
উত্তর শুনে সার্কল ইন্সপেক্টর স্থিরভাবে বিতানের চোখের দিকে তাকালেন! তাঁর সন্দেহটা মিটছে না !
— আপনার নামটা কী বললেন!
— আঁজ্ঞে বিতান ঘোষ!
— আপনি মিথ্যে কথা বলেছেন!
— আমি আধার কার্ড দেখাচ্ছি!
— আপনার নামটা কী বললেন!
— আঁজ্ঞে বিতান ঘোষ!
— আপনি মিথ্যে কথা বলেছেন!
— আমি আধার কার্ড দেখাচ্ছি!
— না না আমি প্রফেশনের কথা বলছি! আপনার কোনও ভিজিটিং কার্ড আছে?
— রাইটাররা লিখেই ন্যায্য পয়সা পায় না স্যার সেখানে ভিজিটিং কার্ড নিয়ে ঘুরে বেড়ালে নামের ক্রেডিটটুকুও
— আপনি জানলেন কী করে যে উনি এই রেপ কেসে ইনভ্লড নন!
— এটা জাস্ট গেস করেছি। কারণ ওঁর পক্ষের লইয়ার শুনেছি লাস্ট মোমেন্টে বিট্রে করেছিলেন।
— আমি বারবার একটা ভালো ডিপেন্ডেবল লইয়ার দিতে বলেছিলাম!
— প্লিজ স্যার! একটু বলুন না ডিটেলে
— বলতে পারি বাট অন ওয়ান কন্ডিশন!
— বলুন স্যার!
— এখনও চাকরি করছি! সামনে রিটায়ারমেন্ট! আমি কোনও ঝঞ্ঝাটে জড়াতে চাই না! এখন তো নয়ই অবসরের পরেও কোন অকারণ ঝঞ্ঝাট চাই না। তাই আমার নাম কোথাও বলা চলবে না! যদি আমার নাম উল্লেখ করেন আমি অস্বীকার করব এবং বলব আপনি মিথ্যে লিখেছেন।
— রাজি স্যার।
— রাইটাররা লিখেই ন্যায্য পয়সা পায় না স্যার সেখানে ভিজিটিং কার্ড নিয়ে ঘুরে বেড়ালে নামের ক্রেডিটটুকুও
— আপনি জানলেন কী করে যে উনি এই রেপ কেসে ইনভ্লড নন!
— এটা জাস্ট গেস করেছি। কারণ ওঁর পক্ষের লইয়ার শুনেছি লাস্ট মোমেন্টে বিট্রে করেছিলেন।
— আমি বারবার একটা ভালো ডিপেন্ডেবল লইয়ার দিতে বলেছিলাম!
— প্লিজ স্যার! একটু বলুন না ডিটেলে
— বলতে পারি বাট অন ওয়ান কন্ডিশন!
— বলুন স্যার!
— এখনও চাকরি করছি! সামনে রিটায়ারমেন্ট! আমি কোনও ঝঞ্ঝাটে জড়াতে চাই না! এখন তো নয়ই অবসরের পরেও কোন অকারণ ঝঞ্ঝাট চাই না। তাই আমার নাম কোথাও বলা চলবে না! যদি আমার নাম উল্লেখ করেন আমি অস্বীকার করব এবং বলব আপনি মিথ্যে লিখেছেন।
— রাজি স্যার।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, পর্ব-৯৩ : আকাশ এখনও মেঘলা

রিভিউ: মধ্যমানের ভিএফএক্স আর সবাইকে সন্তুষ্ট করতে যাওয়াই কাল হল আদিপুরুষের

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৭১ : লাউডগা

বিশেষ নিবন্ধ : মুকুন্দ দাস: স্বদেশ জাগরণের চারণকবি
দু’দিন পরে যেতে বলেছিলেন শ্রীরামপুরের সার্কেল ইন্সপেক্টর হাসান আলি! সব কেসের কাগজপত্র উনি রাখেননি। কিন্তু ওনার মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত খারাপ লাগা ছিল দুলাল সেনের এই মামলা নিয়ে। তাই এই কেসডায়েরী সমস্ত সাক্ষী সাবুদের ঠিকানা ফোন নম্বর সবকিছুর জেরক্স কপি করে একটা ফাইলে নিজের কাছে যত্ন করে রেখেছিলেন। নানা জায়গায় বদলি হয়েছেন। ফাইল কখনও অফিসে নিয়ে আসেননি। নিজের বাড়িতে রেখে দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৯১: কেন পান্থ, চঞ্চলতা!

শারদীয়া স্পেশাল, রাজীব হত্যা : অমীমাংসিত প্রশ্নচিহ্ন অনিন্দ্য ভুক্ত
দু’দিন বাদে বিতান যেতে সেই ফাইল থেকে সবার নাম ঠিকানা পাওয়া গেল। বাদল ঘোষ ক্যামেরাম্যান আর আসাফুল ইসলাম তার অ্যাসিস্ট্যান্ট! ওয়েলেসলি জুটমিলের হেড অফিসের মাইনে করা গাড়ির ড্রাইভার কেশব মুসাহার। তখন বছর চল্লিশ বয়েস ছিল। আজ থেকে উনিশ কুড়ি বছর আগে আধার কার্ড তখনও চালু হয়নি। কিন্তু প্যান কার্ড ছিল। আজকের কালার ছবি নয় তবে ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট। আর ছিল ভোটার কার্ড। এই তিনজন মূল সাক্ষীর সেই সব কিছু পাওয়া গিয়েছে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৮১: শিশুপালের মৃত্যু, এক সাধারণের নির্মম পরিণতি

চলচ্চিত্র সমালোচনা অদ্ভুত! ছবিতে রামায়ণের অনুভূতি থেকে ভিএফএক্স-এর কারীগরি এখানে মনোহারী
— আপনি অনুমতি দিলে আমি খালি ছবিগুলো তুলতাম রেফারেন্সের জন্য। আমি কথা দিচ্ছি সবকিছু নোট করে নিয়ে আমি ছবি সব ডিলিট করে দেবো।
— না সে ছবি তো আপনি যেকোনো জায়গা থেকে জোগাড় করতে পারেন সে নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। আমার কাছে ফাইল ছিল আর সেই ফাইল দেখে আপনি ছবি তুলেছেন ছবির থেকে সেটা প্রমাণ করা যাবে না।
— আমি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে সাধারণভাবে সকলেই এটা স্বীকার করেছেন যে দুলাল সেন অত্যন্ত ভদ্রমানুষ। কিন্তু হঠাৎ করে কি যে হয়েছিল কেন তিনি এরকম একটা ভুল করলেন সেটা নিয়ে পুরনো মানুষজনের মধ্যে একটা ধন্দ আছে।
— আর কী জেনেছেন?
— সকলে নয় মাত্র একজনই এটা বলেছেন।
— না সে ছবি তো আপনি যেকোনো জায়গা থেকে জোগাড় করতে পারেন সে নিয়ে আমার কোন মাথা ব্যাথা নেই। আমার কাছে ফাইল ছিল আর সেই ফাইল দেখে আপনি ছবি তুলেছেন ছবির থেকে সেটা প্রমাণ করা যাবে না।
— আমি এলাকায় খোঁজ নিয়ে জেনেছি যে সাধারণভাবে সকলেই এটা স্বীকার করেছেন যে দুলাল সেন অত্যন্ত ভদ্রমানুষ। কিন্তু হঠাৎ করে কি যে হয়েছিল কেন তিনি এরকম একটা ভুল করলেন সেটা নিয়ে পুরনো মানুষজনের মধ্যে একটা ধন্দ আছে।
— আর কী জেনেছেন?
— সকলে নয় মাত্র একজনই এটা বলেছেন।
আরও পড়ুন:

শ্রীঃ

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১৩ : ত্রিপুরায় আহোম রাজদূতের গুপ্তচর নিয়োগ/১
— কী বলেছেন?
— বললেন স্নিগ্ধা নামের মেয়েটা সুবিধের ছিল না! সেই নাকি প্ল্যান করে ওয়েলেসলি জুটমিলের মালিক কানাইলাল মহেশ্বরীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে দুলাল সেনকে ফাঁসিয়েছে। দুলাল সবই বুঝতে পেরেছিল কিন্তু আমাদের আইন আদালত তো নামীদামী উকিলদের কথায় আর চোখের সামনে দেখা প্রমাণের ভিত্তিতে চলে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো আইনের চোখে যে কালো কাপড়টা বাঁধা আছে সেটাই সাধারণ বোধবুদ্ধি বিবেচনার সামনে একটা আড়াল। প্রমাণ লোপাট করার ভয়ানক খেলা রামায়ণ মহাভারতের সময় থেকে চলছে। কানে শুনে আর কতটা ন্যায়বিচার হয়। এই মানুষটি বললেন তিনি দুলাল সেনের বাবা অমৃতলাল সেনের কাছে স্কুলে পড়েছেন। দুলালকে খুব ভালো করে কাছ থেকে জানেন চেনেন! কিন্তু সত্যি আর কবে সম্মান পায়?—চলবে।
— বললেন স্নিগ্ধা নামের মেয়েটা সুবিধের ছিল না! সেই নাকি প্ল্যান করে ওয়েলেসলি জুটমিলের মালিক কানাইলাল মহেশ্বরীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে দুলাল সেনকে ফাঁসিয়েছে। দুলাল সবই বুঝতে পেরেছিল কিন্তু আমাদের আইন আদালত তো নামীদামী উকিলদের কথায় আর চোখের সামনে দেখা প্রমাণের ভিত্তিতে চলে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের মতো আইনের চোখে যে কালো কাপড়টা বাঁধা আছে সেটাই সাধারণ বোধবুদ্ধি বিবেচনার সামনে একটা আড়াল। প্রমাণ লোপাট করার ভয়ানক খেলা রামায়ণ মহাভারতের সময় থেকে চলছে। কানে শুনে আর কতটা ন্যায়বিচার হয়। এই মানুষটি বললেন তিনি দুলাল সেনের বাবা অমৃতলাল সেনের কাছে স্কুলে পড়েছেন। দুলালকে খুব ভালো করে কাছ থেকে জানেন চেনেন! কিন্তু সত্যি আর কবে সম্মান পায়?—চলবে।
*জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















