কলকাতায় বৃষ্টি
অতনুর সবচেয়ে বড় গুণ হল সে মানুষের নৈঃশব্দ্য পড়তে পারে। প্রথম থেকে বলা কথাগুলো ইন্টারেস্টিং অন্যরকম কিন্তু দুর্বোধ্য নয়! কিন্তু শেষাংশের কারণটা কী?
— হ্যাঁ, ওই শেষের জরুরি অংশটা!
— এক্সেলেন্ট! এই প্রশ্নটা আপনি না করলে আমাদের টেলিপ্যাথিটা এস্টাব্লিশড হতো না!
— না, আসলে কম্পিটিটিভ এক্সাম ক্র্যাক করে ফেললে সে তো টেক সলিউশনে চেষ্টা করবে না!
— পারফেক্ট! বলছি! তার আগে জানা দরকার, আমরা তো বিজ্ঞাপন করছি না তাহলে অ্যাপ্লিক্যান্ট পাবো কোথায়?
— না, বিজ্ঞাপন করলে তো মেলবক্স ওভার ফ্লো করে যাবে। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের এমপ্লয়মেন্ট সাইট থেকে আমরা বেছে নেবো! ক্যান্ডিডেট চাকরি খোঁজে, আমরা ক্যান্ডিডেট খুঁজে নেবো।
— সুপার্ব!
এবারে আপনার প্রশ্নের উত্তর! দেখুন, প্যাশনেট ছেলেপুলে আর এক্সাম ক্র্যাক করা ক্যান্ডিডেটের জাত আলাদা। যারা এক্সাম ক্র্যাক করে তাদের দুটো ভাগ। একদল তুখোড় মুখস্থ বিদ্যে, — এ টু জেড ছবি নামিয়ে দেবে! আর অন্যরা সাংঘাতিক মেধাবী! কোনওভাবে কোনও একটা এক্সাম মিস করে গিয়েছে বিদেশে পড়ার এক্সপোসার পায়নি। মুখস্থবাদীরা কাজ করতে পারেন না! কারণ ভাবতে শেখেনি! সাংঘাতিক মেধাবীরা অন্যের লাইনে ভাববে না। সেক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত (Conflict of interest) হতে পারে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, পর্ব-৮৬ : আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৪: বুনো তেঁতুল, বাঘা ওল

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৫: শিয়রচাঁদা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৫: কৃষ্ণবিরোধিতার প্রসঙ্গে ভীষ্মের বিরূপ সমালোচনা সত্ত্বেও কে স্মরণীয়? শিশুপাল? না ভীষ্ম?

তাই আমার এমন ছেলে চাই যে ঘণ্টার ঘণ্টার পর একটা জিনিস নিয়ে পড়ে থাকতে পারে, ভাবতে পারে। কিন্তু তাকে ফ্রিডম দিতে হবে। এই ফ্রিডমটা পায় না বলেই যথেষ্ট বুদ্ধিমান হওয়া সত্ত্বেও এরা কম্পিটিটিভ এক্সাম ক্র্যাক করতে পারে না। সে অকারণে বিদ্যে জাহির করে না কিন্তু ইয়েস ম্যানও নয়। নিজের টার্মসে কাজ করতে ভালোবাসে।
আরও পড়ুন:

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬৮ : ঘটজাতক/৩ : দশে মিলে?

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

এদিন আবার সুবিমল দে বুঝলেন, অতনু সেন কেন তাঁর আশেপাশে চেনা-অল্পচেনা মানুষের মধ্যে আলাদা। অচেনা। আশ্চর্যের কথা, যারা টেক সলিউশন এসে তখন কাজ শুরু করলো আজও তাদের কেউ ছেড়ে যায়নি। যে পনেরোজনকে সুবিমল বেছে দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে মাত্র ন’জনকে অতনু চূড়ান্ত করলো। তিনজনকে আলাদা করে অতনু অদ্ভুত কথা বলেছিল। কোন চাকরিতে এভাবে কেউ কাউকে কোনওদিন বলেননি। ফুটবল বা ক্রিকেটে রিজার্ভ বেঞ্চ থাকে যখন টেক সলিউশন শুরু করেছিল তখন আইটি সেক্টরের আজকের বেঞ্চ কনসেপ্ট ছিল না!
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

অতনু শেষ তিনজনকে বাদ রাখলেও বারোজনের শেষ তিনজনকে ডেকে একদিন লাঞ্চ আনিয়ে খাওয়ালো। তারা হতভম্ব! চাকরির বাজারে এমনটা কেউ কখনও জানে না বা শোনেনি!
একসঙ্গে খেতে খেতে অতনু তাদের বলেছিল,
— আমার যতজনকে লাগবে আমি তাদের নিয়েছি! আমাদের নতুন স্টার্ট-আপ। একটা নির্দিষ্ট আর্থিক সম্বল নিয়ে আমরা শুরু করেছি। আরও যাদের আমার ভালো লেগেছে তাদের চাকরিতে নেওয়ার ক্ষমতা নেই। আমি সকলের নাম-ঠিকানা রেখেছি। আগামী মাসে আমাদের ব্যবসা কোথায় পৌঁছবে আমি জানি না, জানি না আগামী ছ’মাসে বা এক বছরে কতটা এগোবো বা আরও পিছিয়ে যাব কিনা। আগামীদিনে যদি আমি নতুন কাউকে নেবার কথা ভাবি আমি এই তিনজনের থেকে নেবো।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

বারবার নতুন করে ক্যান্ডিডেট খুঁজে বের করাটা সময়সাপেক্ষ কাজ! কিন্তু এর মধ্যে যদি কেউ ভালো সুযোগ পেয়ে যায় সে তো নিশ্চয়ই নেবে। পরের দু’বছরে ওই তিনজনের থেকেই একজন একজন করে ডেকে পাঠিয়েছিল অতনু সেন! এই যে বেঞ্চ বা প্যানেলে রেখে কাজের ভাবনা সুবিমলের খুব আশ্চর্য লেগেছিল। অবাক হয়েছিল এই ছেলেগুলিও। দু’জন এর মধ্যে ছোটখাট আইটি কোম্পানিতে নামমাত্র মাইনেতে ঢুকে পড়ছিল। তারা এগারো আর বারো নম্বর ক্যান্ডিডেট। দশ নম্বর তখনও অপেক্ষা করছে। দশ নম্বর বিশ্বাস করতে পারেনি তাদের থেকে অল্প কিছুটা বড় এই যুবক অতনু সেন তাঁর কথা রাখবেন।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content