সোমবার ৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
 

|| ১৬ ||

লোকটা হাত বাড়ায়!
— আধার প্যান কি আছে!
দিয়া ব্যাগ থেকে আধার আর প্যানকার্ড টেবিলের ওপর রাখে!
— আরে! জেরক্স কপি নেই। এগুলো তো এখন আবার লোকটাকে থতিয়ে দিয়ে এতক্ষণে দিয়া প্রথম কথা বলল। আর কথার মধ্যেই টেবিল থেকে আধার আর প্যানকার্ড তুলে নিল।
— কপি করিয়ে আনছি, মা এসো।
— উনি বয়স্ক মানুষ! এগুলো আপনার তো জানা উচিত!
দিয়া উত্তর না দিয়ে শুধু একবার তাকাল। দিয়ার মা ভাবছেন যেখানে তাঁকে কাজ করতে হবে, সেখানে তাঁর মেয়ের এতটা কাঠিন্য কি ঠিক। মায়ের হাতটা ধরে তাঁকে নিয়ে ঠান্ডাঘর থেকে বাইরের গরমে বেরিয়ে এল দিয়া! সেখানে অনেক মানুষের ভিড়! তারা বুকিং করাচ্ছেন। সেই ভিড় ঠেলে যেতে যেতে দিয়া ভাবার চেষ্টা করছে, সামনে বেরিয়ে বাঁদিকেনা ডানদিকে গেলে কাছাকাছি জেরক্সের দোকান পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৬৭: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৫ : কালাদেওর গুহায়

ত্রিপুরায় আঞ্চলিক শক্তির উত্থান

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

আসলে পুরুষ নিয়ন্ত্রিত আমাদের সমাজে অভিভাবকহীন মেয়েদের ঠিক কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় সেটা নিয়ে দুশো পাঁচশো সাতশো সংখ্যার প্রবন্ধ লেখা যায় কিন্তু তাদের মানসিক অস্থিরতার সঠিক উপলব্ধি করা যায় না। শিক্ষা শুধু বুদ্ধি বা জ্ঞান বাড়ায় না তার সঙ্গে সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি করে। তাই একজন শিক্ষিত মেয়েকে খুব সহজে বাগ মানানো যায় না। একটু আগেই বিশু বাবুর জামাই সেটা বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছেন।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

ক্যাবলাদের ছোটবেলা, পর্ব-৩৭: লোকে যারে বড় বলে

ঠিক গেটের বাইরে পা রাখতে যাবার আগেই গেটের মুখে একটা গাড়ি এসে দাঁড়ালো। তার থেকে নামলেন বিশুবাবু।
— এইতো বৌদি আমি ভাবছিলাম আপনাদের সঙ্গে বুঝি দেখাই হল না।
দিয়ার মা শান্তি কোনও জবাব না দিয়ে চেষ্টা করে মুখে শুধুমাত্র একটু ম্লান হাসি আনার ব্যর্থ চেষ্টা করলো। গাড়ির ভিতর থেকে নিজেরব্যাগটা নিতে নিতেই বিশুবাবু দিয়াকে বললেন
— মা সব কাগজপত্র ঠিকঠাক করে সই করেছেন তো?
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৫: অকালরাবী জাতক—সময় গেলে সাধন হবে না

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৮: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— তিল কাছিম

দিয়া মায়ের দিকে তাকায়। বুদ্ধিমতি দিয়া বুঝতে পারে ঈশ্বর আজ তাকে বা বলা যায় তাদের মা-মেয়েকে একটা সুযোগ দিয়েছেন। এই সুযোগটা না নিলে তার মাকে ভবিষ্যতে অনেক দুর্দশা সহ্য করতে হবে। দিয়ার জায়গায় দিয়ার মা এই পরিস্থিতিতে কিছুতেই কথাগুলো বিশুবাবুকে বলতেন না। যেখানে চাকরি করতে হবে সেখানকার কর্তৃপক্ষের লোকজনের নামে প্রথম দিনেই নালিশ করলে বিশু বাবু বা বিশুবাবু জামাই কেউই সেটা ভালোভাবে নেবেন না। কিন্তু দিয়া তার শিক্ষা তার বুদ্ধি তার বোধ সবকিছু দিয়ে পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করে ফেলে নিমেষে। এটা নিছকই দিয়ার অনুমান যে চাকরিবাকরি না করা কলেজের মুখ না দেখা কারো সঙ্গে মেয়ের বিয়ে বিশু পাল দিতেন না। কিন্তু মা মরা মেয়ের জেদের কাছে বাবা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং মত না থাকলেও মেয়ের মুখ চেয়ে জামাইকে এজেন্সিতে একটা কাজে রাখতেও বাধ্য হয়েছেন বিশু পাল। তাই তার অনুমান ৯০ ভাগ সঠিক। দ্রুত এসব মাথার মধ্যে ভেবে নিয়ে সে বিশু পালকে উত্তর দেয়।
— না কাকু সই হয়নি?
— কেন?
মা আঁচলের আড়াল থেকে দিয়ার হাতে চিমটি কাটছেন। আঙুল দিয়ে গাড়িটা ড্রাইভারকে এগিয়ে রাখতে বলে বিশু বাবুর অবাক প্রশ্ন।
— সই হয়নি কেন? আমি তো সব বলে গিয়েছিলুম! একটা কাজও যদি …
বুদ্ধিমতী দিয়া অভিযোগের ওপর আস্তরণ চাপিয়ে দেয় ।
— না কাকু হয়ে যাবে। আসলে আমাদের কাছে আধার প্যান কার্ডের জেরক্স নেই তো।
— তাই এখন গরমের মধ্যে রোদে পুড়ে তোমরা জেরক্স করাতে যাচ্ছ?
— হ্যাঁ, মানে এক্ষুনি হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৭: জরাসন্ধবধ ও জনার্দনের কৃতিত্ব

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম

বিশুবাবু চোয়াল শক্ত হয়ে উঠেছে। অনেক পরিশ্রম করে নিজের চেষ্টায় এই গ্যাস এজেন্সি চালাচ্ছেন বিশ্বনাথ পাল। তাঁর বাবা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তাই রক্তে আদর্শের বীজটা রয়ে গেছে। ভেতরে ঢোকার আগে
বিশুবাবু গম্ভীর গলায় বললেন,
— এস আমার সঙ্গে! —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content