
এ কে? এ কে গো?
জীবনবাবু হঠাৎ করে ব্রেক কষায় গাড়ির মধ্যে সবাই সামনের দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। সুদীপ্তর মাথা ঠুকে গেল ড্যাশবোর্ডে। গাড়িটা বিচ্ছিরি শব্দ করে থেমে যেতেই সামনের উইণ্ডস্ক্রিনে প্রায় ঝাঁপ দিয়ে আছড়ে পড়ল একজন। ঘটনার আকস্মিকতায় শাক্য, সুদীপ্ত তো বটেই, জীবনবাবুর মতো অভিজ্ঞ, পোড় খাওয়া ড্রাইভারও হকচকিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর মুখ দিয়ে প্রায় আর্তনাদের মতো বেরিয়ে এল, “এ কী? এ কে? এ কে গো?”
প্রশ্নটা অবশ্য শাক্য এবং সুদীপ্তর মনেও জেগেছিল, কেবল তারা মুখে প্রকাশ করেনি এই যা। কিন্তু তার যে কম বিস্মিত হয়নি, সেইসঙ্গেই একটা সতর্কতার ভাবও তাদের মনে জেগে উঠেছিল, তা তাদের দুজনের ভ্রূ-ভঙ্গি বলে দিচ্ছিল। তারা দু’জনেই ভাবছিল একই কথা। আবার কালাদেওর নতুন কোন শিকার নয় তো? আগে যখন এই কেসের সঙ্গে লালবাজারের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট জড়িয়ে ছিল না, তখন আলাদা কথা। পাবলিককে বোঝানো সহজ ছিল। কিন্তু এখন লালবাজারের গোয়েন্দা-অফিসার থাকা সত্ত্বেও যদি এইভাবে একের পর এক কালাদেওর তাণ্ডব চলতে থাকে, তাহলে রাজ্য-পুলিশের মুখ দেখানো দুষ্কর হয়ে উঠবে।
শাক্য উপস্থিত থাকার সময়েই বলতে গেলে কালাদেও দু-দুবার আক্রমণ করেছে। তার মধ্যে প্রথমবার একইসঙ্গে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয়বার মরতে-মরতে বেঁচে গিয়েছেন কাপাডিয়া। শাক্যর নিজের উপরেও আক্রমণ হয়েছে। পাভেল আততায়ীর আক্রমণে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছে প্রায়। এখনও সে বাড়িতে রেস্টে রয়েছে। পাভেলের উপর আক্রমণ পেটি-অপরাধীদের দুঃসাহস হলেও হতে পারে। কিন্তু তাই বা কেন হবে? লালবাজারের অফিসারদের তোয়াক্কা করে না, এরা কারা? এ-সব যে একক কোন মানুষের কাজ নয়, তা তো বোঝাই যাচ্ছে। রীতিমতো দলবল গড়ে, অপরাধ সংঘটিত করানো হচ্ছে।
কিন্তু দলের মাথাটি কে? কী তার স্বার্থ? এখন আজ যদি আর-একটি লাশ তাদেরই গাড়ির সামনে ছুঁড়ে ফেলে চ্যালেঞ্জ জানায় সো-কলড্ কালাদেও, তাহলে এ.কে.জির কাছে মুখ দেখাতে পারবে না শাক্য। গাড়ি থামতেই সে-কারনে দরজা খুলে সেই প্রথম লাফ দিয়ে নামল। প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই সুদীপ্তও অন্যদিক দিয়ে নেমে গাড়ির সামনের দিকে গেল। জীবনবাবুও নেমে এলেন তার পরেই। গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে চাবিটা পকেটে ভরলেন তিনি। এইসব রাস্তায় অনেকসময় রাতের বেলা নানারকম ট্রিকস্ ব্যবহার করে গাড়ি-ছিনতাই হয়। কে জানে এখানেও তেমনই কোনও কেস কি-না। তা-হলে বলতে হবে, আজ ওদের কপালে দুঃখ আছে। ওরা সম্ভবত অন্ধকারে বুঝতে পারেনি, গাড়িটা পুলিশের। সামনের হেডলাইটটা জ্বেলে দিলেন জীবন। সাহেবদের দেখবার সুবিধা হবে।
প্রশ্নটা অবশ্য শাক্য এবং সুদীপ্তর মনেও জেগেছিল, কেবল তারা মুখে প্রকাশ করেনি এই যা। কিন্তু তার যে কম বিস্মিত হয়নি, সেইসঙ্গেই একটা সতর্কতার ভাবও তাদের মনে জেগে উঠেছিল, তা তাদের দুজনের ভ্রূ-ভঙ্গি বলে দিচ্ছিল। তারা দু’জনেই ভাবছিল একই কথা। আবার কালাদেওর নতুন কোন শিকার নয় তো? আগে যখন এই কেসের সঙ্গে লালবাজারের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট জড়িয়ে ছিল না, তখন আলাদা কথা। পাবলিককে বোঝানো সহজ ছিল। কিন্তু এখন লালবাজারের গোয়েন্দা-অফিসার থাকা সত্ত্বেও যদি এইভাবে একের পর এক কালাদেওর তাণ্ডব চলতে থাকে, তাহলে রাজ্য-পুলিশের মুখ দেখানো দুষ্কর হয়ে উঠবে।
শাক্য উপস্থিত থাকার সময়েই বলতে গেলে কালাদেও দু-দুবার আক্রমণ করেছে। তার মধ্যে প্রথমবার একইসঙ্গে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয়বার মরতে-মরতে বেঁচে গিয়েছেন কাপাডিয়া। শাক্যর নিজের উপরেও আক্রমণ হয়েছে। পাভেল আততায়ীর আক্রমণে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছে প্রায়। এখনও সে বাড়িতে রেস্টে রয়েছে। পাভেলের উপর আক্রমণ পেটি-অপরাধীদের দুঃসাহস হলেও হতে পারে। কিন্তু তাই বা কেন হবে? লালবাজারের অফিসারদের তোয়াক্কা করে না, এরা কারা? এ-সব যে একক কোন মানুষের কাজ নয়, তা তো বোঝাই যাচ্ছে। রীতিমতো দলবল গড়ে, অপরাধ সংঘটিত করানো হচ্ছে।
কিন্তু দলের মাথাটি কে? কী তার স্বার্থ? এখন আজ যদি আর-একটি লাশ তাদেরই গাড়ির সামনে ছুঁড়ে ফেলে চ্যালেঞ্জ জানায় সো-কলড্ কালাদেও, তাহলে এ.কে.জির কাছে মুখ দেখাতে পারবে না শাক্য। গাড়ি থামতেই সে-কারনে দরজা খুলে সেই প্রথম লাফ দিয়ে নামল। প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই সুদীপ্তও অন্যদিক দিয়ে নেমে গাড়ির সামনের দিকে গেল। জীবনবাবুও নেমে এলেন তার পরেই। গাড়ির স্টার্ট বন্ধ করে চাবিটা পকেটে ভরলেন তিনি। এইসব রাস্তায় অনেকসময় রাতের বেলা নানারকম ট্রিকস্ ব্যবহার করে গাড়ি-ছিনতাই হয়। কে জানে এখানেও তেমনই কোনও কেস কি-না। তা-হলে বলতে হবে, আজ ওদের কপালে দুঃখ আছে। ওরা সম্ভবত অন্ধকারে বুঝতে পারেনি, গাড়িটা পুলিশের। সামনের হেডলাইটটা জ্বেলে দিলেন জীবন। সাহেবদের দেখবার সুবিধা হবে।
শাক্যরা আলো জ্বলবার আগেই সামনে পৌঁছে গিয়েছিল, দেখেছিল, রাস্তার উপর মুখ থুবড়ে পড়ে একটা দেহ থরথর করে কেঁপে-কেঁপে উঠছে। নাহ্, থ্যাঙ্কড্, কোনও মৃতদেহ নয়। তাহলে জীবনের এই লক্ষণ থাকত না। কিন্তু লোকটি কি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে? তাহলে তো এখনি তাকে কাছাকাছি কোন নার্সিংহোম বা হেলথ সেন্টারে নিয়ে যেতে হবে। এই ভেবে শাক্য আর সুদীপ্ত দুজনেই হাঁটু গেড়ে বসে লোকটির দেহকে চিত করে দিল। ঠিক এই সময়েই গাড়ির হেডলাইট জ্বলে উঠল। সঙ্গে-সঙ্গেই ইলেকট্রিক শক খাওয়ার মতো শাক্য এবং সুদীপ্ত দুজনের মুখে দিয়েই উঠে এল, “ও মাই গড! এ যে!”
জীবনবাবুই দেখে বলে উঠলেন, “হায় ভগবান! এ-যে দেখছি হেলথসেন্টারের ডাক্তারবাবু! তিনি এ-সময় এখানে কী করছেন?”
সত্যব্রত তখন রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছিলেন। গাড়িটাকে তিনি থামাতে চেয়েছিলেন। গাড়িটা সজোরে ব্রেক না-কষলে হয়ত আজ এখানেই চিঁড়েচ্যাপটা হয়ে যেত তাঁর দেহ। তবে ধাক্কার অভিঘাতে বনেটের উপর উঠে, আবার গড়িয়ে নীচে পড়ায় হাতে-পায়ে চোট লেগেছে ভালোই। কনুইয়ের কাছটা নিশ্চয়ই ছিঁড়ে গেছে। জ্বালা-জ্বালা করছে। তিনি যদিও কথা বলতে পারছিলেন না, কিন্তু সজ্ঞানে ছিলেন। সেই অবস্থাতেই কথা বলার চেষ্টা করতে গিয়ে বুঝলেন, এখন কথা বলা অসম্ভব। কারণ, গলা শুকিয়ে কাঠ। এরা কারা তা তিনি জানেন না। কিন্তু মনে হচ্ছে, গাড়ির মধ্যে এক নয়, একাধিক লোক ছিল। এরা শত্রু কি মিত্র তাও জানেন না তিনি। যদি মিত্র হয়, তাহলে বেঁচে গেলেন। আর যদি শত্রু হয়? তাহলে?
জীবনবাবুই দেখে বলে উঠলেন, “হায় ভগবান! এ-যে দেখছি হেলথসেন্টারের ডাক্তারবাবু! তিনি এ-সময় এখানে কী করছেন?”
সত্যব্রত তখন রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছিলেন। গাড়িটাকে তিনি থামাতে চেয়েছিলেন। গাড়িটা সজোরে ব্রেক না-কষলে হয়ত আজ এখানেই চিঁড়েচ্যাপটা হয়ে যেত তাঁর দেহ। তবে ধাক্কার অভিঘাতে বনেটের উপর উঠে, আবার গড়িয়ে নীচে পড়ায় হাতে-পায়ে চোট লেগেছে ভালোই। কনুইয়ের কাছটা নিশ্চয়ই ছিঁড়ে গেছে। জ্বালা-জ্বালা করছে। তিনি যদিও কথা বলতে পারছিলেন না, কিন্তু সজ্ঞানে ছিলেন। সেই অবস্থাতেই কথা বলার চেষ্টা করতে গিয়ে বুঝলেন, এখন কথা বলা অসম্ভব। কারণ, গলা শুকিয়ে কাঠ। এরা কারা তা তিনি জানেন না। কিন্তু মনে হচ্ছে, গাড়ির মধ্যে এক নয়, একাধিক লোক ছিল। এরা শত্রু কি মিত্র তাও জানেন না তিনি। যদি মিত্র হয়, তাহলে বেঁচে গেলেন। আর যদি শত্রু হয়? তাহলে?
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩২: প্রেম নামে বন

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩১: মহর্ষি চেয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে মৃত্যু

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৩: আকাশ এখনও মেঘলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ
চোখ খোলবার চেষ্টা করলেন, কিন্তু পারলেন না। মাথায় যন্ত্রণা হচ্ছে। মাথা ফাটেনি তো? বুঝতে পারছেন না। এইটুকু বুঝতে পারছেন, ডাক্তারের এখন নিজেরই ডাক্তারের কাছে যাওয়া দরকার। কাটাছেঁড়ার ক্ষতস্থানগুলি পরিষ্কার করে অ্যান্টিসেপটিক কোনও ওয়েন্টমেন্ট লাগিয়ে দেওয়া দরকার। আর দরকার এক্স-রে করা। মাথা ফাটলে তো আর কথাই নেই। কিন্তু কীভাবে যে কথাগুলি এদের বলবেন? এরা কি বুঝতে পারছে, তাঁকে আগে মুখে জল দেওয়া দরকার? এদের সঙ্গে জল আছে তো? কোনরকমে গলায় জোর তুলে তিনি বলতে গেলেন, “জল! জল!” সেটা অস্পষ্ট গোঙানির মতো শোনাল। ওরা কি বুঝতে পারলো?
শাক্য ঝুঁকে পড়েছিল সত্যব্রতর মুখের ওপর। বিস্ময়ে সে প্রায় হতবাক হয়ে গিয়েছে। সে আন্দাজ করেছিল, সত্যব্রত ক্রমশ অপরাধীদের সহজ টার্গেট হয়ে উঠছেন। তারা হয়তো তাঁকে শিক্ষা দিতে হেলথ্সেন্টারে ভাঙচুর বা আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু তা যে এত তাড়াতাড়ি ঘটবে তা সে কল্পনা করতে পারেনি। বরং ভেবেছিল, তার আগেই সত্যব্রতকে সাবধান করে দেবে সে এবং কালাদেওর কেসটাও অনেকতাই গুটিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু পরপর এমন ঘটনা ঘটছে যে, সে বুঝতে পারছে, বুদ্ধির খেলায় তাকে আরও ক্ষিপ্র হতে হবে। গল্প-উপন্যাসের গোয়েন্দারা কেনম সুপারম্যানের মতো আগে থেকেই আন্দাজ করে সব বিপদ-বাধা কাটিয়ে উঠতে পারে। কিন্তু বাস্তবে যে তা হয় না, তা তাদের চেয়ে ভালো আর কে জানে? অনেক ব্যর্থতার পরে হয়তো কোন-কোন কেসে সাফল্যের মুখ দেখতে পাওয়া যায়। পেটি কেসগুলি সহজেই সমাধান করা গেলেও জটিল কেসে সাকসেস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ফিফটি-ফিফটি। বাস্তবের শাক্য কিংবা সুদীপ্তরা কোনও অতিমানব নয়। রক্তমাংসের মানুষ। অতএব কেসের তদন্তে হার-জিত তাদের নিত্যসঙ্গী।
শাক্য ঝুঁকে পড়েছিল সত্যব্রতর মুখের ওপর। বিস্ময়ে সে প্রায় হতবাক হয়ে গিয়েছে। সে আন্দাজ করেছিল, সত্যব্রত ক্রমশ অপরাধীদের সহজ টার্গেট হয়ে উঠছেন। তারা হয়তো তাঁকে শিক্ষা দিতে হেলথ্সেন্টারে ভাঙচুর বা আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু তা যে এত তাড়াতাড়ি ঘটবে তা সে কল্পনা করতে পারেনি। বরং ভেবেছিল, তার আগেই সত্যব্রতকে সাবধান করে দেবে সে এবং কালাদেওর কেসটাও অনেকতাই গুটিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু পরপর এমন ঘটনা ঘটছে যে, সে বুঝতে পারছে, বুদ্ধির খেলায় তাকে আরও ক্ষিপ্র হতে হবে। গল্প-উপন্যাসের গোয়েন্দারা কেনম সুপারম্যানের মতো আগে থেকেই আন্দাজ করে সব বিপদ-বাধা কাটিয়ে উঠতে পারে। কিন্তু বাস্তবে যে তা হয় না, তা তাদের চেয়ে ভালো আর কে জানে? অনেক ব্যর্থতার পরে হয়তো কোন-কোন কেসে সাফল্যের মুখ দেখতে পাওয়া যায়। পেটি কেসগুলি সহজেই সমাধান করা গেলেও জটিল কেসে সাকসেস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ফিফটি-ফিফটি। বাস্তবের শাক্য কিংবা সুদীপ্তরা কোনও অতিমানব নয়। রক্তমাংসের মানুষ। অতএব কেসের তদন্তে হার-জিত তাদের নিত্যসঙ্গী।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩০: অলৌকিকতার আবরণে লৌকিক-অনুভবের পরশ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ
সত্যব্রত বিড়িবিড় করছিলেন। শাক্য তাঁর মুখের কাছে কান নিয়ে গিয়ে শুনল, জল চাইছেন সম্ভবত। সে সুদীপ্তকে বলল, “সুদীপ্ত, গাড়ি থেকে আমার জলের বটল্টা নিয়ে এসো তো। ডাক্তার সম্ভবত জল চাইছেন।”
সুদীপ্ত দ্রুত গাড়ির দিকে গেল জল আনতে। শাক্য ডাক্তারের মুখের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বলল, “ডাক্তারবাবু। আমি শাক্য। আমার সঙ্গে আছেন সুদীপ্ত। আপনি তো চেনেন। আপনি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন?”
সত্যব্রত মাথা নাড়তে গেলেন, কিন্তু পারলেন না। যন্ত্রণায় মাথাটা ঝাঁ-ঝাঁ করে উঠল। মুখ দিয়ে কোনমতে ঘড়ঘড়ে গলায় বললেন, “পা-আ-আ-চ্-ছি!… জল!”
ততক্ষণে সুদীপ্ত জল নিয়ে এসেছে। শাক্য তার হাত থেকে বটল্টা নিয়ে ছিপি খুলে সত্যব্রতর ঠোঁটের উপর ধরল। মুখে বলল, “একটু হাঁ-করার চেষ্টা করুন। আস্তে-আস্তে জল ঢেলে দিচ্ছি। একটু গলায় গেলে সুস্থ বোধ করবেন। তারপর আপনাকে নিয়ে কাছাকাছি কোন নার্সিংহোমে নিয়ে যাব আমরা। কোনও ভয় নেই আপনার। আপনি এখন আমাদের সঙ্গে আছেন। পুলিশের প্রোটেকশনে আছেন!”
সত্যব্রত শুনে অনেকটা নিশ্চিন্ত হলেন। তবে পুরোপুরি হতে পারলেন না। কারণ, ওরা যা বেপরোয়া, তাতে হয়তো পুলিশের উপরেই গুলি চালিয়ে তাঁকে মেরে রেখে যাবে। আগেও তো পুলিশের উপর আক্রমণ শাণিয়েছে তারা। পুলিশ বলে রেয়াৎ করেনি। যাই হোক, তিনি মুখ ফাঁক করলেন। কেউ জল ঢেলে দিচ্ছে বুঝতে পারছেন। শাক্য না-কি সুদীপ্ত না-কি আর কেউ, সেটা অবশ্য বুঝতে পারলেন না। কারণ, চোখ খুলতে গেলেই মাথায় লাগছে।
সামান্য কিছুটা জল কোনমতে গিলতে পারলেন তিনি। অনেকটা জল কষ বেয়ে গড়িয়ে গেল নীচে।
শাক্য জিজ্ঞাসা করল, “আপনি এমনিতে ঠিক আছেন তো? আমরা কিন্তু এবারে আপনাকে আস্তে-আস্তে তুলছি। আপনি আমাদের যতটা পারেন সহযোগিতা করুক। বুকে বল আনুন। আপনি নিজেই ডাক্তার। অতএব আপনি জানেন, আপনার কী করা উচিত। কতটা মানসিক বল এই মুহূর্তে আপনার দরকার। সেটা কিন্তু আমরা আপনাকে দিতে পারব না। আপনার নিজের মধ্যে থেকেই আপনাকে সেই বলের সাহায্য নিতে হবে। বুঝলেন?”
সুদীপ্ত দ্রুত গাড়ির দিকে গেল জল আনতে। শাক্য ডাক্তারের মুখের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে বলল, “ডাক্তারবাবু। আমি শাক্য। আমার সঙ্গে আছেন সুদীপ্ত। আপনি তো চেনেন। আপনি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন?”
সত্যব্রত মাথা নাড়তে গেলেন, কিন্তু পারলেন না। যন্ত্রণায় মাথাটা ঝাঁ-ঝাঁ করে উঠল। মুখ দিয়ে কোনমতে ঘড়ঘড়ে গলায় বললেন, “পা-আ-আ-চ্-ছি!… জল!”
ততক্ষণে সুদীপ্ত জল নিয়ে এসেছে। শাক্য তার হাত থেকে বটল্টা নিয়ে ছিপি খুলে সত্যব্রতর ঠোঁটের উপর ধরল। মুখে বলল, “একটু হাঁ-করার চেষ্টা করুন। আস্তে-আস্তে জল ঢেলে দিচ্ছি। একটু গলায় গেলে সুস্থ বোধ করবেন। তারপর আপনাকে নিয়ে কাছাকাছি কোন নার্সিংহোমে নিয়ে যাব আমরা। কোনও ভয় নেই আপনার। আপনি এখন আমাদের সঙ্গে আছেন। পুলিশের প্রোটেকশনে আছেন!”
সত্যব্রত শুনে অনেকটা নিশ্চিন্ত হলেন। তবে পুরোপুরি হতে পারলেন না। কারণ, ওরা যা বেপরোয়া, তাতে হয়তো পুলিশের উপরেই গুলি চালিয়ে তাঁকে মেরে রেখে যাবে। আগেও তো পুলিশের উপর আক্রমণ শাণিয়েছে তারা। পুলিশ বলে রেয়াৎ করেনি। যাই হোক, তিনি মুখ ফাঁক করলেন। কেউ জল ঢেলে দিচ্ছে বুঝতে পারছেন। শাক্য না-কি সুদীপ্ত না-কি আর কেউ, সেটা অবশ্য বুঝতে পারলেন না। কারণ, চোখ খুলতে গেলেই মাথায় লাগছে।
সামান্য কিছুটা জল কোনমতে গিলতে পারলেন তিনি। অনেকটা জল কষ বেয়ে গড়িয়ে গেল নীচে।
শাক্য জিজ্ঞাসা করল, “আপনি এমনিতে ঠিক আছেন তো? আমরা কিন্তু এবারে আপনাকে আস্তে-আস্তে তুলছি। আপনি আমাদের যতটা পারেন সহযোগিতা করুক। বুকে বল আনুন। আপনি নিজেই ডাক্তার। অতএব আপনি জানেন, আপনার কী করা উচিত। কতটা মানসিক বল এই মুহূর্তে আপনার দরকার। সেটা কিন্তু আমরা আপনাকে দিতে পারব না। আপনার নিজের মধ্যে থেকেই আপনাকে সেই বলের সাহায্য নিতে হবে। বুঝলেন?”
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৭: আবাবিল
সত্যব্রত জবাবে কী বললেন, ঠিক বোঝা গেল না। তবে হাত দুটি সামান্য তুললেন বলে বোঝা গেল যে, তিনি শাক্যর কথামতো উঠতে চাইছেন।
শাক্য তুলতে গেলে জীবনবাবু বললেন, “স্যার, আপনি সরুন আমি আর সুদীপ্তস্যার তুলছি। আমি একাই তুলতে পারতাম। তবু বলা যায় না। ডাক্তারবাবুর কোথায় লেগেছে। আমি একা তুলে গাড়িতে নিয়ে যেতে গিয়ে হিতে বিপরীত হবে কি-না! সরুন…!”
শাক্য কথা বাড়াল না। সরে এল। সুদীপ্ত আর জীবনবাবু দুজনে দু’দিক থেকে ধরে আস্তে-আস্তে সত্যব্রতকে তুলে ধরল। সত্যব্রত একবার টলে গেলেন, তারপরে কিন্তু সামলে নিয়ে নিজের পায়ের উপর দাঁড়ালেন। শাক্য পকেট থেকে মোবাইল বার করে, সেই মোবাইলের টর্চ জ্বেলে সত্যব্রতর স্কাল্প দেখছিল পিছন থেকে। নাহ্, মাথা ফাটেনি। তবে ডান দিকে কানের উপরে কিছুটা অংশ সম্ভবত থেঁতলে গিয়েছে। এর মধ্যেই ফুলে উঠতে শুরু করেছে জায়গাটা। হাতে-পায়ে জায়গায়-জায়গায় জামা-কাপড় ছেঁড়া—তবে সেটা সম্ভবত গাড়িতে আছাড় খেয়ে পড়ার ফল নয়। আগেই হয়েছে। তবে ডান কনুইয়ের কাছটায় অনেকখানি অংশ ছড়ে গিয়ে নুনছাল উঠে দগদগে দেখাচ্ছে। হেডলাইটের আলোয় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, এক্ষুনি জায়গাটা ক্লিন করে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম এবং টিটেনাশ ইঞ্জেকশন দেওয়া দরকার।
সুদীপ্ত এবং জীবনবাবু কোনরকমে গাড়ির পিছনে সত্যব্রতকে তুলে বসিয়ে দিল।
শাক্য বলল, “সুদীপ্ত, তুমি পিছনেই বসো। আমি সামনে বসছি। জীবনবাবু আমাদের কাছাকাছি কোন নার্সিংহোম বা হেলথসেন্টার যাই পড়ুক নিয়ে যাবেন।”
জীবনবাবু বললেন, “নার্সিংহোম তো কাছেপিঠে নেই। তবে সামনেই একটা হেলথ্সেন্টার আছে, সেখানে নিয়ে যাচ্ছি। জানি না, ডাক্তারবাবু রাতের বেলা সেখানে থাকেন কি-না!”
শাক্য বলল, “ঠিক আছে, আপনি নিয়ে তো চলুন। ডাক্তার না থাকলে নার্স থাকবেন। দেখা যাবে। দরকার হলে প্রাইমারি ট্রিটমেন্টের পর ওঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সদরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আপনি গাড়ি স্টার্ট দিন। আমি ডিএমকে ফোন করে বিষয়টা জানাই এবং সাহায্যের আবেদন করি। তেমন হলে উনি অ্যাম্বুলেন্স এবং ডাক্তার দুটিই পাঠিয়ে দিন। সত্যব্রতকে যেমনভাবেই হোক সুস্থ করে তুলতে হবে। এই বাড়াবাড়ি আর বরদাস্ত করা যাচ্ছে না!”
শাক্য তুলতে গেলে জীবনবাবু বললেন, “স্যার, আপনি সরুন আমি আর সুদীপ্তস্যার তুলছি। আমি একাই তুলতে পারতাম। তবু বলা যায় না। ডাক্তারবাবুর কোথায় লেগেছে। আমি একা তুলে গাড়িতে নিয়ে যেতে গিয়ে হিতে বিপরীত হবে কি-না! সরুন…!”
শাক্য কথা বাড়াল না। সরে এল। সুদীপ্ত আর জীবনবাবু দুজনে দু’দিক থেকে ধরে আস্তে-আস্তে সত্যব্রতকে তুলে ধরল। সত্যব্রত একবার টলে গেলেন, তারপরে কিন্তু সামলে নিয়ে নিজের পায়ের উপর দাঁড়ালেন। শাক্য পকেট থেকে মোবাইল বার করে, সেই মোবাইলের টর্চ জ্বেলে সত্যব্রতর স্কাল্প দেখছিল পিছন থেকে। নাহ্, মাথা ফাটেনি। তবে ডান দিকে কানের উপরে কিছুটা অংশ সম্ভবত থেঁতলে গিয়েছে। এর মধ্যেই ফুলে উঠতে শুরু করেছে জায়গাটা। হাতে-পায়ে জায়গায়-জায়গায় জামা-কাপড় ছেঁড়া—তবে সেটা সম্ভবত গাড়িতে আছাড় খেয়ে পড়ার ফল নয়। আগেই হয়েছে। তবে ডান কনুইয়ের কাছটায় অনেকখানি অংশ ছড়ে গিয়ে নুনছাল উঠে দগদগে দেখাচ্ছে। হেডলাইটের আলোয় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, এক্ষুনি জায়গাটা ক্লিন করে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম এবং টিটেনাশ ইঞ্জেকশন দেওয়া দরকার।
সুদীপ্ত এবং জীবনবাবু কোনরকমে গাড়ির পিছনে সত্যব্রতকে তুলে বসিয়ে দিল।
শাক্য বলল, “সুদীপ্ত, তুমি পিছনেই বসো। আমি সামনে বসছি। জীবনবাবু আমাদের কাছাকাছি কোন নার্সিংহোম বা হেলথসেন্টার যাই পড়ুক নিয়ে যাবেন।”
জীবনবাবু বললেন, “নার্সিংহোম তো কাছেপিঠে নেই। তবে সামনেই একটা হেলথ্সেন্টার আছে, সেখানে নিয়ে যাচ্ছি। জানি না, ডাক্তারবাবু রাতের বেলা সেখানে থাকেন কি-না!”
শাক্য বলল, “ঠিক আছে, আপনি নিয়ে তো চলুন। ডাক্তার না থাকলে নার্স থাকবেন। দেখা যাবে। দরকার হলে প্রাইমারি ট্রিটমেন্টের পর ওঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সদরে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আপনি গাড়ি স্টার্ট দিন। আমি ডিএমকে ফোন করে বিষয়টা জানাই এবং সাহায্যের আবেদন করি। তেমন হলে উনি অ্যাম্বুলেন্স এবং ডাক্তার দুটিই পাঠিয়ে দিন। সত্যব্রতকে যেমনভাবেই হোক সুস্থ করে তুলতে হবে। এই বাড়াবাড়ি আর বরদাস্ত করা যাচ্ছে না!”
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
সকলে গাড়িতে উঠলে জীবনবাবু গাড়ি ছেড়ে দিলেন। শাক্যর চোখমুখ কঠোর। সত্যব্রতকে এইরকম অবস্থায় দেখে সে মেনে নিতে পারছে না। তাকে কিছু স্ট্র্যাটেজি বদলাতে হবে। খুব ঢিমেতালে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না আর। প্রতিপক্ষরা অত্যন্ত ধুরন্ধর। সামান্য সময়ের সদ্-ব্যবহার করতে তারা জানে। বার বার সেটা দেখিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এভাবে আর-তো চলে না। সত্যব্রতর বড় কিছু হয়ে গেলে সে নিজেকে কীভাবে মাফ করবে? তার আগেই ডাক্তারকে প্রোটেকশন দেওয়াার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। সত্যব্রত অনেক কিছু জানেন বলেই তার মনে হচ্ছে এখন। কেবল বুধন সেজে আসা বেদের দলের ব্যাপারেই নয়, আরও অনেক কিছুর ব্যাপারেই মনে হচ্ছে তিনি জানেন। সেই কারণেই কি তাঁর উপর কেউ হামলা করেছিল? সত্যব্রতর দু-কষে সামান্য ফেনার চিহ্ন দেখেছে সে। দীর্ঘক্ষণ দৌড়ে আসার লক্ষণ এটা। সত্যব্রতকে কি কেউ তাড়া করেছিল? সেই কারণেই প্রাণ বাঁচাতে তিনি দৌড়াচ্ছিলেন? কিন্তু পিশাচপাহাড় থেকে এতদূরে জাতীয় সড়কের ধারে তিনি কীভাবে এলেন? তাহলে কি সত্যব্রত পালিয়ে যাচ্ছিলেন? নেহাৎ পরিস্থিতির চাপে পড়ে গাড়িতে ধাক্কা খেয়ে পড়েছেন বলেই জানা গেল?
সে সামনের দিকে তাকাল। অন্ধকারের বুক চিরে রাস্তা ধরে গাড়ি ছুটে চলেছে। হেলথসেন্টার আর কতদূর? কত? ভিতরে-ভিতরে চাপা টেমশন অনুভব করল শাক্য। নাহ্, সত্যব্রতর মতো সৎ-বিবেকী ডাক্তারকে কোনভাবেই মারা যেতে দেওয়া যায় না। সে মনে-মনে বলল, আর সপ্তাহদুয়েক অপেক্ষা কর কালাদেও। তার ভিতরেই আমি তোমাকে ঠিক ঢিট করে দেবো। প্রমিস!” — চলবে
সে সামনের দিকে তাকাল। অন্ধকারের বুক চিরে রাস্তা ধরে গাড়ি ছুটে চলেছে। হেলথসেন্টার আর কতদূর? কত? ভিতরে-ভিতরে চাপা টেমশন অনুভব করল শাক্য। নাহ্, সত্যব্রতর মতো সৎ-বিবেকী ডাক্তারকে কোনভাবেই মারা যেতে দেওয়া যায় না। সে মনে-মনে বলল, আর সপ্তাহদুয়েক অপেক্ষা কর কালাদেও। তার ভিতরেই আমি তোমাকে ঠিক ঢিট করে দেবো। প্রমিস!” — চলবে
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















