
চারণকবি মুকুন্দ দাস। ছবি: সংগৃহীত।
ঊনবিংশ শতাব্দী বাংলার নবজাগরণের যুগ। এই যুগে যাঁরা আত্মবিস্মৃত বাঙালি জাতিকে মাতৃমন্ত্রে দীক্ষা দিয়েছিলেন এবং স্বাধীনতার মন্ত্রে জাগিয়েছিলেন, চারণকবি মুকুন্দ দাস তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে দেশের মানুষকে একসূত্রে গাঁথতে, দেশের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালাতে ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার প্রেরণা জোগাতে যেসব চারণ কবিরা গান গেয়ে ও যাত্রাপালা করে স্থানে স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন তাঁদের মধ্যে প্রথমেই স্মরণীয় নাম মুকুন্দ দাস।
‘ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমররঙ্গে’—এই উদ্দীপনাময় গানের পঙ্ক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর বিপ্লবী চেতনা ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করার আকাঙ্ক্ষায় তিনি সংগীত ও নাট্যপ্রতিভাকে নিয়োজিত করেছিলেন। তাঁর গান শুধু মানুষকে আবেগাপ্লুত করত না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসও জোগাত। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ও উপনিবেশের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে হিন্দু-মুসলমান উভয়কে উজ্জীবিত করতে এই অমর গান রচনা করেছিলেন চারণ-কবি মুকুন্দ দাস। তিনি তাঁর উদাত্ত ও তেজোদীপ্ত কণ্ঠের গানে দেশবাসীকে উদ্ধুদ্ধ করেছিলেন।
‘ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমররঙ্গে’—এই উদ্দীপনাময় গানের পঙ্ক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে তাঁর বিপ্লবী চেতনা ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসা। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করার আকাঙ্ক্ষায় তিনি সংগীত ও নাট্যপ্রতিভাকে নিয়োজিত করেছিলেন। তাঁর গান শুধু মানুষকে আবেগাপ্লুত করত না, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসও জোগাত। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ও উপনিবেশের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পেতে হিন্দু-মুসলমান উভয়কে উজ্জীবিত করতে এই অমর গান রচনা করেছিলেন চারণ-কবি মুকুন্দ দাস। তিনি তাঁর উদাত্ত ও তেজোদীপ্ত কণ্ঠের গানে দেশবাসীকে উদ্ধুদ্ধ করেছিলেন।
বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগণার বানরী গ্রামে ১৮৭৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মুকুন্দ দাস জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম গুরুদয়াল দে এবং মাতার নাম শ্যামাসুন্দরী দেবী। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর দে এবং ডাক নাম ছিল যজ্ঞা। পরবর্তীকালে বরিশালে বৈষ্ণব সন্ন্যাসী রামানন্দ অবধূত যজ্ঞেশ্বরের কণ্ঠে হরি সংকীর্তন ও শ্যামাসঙ্গীত শুনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে দীক্ষা দিয়ে তাঁর নাম রাখেন মুকুন্দ দাস। উনিশ বছরের বয়সের মধ্যে মুকুন্দদাস ‘সাধন-সঙ্গীত’ নামে একশখানি গান সমৃদ্ধ একখানি বই রচনা করেন।
চারণকবি মুকুন্দ দাস ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। তিনি অন্ধ-কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে দেশ মাতৃকার সাধনায় জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। জেল-জুলমের সমস্ত বেদনা হার মেনেছিল তার সংগ্রামী চেতনার কাছে। অবিভক্ত ভারতে তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে নিয়ে জাগরণী গান শুনিয়ে সাধারণ জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
চারণকবি মুকুন্দ দাস ছিলেন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। তিনি অন্ধ-কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে দেশ মাতৃকার সাধনায় জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। জেল-জুলমের সমস্ত বেদনা হার মেনেছিল তার সংগ্রামী চেতনার কাছে। অবিভক্ত ভারতে তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন বুকে নিয়ে জাগরণী গান শুনিয়ে সাধারণ জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছেন।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, পর্ব-৯৩ : আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৯১: কেন পান্থ, চঞ্চলতা!

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৭০ : কালনাগিনী

শারদীয়ার গল্প/১ : ষষ্ঠীর সন্ধ্যা
বরিশালের বিশিষ্ট দেশপ্রেমিক ও সমাজসংস্কারক অশ্বিনীকুমার দত্তের সংস্পর্শে এসে মুকুন্দ দাসের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। সংগীতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে স্বদেশি আন্দোলনের আদর্শ পৌঁছে দেওয়ার প্রেরণা তিনি লাভ করেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে মানুষের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে সহজ ভাষায় রচিত গান ও নাটকের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমকে কাজে লাগাতে হবে।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের সময় তাঁর সৃষ্টিকর্ম বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করে। তিনি গান, কবিতা ও যাত্রাপালার মাধ্যমে বিদেশি পণ্য বর্জন, স্বদেশি দ্রব্যের ব্যবহার এবং মাতৃভূমির প্রতি কর্তব্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দেন। তাঁর গান গ্রামীণ জনজীবনের পরিচিত ভাষা ও চিত্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে সহজেই পৌঁছে যেত। এভাবেই তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনকে সাংস্কৃতিক জাগরণের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।
১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের সময় তাঁর সৃষ্টিকর্ম বিশেষ তাৎপর্য অর্জন করে। তিনি গান, কবিতা ও যাত্রাপালার মাধ্যমে বিদেশি পণ্য বর্জন, স্বদেশি দ্রব্যের ব্যবহার এবং মাতৃভূমির প্রতি কর্তব্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে দেন। তাঁর গান গ্রামীণ জনজীবনের পরিচিত ভাষা ও চিত্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে সহজেই পৌঁছে যেত। এভাবেই তিনি রাজনৈতিক আন্দোলনকে সাংস্কৃতিক জাগরণের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

শারদীয়া স্পেশাল, রাজীব হত্যা : অমীমাংসিত প্রশ্নচিহ্ন অনিন্দ্য ভুক্ত
মুকুন্দ দাসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি ‘মাতৃপূজা’ যাত্রাপালা। দেশপ্রেম, মাতৃভূমির মুক্তি এবং ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এই পালার মূল উপজীব্য। নাটকটির মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষকে স্বদেশের প্রতি কর্তব্যবোধে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁর ‘ছিল ধান গোলা ভরা, শ্বেত ইঁদুরে করল সারা’ গানটিতেও রূপকের সাহায্যে শোষণের চিত্র ফুটে উঠেছিল। তাঁর যাত্রাপালা ও দেশাত্মবোধক গান জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায় এবং ব্রিটিশ প্রশাসনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
স্বদেশি প্রচার ও ‘মাতৃপূজা’ যাত্রাপালার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁর বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের অভিযোগ আনে এবং তাঁকে গ্ৰেপ্তার করে। বিচারে তাঁকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ‘মাতৃপূজা’ নাটকটি সরকার বাজেয়াপ্ত করে। কিছু দিন বরিশাল জেলে রাখার পর মুকুন্দ দাসকে দিল্লি জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু কারাবাস ও দমননীতির মধ্যেও তাঁর জীবনসংগ্রামের তাৎপর্য কমেনি। বরং তাঁর ঘটনা প্রমাণ করে, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদও ব্রিটিশ সরকারের কাছে ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছিল।
স্বদেশি প্রচার ও ‘মাতৃপূজা’ যাত্রাপালার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁর বিরুদ্ধে রাজদ্রোহের অভিযোগ আনে এবং তাঁকে গ্ৰেপ্তার করে। বিচারে তাঁকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ‘মাতৃপূজা’ নাটকটি সরকার বাজেয়াপ্ত করে। কিছু দিন বরিশাল জেলে রাখার পর মুকুন্দ দাসকে দিল্লি জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু কারাবাস ও দমননীতির মধ্যেও তাঁর জীবনসংগ্রামের তাৎপর্য কমেনি। বরং তাঁর ঘটনা প্রমাণ করে, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদও ব্রিটিশ সরকারের কাছে ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছিল।
আরও পড়ুন:

দশমী

শারদীয়ার গল্প/২ : কনটেন্ট
পরবর্তী সময়েও মুকুন্দ দাস সংগীত ও যাত্রাপালার মাধ্যমে জনজাগরণের কাজ চালিয়ে যান। ১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে স্বদেশি আদর্শ, বিদেশি পণ্য বর্জন এবং আত্মনির্ভরতার আহ্বান নতুন গুরুত্ব লাভ করে। এই সময়ে তাঁর গান মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ‘পরো না রেশমি চুড়ি, বঙ্গনারী, কভু হাতে আর পরো না’—এই বহুল পরিচিত গানের মাধ্যমে তিনি বিদেশি পণ্য বর্জন এবং স্বদেশি দ্রব্য ব্যবহারের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। জটিল রাজনৈতিক বক্তব্যকে সহজ, সুরেলা ও আবেগময় ভাষায় প্রকাশ করাই ছিল তাঁর সৃষ্টির বিশেষত্ব। তাঁর বিপ্লবী-কণ্ঠের গানগুলি ছিল প্রত্যয়ের দৃঢ়তায় দুর্ধর্ষ এবং আত্মিক দীপ্তিতে চিত্তাকর্ষী। গানের মাধ্যমে দেশপ্রেম ছড়ানো ও জনজাগরণ ছিল তাঁর স্বপ্ন ও সাধনা, কর্ম ও ব্রত। জীবনের শেষ দিন অবধি তিনি সেই সাধনাই করে গিয়েছেন।
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুকুন্দ দাস অংশ গ্রহণ করেছিলেন তার সংগীত ও যাত্রাপালা নিয়ে, যা জনসাধারণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রে তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন এবং সুভাষচন্দ্রেরও সংস্পর্শে এসেছিলেন। মুকুন্দ দাস কোলকাতা থাকাকালে একবার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামও তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাঁকে গান গেয়ে শোনান ও কবির নিজের লেখা কয়েকটি বই উপহার দেন। কাজী নজরুল ইসলাম ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর— চারণকবি মুকুন্দ দাসকে যথাক্রমে ‘বাংলা মায়ের দামাল ছেলে’ ও ‘চারন-সম্রাট মুকুন্দ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৩৪ সালের ১৮ মে কোলকাতায় একটি গানের অনুষ্ঠান থেকে ফিরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গভীর নিদ্রার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়।
ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামে মুকুন্দ দাস অংশ গ্রহণ করেছিলেন তার সংগীত ও যাত্রাপালা নিয়ে, যা জনসাধারণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করেছিল। স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রে তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন এবং সুভাষচন্দ্রেরও সংস্পর্শে এসেছিলেন। মুকুন্দ দাস কোলকাতা থাকাকালে একবার বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামও তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাঁকে গান গেয়ে শোনান ও কবির নিজের লেখা কয়েকটি বই উপহার দেন। কাজী নজরুল ইসলাম ও কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর— চারণকবি মুকুন্দ দাসকে যথাক্রমে ‘বাংলা মায়ের দামাল ছেলে’ ও ‘চারন-সম্রাট মুকুন্দ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৩৪ সালের ১৮ মে কোলকাতায় একটি গানের অনুষ্ঠান থেকে ফিরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে গভীর নিদ্রার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১৩ : ত্রিপুরায় আহোম রাজদূতের গুপ্তচর নিয়োগ/১
ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে চারণকবি মুকুন্দ দাসের অবদান অনস্বীকার্য; তিনি স্বদেশী ও অসহযোগ আন্দোলনের সময় যাত্রাপালা ও সহজ সরল ভাষায় রচিত দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে গ্ৰাম বাংলার সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও ব্রিটিশবিরোধী চেতনা জাগ্রত করেন। কিন্তু আত্মবিস্মৃত বাঙালি মুকুন্দ দাসের অবদানকে স্মৃতি থেকে মুছে ফেলে দিয়েছে। শুধু বর্তমান প্রজন্ম কেন আগের প্রজন্মের অনেকেই মুকুন্দ দাসের নাম জানে না বা জানলেও স্মৃতি থেকে হারিয়ে গিয়েছে।
মুকুন্দ দাসের গানের মূল প্রেরণা ছিল মানবতার মুক্তি এবং সাম্যের লড়াই। চারণ কবি মুকুন্দ দাসের সৃষ্টিকর্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা, সাম্য এবং মানবতার জন্য লড়াই কেবল একটি সময়ের জন্য নয়, বরং প্রতিনিয়ত চলমান একটি সংগ্রাম। তার গানগুলো আজও আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক, কারণ এগুলো কেবল দেশপ্রেমের জন্য নয়, বরং মানুষের জন্য মানুষের লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা।
মুকুন্দ দাসের গানের মূল প্রেরণা ছিল মানবতার মুক্তি এবং সাম্যের লড়াই। চারণ কবি মুকুন্দ দাসের সৃষ্টিকর্ম আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, স্বাধীনতা, সাম্য এবং মানবতার জন্য লড়াই কেবল একটি সময়ের জন্য নয়, বরং প্রতিনিয়ত চলমান একটি সংগ্রাম। তার গানগুলো আজও আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক, কারণ এগুলো কেবল দেশপ্রেমের জন্য নয়, বরং মানুষের জন্য মানুষের লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা।
* লেখক একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও দর্শনশাস্ত্রের অধ্যাপক। রবীন্দ্র দর্শনে তাঁর পিএইচডি। তাঁর রচিত দুটি ইংরেজি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এবং একটি গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে বাংলা ও ইংরেজিতে তাঁর বহু গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সমকালীন সামাজিক, নৈতিক ও দার্শনিক বিষয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ লেখেন।


















