
সেই থেকে আজ বেশ কয়েকটা বছর একসঙ্গে। স্টার্ট-আপে জব পোর্টফলিও ওভারল্যাপ হয়। কাজ নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থাকে না। সুবিমল এইচআর এবং ফাইনান্স দুটোই দেখতেন! মাঝে মাঝে যখন নিজের ওপর সন্দেহ হতো, সুবিমলবাবু বলেই ফেলতেন!
— আচ্ছা একটা কথা মিঃ সেন! কাজ করে তো যাচ্ছি কিন্তু ভুলভ্রান্তি হচ্ছে না তো? আমার জন্য পরে নিয়ম কানুনের কোনও বড় বিপদ-আপদে পড়ে গেলে।
— একদম চিন্তা করবেন না। এখন প্রফেশনাল হায়ার করে রেখে দেওয়ার কোনও মানেই নেই। ছ’মাসে একবার প্রফেশনাল কনসালটেন্সিকে দিয়ে কাগজপত্র দেখিয়ে নেব। যেখানে যা কারেকশন করতে বলবে সেরকম করে নেব। ছ’মাস করে সব গোছানো থাকবে। চিন্তা করবেন না মিঃ দে, এইচআর এবং ফাইনান্স তরতর করে চলবে!
— আচ্ছা একটা কথা মিঃ সেন! কাজ করে তো যাচ্ছি কিন্তু ভুলভ্রান্তি হচ্ছে না তো? আমার জন্য পরে নিয়ম কানুনের কোনও বড় বিপদ-আপদে পড়ে গেলে।
— একদম চিন্তা করবেন না। এখন প্রফেশনাল হায়ার করে রেখে দেওয়ার কোনও মানেই নেই। ছ’মাসে একবার প্রফেশনাল কনসালটেন্সিকে দিয়ে কাগজপত্র দেখিয়ে নেব। যেখানে যা কারেকশন করতে বলবে সেরকম করে নেব। ছ’মাস করে সব গোছানো থাকবে। চিন্তা করবেন না মিঃ দে, এইচআর এবং ফাইনান্স তরতর করে চলবে!
অতনু সেন সুবিমলবাবুকে মিঃ দে ছাড়া কখনও বলেননি। এই অফিসটা ছিল একটা টুবিএইচকে ফ্ল্যাট। সুবিমলেরই জানাশোনা ক্লায়েন্ট। রেসিডেন্সিয়াল পারপাসে তৈরি করা বাড়ি। এখানে যা দামে পার স্কয়ার ফিট বিক্রি হচ্ছিল সেখানে থাকবার জন্য এই ধরনের বাড়ি কেউ কিনবেন না, যদি না গেস্ট হাউস করতে চান। আর অফিসের কথা ভেবে বাড়িটা করা হয়নি। তাই অফিস নেওয়ার লোকজনও এটাকে নিচ্ছিলেন না। তারপরে বাড়ির অ্যাপ্রোচটাতেও সমস্যা ছিল। তাই অনেকটা কম ভাড়ায় পাওয়া গেল জায়গাটা। রেসিডেন্সিয়াল থেকে কমার্সিয়ালের ঘোরপ্যাঁচ কিছু টাকার বিনিময়ে বিল্ডার-প্রোমোটার সামলে দিলেন।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস, পর্ব-৮৫ : আকাশ এখনও মেঘলা

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : হৃদয়হরণ

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৪: সোনার হরিণ কোথায় নেই? আছে সর্বত্র
দুটো ঘরের একটাতে তো সিওকে বসতেই হবে। আর একটা ঘর সার্ভার রুম। প্রথম খালি টেবিলস্পেস ছিল, পরে সেগুলো কিউবিক্যল হয়েছে। মেইন রোড দিয়ে ঢোকার পরেই একটা রিসেপশনের মতো জায়গা, সেখানেই ফাইল ক্যাবিনেট পিছনে ডিজাইন করে চেয়ার দিয়ে সুবিমল দে’র বসার ব্যবস্থা হয়েছিল। অতনু সসঙ্কোচে বলেছিল,
— সরি মিঃ দে! আমাদের স্পেসটা তো খুব ছোট, তাই বসার এর থেকে ভালো ব্যবস্থা তো করা যাচ্ছে না!
— না না ঠিকই তো আছে, আর আমি এই ঘেরা জায়গায় না বসে ওই টেবিল স্পেসেও…
— সরি মিঃ দে! আমাদের স্পেসটা তো খুব ছোট, তাই বসার এর থেকে ভালো ব্যবস্থা তো করা যাচ্ছে না!
— না না ঠিকই তো আছে, আর আমি এই ঘেরা জায়গায় না বসে ওই টেবিল স্পেসেও…
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮৩: জোড়া আন্তোনিওর রহস্য

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!
— এখানে অসুবিধে হবে?
— না এটা তো রিশেপসন। আজ না হলেও কাল যখন ব্যবসা বাড়বে, ভিজিটর্স বাড়বে তখন একজন লেডি রিসেপটনিস্টর স্পেস করতে হবে!
— এই অর্গানাইজেশনে কোনওদিনই কোনও রিশেপসনিস্ট থাকবেন না! ইনফ্যাক্ট আজ আ পলিসি আমরা কোনও লেডিকে রিক্রুট করবো না, নট ইন এনি পজিশন!
কথাটার মধ্যে এতটাই কনভিকশন ছিল সুবিমলের দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করতে হয়নি কেন? মহিলারা এই স্টার্ট-আপে কাজ পাবেন না! No means no.!
— না এটা তো রিশেপসন। আজ না হলেও কাল যখন ব্যবসা বাড়বে, ভিজিটর্স বাড়বে তখন একজন লেডি রিসেপটনিস্টর স্পেস করতে হবে!
— এই অর্গানাইজেশনে কোনওদিনই কোনও রিশেপসনিস্ট থাকবেন না! ইনফ্যাক্ট আজ আ পলিসি আমরা কোনও লেডিকে রিক্রুট করবো না, নট ইন এনি পজিশন!
কথাটার মধ্যে এতটাই কনভিকশন ছিল সুবিমলের দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করতে হয়নি কেন? মহিলারা এই স্টার্ট-আপে কাজ পাবেন না! No means no.!
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৪: গোখরো
প্রাথমিক বাছাইটা সুবিমল করতেন। অতনুর বিশেষভাবে বলা ছিল
— খুব সাংঘাতিক ভালো রেজাল্ট হলে তিনি স্টার্ট-আপে কন্টিনিউ করবে না! আমরা এমন এমপ্লয়ি চাই যে টেক সলিউশনের সঙ্গে কন্টিনিউ করবে। হ্যাঁ, তাকে এই মুহূর্তে না পারলেও ভবিষ্যতে ভালো প্যাকেজ দেবার চেষ্টা করব। যাতে তাদের পারিবারিক সমস্যা না হয়। এমন সব ছেলেপুলে দরকার যাদের এনার্জি লেভেলটা খুব বেশি, যাতে আমরা একসঙ্গে গ্রো করতে পারি।
— খুব সাংঘাতিক ভালো রেজাল্ট হলে তিনি স্টার্ট-আপে কন্টিনিউ করবে না! আমরা এমন এমপ্লয়ি চাই যে টেক সলিউশনের সঙ্গে কন্টিনিউ করবে। হ্যাঁ, তাকে এই মুহূর্তে না পারলেও ভবিষ্যতে ভালো প্যাকেজ দেবার চেষ্টা করব। যাতে তাদের পারিবারিক সমস্যা না হয়। এমন সব ছেলেপুলে দরকার যাদের এনার্জি লেভেলটা খুব বেশি, যাতে আমরা একসঙ্গে গ্রো করতে পারি।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?
যখন ইন্টারভিউতে ডাকবেন একদিনে অনেককে ডাকবেন না। ম্যাক্সিমাম দু-তিনজন। যাতে যারা ইন্টারভিউ দিতে এসেছে তাদের মধ্যে কোনও রকম হতাশা না তৈরি হয়। পড়া একদম ধরবেন না। একেবারে নরমালি গল্প-গুজব করে ছেলেটার কো-অর্ডিনেটটা জানার চেষ্টা করতে হবে। সে কী চায়? কেন কলকাতায় কাজের চেষ্টা করছে। বেঙ্গালুরু, পুনে, হায়দরাবাদ নয় কেন? বাড়িতে কে কে আছেন? তার নিড বুঝতে হবে! বাই নেক্সট মান্থ আমাকে ১৫ জন বেছে দিন। হ্যাঁ, ফ্রেশারস বা কিছুদিন কাজ করেছে, কোনও সমস্যা নেই। ও হ্যাঁ, জরুরি কথা বলতে ভুলে গিয়েছি। এর মধ্যে ক’জন আইআইটি, এআইট্রিপল ই ট্রাই করেছিল সেটা জানা জরুরি! গুগল, ইনফোসিস-এ বা অর্গানাইজড কর্পোরেট সেক্টরে কতবার অ্যাপিয়ার করেছে সেই ডেটাগুলো খুব জরুরি! কিছু বলবেন?—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















