কলকাতায় বৃষ্টি
এরকম ঝকঝকে কমবয়েসি একটা ছেলে। আলাপ পরিচয় কিছু নেই। দুম করে এমন একটা কথা বলবে এটা বয়স্ক মানুষটি ভাবতেই পারেননি সুবিমলবাবু।
— আমি যে নতুন স্টার্টআপ খুলতে চাইছি সেখানে আপনার মতো একজন অভিজ্ঞ মানুষকে খুব দরকার। আপনাকে আমি চিনি না, কিন্তু আমি যাকে অন্ধ হয়েও ভরসা করতে পারি সেই ফাদার স্যামুয়েল বিশ্বাস আপনাকে চেনেন। সেই সূত্রে আমি আপনাকে ভরসা করতে পারি।
প্রথম দিনেই অতনু সেনকে দেখে মনে হয়েছিল এমন মানুষ বইয়ের সূচিপত্রে থাকেন না। বইয়ের মধ্যে আচমকা ভাঁজ হয়ে থাকা পাতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছাপা না হওয়ার মতো একটা আচমকা অঘটন!
— আমি রাজি! আমি আমার স্যালারি স্লিপ আপনাকে দিয়ে দেবো! মাইনে বাড়ার দরকার নেই, না কমলেই হল।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৮৪ : আকাশ এখনও মেঘলা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৪: গোখরো

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮২: ডাবল ধামাকা

আমি আপনার সঙ্গে কাজ করতে চাই মিঃ সেন!
— কেন?
— মানে?
— মানে কেন আমার সঙ্গে কাজ করবেন? আমি একজন অভিজ্ঞ নির্ভরযোগ্য মানুষ খুঁজছিলাম। ফাদার স্যামুয়েল আমাকে আপনার কথা বললেন! আপনাকে দেখে আপনার সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে লেটস ওয়ার্ক টুগেদার! কিন্তু আপনি আমার সম্বন্ধে প্রায় কিছুই জানেন না। আমার কোম্পানিটা কি নিয়ে সেটাও আপনাকে আমি বলিনি। শুধু জিজ্ঞেস করেছি আপনি এখন কত মাইনে পান? আপনি তাতে একটা শর্ত দিয়েছেন এখনকার মাইনেটা না কমলেই হল। এটা হতে পারে যে আপনি এখন যে কাজটা করছেন সেটাতে খুশি নন, তাই চেঞ্জ করতে চাইছেন। কিন্তু দেখে আমার একবারও মনে হয়নি যে আপনি এখনকার কাজটা এনজয় করেন না। তবু একটা অজানা কাজের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়বেন কেন? এখন আমি বললাম আমি আপনাকে মাইনে দেবো। পরে গিয়ে দিতে পারলাম না। আপনি রাজি হচ্ছেন কী করে?
আরও পড়ুন:

সংস্কৃত দিবস

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!

— মিঃ সেন, আমি একেবারে কিছু জানি না সেটা ঠিক নয়। জানি আপনি উচ্চশিক্ষিত। বিদেশ থেকে পড়াশোনা করেছেন। সেখানে মোটা ডলারের চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে এসেছেন। কোনও একটা আইটি ফার্ম করতে চান। ব্যাস এইটুকু! এবার কেন আমি রাজি হচ্ছি? এক, চাকরিজীবন যখন শুরু করেছিলাম তখন অনেক দায় ছিল। দু’ বোনের বিয়ে দেওয়ার ছিল! কলকাতায় ভাড়াবাড়িতে থাকতাম। দেশের বাড়িতে মা-বাবা-বোনেদের দায় নিতে হত। ঝুঁকি নিতে পারিনি। সরকারি কলমপেশার চাকরি করতুম। বিয়ে হল। মেয়ে হল। খরচ বেড়ে গেল। বেশি রোজগারের জন্য ডালহাউসি থেকে ফেরার পথে বড়বাজারের গদিতে অ্যাকাউন্টবাবুর কাজ করতুম!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৩: চেদিরাজ শিশুপালের কৃষ্ণবিদ্বেষ কি কৃষ্ণেরই কোন পরিকল্পিত ইচ্ছার প্রকাশ?

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৭ : সূর্যশিখা

অতনুবাবু, আমি স্কুলে কমার্স পড়েছি। বুক কিপিং অ্যাকাউন্টেন্সি ইকনমিক্স ছিল। অপশনাল ছিল ম্যাথমেটিক্স। বি.কম করবার পর পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দিয়ে লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক হয়ে গেলাম। পরীক্ষা দিয়ে অনেক পরে আপার ডিভিশন হয়েছিলাম। কিন্তু খাতালেখার কাজে ন্যূনতম কস্ট অ্যাকাউন্টেন্টের ডিগ্রি থাকলে পয়সাটা ভালো পাওয়া যেত। জয় মা বলে ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছিলাম, পড়াশোনা করেছিলাম, কিন্তু হয়ে ওঠেনি। এই করেই বোনেদের বিয়ে দিয়েছি. বাবা-মার দেখাশোনা করেছি। তারা চলে গিয়েছেন।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?

মিঃ সেন, আমি গ্রামের বাড়ি বিক্রি করে যা টাকা পেয়েছি তাই দিয়ে কলকাতা শহরে একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তারপর নিয়ম মেনে রিটায়ারমেন্ট হয়ে গেল। কিন্তু হাতে তো কিছু একটা চাই। তখন তো অত মাইনেকড়িও ছিল না। যৎসামান্য পেনশন। বড়বাজারের এক গদির সূত্রে এই ফার্মের যোগাযোগটা হল। ওঁরা লোক খুঁজছিলেন ব্যাস ওখানে কাজ করতে শুরু করলাম। ঝুঁকি কোনওদিন নিতে পারিনি। আজকে আমি আর আমার স্ত্রী। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বোনেরা সংসার করছে। অনেকটা ঝাড়া হাত-পা। তাই এবার একটু ঝুঁকি নিতে চাই। আর একটা কথা। আপনার মতো যুবক আমি ছোটবেলা থেকে বড় হওয়ার মধ্যে দেখিনি কাউকে। তাই ঝুঁকিটা আপনার সঙ্গে নিতে চাই। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content