কলকাতায় বৃষ্টি
আর অদ্ভুতভাবে অতনু তখন তার স্টার্ট আপের জন্য সেক্টর ফাইভে জায়গা খুঁজে বেড়াচ্ছে। টেলিফোনে সুবিমলবাবুকে জানিয়েছিল যে, তার অসুবিধে না হলে সেক্টর ফাইভে কোথাও একটা তারা বসে কথা বলতে পারে। সুবিমলবাবু রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু কোথায় বসা যায় জানতে চাওয়ায় সুবিমলবাবু বলেছিলেন আপনার অসুবিধে না থাকলে আমার জানাশোনা একটা রেস্তরাঁ আছে। মানে সেটা রেস্টুরেন্ট-কাম-বার। সকালে ফাঁকা থাকে। অতনু জানিয়েছিল অসুবিধা নেই। আর সেই মিটিং হয়েছিল ড্রিম লাইট রেস্তরাঁয়। যে রেস্তঁরার পাশের সরু গলি দিয়ে এখনকার টেক সলিউশনের অফিসে পৌঁছতে হয়। না এটা ওই বিল্ডিংয়ের এন্ট্রান্স নয়। পায়ে হাঁটা শর্টকাট!
প্রথমদিন এসে দিয়ার এখানেই রাস্তা গুলিয়ে গিয়েছিল। আসলে গুগলম্যাপ এই গোলানোর কাজটায় সিদ্ধহস্ত। দিনের পর দিন ভুল রাস্তা বাতলে দেয়। যতক্ষণ না কোনও সহৃদয় সচেতন মানুষ নিজের সময় খরচ করে ভুলটাকে ঠিক করবার জন্য তাদের কাছে মেসেজ পাঠায়। সেটা আবার বিচার করার একটা লম্বা সময়। তারপর তারা সেটাকে সঠিক করে। কিন্তু জনতার জন্য নিখরচায় পরিশ্রম করবার লোক আজকাল কোথায়?
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, পর্ব-৮৩ : আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮১: সীমান্ত-সংঘাত

মানুষকে দেখি গণদেবতার বেশে…

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬২: ছুঁচো

যে রাস্তায় গাড়ি আসতে পারে সেটা একটু ঘুরে। আর একটা সরু ওয়ানওয়ে প্যাসেজ দিয়ে গাড়ি আনার পরে এই বিল্ডিংয়ে নীচে এখন গাড়ি পার্ক করে অতনু! খুব বৃষ্টি হলে সেই সরুগলিটাতেই ভেনিসের মতো জল ঢেউ খেলে। উল্টোদিক থেকে গাড়ি এলে যে বা যিনি বেশি এগিয়ে এসেছেন তিনি প্রেফারেন্স পান। পাহাড়ে যেমন ওঠার গাড়িরা সব সময় প্রেফারেন্স পায়! নেমে আসা গাড়ি ঢালু রাস্তায় হান্ডব্রেক টেনে অপেক্ষা করে। তেমনই এ গলিতে কমরাস্তা পেরোনো অন্য গাড়িটা, — “আমরা চলি পিছনপানে কে আমাদের রুখবে।”
বলতে বলতে পিছিয়ে যায়।
কাহিনীর প্রথম শুরুর কথা যাঁদের স্মরণে আছে, তাঁরা খেয়াল করতে পারবেন সেদিনের কথা। লিঙ্কড-ইনে বিজ্ঞাপন দেখে ঠিকানা খুঁজে গুগল করে, দিয়া ইন্টারভিউ দিতে চলে এসেছিল। কিন্তু গিয়ে পৌঁছল, তখনও রাতের খোয়ারি না ভাঙা ড্রিমলাইট রেস্তঁরায়!
আরও পড়ুন:

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

দরজা ঠেলতেই একটা ভ্যাপসা গন্ধ নাকে আসে। চিকেন চাপ আর বিয়ারের রাতভোর জমে থাকা ককটেল। বাড়িতে ফ্রিজেরাখা কপির তরকারিতেও একই কাণ্ড ঘটে। আলো-আঁধারি। রেস্তঁরার মালিক বোধহয় সকালের বিদ্যুৎ বাঁচান। নো লাইট, নো ফ্যান! একটা মোটা থপথপে লোক। মাথায় রোঁয়াওঠা খাড়াখাড়া চুল। লালরঙের সানমাইকার কাউন্টারে বসে আছে। পাশে ঝুল কালি-নিন্দিত একটা টেবলফ্যান। ঘরঘর করে ঘুরছে। তবে লোকটার মোটা খসখসে চামড়া টপকে সে হাওয়া তাঁর শরীরে পৌঁছচ্ছে কিনা সন্দেহ। এই অসময়ে কেউ এলে লোকটি তার কুতেকুতে চোখ তুলে তাকায়। অচেনা পুরুষ হলে প্রায় রোমহীন ভুরুটা কুঁচকে যায়। চেনা কেউ হলে মুখ আর ঘাড়ের মধ্যের স্যান্ডুইচ হয়ে যাওয়া গলার ওপরে গোলগাল গাবদা মুখটা তোলার একটা ব্যর্থ চেষ্টা করে লোকটা। আর পথভুলে পাশের আইটি কোম্পানিতে আসা কোনও জিন্সপরা কমবয়সী মেয়েকে আসতে দেখলে লোকটা খুশিতে হেসে ফেলে। মোটা নোংরা জিভের কিছুটা অংশ তার কালচে বেগুন-বাদামি মোটা নিচের ঠোঁটের খানিকটা ঢেকে দেয়। জলভরা বেলুনের মতো ছড়িয়ে থাকা পেটটা টেনে সে একটু স্মার্ট হবার চেষ্টা করে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১০ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৩

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

লোকটার নাম মইদুল। সুবিমলবাবুকে সে খুব ভালো চেনে এবং খাতির করে। দেখলেই চেয়ার থেকে নেমে তার কাউন্টারের বাইরে এসে চেয়ার টেনে দেয়। ফ্যান খুলে দেয়। পাশের আলোটা জ্বালিয়েও দেয়। কারণ সুবিমল দে, তার মালিকের বিশেষ পরিচিত। এই রেস্তঁরা-ব্যবসার খাতাপত্র সবই সুবিমলবাবুই সামলাতেন এবং তাঁর অফিস সেগুলোর গতি করতেন।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭২: কামোদ্দীপক প্ররোচনা ও রাবণের পরস্ত্রী-অপহরণের লোলুপতা আজও অব্যাহত

সুবিমলবাবু যেদিন অতনু সেনকে এখানে এনেছিলেন সেদিনও মইদুল তাঁর কর্তব্যে ত্রুটি রাখেনি।
— আপনার এখনকার কাজটা ছাড়তে গেলে আপনাকে মাসে কত টাকা রোজগার করতে হবে?
ভূমিকার চালচিত্র না সাজিয়ে সরাসরি অসুরের বুকের পিনপয়েন্টে ত্রিশূল চালিয়ে দেওয়া ঝকঝকে এমন বাঙালি যুবক, সুবিমলবাবু এর আগে বড় একটা দেখেননি। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content