কলকাতায় বৃষ্টি

মা সারদা।

মা সারদার অন্যতম ভক্ত ও সঙ্গিনী গোলাপমা তাঁর একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুরের আশ্রয়ে আসেন। দুখিনী, বিধবা গোলাপমায়ের কথা ‘শোকাতুরা ব্রাহ্মণী’ এই নামে ‘কথামৃতে’ উল্লেখ আছে। পরে তিনি মা সারদার আশ্রয় লাভ করে উদ্বোধনে থাকতেন। মা সারদাকে তিনি সাক্ষাৎ জগদম্বিকাজ্ঞানে ভক্তি ও শ্রদ্ধা করতেন। আবার তাঁর অসুস্থতার সময়ে নিজের মেয়ের মতো সেবা শুশ্রূষা করেছেন পরম স্নেহে। সর্বদা শ্রীমার সঙ্গে থাকতেন।
যোগেনমার কথাও কথামৃতে আছে। যেদিন ঠাকুরের শ্রীচরণ প্রথম গোলাপমার বাড়িতে পড়েছিল, সেদিনই গণুর মা অর্থাৎ যোগেনমার বাড়িতেও ঠাকুর এসেছিলেন। তিনি ছিলেন তন্ত্রসমূহের সারসংগ্রহ ‘প্রাণতোষিণীর’ প্রকাশক প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাসের পুত্রবধূ। অতুল ধনসম্পদ হারিয়ে মেয়েকে নিয়ে কষ্টে দিনযাপন করছিলেন। তারপর মেয়েকেও হারিয়ে সাক্ষাৎ জগদম্বা শ্রীমার স্নেহের আশ্রয় লাভ করেন। তিনি সদা শ্রীমাকে একাধারে মা ও মেয়ের মতো সেবা আর লালন করেছেন।
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৮: সকলের উপর মা সারদার ছিল সমান অধিকার

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-২৭: আকাশ এখনও মেঘলা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১০: ভুতুম প্যাঁচা

শ্রীমার দেহ রাখার পর একদিন একজন উদ্বোধনে তাঁকে দেখেন যে, তাঁর দেহ একেবারে ভেঙে গিয়েছে। তখন তিনি বিছানার উপর রাখা মা সারদার পটচিত্রের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে বলেন, ‘কি করব বল বাবা, মাই যে সব ভেঙে দিয়ে গেছেন’। কেদারের মা কোয়ালপাড়ায় থাকতেন। তিনি ঠাকুরকে দর্শন করে কৃতার্থ হয়েছিলেন। তাঁর স্বামী জয়রামবাটিতে পাঠশালার শিক্ষক ছিলেন। তিনিও ঠাকুরের স্নেহধন্য ছিলেন।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৬: আমরা আসলে কাকে পুজো করছি? ঈশ্বরকে, নাকি রক্তমাখা অভ্যাসকে?

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৫: রবীন্দ্রনাথের বিয়ের রাতে মারা গিয়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির জামাই

মা সারদা জয়রামবাটি গেলে তিনি শ্রীমাকে কচি মেয়ের মতো দেখাশোনা করতেন। প্রৌঢ়বয়সে নিজের মেয়েকে হারিয়ে তিনিও শ্রীমার চরণাশ্রিত হন। তাঁর ছেলে কেদার শ্রীমার কাছে দীক্ষা নিয়ে কোয়ালপাড়া আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। অসুস্থ শরীরে যখন মা সারদা ঘোড়ার গাড়িতে চেপে বিষ্ণুপুর থেকে কলকাতায় যাচ্ছেন, তখন তাঁর সঙ্গে লোকজন, খাবারের ব্যবস্থা এবং মহারাজরা থাকা সত্ত্বেও কেদারের মা একটি পুটলিতে খুদভাজা বেঁধে শ্রীমার সেবিকার হাতে দিলেন, পথে তাঁর পথ্যের জন্য। খুদভাজা খুব সহজপাচ্য বলে রোগীকে দেওয়া হয়। মুড়ির চাল থেকে ভাঙা চাল আলাদা করে ভেজে তা তৈরি করা হয়। শ্রীমার ভক্ত দুর্গাদেবী জয়রামবাটিতে তাঁর কাছে এসেছেন।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৫: কতদিন পরে এলে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৪: আনন্দমূর্তি রামের অভাবে অযোধ্যায় নৈরাশ্যের ছায়া, বাস্তব জীবনেও কি আনন্দহীনতা অবসাদ ডেকে আনে?

একজন মসুরকলাই বিক্রি করত, তিনি শ্রীমাকে বললেন যে, নেবেন। তখন শ্রীমা বললেন, ‘বেশ, আমি বলে দিচ্চি’। সেই শুনে লোকটি বলল যে, মার কাছে এসে কি চাইতে কি চাচ্চে। শ্রীমা বলেন, ‘বাবা, ওরা মেয়েমানুষ, ওদের সংসার কত্তে হবে, সব রকম চাই। ওদের নীলবড়ি থেকে শশাবীচি থেকে, সমুদ্রের ফেনা থেকে সব জোগাড় রাখতে হয়’।—চলবে।
* আলোকের ঝর্ণাধারায় (sarada-devi): ড. মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় (Dr. Mousumi Chattopadhyay), অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, বেথুন কলেজ।/strong>

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content