কলকাতায় বৃষ্টি
রোবোটিক ল্যাবের কো-সুপারভাইজার ছিলেন প্রফেসর টনি পাইপ। ইউনিভার্সিটি ফেস্টের টেকনিক্যাল ইনোভেশনের প্রিভিউ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন টনি। ডিপার্টমেন্টাল ইনচার্জ ড. কার্স্টিন এডার অতনুকে খুব স্নেহ করতেন। জার্মান মহিলা। অতনুকে দেখার পর থেকে তাঁর হয়তো মনে হয়েছিল যে ছেলেটির মধ্যে একটা চাপা কষ্ট রয়েছে। অতনু এসব নিয়ে কোনওদিন ড. কার্স্টিনের সঙ্গে কথা বলেনি। পৃথিবীর কারও সঙ্গেই বলেনি। পরিবারের যে অধ্যায়কে সে পিছনে ফেলে গিয়েছে সেই গুটিকয়েক আত্মীয়-স্বজন আর চুঁচুড়া চার্চের ফাদার স্যামুয়েল ছাড়া অতনুর পূর্ব-ইতিহাস কেউ জানেন না।
তবে অতনু জানেই না যে তার অজান্তে সিকিউরিটি এজেন্সির বিতান ঘোষ তার সম্বন্ধে খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রয়োজনটা তার নয়। প্রয়োজন অতনু সেনের রেকমেন্ডেশনে রবীন চ্যাটার্জির কোম্পানি অ্যাথেনা ইনফোটেকের কর্মরতা দিয়া সাহার। তবে দিয়ার কেন অতনুকে জানার প্রয়োজন সেটা সে বোধহয় নিজেও জানে না।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, পর্ব-৮২ : আকাশ এখনও মেঘলা

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

মানুষকে দেখি গণদেবতার বেশে…

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬২: ছুঁচো

ড. কার্স্টিন তাঁর নিজস্ব নোটপ্যাডে চিঠিতে লিখেছিলেন। মাই ডিয়ার টনি, অতনু সেন একটা সাংঘাতিক অ্যাপ তৈরি করেছে। আমি চাই এটা কনফিডেন্সিয়ালি তুমি স্টাডি করো এবং টেকনিক্যাল ইনোভেশনে ইনক্লুড করো। সমস্ত ছাত্রদেরই অংশ নেওয়ার সমান সুযোগ ছিল। কিন্তু ডিপার্টমেন্টাল ইনচার্জের রেকমেন্ডেশন কাজটার গুরুত্ব অনেক গুণে বাড়িয়ে দেয়। আর রোবটিক ল্যাবের সুপারভাইজারকে চিঠি দেওয়ার কারণে তিনি খুব যত্ন করে অ্যাপের স্টেপ-বাই-স্টেপ ডেভেলপমেন্ট স্টাডি করলেন, কমিটির সামনে প্রেজেন্ট করতে গেলে ইনস্টিটিউটের সার্ভার অ্যাক্সেস দিতে হবে। তার জন্য স্পেশাল পারমিশন চাই। ড. কার্স্টিন এডার-এর সুপারিশ সমেত টনি ইনস্টিটিউটের টেকনিক্যাল বোর্ডকে বিশেষ অনুমতির জন্য লিখল। সে জানালো যদি এই অ্যাপ্লিকেশনের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হয় তাহলেও ইনস্টিটিউটের সার্ভার এক্সেস লাগবে। সেই রিভিউতে যদি অ্যাপ্লিকেশন ফেল করে তাহলে এই অ্যাক্সেস দেবার কোনও প্রয়োজন হবে না। কিন্তু ইনস্টিটিউটকে সার্ভার এক্সেস দিতে হয়েছিল।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০৯ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ২

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

শুধু তাই নয়, সেবার টেকনিক্যাল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছিল এই বঙ্গসন্তান। একটা বড়সড় টাকার প্রাইজ মানি ডিক্লেয়ারড ছিল এবং সেই প্রাইজমানি তখন স্টুডেন্টের হাতে দেওয়া হবে না। এটা তার নামে ব্যাংকে ডিপোজিট করে রাখা হবে। স্টুডেন্ট যখন তার শিক্ষা শেষ করে ইন্সটিটিউট থেকে বেরিয়ে যাবে তখন এই টাকা তাকে প্রাইজ মানি হিসেবে দেওয়া হবে। সেই ছাত্র ততদিনের ডিপোসিটের একটা মোটা অংকের সুদ পাবে। তখন যদি ছাত্রটি চায় তাহলে তার দেশের মুদ্রাতে সেই সময়কার অর্থমূল্য তাকে দেওয়া হবে। আর যারা সেখানে চাকরি পাবে তারা ইউনিভার্সিটির কাছে টাকাটা রাখতে পারে। কারণ এটা এডুকেশন প্রাইজ। ট্যাক্স ফ্রি! অতনু যখন ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে এল তখন এই অর্থের মূল্য অনেকটা বেড়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮০: যাত্রাপথে

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

ক্যাম্পাস থেকে অতনু একটা লোভনীয় চাকরি পেয়েছিল। তাই যখন প্রাইজমানি ফেরত নেবার প্রশ্ন এলো তখন তাকে ডিপার্টমেন্টাল ইনচার্জ ড. কার্স্টিন এডার জিজ্ঞেস করেছিলেন
— সেন তুমি টাকাটা উইথড্র করছো কেন? তুমি যে চাকরি পাচ্ছো এটা একটা গোল্ডেন চান্স। তুমি তো এখন ইউএসএ-তেই থাকবে! টাকাটা ট্যাক্স ফ্রি!
— না ম্যাডাম আমি ইন্ডিয়া ফিরে যাব! চাকরিটা আমি নিচ্ছি না!
জার্মান মহিলা চশমা খুলে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে ছিলেন?
— কিন্তু কেন?
— ইন্ডিয়াতে আমার বাবা আমার জন্য অপেক্ষা করছেন!
আরেকটিও প্রশ্ন করেননি ড. কার্স্টিন। টাকা তুলে নেবার অ্যাপ্লিকেশনে নিখুঁতভাবে রেকমেন্ডেড স্ট্যাম্প দিয়ে সই করে দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭২: কামোদ্দীপক প্ররোচনা ও রাবণের পরস্ত্রী-অপহরণের লোলুপতা আজও অব্যাহত

অতনু সেই টাকা দিয়ে তার স্টার্ট আপ ‘টেক সলিউশন কলকাতা’ শুরু করলো। টেক সলিউশনের প্রথম রিক্রুট হল সুবিমল দে। অতনু এই সুবিমল দের খোঁজ পেয়েছিল ফাদার সাম্যুয়েলের কাছ থেকে। এই সুবিমলবাবু একটি কস্ট অ্যাকাউন্টান্সি ফার্মে কাজ করতেন। চুঁচুড়ার চার্চ-এর অ্যাকাউন্টিং করতো কোলকাতার এই কস্ট অ্যাকাউন্টেন্সি ফার্ম। এই কাজে ফাইলপত্র নিয়ে ফাদার স্যামুয়েল কলকাতায় আসতেন এবং সুবিমলবাবুর সঙ্গে বিশেষ পরিচিত ছিলেন। এই সূত্রে অতনু সুবিমলবাবুর সঙ্গে আলাপ করলো। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content