সোমবার ৯ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

(বাঁদিকে) জৌরালির খাদ্য সংগ্রহ। (ডানদিকে) অপ্রজনন ঋতুতে জৌরালি। ছবি: সংগৃহীত।

বকখালি আর ফ্রেজারগঞ্জ আমার বাড়ি থেকে খুব কাছাকাছি হওয়ায় এই দুটো জায়গায় কতবার যে বেড়াতে গিয়েছি তা গুনে বলা যাবে না। মৎস্যবন্দর যতবার গিয়েছি মূল উদ্দেশ্য ছিল পাতি গাঙচিলদের দেখা। করোনাকালের শেষ দিকে সম্ভবত ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আবারও একবার বেড়াতে গিয়ে বেনফিস হারবার থেকে রওনা দিলাম কারগিল বিচে। শুনেছিলাম কারগিল বিচে নাকি বিভিন্ন ধরনের পাখি দেখা যায়, বিশেষ করে পরিযায়ী পাখি। টোটোতে চেপে প্রায় দশ মিনিট লাগল হারবার থেকে কারগিল বিচে যেতে। অপেক্ষাকৃত ভিড় কম এই বিচে। বিকেল প্রায় তিনটে। সমুদ্রের উপরে সূর্যের প্রতিফলন চকচক করছে। শীতের সমুদ্র খুব শান্ত। এখানেও ঢেউয়ের তীব্রতা নেই বললেই চলে। সামনাসামনি কোনও পাখির দেখা মিলল না। কারণটা স্বাভাবিক, এখানে পর্যটকদের উপস্থিতি কিছুটা বেশি।
আমার বাকি সঙ্গী-সাথীরা সামনেই ফটো শুটে যখন ব্যস্ত আমি দ্রুত পা চালালাম সমুদ্রের তীর ধরে দক্ষিণে বেশ কিছুটা দূরে যেখানে পর্যটকদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। বেশ কিছুটা এগিয়ে যেতেই একটা জায়গা নজরে এল যেখানটায় বেশ কিছুটা জল জমে রয়েছে। জায়গাটা নিচু। জোয়ারের সময় যে জলটা উঠে আসে তা পুরোটা নেমে যায় না নিচু হওয়ায়। নোনা ঘাস জন্মেছে জায়গাটা জুড়ে। মনে হল সেখানেই এক দঙ্গল পাখি অতি দ্রুততার সাথে জলের মধ্যে লম্বা চঞ্চু ডুবিয়ে খাবার খুঁজছে। আশেপাশে কোনও মানুষ না থাকায় খুব নিশ্চিন্তেই ওরা খাবার সংগ্রহে ব্যস্ত। এগিয়ে গেলাম আরও একটু কাছে। তারপর চোখে লাগালাম বাইনোকুলার। এবার ওদের স্পষ্ট দেখতে পেলাম। যদিও সংখ্যা গুনতে পারলাম না কিন্তু ২৫-৩০ টি তো হবেই।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৬: সুন্দরবনের পাখি: গুলিন্দা বাটান

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৫ : Twoকি!

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪২: কুইক অ্যাকশন

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৭: ডেসডিমোনার রুমাল/৬

একনজরে দেখে মনে হল এ পাখিগুলোকে আগে দেখেছি। বাইনোকুলার দিয়ে আরও ভালোভাবে ওদের কাণ্ডকারখানা পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম। এরকম পাখি তো আগেও দেখেছি কিন্তু এদের দেখে যেন মনে হল প্রত্যেকের আকার আগের দেখা পাখিগুলো থেকে বড়। মনের মধ্যে তখন আমার সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। তাহলে কি এরা অন্য কোনও পাখি? মোবাইলে যেহেতু স্পষ্ট ভাবে এত দূর থেকে ছবি তোলা সম্ভব নয় তাই মনের ক্যামেরাতে ছবি তুলে রাখতেই হয়। আর পকেটে তো কাগজ ও পেন থাকেই। নতুন কোনও লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য দেখতে পেলে তা লিখে রাখি। লিখে রাখলাম ওদের পিঠ ডানা লেজ গলা বুক মাথা চঞ্চু ও পায়ের রং।

দেখছিলাম এদের খাবার সংগ্রহ করার ধরণ। এত দ্রুত লম্বা চঞ্চু জল কাদার মধ্যে ডুবিয়ে খাবার খুঁজছে দেখে মনে হচ্ছে খুব তাড়া আছে। যেখানে জল কিছুটা বেশি সেখানে মাথাও কিছুটা জলে ডুবিয়ে খুঁজছে। তবে পা দুটো অত্যন্ত লম্বা হওয়ায় হাঁটুর বেশি অংশ জলে ডুবছে না। কী খাবার খাচ্ছে একটুও বুঝতে পারলাম না। কয়েক মিনিট পরেই দেখি আরও ৮-১০ টি একই রকম পাখি উড়ে এসে ওদের সাথে যোগ দিল। যখন ডানা মেলে ওরা উড়ে এসে বসল তখন ডানা আর লেজ খুব স্পষ্ট দেখতে পেলাম। লেজের প্রান্তে বেশ চওড়া কালো রঙের পটি, আর তারপরেই চওড়া সাদা পটি। ডানার প্রান্তেও কালচে বাদামি পটি, আর তারপরে সাদা রঙের চওড়া পটি। বৈশিষ্ট্যগুলো নোট ডাউন করে নিয়ে ফিরে এলাম সঙ্গীদের কাছে। ইচ্ছে থাকলেও আর খুব বেশি এগোনো উচিত হবে না কারণ দ্রুত সন্ধে ঘনিয়ে আসছে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৯: শো-কেস শহর, উপসাগরীয় শিস এবং গোরার দিনরাত্রি

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪১: ঘটি চেয়ে বঁটি

আমার মতো আনাড়ি পাখিপ্রেমীর পক্ষে অকুস্থলে পাখি চেনা কষ্টকর, আর তা যদি পরিযায়ী পাখি হয় সে তো আরও কঠিন। সুতরাং বাড়ি ফিরে প্রথমেই শরণাপন্ন হলাম অজয় হোম মহাশয়ের “চেনা অচেনা পাখি” বইয়ের। খুব একটা পরিশ্রম করতেই হল না। আমার দেখার সাথে লেখা মিলিয়ে নিলাম স্টুয়ার্ট বেকারের লেখা “The Fauna of British India”। চিনে নিলাম। এরা হল সুন্দরবনের শীতকালীন পরিযায়ী পাখি জৌরালি। ইংরেজিতে এদের নাম ‘Black tailed Godwit’। নামের মাহাত্ম্য বুঝে গেলাম। আর বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘Limosa limosa’।

এরা যে পরিযায়ী পাখি তার পরিচয় দুটো বইতেই পেলাম। সুন্দরবনের আরও অনেক পরিযায়ী পাখির মতো এরা সুন্দরবনে আসে অপ্রজনন ঋতুতে। এই সময় এদের যা চেহারা হয় তা প্রজনন ঋতুর থেকে আলাদা। প্রজনন ঋতুতে এদের নিবাস হল উত্তর ও মধ্য ইউরোপ, উত্তর এশিয়া এবং সুমেরিয় অঞ্চলে। স্টুয়ার্ট বেকার লিখেছেন উত্তর ইউরোপের আইসল্যান্ড, হল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও রাশিয়া থেকে পশ্চিম এশিয়া, আর পুবে বৈকাল হ্রদ পর্যন্ত হল জৌরালিদের প্রজননক্ষেত্র। শীতকালে এরা আফ্রিকার দক্ষিণ অংশে এবং ভারতের উত্তর-পশ্চিম অংশে পরিযান করে। তবে বাংলাসহ শ্রীলঙ্কাতেও এদের দেখা যায়। আর সুন্দরবনের সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে যে অপ্রজনন ঋতুতে এরা দল বেঁধে হাজির হয় সে তো নিজের চোখেই দেখা।
কলকাতায় বৃষ্টি

(বাঁদিকে) উড়ন্ত জৌরালি। (মাঝখানে) জৌরালির ডিম। (ডানদিকে) ঘাসের জমিতে প্রজনন ঋতুতে জৌরালি। ছবি: সংগৃহীত।

অপ্রজনন ঋতুতে জৌরালিদের রূপবাহার খুব একটা আকর্ষণীয় নয়। দেহের উপরের দিক, বুক আর মাথার রং ধূসর বাদামি আর পেটের দিকে রং ধূসরাভ সাদা। এই সময় এদের চঞ্চুর গোড়ার দিকটা হয় হালকা গোলাপি আর আগার দিকটা হয় কালো। প্রজনন ঋতুতে চঞ্চুর গোড়ার দিকে রং হয় হলদে বা কমলা। চঞ্চুর গোড়ায় লম্বা কালো নাসারন্ধ্র স্পষ্ট দেখা যায়। সরু চঞ্চু বেশ লম্বা, ৭.৫ থেকে ১২ সেন্টিমিটার লম্বা। দূর থেকে দেখে মনে হয়েছিল চঞ্চুর আগা সামান্য চওড়া। কোনও বইতেই এ ব্যাপারে কোনও উল্লেখ দেখলাম না। হয়তো আমার দেখার ভুল। তবে স্টুয়ার্ট বেকারের বইতে জৌরালির যে ছবি আঁকা রয়েছে তাতে কিন্তু চঞ্চুর আগা খুব সামান্য চওড়া করেই আঁকা হয়েছে। তাই জৌরালির চঞ্চু নিয়ে আমার কিঞ্চিত বিভ্রান্তি থেকেই গেল। এদের লেজ আর ডানায় সাদা কালো পটির কথা তো আগেই বলেছি।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৩: ত্রিপুরা : ঊনকোটির বহু মূর্তি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে

লম্বা টিংটিঙে দুটো পায়ের রং গাঢ় ধূসর বা কালো। এই ধরনের পরিযায়ী পাখিদের প্রজনন ঋতুতে রূপের বাহার হয় নয়নাভিরাম। এই সময় মাথা হয় মরচে কমলা রঙের। তার উপরে থাকে কালো ছোপ। ঘাড়, গলা আর বুকের রঙও তাই। পেটের রঙ হয় আরও গাঢ় ছিট যুক্ত। এই সময় চোখের উপরে সাদা রঙের একটা দাগ ভ্রূয়ের মতো বেশ স্পষ্ট দেখা যায়। জৌরালি লম্বায় হয় প্রায় ৪২ সেন্টিমিটার আর ডানা বিস্তার করলে ৭০ থেকে ৮২ সেন্টিমিটার। পুরুষ জৌরালির তুলনায় স্ত্রী জৌরালি আকারে ও ওজনে সামান্য বড় হয়। পুরুষের ওজন হয় প্রায় ২৮০ গ্রাম আর স্ত্রীর ওজন হয় প্রায় ৩৪০ গ্রাম। এদের কোনও ডাকাডাকির শব্দ আমি শুনিনি, তবে অজয় হোম মহাশয়ের লেখা থেকে জেনেছি এরা মাঝে মাঝে ‘উইট-উইট-উইট’ শব্দ করে ডাকে।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র,পর্ব-৭২ : গলি থেকে রাজপথ

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

অপ্রজনন ঋতুতে এদের সমুদ্রের তীর, খাঁড়ি, হ্রদ ও জলাভূমির তীরে, নতুন জেগে ওঠা চরে এবং জলকাদাযুক্ত অগভীর জলাভূমিতে বিচরণ করতে দেখা যায়। কখনও কখনও অবশ্য মিষ্টি জলের হ্রদ ও জলাভূমিতে দেখা যায়। এদের প্রিয় খাবার হল কাঁকড়া, চিংড়ি, শামুক, জলজ পোকামাকড় ও পতঙ্গ এবং নানা ধরনের ঘাসের বীজ। জলজ ঘাস খেতেও এদের দেখা গেছে। সমুদ্র দূরবর্তী অঞ্চলে বন্যা হয়ে যাওয়ার পর প্লাবিত জমিতেও এদের দল বেঁধে ঘুরতে দেখা যায়। প্রজননের ঋতুতে অবশ্য এরা ফড়িং, ঘাসফড়িং, শুয়োপোকা, মাছি, গুবরে জাতীয় পোকা, ব্যাঙাচি, ছোট মাছ, বিভিন্ন ছোটখাটো প্রাণীর ডিম ইত্যাদি খায়। আগেই বলেছি, খাবার সংগ্রহ করার ধরণ খুব দৃষ্টিনন্দন। খুব দ্রুততার সাথে জল কাদার মধ্যে চঞ্চু ডুবিয়ে, এমনকি কখনও কখনও মাথা ডুবিয়েও খাবার সংগ্রহ করে।
কলকাতায় বৃষ্টি

(বাঁদিকে) প্রজনন ঋতুতে জৌরালি। (ডানদিকে) জৌরালি। ছবি: সংগৃহীত।

এপ্রিল থেকে মধ্য জুলাই হল এদের প্রজনন ঋতু। জৌরালিদের স্ত্রী পুরুষের জোড় খুব দীর্ঘস্থায়ী। এদের একই জোড় নাকি প্রতি বছর একই প্রজননক্ষেত্রে ফিরে ফিরে আসে। সাধারণতঃ অনেকে মিলে একটা প্রজননক্ষেত্রে বাসা বাঁধে। আগাছা ও ঘাসযুক্ত জমির মাটিতে সামান্য খোঁদল করে এরা বাসা তৈরি করে। তারপর বাসাতে তিন থেকে পাঁচটি ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ সবুজাভ-হলুদ বা সবুজাভ-বাদামি। ডিমের উপর খুব হালকা লালচে-বাদামি ছোপ দেখা যায়। স্ত্রী ও পুরুষ উভয় মিলে ২২ থেকে ২৪ দিন ডিমে তা দেয়। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোলে তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব উভয়ে মিলেই পালন করে। বাচ্চারা জন্মানোর ২৮-৩৪ দিনের মধ্যে উড়তে ও নিজে নিজে খাবার সংগ্রহ করতে শিখে যায়। অজয় হোম মহাশয় দেখেছেন জলে বা ডাঙ্গায় মাটির ঢিবির উপর অনেক জৌরালি মাথা গুটিয়ে খুব ঘেঁষাঘেষি করে বাতাসের দিকে মুখ করে বসে থাকে। অবশ্য এমন দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি।

এরা ভারতে আসে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে। আর ফিরে যেতে শুরু করে মার্চ-এপ্রিল মাসে। অজয় বাবু বলেছেন, যেসব পাখি প্রজননে সক্ষম হয় না তাদের কেউ কেউ নাকি সে বছর আর ফিরে যায় না। যাইহোক, সুন্দরবন অঞ্চলে আজও এদের যথেষ্ট সংখ্যায় পরিযান করতে দেখা যায়। এর কারণ নিশ্চিতভাবে সুন্দরবন হল ওদের উপযোগী খাদ্য সমৃদ্ধ এবং নিরাপদ এলাকা। সুন্দরবনের অনন্য বাস্তুতন্ত্র ওদের অপ্রজনন ঋতুতে বসবাসের পক্ষে উপযুক্ত বলেই ওরা বারবার এখানে ফিরে আসে। আর তাই শুধু জৌরালি নয়, ওদের মতো অন্য পরিযায়ী পাখিদের জন্যও আমাদের সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হবে।—চলবে।

* সৌম্যকান্তি জানা। সুন্দরবনের ভূমিপুত্র। নিবাস কাকদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা। পেশা শিক্ষকতা। নেশা লেখালেখি ও সংস্কৃতি চর্চা। জনবিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের জন্য ‘দ্য সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল ২০১৬ সালে ‘আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ এবং শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান লেখক হিসেবে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ ২০১৭ সালে ‘অমলেশচন্দ্র তালুকদার স্মৃতি সম্মান’ প্রদান করে সম্মানিত করেছে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content