কলকাতায় বৃষ্টি
খুব প্রয়োজন না পড়লে বিতান মিথ্যে কথা বলে না, কিন্তু ব্যবসার স্বার্থে কখনও কখনও বলতে হয়।
— হ্যাঁ স্যার গিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের মধ্যে যে ক’জন মনে করতে পারলো তারা তো সবাই কেস ডায়েরির কথাই গড়গড় করে বলছে। ওই এলাকার লোক তাই বলছে যে দুলাল সেন এমনিতে ভদ্র-সভ্য মানুষ। স্নিগ্ধাকে সে চিনতো। এখন রাস্তায় গাড়ির মধ্যে কি ঘটেছিল সেটা তো চোখের সামনে কেউ দেখেনি, কিন্তু টিভিতে তো দেখেছে তারা।
স্নিগ্ধা মেয়েটার শাড়ি ব্লাউজ সব ছেঁড়া। মেয়েটা হাউমাউ করে কাঁদছে। পুরুষমানুষ হয়তো ভুল করে ফেলেছে, কোনও মেয়ে কি আর এসব নিয়ে মিথ্যে কথা বলে?
— তাহলে আপনি আপনার গল্প সেভাবেই লিখুন।
— কিন্তু এটা তো তৈরি করা হয়েছিল স্যার আপনি তো সব জানেন!
— মানে!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, পর্ব-৯৩ : আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৯১: কেন পান্থ, চঞ্চলতা!

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৭০ : কালনাগিনী

শারদীয়ার গল্প/১ : ষষ্ঠীর সন্ধ্যা

হাসান আলি কয়েক মুহূর্ত চোখের চশমা নামিয়ে বিতানের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
— আপনি ঠিক কে বলুন তো?
— আপনাকে বলেছি! আমি একটা সিরিজ লিখছি দুলাল সেনকে নিয়ে!
— এটা আপনি বলছেন? আমি বিশ্বাস করব কী করে?
— সে আপনার সিদ্ধান্ত স্যার! সেখানে আমি কি বলবো? আর এটা ঠিক পাবলিকেশন করব না যে বই ছাপা হলে আপনাকে এসে দেখাবো। আমরা এটা একটা টেলিভিশন সিরিজ করতে চাই রিয়েল লাইফ স্টোরি।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

শারদীয়া স্পেশাল, রাজীব হত্যা : অমীমাংসিত প্রশ্নচিহ্ন অনিন্দ্য ভুক্ত

— এত লোক থাকতে দুলাল সেনকে নিয়ে হঠাৎ করে সিরিজ চ্যানেল করবেই বা কেন আর প্রডিউসার পয়সাই বা দেবে কেন? ক’জন চেনেন তাকে?
— এখন চেনেন না সিরিজ হয়ে যাওয়ার পরে সকলে চিনবেন। গল্পের মেরিটটা ভীষণ ইম্পরট্যান্ট! একজন মানুষকে চক্রান্ত করে ফাঁদে ফেলা হয়েছে।
— এসব আজগুবি কথা আপনাকে কে বলেছে?
— স্যার আপনি নিজেও জানেন এই তথ্যগুলো আজগুবি নয়। কিন্তু আদালতে প্রমাণ হয়নি।
— আপনি কি কোনওভবে দুলাল সেনের সঙ্গে রিলেটেড?
— নাঃ!
— তাহলে দুলাল সেনের কোনও রিলেটিভের সঙ্গে আপনার যোগাযোগ আছে।
— না, স্যার! তাহলে তো তার কাছ থেকেই আসল ঘটনাটা চাইলেই জেনে নিতে পারতাম। কলকাতা থেকে বারবার আপনার কাছে ছুটে আসতে হতো না! আমার তো কেসটার সঠিক ঘটনাটা জানা দরকার। আসলে কী হয়েছিল?
আরও পড়ুন:

দশমী

শারদীয়ার গল্প/২ : কনটেন্ট

— দুলালবাবু তাঁর স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ দিতে পারেননি। ওই মেয়েটিকে অ্যাসল্ট করবার সময় স্পটে যারা ছিল প্লাস একজন ভিডিওগ্রাফার ভিডিও পর্যন্ত করেছে?
— মানে ক্যামেরায় রেপ ধরা পড়েছে?
— আরে না না! ওই ঘটনার পরের ফুটেজ! লোকাল কেবলে চলেছে, সেখান থেকে নিউজ চ্যানেল সর্বত্র!
— কারা ছিল?
— অনেকদিন আগেকার ঘটনা তবু যতদূর মনে পড়ছে এরা বিয়ে বাড়ির ছবি-টবি তুলত।
— কিন্তু ঠিক তখনই ওরা ওখানে পৌঁছলো কি করে?
— রাস্তা দিয়ে ফিরছিল হয়তো মহিলার চেঁচামেচি শুনে দাঁড়িয়ে গিয়েছে!
— হ্যাঁ হতে পারে!
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১৩ : ত্রিপুরায় আহোম রাজদূতের গুপ্তচর নিয়োগ/১

— আচ্ছা ওদের নাম ঠিকানা কিছু?
— সে কেস ডায়েরিতে থাকবে। কেন বলুন তো?
— একটু তাঁদের সঙ্গেও কথা বলতাম!
— আপনার সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে আপনি যেন এই কেসটা রি-ওপেন করার প্ল্যান করছেন!
— আমি ওসব কী করে করবো? আর আমি কে স্যার?
— করেও-বা লাভ কি হবে? উনি তো খুনের আসামি! লাইফ ইমপ্রিজনমেন্ট তো থাকতেই হবে!
— সেটা ঠিক! প্রতিশোধ নিতে খুন করেছেন! খুনের দায়ে জেল খাটবেন! কিন্তু মিথ্যে ধর্ষণ করার অপরাধ মাথায় বয়ে বেড়াবেন কেন?—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content