্ণ খাঁজযুক্ত। ফলে শিকার দাঁত ফসকে পিছলে বেরিয়ে যাওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৯: রবীন্দ্রনাথ ও ত্রিপুরা, অনুক্ত কৈলাসচন্দ্র

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৯: রবীন্দ্রনাথ ও ত্রিপুরা, অনুক্ত কৈলাসচন্দ্র

‘জীবনস্মৃতি’তে কবি লিখেছেন— “…মনে আছে, এই লেখা বাহির হইবার কিছুকাল পরে কলিকাতায় ত্রিপুরার স্বর্গীয় মহারাজ বীরচন্দ্র মাণিক্যের মন্ত্রী আমার সহিত দেখা করিতে আসেন। কাব্যটি মহারাজের ভালো লাগিয়াছে এবং কবির সাহিত্য সাধনার সফলতা সম্বন্ধে তিনি উচ্চ আশা পোষণ করেন, কেবল এই কথাটি জানাইবার জন্যই তিনি তাঁহার অমাত্যকে পাঠাইয়া দিয়াছিলেন।”

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৬৪: শোণিতপুরের গল্প

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৬৪: শোণিতপুরের গল্প

অসম সব সময়ই পর্যটকদের কাছে আকর্ষণ কেন্দ্র হয়ে রয়েছে। এখানকার প্রকৃতি, পাহাড়, ঝর্ণা, চা বাগান, কামাখ্যা মন্দির সব কিছুই অসমের প্রতি মানুষের কৌতুহলকে বাড়িয়েছে। অসমের এই সব আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান ছাড়াও অসমের বুকে লুকিয়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস। রয়েছে অনেক মিথ কেন্দ্রিক কাহিনীও। সে রকমই একটি জায়গা হল অসমের তেজপুর।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৩: খাটাস

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৩: খাটাস

স্ত্রী খাটাস সাধারণত বছরে দু’বার বাচ্চার জন্ম দেয়। জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে এবং আগস্ট-নভেম্বরের মাঝে। এক একবারে ৩-৫টি বাচ্চার জন্ম দেয়। পুরুষ খাটাস অনেক সময় পুরুষ খাটাস বাচ্চাকে মেরে ফেলে পাছে তার প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা বেড়ে যায়! মা খাটাসই বাচ্চার দেখভাল করে। নিজে শিকার করে এনে বাচ্চাদের খাওয়ায়। এই সময় মা খাটাসদের সাহস খুব বেড়ে যায়। দিনদুপুরেও শিকারের খোঁজে লোকালয়ে হানা দেয়।

read more

Skip to content