কলকাতায় বৃষ্টি
 

|| হার্ড ড্রাইভ-৪ ||

মেয়ের কথা শুনে বিনীতা সেদিন দুঃখ পেয়েছিলেন। ভেবেছিলেন হয়তো দাম্পত্যের মধ্যে রাজনৈতিক জীবনের ব্যস্ততা গোল বাধাচ্ছে। অনেক সময় এমন হয়। কাছাকাছি দুটো মানুষের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। আবার জীবনের অমোঘ প্রবাহের স্রোতে সব গোল সব ভুল বোঝাবুঝি কেটে যায়। এই ভাঙাগড়াই জীবন।
মন্ত্রী হবার পর প্রথম পাঁচবছরে পুলকের উত্থান অকল্পনীয়। দ্বিতীয় বিধানসভা নির্বাচনে ওই একই কেন্দ্র থেকে আরও অনেক বেশি মার্জিনে জিতেছিল পুলক। এবারও পূর্তদপ্তর। শোনা যাচ্ছিল দপ্তর বদল হবে। মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত স্নেহভাজন নাকি এবার পুর এবং আবাসন দপ্তরের দ্বায়িত্ব পাচ্ছেন। তারই মাঝে এই অঘটন। একেবারে বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনা। বাড়িতে তখনও কাজের লোকজন কেউ পৌঁছোয়নি। বাড়িতে কাজের লোকজন রাতে কেউই থাকতো না। ইপ্সিতা কোনওভাবেই নিজেদের প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত পরিসরটুকু বাইরের লোকের কাছে মেলে ধরতে রাজি নয়। তাই রাতে কাজের লোকজন নিচের সারভেন্ট কোয়ার্টারে থাকে।

এই অ্যাপার্টম্যানেটে এই সুবিধে আছে। আছে বলতে যাদের পক্ষে সেই টাকা খরচ সম্ভব তাদের জন্য আছে। অন্যদের জন্য নেই। এত বড় অ্যাপার্টমেন্ট এতোগুলো ফ্ল্যাট। কিন্তু সকলের কি নিজস্ব গ্যারেজ আছে। নেই। অথচ ঈপ্সিতার ফ্ল্যাটের দু-দুটো গ্যারাজ। হ্যাঁ সানি পার্কের এই বাড়ির মালিক ইপ্সিতা ভট্টাচার্য। মন্ত্রী পুলক ভট্টাচার্যের নামে কিছুই নেই। একটা গাড়ির মালিক ইপ্সিতা। অন্যটা পুলকের অকালকুষ্মাণ্ড ছোটভাই অলকের নামে কেনা। অলক কোনও কাজকর্ম করে না। দাদার নাম ভাঁড়িয়ে চন্দননগরে মাস্তানি করে। প্রোমোটারদের থেকে মাসহারা তোলে। কিন্তু সেটাকে কেউ তোলা বলতে পারবে না। অলক নাকি তাদের সেলস এজেন্ট হিসেবে কমিশন পায়। খাতাকলমে তাই দেখানো। ফ্ল্যাটের খদ্দের এনে দিলে কমিশন দেবার রীতি আদি অনন্তকাল থেকে চলে আসছে। এই বুদ্ধিটা অলকের মোটা মাথায় কস্মিনকালেও আসতো না। এসব পুলকের বুদ্ধি!
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৪৪: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ২৪

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

বিনীতা মেয়ের কাছে এসব শুনেছেন। রাজনীতি করে। রাজ্যের মন্ত্রী। এমন একটা লোকের আশেপাশে ঘুরে বেড়ানো সকলে তো বন্ধু নয়! বরং বন্ধুবেশী শত্রুই বেশি। পুলকের মতো রাজনীতির পাঁকাল মাছেরা সেটা খুব ভালো জানেন। তাই টাকাপয়সা বা যেকোনও সিদ্ধান্তের সময় পুলকের ডানহাত তার বাঁ হাতকেও বিশ্বাস করে না। চাটুকারদের ক্ষেত্রে পুলক আরও সাবধানী! গদি উল্টোলে এই চাটুকাররাই প্রথম পাল্টি খাবে। এটা স্বতঃসিদ্ধ তত্ত্ব!
আরও পড়ুন:

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে

মহাকাব্যের কথকতা পর্ব-১৭০: রাবণ কে? রামায়ণের রাবণ কী আজও নেই?

রাজনীতিতে এসে প্রথম মন্ত্রিত্ব পাবার পর এসব কথা পুলক ইপ্সিতাকে বলতো। বিনীতা মেয়ের কাছেই শুনেছেন। পরের দিকে ইপ্সিতা আর কিছু বলতো না! তখন তো মন্ত্রিত্বে পুলক এবং তার পরিবার অভ্যস্ত। প্রথম প্রথম। মধ্যবিত্ত চৌহুদ্দি থেকে যা কিছু অবাক লাগতো পরে সেগুলোই স্বাভাবিক! তাই ন্যূনতম প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ালো।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৭ : শাক্য সিংহের খোঁচর!

দশভুজা : আমি আর কখনওই ফিরে আসার প্রত্যাশা করি না…

ইন্সপেক্টর শ্রেয়া বাসু আর ধৃতিমান চৌধুরী নামের এক গোয়েন্দা। এঁদের নামটা বিনীতার চেনা চেনা লাগছে। কোথাও একটা শুনছে। বা কাগজে পড়েছে হয়তো। সেদিনই অনেকটা রাতে বুতাই চলে এসেছে। সানি পার্ক এর বাড়ি থেকে কেওড়াতলা শ্মশান হয়ে বিনীতার কাছে এসেছে অনেক রাতে। শ্মশান থেকে একবার সানি পার্কের ফ্ল্যাটে যেতে হয়েছিল। লোকাল থানা থেকে এই হাই প্রোফাইল কেস নিয়েছেন ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট। সেখান থেকে দু’জন এসেছিলেন। বুতাইয়ের কাছে বিনীতা শুনলেন তাদের নাম।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৭: চাটুকারদের স্তুতিবাক্যই রাজ্যের পতন ডেকে আনে! পেঁচাদের ট্র্যাজেডি আর ‘কথা বলা গুহার’ এক কালজয়ী রাজনৈতিক পাঠ

কিন্তু পুলক তো অসাবধানে পড়ে গিয়েছে। বুতাই একান্তে বলেছে ঘটনাটা ভোরে নয় ঘটেছে মধ্যরাতেরও পরে পুলক সেদিন অনেক রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ফেরে। আবার মদের বোতল নিয়ে বসেছিল। বারান্দার কাচের বড় জানলা খুলে দিয়েছিল। বুতাই রাগারাগি করে শুয়ে পড়েছিল। হয়তো সেখান দিয়েই অসাবধানে পড়ে যায়। সব কমপ্লেসেই গভীর রাতে সিকিউরিটি গার্ড ঘুমোয়। এমন নামী কমপ্লেক্সেও তার অন্যথা হয় না। এদিন বেশ রাতে আবার ঝমঝম করে বৃষ্টি হয়েছিল। ভোররাতে সিকিউরিটি ইনচার্জ এসে বেল দিয়ে দিয়ে ঈপ্সিতার ঘুম ভাঙিয়েছিল। —চলবে।

হার্ড ড্রাইভ পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content