রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
ভাগ্য আজ সহায় মনে হল সাইকেলের।
বামাপদ যখন ফিরে এসে বলল, “মোটামুটি যা বোঝা যাচ্ছে, লাইন-ক্লিয়ার। বুঝলে সাইকেল দা!”
“আমাদের এই শেষ রাতে দেখে কেউ যদি প্রশ্ন করে এত রাতে এখানে কী করছি?” সাইকেল কিছুটা চিন্তিত স্বরে জিজ্ঞাসা করল।
“বলবে, পেশেন্টের অবস্থা সিরিয়াস। হাসপাতাল থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তোমরা দু’জন এসেছ পেশেন্টের লোক হিশেবে। অনেকসময়েই পেশেন্টের কন্ডিশন বিগড়ে গেলে বাড়ি থেকে ডেকে পাঠানো হয়। মনে হয় না এত কিছুও ওদের বোঝাতে হবে। পুলিশরা কারণ জিজ্ঞাসা করলে, জাস্ট বলে বেরিয়ে যাবে।”
“ঠিক আছে। দেখা যাক্, কী হয়!”
“সাইকেল দা,” চলে যাওয়ার আগে বামাপদর গলার স্বরে উদ্বেগ, “যা করবে সাবধানে করো। সিসিটিভি আছে কিন্তু করিডোরে। যেতে ডান দিকে পড়বে ক্যামেরাগুলি। মুখ যতদূর সম্ভব আড়াল করে চলবে। মুখ দেখা না গেলে, গায়ের পোশাক দেখলেও পুলিশ আইডেন্টিফাই করতে পারবে না তোমরা ঠিক কারা!”
“হুম্। দেখছি।” বলল সাইকেল। বামাপদকে আর বলল না যে, চেতনকে নিয়ে অসুবিধা নেই। তার মুখ দেখা গেলেও ক্ষতি নেই। ওকে দেখতে পেলেও, পরে চিনতে পারবে না। অপারেশন শেষ হলেই ও ফিরে গিয়ে দাঁড়িগোঁফ কামিয়ে ফেলবে। সব ঠিক থাকলে কালকের মধ্যেই এই তল্লাট থেকে হাওয়া হয়ে যাবে সে। সাইকেল মনে-মনে একটা স্বস্তির হাসি হেসে চেতনের দিকে তাকিয়ে বলল, “আ যাও চেতন। অপারেশন আভি শুরু হোগা!” সাইকেল ডাকল চেতনকে।
চেতনের গায়ে বামাপদর সঙ্গীর গায়ের অ্যাপ্রনটা মানিয়ে গিয়েছে। গলায় স্টেথো ঝুলিয়ে তাকে লাগছে খুব প্রবীণ প্রাজ্ঞ এক ডাক্তার। যদিও তার চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে, কোন স্বাভাবিক ডাক্তারের এমন গা-ঘিনঘিনে কদর্য চোখের দৃষ্টি হতে পারে না।

সাইকেলের গায়ে বামাপদর পোশাক। হাসপাতালে ডিউটির সময় এই পোশাকই পরে এখানকার গ্রুপ ডি কর্মচারীরা। সাইকেলকেও এখন আর আলাদাভাবে চেনা যাচ্ছিল না। সে এগিয়ে গেল চেতনকে নিয়ে। একবার ফিরে তাকাল বামাপদদের দিকে। তারপর কিছুটা মন্থর এবং সতর্ক ভঙ্গীতে করিডোর দিয়ে এগিয়ে গেল।

রাতের করিডোর বামাপদ যেমন বলেছিল তেমনই শুনসান। আইসিইউ, সিসিইউ থাকার জন্যই বোধহয় এখানে পিনড্রপ সায়ালেন্স। ডাক্তার-নার্সদের ব্যস্ত পদক্ষেপও এখানে যেন নেই। কেমন একটা থম মেরে পড়ে আছে করিডোর। জীবন-মৃত্যুর মধ্যবর্তী সেতু যেন এই তলা। কোনও পেশেন্ট জীবনের দিকে ফিরে আসতে পারেন, কেউ বা চলে যেতে পারেন জীবনের অপরলোকে। সাইকেল বা চেতনকে অবশ্য এ-সমস্ত দার্শনিকতা তেমন স্পর্শ করল না। কারণ একে তো তারা কেউই দার্শনিক নয়, তার উপর এখন দার্শনিকতা নিয়ে ভাবার কোনও অবকাশ বা পরিস্থিতিও নয়। যে-ভাবেই হোক কার্যোদ্ধার করে সরে পড়তে হবে ভালোয়-ভালোয়।

সামনেই প্রথম লিফট। তার সামনে এখানে থেকেই দেখা যাচ্ছে একজন পুলিশ বসে বসে মোবাইল দেখছে আর মাঝেমধ্যে চোখ তুলে তাকাচ্ছে এদিক-ওদিক। সাইকেল এক মুহূর্ত থমকাল, কিন্তু তারপরেই সামলে নিল নিজেকে। এখন চোখে-মুখে কোনওরকম চাঞ্চল্য দেখালে চলবে না। সে একজন অ্যাটেনডেন্ট এখন। চেতন ডাক্তার। কোনও পুলিশের পক্ষেই এই হাসপাতালের ডাক্তার-অ্যাটেনডেন্টদের কোনও কারণ ছাড়াই চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব নয়। সন্দেহ হলে কিংবা ডিউটির অঙ্গ হিসাবে বড় জোর জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। কিন্তু জিজ্ঞাসা করলে তার উত্তরে কী বলবে তা ভেবে নিয়েছে সাইকেল। ডাক্তার মুখ খুললেই বিপদ। সুতরাং কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজেই জবাব দেবে। তিনশো পনেরো নম্বর কেবিনে এমার্জেন্সি, সেজন্য যাচ্ছে তারা। সে প্রথমে তিনশো শুনে ভেবেছিল, তিনশোটা কেবিন আছে, পরে অবশ্য বুঝতে পেরেছে, তিন শব্দটা কত তলায় তা নির্দেশ করছে, আর তার পরের সংখ্যাদুটি আসলে কেবিনের নম্বর। এক থেকে নয় নাম্বার কেবিনের আগে শূন্য বসানো হয়েছে আংকিক নিয়মে। তিনশো পনেরো কেবিন নাম্বার ইচ্ছে করেই বলবে, তিনশো পাঁচ নম্বরের থেকে অনেকটা দূরের কেবিন শুনে পুলিশটি নিশ্চয়ই আর কিছু বলবে না।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৭ : ঘুঘুর ফাঁদ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৪ : দেবী — ব্যথার পুজো হয়নি সমাপন

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৬: ব্রিটিশ বাংলার বিপ্লবীরা অনেক সময় পালিয়ে এসে আশ্রয় নিতেন ত্রিপুরায়

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৫ : যে জন রহে মাঝখানে

কিন্তু অবাক কাণ্ড। ভাগ্য আজ সুপ্রসন্ন তাদের উপর। লিফটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ও পুলিশটি একঝলক চোখ তুলে দেখল কেবল, কিন্তু কোনও জিজ্ঞাসাবাদ না করে আবার মোবাইলেই মন দিল। সাইকেল খুশি হল। তাদের ডাক্তার আর অ্যাটেনডেন্টই ভেবেছে। এখন তিনশো পাঁচ নম্বর কেবিনের পাহারাদার পুলিশটি সেটা ভাবলেই কেল্লাফতে। সাইকেল দ্রুত পদক্ষেপে যেন খুব তাড়া আছে, এমনভাবে স্থানটা পেরিয়ে গেল। তারা এগিয়ে যাওয়ার পর লিফটের সামনের পুলিশটি তাদের দিকে চোখ তুলে দেখল, তারপর উঠে দাঁড়াল কেবল। কে জানে, তার হয়তো মনে হয়েছে, অ্যাটেনডেন্টকে না-হোক, ডাক্তারকে অন্তত সম্মান জানানো উচিত। সাইকেলরা অবধ্য সে-সব জানল না। তাদের তখন ধ্যান-জ্ঞান-প্রেম তিনশো পাঁচ নম্বর কেবিন।

তিনশো পাঁচ নম্বর কেবিনের পাহারাদারটি ঘাড় গুঁজে মোবাইল ঘাঁটছিল। একঝলক তাকিয়ে দেখা গেল কোনও লাস্যময়ী নগ্নিকা বিদেশিনীর ভিডিও দেখছিল সে। তাদের দেখে উঠে দাঁড়াল। ভুরু কুঁচকে তাকাল জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে। সাইকেল জবাব দিল, “পেশেন্টের অবজারভেশন করে রিপোর্ট দিতে হবে!”
“কুছ নেহি লায়ে? পেন, ক্লিপবোর্ড?” পুলিশটি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল এমনিই।
সাইকেল অপ্রস্তুত হল। সত্যিই বিরাট ভুল হয়েছে। হাতে একটা কিছু নিয়ে এলে ভালো হতো। কিন্তু এখন আর কিছু করার নেই। সে সামান্য হেসে বলল, “রুটিন অবজারভেশন। পরে সুপার স্যার আর সিনিয়র ডাক্তার আসবেন, তিনি আনবেন যা আনার। আমাদের জাস্ট একবার দেখে যেতে বললেন। এখান থেকে এক্ষুনি আমরা অন্য কেবিনে যাব। সেখানে আমাদের ডিউটি আছে!”

এতগুলি কথা কি বলা ঠিক হল? বলেই ভাবল সাইকেল। কিন্তু বলে যখন ফেলেছে তখন তো আর ফেরানোর উপায় নেই। দেখা যাক, কী বলে।
পুলিশটি কিন্তু আর কিছু বলল না, কেবল মুখ দিয়ে বিচিত্র এক শব্দ করে বলল, “ও, যাইয়ে তব্!” বলে মোবাইলটার দিকে তাকাতে লাগল।

সাইকেল বুঝতে পারছিল, লোকটি বেশ রসেবশে ছিল। তারা ভিতরে ঢুকলেই সে আবার গুরুস্তনী বিদেশিনীর ভিডিও দেখে তাকে ধন্য করতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। মনে-মনে একচোট হেসে নিল সাইকেল। থাক্ থাক্, যত ও-সব নিয়ে পড়ে থাকবি, মন থাকবে ও-সবে, ততই আমাদের কাজ শেষ করে পালিয়ে যাওয়া সহজ হবে! ঢুকে গেল তারা দরজা ঠেলে কেবিনের ভিতর।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫১: জরাসন্ধ কাহিনির আধুনিকতা

সংসার ভেঙে… চলে গেলেন শঙ্কর

সাইকেল আশা করেছিল, কাঁচার আড়াল দিয়ে দেখা যাবে এমন কেবিন। তার মধ্যে রাখা হয়েছে ডাক্তারকে। হাজার একটা নল ইত্যাদি লাগানো থাকবে শরীরে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তেমন কিছুই দেখা গেল না। হালকা আলো জ্বলছে কেবিনে। সেখানে একটি দুধসাদা বেডে আপাদমস্তক চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছেন ডাক্তার। কোনও স্যালাইন বা কিচ্ছু চলছে না, সাপোর্ট সিস্টেমও কিছু নেই। সাইকেল বুঝল, তাহলে বাড়াবাড়ি কিছু নয়। সাধারণ প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে। সে নিজে চার্চের হাসপাতালের কাজের সঙ্গে যুক্ত বলে জানে, অনেকসময় ভয় পেয়ে বা অতিরিক্ত মাত্রায় উত্তেজিত হয়ে এই ধরণের অ্যাটাক হয়। তবে খুব বিপজ্জনক কিছু নয়। সময়ে ট্রিটমেন্ট শুরু হলে পেশেন্ট পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারে। কোনও অসুবিধা হয় না। তবে ডাক্তারের প্যানিক অ্যাটাক না-হলেও তাঁকে যে এখানে রাখা হত, তা সাইকেল বুঝতে পারছে। আর কিছু নয়, সুরক্ষার জন্য। পুলিশ আর লালবাজারের ওই বিপজ্জনক টিকটিকিটি বুঝতে পেরে গেছে নিশ্চয়ই যে, ডাক্তার সুস্থ হয়ে উঠলে তার কাছ থেকে কিছু-না-কিছু জানা যাবে। আর সে নিজে জানে, ডাক্তার মুখ খোলা মানে তার নিজের বিপদ। কেন যে সে সেদিন বন্দি অবস্থায় থাকা সত্যব্রতর সামনে হাজির হয়েছিল? আফসোস হল তার। তা-না-হলে সেখানেই খুন করে পুঁতে ফেলার প্ল্যান ছিল। আত তা-হলে এখানে এত বিঘ্নবিপদ মাথায় নিয়ে সুপারিকিলারসহ হাজির হতে হত না!

কেবিনের বড়-বড় জানালায় মেঝে অবধি পর্দা ঝুলছে। একখানি বসার চেয়ার, পাশে টেবিল। বেডসাইড টেবিলও রয়েছে, যদিও সাধারণ টেবিলের তুলনায় উঁচু। তাতে ওষুধ-বিসুধ কিছু রাখা। কাঁচের গ্লাসে জল ঢাকা দিয়ে রাখা হয়েছে। একটা ফ্লাওয়ার ভাসে একটি রক্তলাল ডালিয়া শোভা পাচ্ছে। সরকারি হাসপাতালের আইসিউতে এত ছিমছাম ড্রইংরুমের পরিবেশ দেখে অবাকই হল সাইকেল। বাইরে থেকে কত কিছুই শোনা যায়।

সাইকেল আর দেরি করতে চাইল না। তার যদিও খুব ইচ্ছে হচ্ছিল চাদর সরিয়ে ডাক্তারের মুখটা একবার দেখে নেওয়ার, কিন্তু এখন সে-সময় নেই। যে-কোন মুহূর্তে আসল ডাক্তার চলে এলে সব জারিজুরি বেরিয়ে যাবে। অতটা রিস্ক নেওয়ার দরকার নেই। সে চেতনের দিকে তাকিয়ে চাপা গলায় বলল, “কাম করো!”
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪১: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — গড়িয়োল

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৯ : দুই সাপের বিবাদ ও রাজকন্যার গুপ্তধন লাভ! প্রাকারকর্ণের চাণক্য-নীতিতে মুগ্ধ উলূকরাজ

চেতন তাকাল তার দিকে। তারপর পকেট থেকে বার করে আনল সাইলেন্সার-লাগানো অস্ত্রটি। তাক করল শায়িত ডাক্তারের দিকে। তারপর চোখের পলকে চালিয়ে দিল। পরপর দুটি গুলি রিভলভার থেকে বেরিয়ে এল। কিন্তু এ-কী? ডাক্তারের বডিতে গুলি বিদ্ধ হওয়ার পরে যে প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক ছিল, তা দেখা গেল না কেন? কোন রক্তচিহ্নও তো ফুটে উঠল না চাদরের উপর দিয়ে। থরথর করে কেঁপে উঠল সাইকেল। তবে কি? তবে কি…? চেতনের দিকে একবার তাকাল সে। চেতনও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। সম্ভবত এমন অভিজ্ঞতা তারও এই প্রথম।
সাইকেল সন্দেহের নিরসন করতে বেডের কাছে এগিয়ে গিয়ে চাদর সরিয়ে ছিটকে এল পিছনের দিকে। এ কী? তবে তো তারা ফাঁদে পা দিয়েছে! বেডের উপর ডাক্তারের কোনও চিহ্ন ছিল না। কয়েকটা বালিশ সাজিয়ে মানুষের দেহের রূপ দিয়ে চাদর ঢাকা দিয়ে রাখা ছিল সেখানে। তার মানে…! ওরা আগে থেকেই সতর্ক ছিল। ওরা অনুমান করে নিয়েছিল, কেউ অ্যাটাক্ করতে পারে, ফলে আগেই সরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বামাপদ কি তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করলো? না-কি সে জানে না কিছুই? কিন্তু তার না-জানার কথা নয়। তাহলে? সেই কারণেই কি সে আআসতে চায়নি কেবিন পর্যন্ত? সব কেমন গুলিয়ে যাচ্চঘিল সাইকেলের।
চেতন বলল, “ইয়ে ক্যা? আদমিকে বদলে তাকিয়া?”
সাইকেল দ্রুত বলল, “হামে আভি ভাগনে হোগা চেতন। ক্যুইক্!” বলে ফিরতে যাবে, কিন্তু তার পা অসাড় হয়ে গেল।
দরজা দিয়ে কখন নিঃশব্দে ঢুকে পড়েছে লালবাজারের সেই টিকটিকি, গেটে থাকা এস.আই প্রণব, লিফটের কাছে পাহারায় থাকা পুলিশটি। সঙ্গে আছেন হাসপাতালের সুপার। এসডিপিও এবং স্বয়ং ডিএম।
শাক্য হাসল। হাসিটা বড় নিষ্ঠুর লাগল সাইকেলের। বড় ফাঁদে পা দিয়ে ফেলেছে সে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ফল। হাত কামড়াতে ইচ্ছে হল তার।
শাক্য বলল, “তুমি ধরা পড়ে গেছ সাইকেল!”
“কিন্তু…” সাইকেলের মুখে কথা সরল না।
“ডাক্তার সত্যব্রতকে হত্যার চেষ্টার অপরাধে এবং আগের যা-যা অপরাধ করেছ, ডাক্তার যে বয়ান দিয়ে এফআইআর করেছেন, তার বেসিসে তোমায় আর তোমার এই পার্টনারকে গ্রেপ্তার করা হল।”
“ডাক্তার কীভাবে বলবেন? তিনি অসুস্থ। আর যদি কিছু বলেও থাকেন, সেটা তাঁর অসুস্থ অবস্থার বিকার। কোনও সত্যতা নেই যে, আমরা তাঁকে কিডন্যাপ করেছিলাম!” সাইকেল বেশ জোশের সঙ্গে বলল।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৬ : অগ্নি সংস্কার

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

হা-হা করে হেসে উঠল শাক্য। বলল, “এই তো তুমি নিজেই ধরা দিয়ে দিলে সাইকেল। আমরা তো একবারও বলিনি ডাক্তার কিডন্যাপিং-এর জন্য তোমাকে দায়ি করেছেন! তাহলে? বাইরের কেউ এখনও ভালো করে জানেই না যে, সত্যব্রতকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল। যা কেউ জানে না প্রায়, তা তুমি জানলে কী করে? যাই হোক, ডাক্তার অলরেডি তার বয়ান দিয়েছেন। সে-সব পরে দেখা যাবে। আপাতত প্রণব, আপনি এদের অ্যারেস্ট করুন। এসডিপিও স্যার আছেন, তিনি এরপর যা ব্যবস্থা নেওয়ার নিন। আমাদের সন্দেহ যে ঠিক ছিল, তা দেখাই যাচ্ছে। ডাক্তারকে কাল পর্যন্ত সুস্থ হতে দেওয়া মানেই এদের বিপদ বাড়া, তা যে এরা কোনওভাবেই দিতে চাইবে না, সে-জন্য আজ রাতেই অ্যাটাক্ হতে পারে বলে যেমনটা আমরা অনুমান করেছিলাম, তেমনটাই ঘটল!”
ডিএম বললেন, “আমরা আমরা করবেন না, অনুমান করার কৃতিত্ব আপনার। আপনি না হলে এদের এভাবে পাকড়াও করা পসিবল হত বলে মনে হয়ে না। অল ক্রেডিট আপনার!”
শাক্য হাসল। বলল, “নাথিং স্পেশাল স্যার। ইটস্ আ পার্ট অফ মাইডিউটি!” —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content