কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : সংগ্রহীত।

 

|| হার্ড ড্রাইভ-১২ ||

সিকিউরিটির ছেলেটি চটপট ডেক্সটপে সিসিটিভি ফুটেজ খুঁজতে শুরু করল।
— কবেকার ফুটেজ ম্যাডাম।
— এই রে কবে এসেছিলেন সেটা তো…দেখান না! এই উইকটা!
সরল বিশ্বাসে ছেলেটি মনিটরে বি-১৩০১ এর সামনের দুটো ক্যামেরায় তোলা ছবির ফুটেজ ডেক্সটপে চেক করতে লাগলো। বেশি খুঁজতে হয়নি! একদিন দু’দিনের মধ্যেই দেখা গেল কালো হুডি পরে একজনকে চাবি খুলে ঢুকতে এবং বের হতে। চোখে কালো সানগ্লাস হুডিতে চেহারাঢাকা।
ঈপ্সিতার মাথাটা দপদপ করছে। কিন্তু বেশ কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি করে কখনওই পুলককে ওই ফ্ল্যাটে ঢুকতে থেকে বের হতে দেখা গেল না। ছেলেটিকে কি সেটা জিজ্ঞেস করা উচিত হবে কিনা এসব ভাবতে ভাবতেই ঈপ্সিতা প্রশ্নটা করেই ফেলল।
— স্যার তো এখানে আসেন স্যারের ছবি কোথায়? ওই তো হারিয়েছে চাবি।
— না মানে…
— কী বলুন!
— মানে একটু অসুবিধে আছে!
— স্যার মানা করেছে তো! সিসিটিভি অফ রাখতে বলেছে?
— হ্যাঁ মানে! উনি ঢোকা বেরোনো সময় সব ক্যামেরা অফ থাকে।
— আরে সে তো আমাদের ফ্ল্যাটেও তাই। ঠিক আছে! লকটাই পালটাতে হবে! চলি! এটা রাখুন!
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১৫২: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৫: আইসিইউ কেবিন নং ২০৪

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

বিনায়ক : বিশ্বকর্মা

পাঁচশো টাকার নোট কিবোর্ডের নীচে গোঁজা দেখে ছেলেটা চমকে ওঠে।
— না না ম্যাডাম এসবের!
— এটা তো আপনার ডিউটি নয়! আমরা ভুল করে বাড়ির চাবি মিসপ্লেস করেছি! আপনি হেল্প করেছেন। আর শুনুন ভাই! এসব নিয়ে কাউকে, স্যারকে বা ওই যে মেয়েটি কালো হুডি পরে আমাদের দূর সম্পর্কের রিলেটিভ ওদের কাউকেই কিছু বলার দরকার নেই। বোঝেনই তো সব চাবি হারানো নিয়ে ফ্যামিলির মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝি! প্লিজ!
— না না ম্যাডাম ঠিক আছে!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৭: শিশুপালের একশত অপরাধ ক্ষমার যোগ্য, কেন? এর কোন তাৎপর্য আছে কি?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

ঠিক নেই। জীবনের কিছুই ঠিক নেই! গাড়িতে ফিরতে ফিরতে হঠাৎ কি মনে হল গাড়ি ঘুরিয়ে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে চলে গেল ইপ্সিতা। পুলক সকাল ন’টায় অ্যাসেম্বলিতে বেরিয়ে গিয়েছে। আজ ব্রেকফাস্ট করেনি! পুলকও যেন একটা দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছে। কিন্তু কী নিয়ে এতো দুশ্চিন্তা করছে সেটা ঈপ্সিতা জানতে পারছে না।
— ম্যাডাম! বিরূপাক্ষ! কোনও সমস্যা? স্যার অ্যাসেম্বলিতে। আমাকে বলুন প্লিজ! আই উইল টেক কেয়ার!
— নানা! পুলক পৌঁছে গিয়েছে কিনা জানার জন্য, আজ তো ব্রেকফাস্টও করেনি!
— হ্যাঁ, আজ সকালেই একটা জরুরি মিটিং আছে! চিন্তা করবেন না! এখানে ক্যান্টিনে তো সবই পাওয়া যায়!
— ঠিক আছে।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

ঠিক দশটায় ক্যাব নিয়েছে রাত আটটা পর্যন্ত আট ঘণ্টা! মাকে একবার প্রণাম করে এসে নাট মন্দিরের পিলারে হেলান দিয়ে অনেকক্ষণ বসে রইল ঈপ্সিতা! আজ চোখে বারবার জল আসছিল। দু-গাল বেয়ে চিবুক থেকে যন্ত্রণা ফোঁটা হয়ে পড়ছিল! মনে মনে বলছিল ‘মা আমায় তুমি সবটুকু জানিয়ে দাও! আমার কাছে যেন কিছু গোপন না থাকে।’ কতক্ষণ বসেছিল খেয়াল নেই। একবার মায়ের মিসকল এসেছিল! ফোন সাইলেন্টে রেখেছিল ঈপ্সিতা। শুনতে পায়নি! মেসেজ করে দিল। ” একটু কাজে এসেছি। সন্ধেবেলায় আসবো। ‘
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৬: শাঁখামুটি

সবে দুপুর দুটো। আট ঘণ্টা, আশি কিলোমিটার। গাড়ি নিয়ে বেলুড় চলে গেল ঈপ্সিতা। সেখানে খানিকক্ষণ বসল গঙ্গার ধারে। আজ কোনও খিদে নেই, তৃষ্ণা নেই। শুধু যন্ত্রণাবিদ্ধ মনকে বয়ে নিয়ে বেড়ানো।
একবার ফোন খুলল। অদ্ভুতভাবে দেখল পুলকের মেসেজ! — “তুমি কোথায়?”
এমন তো হয় না! পুলক আজ প্রায় বহুবছর পর তাকে মেসেজ করল! কিন্তু কেন? পুলক কি কোনও একটা সমস্যায় পড়েছে? সেখানে ঈপ্সিতার সাহায্য প্রয়োজন?!
ঈপ্সিতা লিখে পাঠাল — “মুভি”! —চলবে।

হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content