
ছবি : প্রতীকী।
এবার দশভেয়দের লক্ষ্য দ্বারাবতী। দ্বারকানগরীর একদিকে সমুদ্র, আরেকদিকে পর্বত। ভৌগোলিক অবস্থান রণনীতিতে বিশেষ গুরুত্ববাহী, তাছাড়াও আরেকটা সমস্যা ছিল। দ্বারাবতী নগরের রক্ষক ছিল একটি যক্ষ। মল্লযোদ্ধা মুষ্টিক বলদেবের আঘাতে মৃত্যুকালে সঙ্কল্প করেছিল যে, যক্ষরূপে জন্ম নিয়ে সে তার নিধনকারীকে হত্যা করে তার মাংসভক্ষণ করবে!
দ্বারকানগরীর রক্ষক-ও এক যক্ষ। শত্রু আসছে জানতে পারলেই সে গাধার রূপ ধারণ করে বিকট চিৎকার করতে আরম্ভ করলে সমগ্র নগরী যক্ষের ঐন্দ্রজালিক প্রভাবে আকাশে উঠে যেত। তারপর নেমে এসে আশ্রয় নিতো সমুদ্রের মধ্যে কোনও দ্বীপে। শত্রুদল চলে গেলে আবার ফিরে আসতো যথাস্থানে। এ যেন এক মজার লুকোচুরি খেলা। কল্পবিজ্ঞানের গল্পে আকাশ থেকে নেমে আসা ভিনগ্রহের যান এমন করেই বুঝি তার সকল রহস্য আর বিস্ময় নিয়ে উড়ে যায় অজানার দিকে।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৭১ : ঘটজাতক/৬ : যারে তুমি নীচে ফেল

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা/ ৯১

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৮: প্রতিপক্ষ অন্ধকার
দশভেয়রা দ্বারাবতীর কাছে আসতেই সেই যক্ষ তা জানতে পারল। অবিলম্বেই সে গর্দভের রূপ নিয়ে বিকটস্বরে ডেকে উঠল। চোখের নিমেষে দ্বারকা নগরী ঊর্ধ্বে উঠে দ্বীপের দিকে উড়ে চলে গেল। নগর দেখতে না পেয়ে দাসভেয়রা ফিরে যেতেই নগর ফিরে এল যথাস্থানে। এ এক আশ্চর্য প্রতিরক্ষা-ব্যবস্থা। যদি এ নিছক কল্পনা হয় তবে অতীতের এই “সামান্য গল্প” হয়তো ভবিষ্যতের পৃথিবীতে কল্পনা থেকে সত্য হয়ে উঠতেও পারে কোনোদিন।
সে যাই হোক, দ্বারকাপুরী ফিরে এসেছে দেখে দশভাই আবার সেখানে গেলেন। নগরী আবার অন্তর্হিত হল। গর্দভের রূপধারণ করে যক্ষ বারবার তাঁদের সকল উদ্যোগ নিষ্ফল করে দিল।
সে যাই হোক, দ্বারকাপুরী ফিরে এসেছে দেখে দশভাই আবার সেখানে গেলেন। নগরী আবার অন্তর্হিত হল। গর্দভের রূপধারণ করে যক্ষ বারবার তাঁদের সকল উদ্যোগ নিষ্ফল করে দিল।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

মহালয়া
এখন উপায়?
বারংবার বিফল হয়েও তাঁরা হতোদ্যম হলেন না। এবার তাঁরা শরণ নিলেন কৃষ্ণদ্বৈপায়নের। ইনি অন্য পরিচয়ে বেদব্যাস। বেদব্যাস পুরাণপুরুষ, তাঁর বিস্তৃত পরিচয় দেওয়া বাহুল্যমাত্র। ভারতত্ত্বে “কৃষ্ণ” নামে যাঁরা প্রসিদ্ধ, তাঁদের অন্যতম তিনি। তিনি একদা দ্বীপে জন্ম নিয়েছিলেন। মহাভারত কিংবা পুরাণ অথবা বেদ— তিনি সকলের সঙ্গেই সম্পর্কিত হয়েছেন। তিনি বেদের বিভাগকর্তা, পুরাণসমূহের-ও। তাত্ত্বিকের বিশ্লেষণ এই কিংবদন্তির পথে নয়, যৌক্তিক-বৌদ্ধিক মানদণ্ডে “ব্যাস”কে বুঝতে চাইবে। কিন্তু জাতকমালার গল্প প্রথিতযশা মহাপ্রাজ্ঞ ঋষিকেই দেখতে চেয়েছে।
এবার তাই তাঁর শরণ নেবেন দশভেয়রা, জানাবেন তাঁদের বিফলতার খেদ। চরণবন্দনা করে অনুরোধ করবেন কিছু একটা উপায় বলে দেওয়ার।
“ভদন্ত! দ্বারাবতী নগরী অধিকার করার পথ দেখান।”
কৃষ্ণদ্বৈপায়ন জানাবেন রহস্যটি। নগর বেষ্টন করে আছে পরিখা। সেই পরিখার পাশে কোন গোপনস্থানে একটা গাধা থাকে তা জানিয়ে দিলেন ত্রিকালদর্শী ঋষি। এই গাধাটিই নগরীর অন্তর্ধানের কর্তা। একমাত্র সে-ই পারবে উদ্দেশ্যসিদ্ধির উপায় জানাতে।
বললেন “সেই গর্দভটির পায়ে পড়। তার শরণাগত হয়ে, তার পায়ে পড়ে-ই এর সমাধান করতে হবে।”
বারংবার বিফল হয়েও তাঁরা হতোদ্যম হলেন না। এবার তাঁরা শরণ নিলেন কৃষ্ণদ্বৈপায়নের। ইনি অন্য পরিচয়ে বেদব্যাস। বেদব্যাস পুরাণপুরুষ, তাঁর বিস্তৃত পরিচয় দেওয়া বাহুল্যমাত্র। ভারতত্ত্বে “কৃষ্ণ” নামে যাঁরা প্রসিদ্ধ, তাঁদের অন্যতম তিনি। তিনি একদা দ্বীপে জন্ম নিয়েছিলেন। মহাভারত কিংবা পুরাণ অথবা বেদ— তিনি সকলের সঙ্গেই সম্পর্কিত হয়েছেন। তিনি বেদের বিভাগকর্তা, পুরাণসমূহের-ও। তাত্ত্বিকের বিশ্লেষণ এই কিংবদন্তির পথে নয়, যৌক্তিক-বৌদ্ধিক মানদণ্ডে “ব্যাস”কে বুঝতে চাইবে। কিন্তু জাতকমালার গল্প প্রথিতযশা মহাপ্রাজ্ঞ ঋষিকেই দেখতে চেয়েছে।
এবার তাই তাঁর শরণ নেবেন দশভেয়রা, জানাবেন তাঁদের বিফলতার খেদ। চরণবন্দনা করে অনুরোধ করবেন কিছু একটা উপায় বলে দেওয়ার।
“ভদন্ত! দ্বারাবতী নগরী অধিকার করার পথ দেখান।”
কৃষ্ণদ্বৈপায়ন জানাবেন রহস্যটি। নগর বেষ্টন করে আছে পরিখা। সেই পরিখার পাশে কোন গোপনস্থানে একটা গাধা থাকে তা জানিয়ে দিলেন ত্রিকালদর্শী ঋষি। এই গাধাটিই নগরীর অন্তর্ধানের কর্তা। একমাত্র সে-ই পারবে উদ্দেশ্যসিদ্ধির উপায় জানাতে।
বললেন “সেই গর্দভটির পায়ে পড়। তার শরণাগত হয়ে, তার পায়ে পড়ে-ই এর সমাধান করতে হবে।”
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

শ্রদ্ধাঞ্জলি : সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ
কৃষ্ণদ্বৈপায়নকে প্রণতি জানিয়ে এবার দশভেয়রা এলেন সেই গর্দভটির কাছে। সকলে মিলে তার পায়ে পড়লেন। তবে কি এ-ই সেই যক্ষ? যাদের জন্য এককালে এক মল্লযোদ্ধার প্রাণবিয়োগ ঘটল, তারাই বুঝি এবার নবতর জন্মে তাঁর চরণে শরণাগত হলে প্রশমিত হবে সেই পুর্বকৃত পাপ? জাতকমালা অবশ্য এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। কৃষ্ণদ্বৈপায়ন-ও কি গাধাটির নেপথ্যে থাকা সেই যক্ষের পরিচয়টি জানালেন? না।
দশভেয়েরা কী নিবেদন করবেন?
তাঁরা পায়ে ধরে করুণ আকুতি জানালেন —
“আপনিই আমাদের একমাত্র সহায়। আমরা যখন এই নগর জয় করতে আসবো, তখন দয়া করে নীরব থাকবেন।”
দশভেয়েরা কী নিবেদন করবেন?
তাঁরা পায়ে ধরে করুণ আকুতি জানালেন —
“আপনিই আমাদের একমাত্র সহায়। আমরা যখন এই নগর জয় করতে আসবো, তখন দয়া করে নীরব থাকবেন।”
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৮: চন্দ্রবোড়া
এই আবেদন কি ন্যায়সঙ্গত? গর্দভরূপী যক্ষ-ই বা কেন নীতিবিরোধী কাজটি করবেন? নাকি মধ্যপন্থা নেবেন, যাতে সাপ মরবে, লাঠিও ভাঙবে না! পক্ষপাত, প্রতিষেধ, নিরপেক্ষতা — এই ত্রয়ীর পরেও বুঝি যেটি থেকে যায় যুগে যুগের নীতিমালায়, সেটি হল – “অশ্বত্থামা হত ইতি গজ”… তবে কি যক্ষ নিয়মবাঁধা বেআইনের পথে হাঁটবেন নাকি অন্য পথে? লব্ধের রক্ষণ কঠিনতর হলেও এমন আকাঙ্ক্ষিত অথচ আয়াসলভ্য অলব্ধের লাভটিও মহার্ঘ্য বটে! যোগক্ষেম সাধন হবে দশভেয়দের? দেখা যাবে, পরবর্তী পর্বে।—চলবে।
* ড. অভিষেক ঘোষ (Abhishek Ghosh) সহকারী অধ্যাপক, বাগনান কলেজ। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ থেকে স্নাতকস্তরে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত। স্নাতকোত্তরের পর ইউজিসি নেট জুনিয়র এবং সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পেয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে সাড়ে তিন বছর পূর্ণসময়ের গবেষক হিসাবে যুক্ত ছিলেন। সাম্বপুরাণের সূর্য-সৌরধর্ম নিয়ে গবেষণা করে পিএইচ. ডি ডিগ্রি লাভ করেন। আগ্রহের বিষয় ভারতবিদ্যা, পুরাণসাহিত্য, সৌরধর্ম, অভিলেখ, লিপিবিদ্যা, প্রাচ্যদর্শন, সাহিত্যতত্ত্ব, চিত্রকলা, বাংলার ধ্রুপদী ও আধুনিক সাহিত্যসম্ভার। মৌলিক রসসিক্ত লেখালেখি মূলত: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়ে চলেছে বিভিন্ন জার্নাল ও সম্পাদিত গ্রন্থে। সাম্প্রতিক অতীতে ডিজিটাল আর্ট প্রদর্শিত হয়েছে আর্ট গ্যালারিতে, বিদেশেও নির্বাচিত হয়েছেন অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনীতে। ফেসবুক পেজ, ইন্সটাগ্রামের মাধ্যমে নিয়মিত দর্শকের কাছে পৌঁছে দেন নিজের চিত্রকলা। এখানে একসঙ্গে হাতে তুলে নিয়েছেন কলম ও তুলি। লিখছেন রম্যরচনা, অলংকরণ করছেন একইসঙ্গে।


















