কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী।

কালো হুডিপরা মেয়েটি কে? যার কাছে ফ্ল্যাটের চাবি ছিল? পুলক কি ‘দ্য হেভেনের’-এ ফ্ল্যাট কিনেছে? তাহলে ঈপ্সিতাকে বলেনি কেন? সেটা গোপন করেছে কেন? এটা কি কালো টাকায় কেনা? কার টাকায় কেনা? কোন প্রোমোটার বা বিল্ডারের দেওয়া গোপন ঘুষের টাকা? পুলক যে অনেক রকম ব্যবসা করে সেটা ঈপ্সিতা জানে! কিন্তু ঈপ্সিতাকে সে-সব বলে না। কারণ ইপ্সিতার বাবা শতদল চ্যাটার্জি উন্মাদের মতো সৎ ছিলেন। এই অদ্ভূত বিশেষণ শতদলবাবুর জামাই মন্ত্রী পুলক ভট্টাচার্যের দেওয়া।
শতদলবাবুকে একবার একজন ঠিকাদার মাছ আর মিষ্টি বাড়িতে পাঠিয়ে ছিলেন। ঈপ্সিতার মা বিনীতা দেবীর ওপর কড়া হুকুম ছিল এইসব উপঢৌকন না নিতে। তখন ল্যান্ডলাইন। বিনীতার ফোন পেয়ে শতদলবাবু উপঢৌকন নিয়ে আসা লোকজনদের অফিসে ডেকে পাঠালেন। পুরনো মিউনিসিপ্যালিটি। একটা সস্তার লেবার ক্যান্টিন ছিল। অফিসার এবং চাকরিদের সকলেরই বাড়ির কাছাকাছি তারা বাড়িতে গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে অফিসে আসতেন। এই রীতি বহু বছর চালু ছিল। সরকারি অফিসের ঢিলেঢালা মেজাজটা তখন সর্বত্র চালু ছিল। মাছ মিষ্টি সবকিছু লেবার ক্যান্টিনে পাঠিয়ে সেটা লেবারদের খাইয়ে দিয়েছিলেন শতদলবাবু। জানিয়েছিলেন অমুক ঠিকেদার বিবাহ বার্ষিকীতে খুশি হয়ে খাওয়াচ্ছেন। এরপর থেকে আর কখনও কোনও ঠিকাদার এসবের কথা স্বপ্নেও ভাবেনি।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১৫৩: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৮: যুদ্ধে ছলনার আশ্রয় এবং বলপ্রয়োগ, উভয়ের কোনও তারতম্য আছে কি?

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৭০ : ঘটজাতক/৫ : সে আসিছে আজ কাল-বৈশাখে

কিন্তু তার জামাই হয়ে পুলক কি ক্রমশ অন্ধকারের জগতে মিশে যাচ্ছিল? তথ্যমন্ত্রী নন, তবুও টেলিভিশনের অ্যাওয়ার্ড ফাংশনে পুলককে আমন্ত্রণ জানানো হতো। পুরস্কারের জন্য মঞ্চে ডাকা হতো! এই সমস্ত নায়ক নায়িকাদের ঈপ্সিতা খুব একটা চেনেও না। সেও সেজেগুজে যেতো ওইসব গ্ল্যামার অনুষ্ঠানে। কিন্তু ছবি টবি তোলার থেকে দূরে থাকতো। পুরস্কার দিতে সাধারণত মন্ত্রীকেই মঞ্চে ডাকা হয়। সেবার মন্ত্রীপত্নীকেও মঞ্চে ডাকছে শুনে প্রাথমিকভাবে ঈপ্সিতা বেশ অবাক হয়েছিল। পুলক তাকে হাত ধরে মঞ্চে নিয়ে গেল।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৫: আইসিইউ কেবিন নং ২০৪

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

এই অনুষ্ঠানে কয়েকশো ক্যামেরা কয়েক হাজার মোবাইল ফোন চালু। নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়বে এই ভিডিয়ো। পুলক সেটা জানে। উত্তরা মুখার্জি এমন কিছু কচি খুকি নয়। কিন্তু সে পুরস্কার হাতে নেবার আগেই পুলককে টপ করে একটা প্রণাম করে ফেলল ঈপ্সিতার দিকে এগোচ্ছিলো সে তাড়াতাড়ি হাত দেখিয়ে বাধা দিয়েছিল। ক্যামেরার সামনে বয়স নিয়েও এদের চুড়ান্ত ন্যাকামো। টেলিভিশনে এসব দেখে বিনীতা ভীষণ খুশি হয়েছিলেন। টেলিভিশন ক্যামেরায় ঈপ্সিতার রাগ বা বিরক্তি ধরা পড়েনি। তাই তাই বিনীতা বা টেলিভিশনের দর্শকেরা সেসব দেখতে পায়নি।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

বেলুড় থেকে বালিগঞ্জ প্লেস। ভাড়া নেওয়া উবের ট্যাক্সিতে ফেরার সময় ক্লান্তিতে মাথাটা ব্যাকসিটে এলিয়ে দিয়েছিল ঈপ্সিতা! কিন্তু আজ হঠাৎ এই কথাগুলো কেন মনে পড়ল? কেন মনে পড়ছে? কোথায় যেন পড়েছিল যে বিষয়টা নিয়ে কেউ যখন সর্বক্ষণ খুব বেশি করে ভাবছেন। মনের সার্চ ইঞ্জিন সেই সংক্রান্ত সবকিছু স্মৃতি তার মনের ভিতর তন্নতন্ন করে খুঁজতে থাকে। একেবারে নিজের অজান্তে। আজকের দিনের এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এর মতোই আমাদের মন অবিরামভাবে সেই কাজটা করে আর মনের মনিটারে তার ছাপগুলোকে আবছা আবছা করে ফুটিয়ে তুলতে থাকে।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি

এইভাবে রগের দুটো পাশ দপদপ করতে করতে হঠাৎ করে মনে পড়ে যায়— দ্য হেভেনের সিকিউরিটি মনিটরে দেখা ওই কালো হুডি পরা মেয়েটিকে সে আর একবার দেখেছে। ঈপ্সিতা জানে এটা যখন তার মনে পড়ছে! তার বারে বারে মনে হচ্ছে! তখন এটা স্পষ্ট যে তার মস্তিষ্ক আরও অনেক কিছু খুঁজে বের করে ফেলেছে। তাই মনটাকে শান্ত করতে পারলেই ছেঁড়া সুতোগুলো জুড়ে যাবে আর স্পষ্ট হয়ে যাবে কোথায় কখন সে এই কালো হুডিপরা মেয়েটিকে দেখেছে? কোথায় কখন কীভাবে সে এই কালো হুডিপরা মেয়েটির মুখোমুখি হয়েছিল? কেন কেন মনে আসছে না! কত বয়েস তার? কেন স্মৃতি এভাবে বিপদে ফেলছে তাকে?—চলবে।

হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content