শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

অপূর্ব। ছবি: লেখক।

আলাস্কা ঘুরে দেখার জন্য অগত্যা আমার গাড়িই ভরসা। এবং, যেহেতু আমিই গাড়ি চালাবো, তাই আমাকেও তাদের সমস্ত পরিকল্পনায় সামিল হতে হবে। তাই সবাই মিলে আলোচনা করে ঠিক করা হল, আমার যে জায়গাগুলো দেখা হয়নি, তেমন কিছু জায়গাতেও যেতে হবে। আলাস্কার একদম দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে কেনাই ফিয়র্ড জাতীয় উদ্যান বা ন্যাশনাল পার্ক। সেখানে এখনও যাওয়া হয়নি আমার। তাই ঠিক হল সবাই মিলে সব জায়গার সঙ্গে সেখানেও যাওয়া হবে। যদি আগে থেকে জানতাম যে কি বিপদে পড়তে চলেছি সেখানে যাওয়ার রাস্তায়, তাহলে ওদিকে যাওয়ার নামও করতামনা।
সে যাই হোক, গল্পে ফিরে আসি। পরিকল্পনা মাফিক বন্ধুরা যথারীতি এলো। সেটা সম্ভবত সেপ্টেম্বর মাস। ‘লেবর ডে’ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রীয় শ্রমিক দিবস। কাজেই সপ্তাহান্তে লম্বা ছুটি সকলের। তার সঙ্গে আরও কিছু ছুটি-ছাঁটা যোগ করে সবাই চলে এসেছে চারপাঁচ দিনের জন্য আলাস্কা ঘুরতে। আর এই স্বল্প সময়ে কোন কোন জায়গা ঘুরলে আলাস্কা সম্পর্কে একটা সম্মক ধারণা পাওয়া যায়, সে-সব কিছু মাথায় রেখে আমি সবার মন মতো একটা পরিকল্পনা করে দিলাম। এ সব ব্যাপারে আমি বেশ দক্ষ। সেই সমস্ত ভ্রমণ পরিকল্পনার কথা না হয় বলা যাবে পরবর্তী অধ্যায়ে। এখন বলি কেনাই ফিয়র্ডের কথা।
আরও পড়ুন:

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬২: আলাস্কা ঘুরে দেখার জন্য গাড়ি ভাড়া পাওয়া দুষ্কর

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৬: ঠাকুরবাড়ির কন্যা ঘোড়ার পিঠে চড়ে বন্দুক উঁচিয়ে জমিদারি-কাজে বের হতেন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১০: ভুতুম প্যাঁচা

কেনাই ফিয়র্ড জাতীয় উদ্যানটি কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য জাতীয় উদ্যানের চেয়ে একদম আলাদা। এটা পুরোটাই সমুদ্রের মধ্যে। কাজেই ছোট জাহাজে করে ঘুরতে হয়। অন্যান্য জাতীয় উদ্যানের মতো গাড়ি চালিয়ে বা হেঁটে যাওয়ার উপায় নেই। আলাস্কার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূল জুড়ে রয়েছে বিশালকায় প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ড। মহাসাগরীয় ভূমিরূপের ক্ষেত্রে যে জলরাশি স্থলভাগের কাছাকাছি থাকে তাকে বলে ‘সাউন্ড’। এটাকে ধরা যেতে পারে একটা বিরাট খাঁড়ির মতো, যেটা সোজা গিয়ে মিশেছে বড় কোনও সাগর বা মহাসাগরে। কিন্তু এই খাঁড়িটা বহুদূর ব্যাপ্ত।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৭: শুধু মুখে ধর্মের বুলি আওড়ালেই কেউ ধার্মিক হয়ে যায় না

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৯: মা সারদার কাছের সেবিকাবৃন্দ

গোটা দক্ষিণ-পশ্চিম আলাস্কার উপকূল-সংলগ্ন মহাসাগরীয় জলরাশির পুরোটাই প্রায় প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ডের অন্তর্ভুক্ত। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের নৌ-বন্দরগুলো থেকে জাহাজগুলো এই প্রিন্স উইলিয়াম সাউন্ড ধরে ভেসে গিয়ে আলাস্কা উপসাগর (গাল্ফ অফ আলাস্কা) পেরিয়ে সোজা বেরিয়ে যায় প্রশান্ত মহাসাগরে। এখন এই অঞ্চলের প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য ছোটবড় হিমবাহ।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৫: কতদিন পরে এলে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৪: আনন্দমূর্তি রামের অভাবে অযোধ্যায় নৈরাশ্যের ছায়া, বাস্তব জীবনেও কি আনন্দহীনতা অবসাদ ডেকে আনে?

দক্ষিণ-পশ্চিম আলাস্কার প্রতিটা নৌ-বন্দর থেকেই পর্যটনের উদ্দেশ্য ছোট-বড় বিভিন্ন রকমের জাহাজ (ক্রুজ) ছাড়ে এই হিমবাহগুলো দেখতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এই নৌ-বন্দরগুলোর মধ্যে পর্যটনের সবথেকে জনপ্রিয় হল তিনটি। সিউয়ার্ড, হুইটিয়ার এবং ভ্যালদেজ। এই তিনটি বন্দর থেকেই বেশিরভাগ জাহাজ ছাড়ে। এর মধ্যে সিউয়ার্ড বন্দরের পার্শ্ববর্তী প্রশান্তমহাসাগরীয় জলরাশিকে বলা হয় কেনাই ফিয়র্ড।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৮ : গরুর চোখে জল

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’

ভূগোলে ফিয়র্ড শব্দের অর্থ—সমুদ্রের গভীরে লম্বা এবং অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ জলপথ। অতএব বোঝাই যাচ্ছে, কেনাই ফিয়র্ডের কাছে প্রশান্ত মহাসাগর বেশ সরু। উপকূলবর্তী পাহাড়, আগ্নেয়গিরি, দ্বীপপুঞ্জ এবং বিশালকায় হিমবাহের প্রশান্ত মহাসাগরের অনেকটাই এখানে গ্রাস করে নিয়েছে। এখানে হিমবাহ দেখতে হলে জায়গায় জায়গায় ওই সংকীর্ণ জলপথ পেরিয়ে যেতে হয়। তাই, কেনাই ফিয়র্ড অঞ্চলের হিমবাহ দেখানোর জাহাজ অন্যান্য জায়গার তুলনায় অনেকটাই ছোট। যাতে জাহাজ খুব সহজেই ওই সব সংকীর্ণ জায়গায় পেরিয়ে হিমবাহ বা অন্য কোনও দ্বীপের একদম কাছে চলে যেতে পারে। —চলবে।
* রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা (Mysterious Alaska) : ড. অর্ঘ্যকুসুম দাস (Arghya Kusum Das) অধ্যাপক ও গবেষক, কম্পিউটার সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব আলাস্কা ফেয়ারব্যাঙ্কস।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content