রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


ছবি: সংগৃহীত।

খুব স্বাভাবিকভাবে বৈদ্যবাটির সম্বন্ধটা ভেঙ্গে গেল! আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে যে সামান্য কয়েকজনের কথার গুরুত্ব অমলেন্দু দিত তাঁরাই বোঝালেন খোঁজখবর নেওয়াতে কোনও অন্যায় নেই। সম্বন্ধ করে বিয়ে দিতে গেলে মেয়ের বাড়ি থেকে ছেলের খোঁজ তো নেবেই! তাতে এতটা অসন্তুষ্ট হবার কোনও কারণ নেই।
এরপর শ্রীরামপুর থেকে যে সম্বন্ধ এসেছিল তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হল। অমলেন্দুর ইচ্ছে অনুযায়ী পাত্রপক্ষের দাবিপত্র পেশ করা হল। ছোটখাট কয়েকটা পরিবর্তন ছাড়া পাত্রীপক্ষ সবই মেনে নিলেন। পাত্রীপক্ষকে অমলেন্দু সরাসরি জানিয়ে দিল সে তার স্যালারি সার্টিফিকেট পর্যন্ত দিতে রাজি আছে, কিন্তু অফিসে গিয়ে পাত্র সম্বন্ধে গোয়েন্দাগিরি তার একেবারেই পছন্দের নয়। এবং সে সরাসরি পাত্রীর সঙ্গেও কথা বলতে চাইল। শ্রীরামপুরের চারাবাগান খেলার মাঠের পাশেই পাত্রীদের বাড়ি। রেলস্টেশন থেকে এক কিলোমিটারের সামান্য বেশি রিকশায় গেলে মিনিট ছয় সাত।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮০: অনুসরণ/১

বৈষম্যের বিরোধ-জবানি, পর্ব-৪৮: রান্নার জ্বালানি নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ?

—আপনার এই বিয়েতে মত আছে? নাকি বাড়ি থেকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে!
—না না সেরকম কোনও ব্যাপার নেই!
—বিয়ের পর চাকরি করার কোনও ইচ্ছে আছে?
—চাকরি করা মেয়ে তো আপনি বিয়ে করবেন না সুতরাং…
—হ্যাঁ, কিন্তু সে নিয়ে ভবিষ্যতে কোনও আক্ষেপ তৈরি হোক সেটা আমি চাই না
প্রতিমা উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইল।
—সরকারি চাকরি কিন্তু সাধারণ ছাপোষা মাইনে খুব বড় ধরনের শখসাবুদ কিন্তু মেটাতে পারবো না।
—আমরা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারেমানুষ হয়েছি। বড়লোকি বোলচাল আমাদের নেই! মানুষ তো, শখ হতেই পারে আবার আবার সংসারের প্রয়োজনে মনকে বোঝাতেও পারি।
আরও পড়ুন:

বিখ্যাতদের বিবাহ-বিচিত্রা, পর্ব-১৫: এ কেমন রঙ্গ জাদু, এ কেমন রঙ্গ…/৩

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৪: ঠাট্টা করলে যে বুঝতে পারত, ঠিক সময়ে হাসতে পারত

একটুআধটু কথা বলেই সেদিন প্রতিমাকে বেশ পছন্দ হয়ে গিয়েছিল অমলেন্দু’র একটা ফুরফুরে মন নিয়ে শ্রীরামপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়েছিল। বাড়িতে এসে জানিয়েছিল তার মত আছে। একটু একটু করে বিয়ের জিনিস কেনাকাটা শুরু হতে লাগলো। তখন আর বোধহয় মাসখানেক বাকি। হঠাৎ একটা চিঠি এল অমলেন্দুর অফিসের ঠিকানায় তার নামে। অমলেন্দু বেশ অবাক। অফিসের ঠিকানা দেওয়া আছে অফিস বিল্ডিং এর পাশেই একটা ব্যাংকে। সেখানে তার একাউন্ট আছে। অফিসের ঠিকানা দিতে ব্যাংক একাউন্ট খুব তাড়াতাড়ি হয়ে গিয়েছিল। বহুবার ক্রেডিট কার্ডওয়ালারা তার পিছনে লাগলেও অমলেন্দু কোনও ক্রেডিট কার্ড করেনি। তার বদ্ধমূল ধারণা ক্রেডিট কার্ড থাকলে মানুষের জিনিস কেনার বাজে অভ্যেস তৈরি হয়। যেটা এমনিতে করতে পারত না সেই খরচ করার একটা অন্যায় লোভ জন্মায়। অফিসের ঠিকানা দেয় না তাই সেখানে চিঠিচাপাটি আসে না বড় একটা। ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্টটা আসে নিয়মিত।
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-৯৭: শ্রীমার কথায় ‘ঠাকুরের দয়া পেয়েচ বলেই এখানে এসেচ’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৫: সর্বত্র বরফ, কোত্থাও কেউ নেই, একেবারে গা ছমছম করা পরিবেশ

তবে শ্রীরামপুরের পাত্রীপক্ষ যেদিন বাড়িতে এলেন তাদের সেদিন অফিসের ঠিকানা দিলেও আসতে মানা করে দিয়েছিল! সেখানেই এলো একটা ব্রাউন খাম বন্ধ চিঠি। সেন্ডারের নামের জায়গায় বাংলায় লেখা ‘জনৈক শুভানুধ্যায়ী’, এটা দেখেই অমলেন্দুর সন্দেহ হয়েছিল। ভাগ্যিস অমলেন্দু এখন ডেসপ্যাচে কাজ করে। তাই চিঠিটা সেখানেই প্রথম এসেছে। ডেসপ্যাচ থেকেই অফিসের সমস্ত চিঠিপত্র টেবিলে টেবিলে ডিস্ট্রিবিউট হয়। এই চিঠি হাতে হাতে ঘুরে তার হাতে পৌঁছলে কেলেঙ্কারি হত। অফিসে পরচর্চা পরনিন্দা করার লোকের অভাব নেই তাই চিঠিটা অফিসে না খুলে ফেরার পথে প্রথমে হেঁটে লালদীঘিতে গিয়ে একটা ফাঁকা বেঞ্চ দেখে বসে পড়ল আশেপাশে দেখে নিয়ে ডাকযোগে আসা চিঠিটা খুলল।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-৯৭: পাতি সরালি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৭৭: পৃথিবীতে এমন কেউ নেই, যাঁর জীবনের আকাশে কখনও শত্রুতার মেঘ জমেনি

মাননীয় অমলেন্দু বাবু,
আপনি আমাকে চেনেন না কিন্তু আমি আপনার একজন শুভানুধ্যায়ী। আমি আপনার ভালো চাই তাই এই চিঠি মারফত আপনাকে সাবধান করে দিতে চাইছি। শ্রীরামপুরে চারাবাগান খেলার মাঠের পাশে প্রতিমা নামে যে মেয়েটির সঙ্গে আপনার বৈবাহিক সম্বন্ধ হয়েছে তার সম্বন্ধে জানাতে চাই যে মেয়েটি পরিবারের মধ্যে একটি অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে আছে। প্রতিমা নামের মেয়েটির সঙ্গে তার মামাতো দাদা কুন্তলের গভীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে এমনকি তারা শারীরিক সম্পর্কে যুক্ত। পরিবারের মধ্যে এই অঘটনকে আটকাতে এইসব লুকিয়ে মেয়েটির বিয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আমার মনে হয় একজন সৎ মানুষ হিসেবে আপনার এই বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে এই মুহূর্তে বেরিয়ে আসা উচিত। ভালো থাকবেন

ইতি
জনৈক শুভানুধ্যায়ী

—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content