
এ সব ফালতু ব্যাপারে বিরক্ত করায় মহর্ষি কপিল রাগে অগ্নিশর্মা! চোখের আগুনজ্বলা ভয়ঙ্কর দৃষ্টিতে ভস্ম হয়ে গেল সগরের ষাটহাজার সন্তান। কিন্তু পারলৌকিক ক্রিয়া না হওয়ায় তারা প্রেত হয়ে রইল। পরে রাজা সগরের বংশধর দিলীপের পুত্র ভগীরথ তাঁর পূর্বপুরুষদের প্রেতাত্মার শান্তি কামনায় গঙ্গাকে মর্ত্যে নিয়ে আসার জন্য ব্রহ্মার উপাসনা করলেন। সন্তুষ্ট ব্রহ্মা গঙ্গার মর্ত্য আগমনের বিল পাশ করে দিলেন। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ গঙ্গা মর্ত্যলোক ভাসিয়ে দিলেন। মানবকল্যাণে মহাদেব উন্মত্ত গঙ্গাকে তার জটাজালের ব্যারেজ-বন্দি করলেন। ভগীরথ পথ দেখিয়ে গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্ত্য হয়ে পাতালের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে কপিল মুনির আশ্রমে প্রেত হয়ে আছে তার পূর্বপুরুষ। স্বর্গ মর্ত্য পাতাল, এই তিন লোকে প্রবাহিত গঙ্গা তাই ত্রিপথগামিনী। এর মাঝে তিনি জহ্নু মুনির আশ্রম ভাসিয়েছেন। ক্রোধান্ধ জহ্নু মুনি গঙ্গার সমস্ত জল পান করে ফেললেন। দেবতাদের আবেদন নিবেদনে আবার নিজের জানু চিরে গঙ্গাকে মুক্ত করলেন। গঙ্গা হলেন জাহ্নবী।
গঙ্গার সঙ্গে শান্তনুর বিয়ে হল। গঙ্গার ছিল কন্ডিশন অ্যাপ্লাইড। শান্তনু তাকে কোন প্রশ্ন করতে পারবেন না। প্রশ্ন করলেই তিনি চলে যাবেন। শান্তনু ও গঙ্গার সাত সন্তান হল। গঙ্গা তাদের জলে বিসর্জন দিয়ে দিলেন। আসলে তখন স্বর্গের ডিসিপ্লিন ছিল খুব কড়া। ফাইন সাসপেনশন লেগেই থাকতো। গঙ্গার এই সন্তানেরা ছিল শাপভ্রষ্ট অষ্টবসুর- আটজনের মধ্যে সাতজন। গঙ্গা তাদের মুক্তি দিচ্ছিলেন। শান্তনু শর্ত ভুলে প্রশ্ন করলেন , হোয়াই? ব্যাস অষ্টম সন্তান দেবব্রতকে রেখে গঙ্গা চলে গেলেন। দেবব্রত যখন বড় হয়েছে শান্তনু তখন ফস করে ধীবরকন্যা সত্যবতীর প্রেমে পড়লেন। এদিকে সত্যবতীর বাবা বললেন সত্যবতীর সন্তানকেই ভবিষ্যতের রাজা করতে হবে। শান্তনু পড়লেন ফাঁপরে। বাবার জন্য দেবব্রত প্রতিজ্ঞা করলেন রাজত্ব চাই না। তিনি আর বিয়েও করবেন না। কলেজ মোড় থেকে উইপ্রো টাওয়ারের দিকে পেছিয়ে এসে এই অফিসটা। অ্যাথেনা ইনফোটেক। এখানেই আমাদের দিয়া কর্মরতা।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা/ দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৫৪: আকাশ এখনও মেঘলা

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৪ : যেখানে স্বর্ণমুদ্রার ঝনঝনানি, সেখানে সন্তানের চিতার আগুনও ম্লান

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বাঘরোল

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২১ : পরশপাথর— ক্ষ্যাপা খুঁজে ফেরে…
ইনফোসিসে চার বছর, তারপর উইপ্রোতে আরও চার বছর কাটানোর পর এই স্টার্ট আপ চালু করেন রবীন চ্যাটার্জি। ওভারসিস ক্লায়েন্ট সামলানোর অভিজ্ঞতা আছে। টেকনিক্যাল হেড ছিলেন।প্রজেক্ট ম্যানেজারের কাজ করেছেন। নিশ্চিত চাকরি সচ্ছল রোজগার ছেড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে লাফ দেওয়ার জন্য সাহস, আত্মবিশ্বাস লাগে। সেটা একটু সহজ হয়েছে তার স্ত্রী মালবিকার জন্য। মালবিকা উইপ্রো’র চাকরি ছাড়েননি।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৯: পরবাস প্রস্তুতি (শেষ)

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র
অতনু সেন হয়ত জানতেন রবীন চ্যাটার্জি এইচ আর-এর জন্য লোক খুঁজছেন ! রবীন স্যার কাগজটা দেখে একটাই কথা বলেছিলেন
—দিয়া ইউ আর লাকি এনাফ!
—কেন স্যার?
—অতনু সেন কখনও কাউকে কোথাও রেকমেন্ড করেন না।
—দিয়া ইউ আর লাকি এনাফ!
—কেন স্যার?
—অতনু সেন কখনও কাউকে কোথাও রেকমেন্ড করেন না।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫২: শিকার এবং শিকারী

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৬: পঞ্চবটীর যাত্রাপথে প্রাপ্তি, পিতৃবন্ধু জটায়ু ও বনবাসজীবনে লক্ষ্মণের ভূমিকা
প্রথমে খুব রাগ হয়েছিল। পরে অতনু সেনের প্রতি একটা কৃতজ্ঞতা বোধ তৈরি হয়েছিল দিয়ার। তার রেকমেন্ডেশনেই দিয়ার এথেনা ইনফোটেক-এ চাকরি পেতে খুব একটা অসুবিধে হয়নি। সেটা বুঝতে পারার মতো সপ্রতিভ ও বুদ্ধিমতী সে। দমদম নাগের বাজারে থাকে। বাবার অকালমৃত্যু। মায়ের লড়াই দিয়াকে কাঠিন্য দিয়েছে। নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদ দিয়েছে।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮১ : খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
বাবা বড়বাজারের ছোট্ট প্রাইভেট কোম্পানির বড়বাবু। হঠাৎ মারণ রোগ। লাংসে। সিগারেট খেত ভীষণ। বারণ শুনত না মানুষটা। গোটারাত কাশি। তখন দিয়া ক্লাস নাইন। এইটের ফ্রক ছেড়ে শাড়ীপরা সদ্যযুবতী। সব স্বপ্ন আচমকা হড়কে যাওয়া কাচের বাটির মতো ভেঙে খান খান হয়ে গেল। রোগ ধরাপড়ার দু-মাসের মধ্যেই সবশেষ। বাবা চন্দন লাগানো ছবি হয়ে গেলেন। মা-বাবার ছবি থেকে কেটে আলাদা করে বানানো। ছোট ছবি। বড়ো করায় চোখটা আবছা। পেন দিয়ে চোখের কাছটা আঁকা। গোছানো জামাপ্যান্ট পাজামা পাঞ্জাবী। আলমারি থেকে বের করে গরীব মানুষকে দেওয়া হল। চশমা আর ঘড়িটা আছে। কাচের আলমারিতে সমাহিত। মার্বেলের তাজমহলের পিছনে। পাড়ার গ্যাস এজেন্সির মালিক বিশু পাল। বাবার বন্ধু। সহৃদয় ভদ্রলোক। তাঁর বদান্যতায় এজেন্সিতে মায়ের চাকরী । অফিস ক্লার্ক। সামান্য মাইনে। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















