শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

একঝলকে

ছবি : নেকলেস

পরিচালনা : দিলীপ নাগ

ছবির নায়িকা: সুনীতা দেবী

উত্তম কুমার অভিনীত চরিত্রের নাম : অশোক

মুক্তির তারিখ : ০৭/০৭/১৯৬১

প্রেক্ষাগৃহ : রাধা, পূর্ণ ও প্রাচী

নেকলেস হল ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলা চলচ্চিত্র, যা পরিচালনা করেছিলেন দিলীপ নাগ। এই ছবিতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেন মহানায়ক উত্তম কুমার এবং সুনীতা দেবী।

ছবির মূল কাহিনি একটি মূল্যবান নেকলেসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে, যা সম্পর্ক, ভালোবাসা, সন্দেহ এবং সামাজিক অবস্থানের দ্বন্দ্বকে সামনে আনে। গল্পে দেখা যায়—একটি নেকলেসকে ঘিরে নানা ভুল বোঝাবুঝি, চুরি-অভিযোগ এবং আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়।

উত্তম কুমার অভিনীত অশোক চরিত্রটি একাধারে রোম্যান্টিক এবং নীতিবান, যিনি নানা জটিল পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে সত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে সুনীতা দেবীর চরিত্রটি আবেগপ্রবণ ও সংবেদনশীল, যা গল্পে নাটকীয়তা যোগ করে।
সেই সময়ের সমাজের মূল্যবোধ ও সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন ফুটে উঠেছে উত্তম কুমারের স্বাভাবিক অভিনয় ও পর্দা উপস্থিতি ছবির বড় আকর্ষণ রহস্য ও আবেগ—দুটোর মিশ্রণ ছবিটিকে আলাদা করে এই ছবিটি উত্তম কুমার-এর ক্যারিয়ারের জনপ্রিয় ধারার একটি উদাহরণ, যেখানে তিনি রোমান্টিক ও সামাজিক চরিত্রে সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন। যদিও তাঁর সব বিখ্যাত ছবির মতো অতটা আলোচিত নয়, তবুও এটি সেই সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৬ : অগ্নি সংস্কার

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০০ : প্রাচীন ভারতের ‘স্টিং অপারেশন’-এরও নজির মেলে পঞ্চতন্ত্রের কূটনীতিতে!

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা : দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৬৩: আকাশ এখনও মেঘলা

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৬ : চিড়িয়াখানা: সত্যান্বেষীর অন্দর, ডিটেকটিভের ড্রয়িংরুম

এই ছবির সংগীত পরিচালনা করেছিলেন ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ। গানগুলো ছিল মূলত রোমান্টিক ও আবেগঘন গল্পের আবহ অনুযায়ী গান ব্যবহার করা হয়েছে সেই সময়ের ছবির মতোই গানের মাধ্যমে চরিত্রের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে পরিচালক দিলীপ নাগ ছবিতে সামাজিক নাটক ও রহস্য—এই দুইয়ের মিশ্রণ করেছেন গল্পে একটি নেকলেসকে কেন্দ্র করে চুরি, সন্দেহ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখানো হয়েছে সাদা-কালো চিত্রায়ণ, যা সেই যুগের সিনেমার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য কিন্তু দুঃখের বিষয় হল,অনেক পুরনো বাংলা ছবির মতো এই ছবিটিও সহজে সব প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায় না।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৯ : ভোরের রক্তাক্ত কবিতা

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৮ : বিনা বিচারে আটকদের নিয়ে রাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্যকে চিঠি লিখেন নেহরু

মাঝে মাঝে টিভি চ্যানেল যেমন DD Bangla-তে পুরনো বাংলা সিনেমায় দেখানো হয় YouTube-এ কখনও আপলোড হতে পারে কিছু আর্কাইভ বা চলচ্চিত্র সংগ্রহশালায় (Film Archive) সংরক্ষিত থাকতে পারে। ছবিটির বিশেষ দিক, উত্তম কুমারের ক্লাসিক রোমান্টিক হিরো ইমেজ।

গল্পে রহস্য থাকলেও মূল ফোকাস মানুষের সম্পর্ক যা, ৬০-এর দশকের বাংলা সমাজের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। ছবিটির সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৬০-এর দশকে বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজে সম্পর্ক, বিশ্বাস, লোভ এবং নৈতিকতার দ্বন্দ্ব খুবই প্রাসঙ্গিক বিষয় ছিল। নেকলেস ছবিতে—একটি সাধারণ গয়না (নেকলেস)কে কেন্দ্র করে মানুষের লোভ ও মানসিক পরিবর্তন দেখানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৩: জরাসন্ধ ও কৃষ্ণের কথোপকথন সূত্রে নিহিত আছে রাজনীতির পাঠ

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৬ : ‘বসন্তবায় মোরে জাগায় পল্লব কল্লোলে’

পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে অবিশ্বাস ও সন্দেহ কিভাবে তৈরি হয়, তা বাস্তবসম্মতভাবে ফুটে ওঠে। সমাজে অর্থ ও বস্তুগত জিনিসের প্রতি আকর্ষণ কিভাবে মানুষের চরিত্রকে প্রভাবিত করে—এই দিকটি ছবির মূল বক্তব্য। ফলে ছবিটি শুধুমাত্র বিনোদন নয়, বরং একটি নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিফলন হিসেবেও কাজ করে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৪: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— অলিভ রিডলে কচ্ছপ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

এছাড়া উত্তম কুমারের অভিনয় ক্ষমতার প্রকাশ ছিল এ ছবির অন্যতম মূলধন। উত্তম কুমার এই ছবিতে তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন—
 

১. স্বাভাবিকতা (Natural Acting)

তিনি অত্যন্ত স্বাভাবিক ও সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রকে বাস্তব করে তুলেছেন। অতিরঞ্জন ছাড়াই আবেগ প্রকাশ তাঁর বড় শক্তি।
 

২. মানসিক দ্বন্দ্বের প্রকাশ

চরিত্রের ভিতরের দ্বিধা, সন্দেহ ও অপরাধবোধ তিনি মুখের অভিব্যক্তি ও সংলাপের মাধ্যমে সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
 

৩. সংলাপ বলার দক্ষতা

তাঁর কণ্ঠস্বর ও সংলাপ বলার ভঙ্গি চরিত্রকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করেছে—যা দর্শকের সঙ্গে আবেগগত সংযোগ তৈরি করে।
 

৪. স্টার ইমেজের বাইরে গিয়ে অভিনয়

এই ছবিতে তিনি শুধুমাত্র রোমান্টিক নায়ক নন, বরং একজন জটিল মানসিকতার মানুষ—এই পরিবর্তন তাঁর অভিনয় ক্ষমতার পরিধি বাড়িয়েছে।

কলকাতায় বৃষ্টি

১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা ছবি

সুতরাং ‘নেকলেস’ ছবিটি, ১৯৬০-এর দশকের সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে এবং একই সঙ্গে উত্তম কুমার-এর অভিনয় প্রতিভার গভীরতা প্রমাণ করে। এই ছবির মাধ্যমে বোঝা যায়—উত্তম কুমার শুধু জনপ্রিয় নায়ক নন, বরং একজন শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক অভিনেতা।—চলবে।
* * উত্তম কথাচিত্র (Uttam Kumar–Mahanayak–Actor) : ড. সুশান্তকুমার বাগ (Sushanta Kumar Bag), অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, মহারানি কাশীশ্বরী কলেজ, কলকাতা।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content