
(বাবলি গুনগুন করে পড়ছে, ওর দাদা বাবিল ঘরে ঢুকল)
বাবলি : বই তো পড়ো, টই পড়ো কি। তাই তো কাটি ছড়া…
বাবিল : এই বোন, আজকে তো ষষ্ঠী, তুই আজও পড়বি?
বাবলি : কেন পড়ব না! ষষ্ঠীর সকালে তো কিছু নয়, বিকেল থেকে তো পুজো শুরু! মা বলেছে, আজকের সকালটা পড়তে।
বাবিল : মায়ের সব কথা বুঝি তুই শুনিস?
বাবলি : শুনিই তো। তুই-ই তো মায়ের কথা শুনিস না।
বাবিল : মোটেও না, আমিও মায়ের সব কথা শুনি।
বাবলি : তাহলে মা পড়তে বসতে বলেছে, পড়তে বস।
বাবিল : দুর্, আজকে ষষ্ঠীতে কেউ পড়তে বসে না। তোকেও পড়তে হবে না।
বাবলি : তুই পড়বি না সেটা তোর ব্যাপার, আমাকে বারণ করছিস কেন?
বাবিল : আরে তুই পড়লে তো আমাকেও পড়তে হবে।
মা এক্ষুনি বলবে, ‘বোনকে দেখে শেখ।’
>বাবলি : তা আমাকে দেখে শেখ না! সবার কাছ থেকেই শেখার আছে।
বাবিল : ইঃ…, ওর কাছে নাকি আমি শিখব! আমার থেকে পাক্কা এক বছরের ছোট! আমার কাছে তুই শেখ।
বাবলি : কী শিখব তোর কাছে? ফাঁকিবাজি?
বাবিল : তুই যদি পড়াটা বন্ধ করিস, তাহলে তোর ব্যাপারে একটা সিক্রেট খবর দেব, যেটা আমি কালকেই শুনেছি।
বাবলি : কী খবর রে দাদা?
>বাবিল : উঁহু, এমনি এমনি তো বলব না, আগে বই বন্ধ করে তুলে রাখ।
বাবলি : আচ্ছা রাখছি। তুই কী করে জানলি?
বাবিল : মা-বাবা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করছিল। আমি শুনে নিয়েছি।
বাবলি : বই তো তুলে রেখেছি, এবার বল।
বাবিল : মা-বাবা না তোকে একটা হসপিটাল থেকে চেয়ে নিয়ে এসেছে।
বাবলি : মানে! আমি বাবা- মায়ের নিজের মেয়ে নই?
বাবিল : তা জানি না। আমি মায়ের কাছে বোন এনে দাও,বোন এনে দাও বলে বায়না করতাম বলে তোকে চেয়ে এনেছে।
বাবলি : মোটেও না, কক্ষনো না। তুই মিথ্যে কথা বলছিস। আমি এক্ষুনি মাকে জিজ্ঞেস করব।
বাবিল : য্যা, মা কি আর তোকে বলবে নাকি সত্যি কথাটা! বললে তুই কষ্ট পাবি যে!
বাবলি : তাহলে তুই বললি কেন? আমি তো এখনও কষ্ট পাচ্ছি।
বাবিল : মা-বাবা আমাকে মিথ্যে কথা বলতে শেখায়নি কিনা, তাই তোকে সত্যিটা বলেই দিলাম।
বাবলি : আ্যঁ…. আ্যঁ…আ্যঁ…(কান্না)।
বাবিল : আরে কাঁদিস না বোন। আমি তো তোকে নিজের বোনই মনে করি।
এই করে সকালটা কেটে গেলেই বিকেল থেকে আর পড়াতে হবে না। (স্বগতোক্তি)।
মায়ের প্রবেশ
মা : এই কী হয়েছে রে? পুজোপাব্বনের দিনে কান্নাকাটি কীসের? হ্যাঁরে বাবিল, নিজে তো পড়তে বসিসনি, বোন পড়ছে, ওকেও পড়তে দিচ্ছিস না। পুজোর পরেই পরীক্ষা। বোন পাশ করে যাবে, আর তুই ওই ক্লাসেই পড়ে থাকবি। তখন বোন আর তুই একই ক্লাসে পড়বি। সেটা ভালোলাগবে তো?
বাবলি : দেখো না মা, দাদা বলছে, তুমি নাকি আমাকে হাসপাতাল থেকে চেয়ে এনেছ?
বাবিল : তা ভুলটা কী বলেছি? ওকে তো হাসপাতাল থেকেই এনেছ! ও কি বাড়িতেই জন্মে গেছে নাকি?
বাবলি : তুই তো বললি, মা-বাবা আমাকে চেয়ে এনেছে!
বাবিল : আরে চেয়ে এনেছে মানে কী! ডাক্তারবাবুরা পারমিশন দিয়েছে বাড়িতে আসার তবেই তো তোকে নিয়ে আসতে পেরেছে।
মা : ও এতক্ষণ তাহলে এইসব আবোল-তাবোল কথা হচ্ছিল। পড়াশুনা কিছুই হয়নি।
বাবলি : আমি তো পড়ছিলামই। দাদাই তো এসে এইসব কথা বলে আমাকে ডিস্টার্ব করছে।
মা : থাক, খুব হয়েছে। আর পড়তে হবে না। যা পুজোমণ্ডপ থেকে ঘুরে আয়। তাড়াতাড়ি আসবি কিন্তু। দুপুরে স্নান-খাওয়া করে একটু ঘুমোতে হবে। তা না হলে কিন্তু বাবা বিকেলে ঠাকুর দেখতে নিয়ে যাবে না।
বাবলি আর বাবিল একসঙ্গে চলে যেতে যেতে— ঠিক আছে, ঠিক আছে। একটু বসেই চলে আসব।
বাবিল : দেখলি তো, কেমন বুদ্ধি করে তোর ছুটি করিয়ে নিলাম। আমি বাবার কাছ থেকে একটা বন্দুক চাইব। তুই কিন্তু বায়না করবি না।
বাবলি : তোর বন্দুক হবে আর আমার কিছু হবে না?
বাবিল : একদিনে চাইলে বাবা কাউকেই দেবে না। তুই কালকে চাস বরং।
বাবলি : আচ্ছা,তাই চাইব।
বাবিল (স্বগতোক্তি) : আমার বন্দুকটা তো আজকে হয়ে যাক। তারপর কালকে ওর পুতুল হয় হবে, না হয় না হবে! হা…হা…হা।

শারদীয়ার গল্প/১ : ষষ্ঠীর সন্ধ্যা

শারদীয়ার গল্প/২ : কনটেন্ট

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৮: ঘরচিতি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৯: ইরাবতীর ডায়েরি থেকে
দ্বিতীয় দৃশ্য
মা : কী রে তোদের হল? বাবা কিন্তু এগিয়ে গেছে! কোথায় গেলি রে? বাবিল… বাবলি…
বাবিল : এই তো হয়ে গেছে। বন্দুকটা নিচ্ছিলাম।
বাবলি : মা, আমার জুতোর বেল্টটা একটু লাগিয়ে দাও না!
মা : বাবিল, আমার ব্যাগটা একটু ধর তো, বোনের জুতোটা পরিয়ে দিই।
বাবিল : জুতো পরিয়ে দেওয়ার কী আছে! আমি তো নিজে নিজেই পরেছি। এত বড় মেয়ে, একটা জুতো পরতে পারে না।
বাবলি : তোর কী তাতে? মা তো পরিয়ে দিচ্ছে, তুই তো দিচ্ছিস না!
মা : আঃ, একটু চুপ করে থাক না। সবসময় দু-জনে মিলে ঝগড়া।
বাবিল : দেখো না, একটা বাজে, ঝগড়ুটে মেয়ে। সবসময় আমার সঙ্গে ঝগড়া করে। বড়দের সঙ্গে যে ঝগড়া করতে নেই সেটা ওর মনেই থাকে না।
বাবলি : কে বড় তুই? এক বছরের বড় আবার বড়ো নাকি?
মা : বড় তো বটেই। সেই জন্যই তো ও তোর দাদা। নে নে চল্। বাবা এতক্ষণে পুজো প্যান্ডেলে পৌঁছে গেল।
বাবলি : আমার কিন্তু আজকে পুতুল চাই!
মা : আচ্ছা সে হবে খন, এখন চল্ তো তাড়াতাড়ি।

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৭২ : ঘটজাতক/৭ : ধরি ধরি মনে করি
মাইকের আওয়াজ। ভিড়ের কোলাহল
মা : ওই তো প্যান্ডেলের সামনে বাবা দাঁড়িয়ে আছে। চল্ চল্।
বাবিল : অনেকগুলো ঠাকুর দেখা হল।
বাবলি : আমার পুতুলটা এখনও কেনা হল না!
বাবিল : আরে বাবা, হবে হবে। ঠাকুর দেখে বাড়ি ফেরার সময় কিনে নিবি।
বাবলি : তখনও হবে না। বাড়ি ফেরার সময় বাবা বলবে,’আজ অনেক রাত হয়ে গিয়েছে, কাল কিনে দেব।’
বাবিল : ঠিক আছে, আজ না হলে কাল কিনবি! তাতে কী আর এমন হল!
বাবলি : নিজের বন্দুকটা তো কেনা হয়ে গেছে, এখন তো তুই বলবিই।
মা : তোদের ঝগড়ার আর শেষ নেই। ঠাকুর দেখতে বেরিয়েও ঝগড়া। চল্, বাবা বলল সুরুচি সংঘের ঠাকুরটা দেখে আজ বাড়ি ফিরব।
বাবলি : বাবা কোথায় গেল?
মা : ওই তো এগিয়ে গেছে। লাইন দিতে হবে তো!
বাবিল : বোন হাত ধরে থাকবি কিন্তু। সুরুচি সংঘে খুব ভিড় হয়, হারিয়ে যাবি।
মা : বাবিল তুই বোনের হাতটা শক্ত করে ধরে রাখ।
বাবলি : না, আমি ওর হাত ধরব না। ও ইচ্ছে করে আমাকে হারিয়ে দেবে। আমি তোমার হাত ধরব।
বাবিল : ঠিক আছে, ঠিক আছে, তুই হারিয়ে গেলে আমি খুঁজতেও যাব না।
মা : উফ্, তোরা ঝগড়া থামা তো! ওই দেখ বাবা ডাকছে।

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

উপন্যাস, পর্ব-৯২ : আকাশ এখনও মেঘলা
কোলাহলের শব্দ বাড়বে
বাবলি : মা কোথায় গেল? মা… মা… মা-বাবা-দাদা কাউকেই তো দেখতে পাচ্ছি না! (কান্না)
মা : এই বাবিল, বোন কোথায়?
বাবিল : আমি কী করে জানব! ও তো তোমার হাত ধরে ছিল। কোথায় গেল?
মা : হঠাৎ করে পেছন থেকে একটা ধাক্কা এল, আর হাতটা ছেড়ে গেল। তারপর থেকে তো আর দেখতে পাচ্ছি না।
বাবিল : ওই জন্যই বলেছিলাম আমার হাত ধরতে। তাহলে কিছুতেই হারাতো না। তুমি বোনের হাতটা শক্ত করে ধরে থাকতে পারলে না? বাবা কোথায় গেল?
মা : বাবা ওদিকটায় খুঁজতে গেল।
বাবিল : এভাবে কি এই ভিড়ে খুঁজে পাওয়া যাবে নাকি? ওই যে মাইকে বলছে, চলো ওখানে গিয়ে বলি ঘোষণা করতে।
মা : হ্যাঁ, হ্যাঁ তাই চল্।

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

শারদীয়া স্পেশাল : সুদূর অতীতে উঃপূর্বাঞ্চলে দুর্গাপুজো
শেষ দৃশ্য
বাবিল : ওই দেখো মা বোন। একজন হাত ধরে নিয়ে আসছে। কেমন ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কাঁদছে দেখো। (হেসে)
মা : তা কাঁদবে না! এতো ভিড়। আমাদের খুঁজে না পেয়ে ভয় তো পাবেই।
বাবলি (কেঁদে): তোমরা কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলে? আমার হাতটা ছেড়ে দিলে কেন?
বাবিল : তোকে তখনই বলেছিলাম আমার হাতটা ধর। আমার হাত ধরলে আর হারিয়ে যেতিস না।
বাবলি : মা তো আমার হাতটা ছেড়ে দিল!
মা : আমি কি ইচ্ছে করে ছেড়েছি নাকি? পেছন থেকে এত জোরে ধাক্কা দিল যে টাল সামলাতে না পেরে হাতটা ছেড়ে গেল।
বাবিল : তুই যতই আমার সঙ্গে ঝগড়া করিস, আমাকে ছাড়া কিছুই তোর হবার জো নেই। আরে তোর থেকে এ…ক…বছরের বড়। এক বছর আমি বেশি দেখেছি সবকিছু, বুঝলি?
মা : আচ্ছা আচ্ছা হয়েছে। নে এবার বাড়ি চল্। অনেক রাত হয়েছে।
বাবলি : আমার পুতুল? ওটা তো কেনাই হল না!
বাবিল : ইঃ পুতুল! নিজেই কোথায় থাকত তার ঠিক নেই, আবার পুতুল।
বাবলি : তুই তো বলবিই। তোর বন্দুকটা তো কেনা হয়ে গেছে! এখন চাইছিস আমার পুতুলটা যাতে না হয়।
মা : আবার ঝগড়া শুরু করলি! দাদার বুদ্ধিতেই কিন্তু এত তাড়াতাড়ি তোকে খুঁজে পেয়েছি আমরা!
বাবলি : তুই কেন আমাকে খোঁজার চেষ্টা করলি? আমি হারিয়ে গেলে তো তোর ভালোই হত। সবকিছু তোর একার হত!
বাবিল : হুঁ, তা হত ঠিকই, তবে একটা জিনিস খুব মিস হত।
বাবলি : কী?
বাবিল : এই কানমলা, আর এই চাঁটি।
বাবলি : আঃ! ও মা, তুমি দাদাকে কিছু বলবে না? আমার কানমুলে দিল শুধুশুধু।
মা : দাদার কানমলাটই দেখলি! আর দাদা যে কত ভালোবাসে তোকে!
বাবলি : ভালোবাসে না ছাই। খালি বিরক্ত করে।
বাবিল (হাসতে হাসতে) : আরও করব, সারাজীবন করব। বুঝলি?—শেষ।














