কলকাতায় বৃষ্টি
কিন্তু খাবার অর্ডার আসার আগেই কথাটা শেষ করে ফেলতে হবে।
— মিস্টার ঘোষ আমি জানি আপনি আমার সম্বন্ধে অনেক খোঁজখবর নিয়েছেন।
বিতান এই লোকটির সম্বন্ধে আগে থেকেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল। কারণ এরকম লোক One piece brand-এর মতো এক্সক্লুসিভ! কিন্তু শুরুতেই বাউন্সার পাবে সেটা ভাবতে পারেনি।
— না না, হতে পারে আমার স্টার্ট-আপের কোনও ফাউন্ডার আপনাকে অ্যাপয়েন্ট করেছেন এবং আপনি বা আপনার লোকজন তাঁদের কাজ করেছেন।
বিতান বুদ্ধিমান ব্যবসায়ী। প্রথম ধাক্কায় আচমকা একটু নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিল দিয়ার কথাটা না বলে সেটাকেই অন্যভাবে বলবে। কিন্তু পরক্ষণেই একটা গুড লেন্থের আউটস্যুইং করে অফ স্টাম্পের বাইরে যাচ্ছে দেখে ব্যাট তুলে বলটাকে যেতে দিল। এই জন্যই বলে যারা কম কথা বলেন তারা ভাবার অনেক স্পেস পান। অতনু নিজেই যখন একটা সম্ভাবনার কথা বললেন, বিতান সেখানে হ্যাঁ বা না কিছুই না বলে ব্যাপারটা থিতিয়ে দিতে চাইল।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১৫৪: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৮: প্রতিপক্ষ অন্ধকার

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৭০ : ঘটজাতক/৫ : সে আসিছে আজ কাল-বৈশাখে

এখানে ব্যুফে আছে। আবার টেবিলে পছন্দ মতো অর্ডার করা যায়। কাজের দিনের সন্ধেবেলা। ভিড় নেই। রেস্টুরেন্টের সার্ভিসের লোকেরা এসে টেবিলে প্লেট সোজা করে মুছে দিয়ে গিয়েছে। ওয়েলকাম ড্রিঙ্কস এসে গিয়েছে। অতনু এখানে খেতে আসেনি বা বিতানকেও খাওয়াতে আসেনি। তাই সে চটপট মূলবিষয়ে চলে গেল।
— আপনি কী নতুন অ্যাসাইনমেণ্ট নিতে পারবেন?
— মানে?
— মানে আমি আপনাকে কয়েকজন লোককে খুঁজে বের করতে। একটু টাফ! এদের রেফারেন্স সব ১৯/২০ বছরের পুরোনো। তাদের। আই মিন স্পেসিফিক্যালি তাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। আর অবভিয়াসলি ডিটেল কনফিডেন্সিয়াল ডেটা আমার চাই। আমি কোনও ছবি দিতে পারবো না! আপনাকে এভিডেন্সিয়ালি প্রুভ করতে হবে, যাদের আপনি বা আপনার লোকেরা আইডেন্টীফাই করবেন তারা অথেন্টিক। আপনি আপনার এক্সপেক্টেড পেমেন্ট পাবেন। কিন্তু আমি ছাড়া কারও সঙ্গে এই নিয়ে কথা বলতে পারবেন না।
— কনফিডেন্সিয়ালিটি আমাদের অ্যাস্যুরেন্স স্যার!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৯: রাজসূয়যজ্ঞে চেদিপতি শিশুপাল ও কুরুপ্রধান ভীষ্মের কথোপকথনে সদর্থক ও নঞর্থক চিন্তার সংঘাত,মহাকাব্যে প্রতিফলিত জীবনবোধ

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

খাবার এসে গেল! নিজে খুবই অল্প খাবার তুলে নিয়ে বিতানকে পেট ভরে খাওয়ালো অতনু। খাওয়ার শেষে হাত তুলে নিজেই বিল চেয়ে নিল। বিতান একটু ভদ্রতা করতে চেয়েছিল। অতনু কোন সুযোগ দিল না। উল্টে জিজ্ঞাসা করল, আইসক্রিম মানে ইতালীয়দের জেলাতো অর্ডার করবে কিনা। বিতান মানা করেছিল।
জেলাতো ইতালিও ভাষায় আইসক্রিম হলেও আমাদের চেনা আইসক্রিম আর জেলাতোর তফাৎ অনেকগুলো। জেলাতোতে দুধের পরিমাণ বেশি ক্রিম কম আইসক্রিমের তুলনায় জেলাতো একটু কম ঠান্ডা আর বেশি স্মুদ। এতে ফ্লেভার বা আরোমা বেশি।
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

শ্রদ্ধাঞ্জলি : সঙ্গীতই আমার ফার্স্ট লাভ : শচীন দেববর্মণ

বিতানের কাছে নামের লিস্ট এসে গেলো। কারও কারও নাম আছে। কারো কারো নেই। চুঁচুড়া থানার ওসি বীরেশ দও আর সাব-ইন্সপেক্টর হাসান আলি। উকিল হরিদাস সাহা। ওয়েলেসলি জুট মিলের মালিক কানাইলাল মহেশ্বরী। কানাইলাল মহেশ্বরীর অফিসের ড্রাইভার। আর একজন ভিডিও ফটোগ্রাফার আর তার সাগরেদ। এদের নাম নেই। সেটা হয়তো জানবেন হাসান আলি। কিন্তু যদি জানাতে রাজি হন।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৮: চন্দ্রবোড়া

এই নামগুলো নাম জানানোর পর অতনু বিতানের চোখের দিকে তাকালো।
— আমার সম্বন্ধে খোঁজ নিতে গিয়ে আপনি জেনেছেন আমার বাবা দুলাল সেন জেলে সাজা খাটছেন। কেন কি অপরাধ সেগুলো কতটা কী জেনেছেন আমি জানি না। কিন্তু যাদের নাম বললাম বা বলতে পারলাম না তারা একটি মিথ্যে মামলার সঙ্গে জড়িত। যে মামলায় দুলাল সেন ও তাঁর পারিবারিক জীবন ছারখার হয়ে গিয়েছিল। একমাত্র সাব ইন্সপেক্টর হাসান আলি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন নিরাপরাধ দুলাল সেনকে বাঁচাবার। পারেননি। ওসি বীরেশ দত্তের নির্দেশে এমনভাবে মামলা সাজানো হয়েছিল যাতে দুলাল সেন কোনওভাবেই ছাড়া না পান। সেখানে ওই নাম না জানা ড্রাইভার আর একজন ভিডিয়ো ফটোগ্রাফার আর তার অ্যাসিস্ট্যান্ট এর একটা বড় ভূমিকা ছিল। আর যার ভূমিকা ছিল তিনি এখন আর পৃথিবীতে নেই। তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়ে দুলাল সেন খুনের দায় যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন। আপনি আমাকে সঠিক ইনফরমেশনগুলো দিলে আমি অবনী চৌধুরীর কাছে যাব।
— ব্যারিস্টার অবনী চৌধুরী?
— আপনি চেনেন?
— না মানে নাম শুনেছি এখন তো বোধহয় উনি আর কেস করেন না।
— হুঁ! কিন্তু আমার এই কেসটা উনি নেবেন।
— কেন?—চলবে।
*জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content