মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬


“আমার কিন্তু এবার ভয় করছে?” তৃধা বলল।
“কেন?”
“কেন মানে? তোমাকে তো বললাম, ও হঠাৎ আগেই ফিরে আসছে। এখানে এসে পড়ে যদি তোমাকে আমার সঙ্গে দেখে, কী হবে বুঝতে পারছো?”
“ধুস! চাপ নিচ্ছ কেন এত? কী আর করবে ও? বড়জোর তোমাকে ডিভোর্স দেবে। তা দেবে। সেটাই তো ভালো। তুমি জব করো না, ফলে খোরপোষ চাইবে। মাসে-মাসে তোমাকে সুড়সুড় করে টাকা দেবে, আর তুমি স্বাধীন-মুক্ত পাখির মতো আজ এ-আকাশে, কাল ও-আকশে উড়ে বেড়াতে পারবে,” বলে অরণ্য চোখ টিপে ইঙ্গিতপূর্ণ হাসি হাসল।

তৃধার মুখ আরক্তিম হয়ে উঠল রাগে। একেই সে দুর্ভাবনায় অস্থির হচ্ছে ফোনটা আসার পর থেকেই, তার উপর এইরকম অসময়ে এই ধরণের নোংরা জোকস। সে রাগত ভঙ্গিতে বলল, “তুমি আমাকে কী মনে কর অরণ্য? অ্যাম আই আ হোর? বেশ্যা? আর তুমি আমায় তোমার রাখেল করে নিয়ে এসেছো এখানে। ফিরে গিয়েই আমি আবার অন্য কারও রাখেল হয়ে অন্য কোথাও ফূর্তি করতে যাবো?”

অরণ্য একটু থতমত খেলো। সে নিছকই ইয়ার্কি করেছিল। তার নিজের মনেও তৃধার স্বামীর ফিরে আসার খবর শোনার পর থেকেই কেমন হচ্ছে। এখানে উইক-এন্ড ট্রিপে এসে এ-ভাবে যে ফেঁসে যাবে, তা আগে জানলে কোন শালা এখানে আসতো? মনে-মনে উন্মেষা, অঞ্জন, এমনকি মৃত অনিলকে অবধি খিস্তি মারল সে। যেন তারা এখানে এনেছে বলেই সে আর তৃধা এভাবে বিপদে পড়েছে।
তৃধা আপনমনেই বলল, “আমি আমার জীবনে এত সংকটে কখনও পড়িনি অরণ্য। এতগুলি আনন্যাচারাল ডেথ, মিস্টিরিয়াস কালাদেওর আক্রমণ, এক-ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আর এক ঘটনা ঘটে যাওয়া, আমি এবার বোধহয় পাগল হয়ে যাব অরণ্য!”
অরণ্য বুঝতে পারছিল তৃধার মানসিক অবস্থা। সে নিজেও কি ঠিক আছে? কখনও কখনও মনে হচ্ছে, কালাদেও যদি এবারে তাকেই বলি হিসেবে নেয়, তাহলে বুঝি এই দিনরাত্তিরের মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায়। কেন জানি না তার ক’দিন ধরে মনে হচ্ছে, তারা সবাই এক অদৃশ্য মৃত্যুর সুতোয় বাঁধা। আচমকা মরতে তাদের হবেই, কেবল কখন, কেন, কীভাবে—তা কেউ জানে না। আগাথা ক্রিস্টির সুটি উপন্যাসের কথা মনে পড়ল তার—একটি ‘মাউসট্র্যাপ’, অন্যটি ‘অ্যান্ড দেন দেয়ার ওয়াজ নান’। দু’টি উপন্যাসের মধ্যে একটি বিশেষ মিল আছে। দুটিতেই আততায়ী কৌশলে তার শিকারদের এক জায়গায় টেনে আনে, তারপর একের-পর-এক খুন করতে থাকে। কিন্তু সেখানে তো বলতে গেলে ইনভাইট করে ডেকে আনা হয়েছিল শিকারদের। এখানে তো তারা নিজেদের ইচ্ছায় এসেছিল। আড্ডায় হঠাৎ করে ঠিক হওয়া এবং হঠাৎ করে এসে পড়া।

আততায়ী জানবেই বা কী করে যে তাদের এখানে এই-অবস্থায় সে পেয়ে যাবে? আচ্ছা, এমন যদি হয় যে, আততায়ী আগে জানত না যে, এমন একটা সুযোগ সে পেয়ে যাবে। হঠাৎ করে সুযোগ উপস্থিত দেখে কেবল তার সদ্ব্যবহার করতে উঠেপড়ে লেগেছে? কিন্তু কেন? এমন তো নয় যে, তারা সকলে কোন অতীত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং আততায়ীর স্বার্থ তাতে ক্ষুণ্ণ হয়েছিল, ফলে এতদিন পরে সুযোগ পেয়ে সে তাদের হত্যা করতে বদ্ধপরিকর। এমন কোন ঘটনা ঘটে থাকলে তা ভুলে যাবে, এমন বান্দা অরণ্য নয়। বাকিরাও বেশিরভাগ তার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু। তারা কেউ যে-কোনও এমন অপরাধ করেছিল, যার জন্য খুন করতে পারে তাদের কেউ, এমনটা নয়। তাহলে? আততায়ী কি হঠাৎ করে উন্মাদ হয়ে উঠেছে? না-কি এটা প্রি-প্ল্যানড? মনে-মনে এসব ভেবে অরণ্য যেন বিভ্রান্ত-দিশেহারা বোধ করল। কী করবে তারা এখন? কতদিন এভাবে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবে এখানে? এমনিতেই তার ক্লায়েন্টরা বারবার মেসেজ করে যাচ্ছে। কাউকে কিছু উত্তর দিতে পারছে না। কবে কলকাতা ফিরতে পারবে নিজেরাই জানে না, তাঁদের কী বলবে?
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৫: গেমপ্ল্যান

বিখ্যাতদের বিবাহ-বিচিত্রা, পর্ব-১৭: একাকিত্বের অন্ধকূপ/২: অন্ধকারের উৎস হতে

সে আস্তে-আস্তে তৃধার পাশে এসে বসে। আলতো হাতে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে থাকে। তৃধা কিছু বলে না। বিরক্তিতে মাথা সরিয়েও নেয় না। এক দৃষ্টিতে সে সামনের দিকে তাকিয়ে যেন আকাশ-পাতাল ভাবছিল।
অরণ্য বলল, “তৃধা, আমাদের একটাই উপায় আছে। তোমার স্বামী ফিরে আসছে, এইসময় তোমাকে কলকাতাতে ফিরতে হবে জরুরি প্রয়োজনে, এ-কথা বলে তুমি থানায় একটা আবেদন করো। আমার মনে হয়, তোমার আবেদন তাঁরা না-মঞ্জুর করবেন না।”
তৃধা প্রথমটায় কিছু বলল না। কিন্তু বাধ্য ছাত্রীর মতো শুনলো পরামর্শটা। তারপর অরণ্যকে জিজ্ঞাসা করল, “আর তুমি?”
“আমি?” কেমন বিহ্বল দেখাল অরণ্যকে, “জানি না আমি কী করবো?”
“তুমিও তো জিমের অজুহাত দেখিয়ে কলকাতা যাওয়ার পারমিশন লেটার আদায় করতে পারো!”
“অজুহাত? হোয়াট ডু ইউ মিন বাই অজুহাত? ইজ দ্য জিম-ম্যাটার অ্যান এক্সিউজ?” রুক্ষভাবে প্রতিক্রিয়া দিল অরণ্য।
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-৯৮: মা সারদার জন্মতিথিতে তাঁর অপূর্ব অমানবীয় রূপ ফুটে উঠল

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৭: আলাস্কায় এমন অপরূপ দৃশ্যও দেখা যায়, যেখানে পাহাড়-সমুদ্র-হিমবাহ একসঙ্গে বিরাজমান

তৃধা বিড়ম্বনায় পড়ে গেল যেন। কথাটা এভাবে সে বলতে চায়নি। সে তাড়াতাড়ি বলল, “আমি কথাটা ও-ভাবে বলিনি অরণ্য। দেখো, জিম হোক বা অন্য কোনও বিজনেস হোক কিংবা চাকরিই হোক, সকলের সব কাজ যে হ্যাম্পারড্‌ হচ্ছে, তাতে তো কোনও সন্দেহ নেই। এখানে যে-যার অসুবিধার দিকটি বলবে, তাতে যদি থানা মনে করে আমাদের ছেড়ে দেওয়া সম্ভব তাহলে দেবে, না হলে নয়। তখন তো আমাদের আইনি পরামর্শ ছাড়া আর কোনও দিকই খোলা থাকবে না। সেটাই করতে হবে আমাদের। লোকাল কোনও ল-ইয়ার আছে কি-না একটু খোঁজ নিয়ে দেখো তো! কিন্তু প্লিজ ভুল বুঝে তুমি খামোকা আমার উপরে রাগ কর না!”
“তৃধা, আমিও যে কী-পরিমাণ টেনশনের মধ্যে আছি, তা তুমি বুঝতে পারবে না। আমার ক্লায়েন্টরা অনেকেই জিমে আসা বন্ধ করেছেন, কজ ইনস্ট্রাক্ট যদি অ্যাবসেন্ট থাকে দিনের-পর-দিন, তাঁরা কার ভরসায় ওয়ার্ক-আউট করবেন? এখন আমি ফিরে গেলেও তাঁদের মধ্যে কতজন কন্টিনিউ করবেন, তা আমার জানা নেই। হয়তো ইতিমধ্যেই কেউ-কেউ অন্য জিমে জয়েন করেছেন। বুঝতে পারছো, আমার বিজনেসের উপরে কতটা প্রভাব পড়বে? তুমি জানো, তোমার কাছে অজানা নেই যে, আমার অন্যরকম কিছু হিডন্‌ ক্লায়েন্ট আছেন। মেল-ফিমেল বোথ। তাঁদের কেউ-কেউ জিমে আসেন, যখন জিম-আওয়ার শেষ হয়ে যায়, তখন। সবসময় নয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে। ন্যুড ওয়ার্কআউট-সেক্স কাকে বলে জানো? ফুল ন্যুড হয়ে ওয়ার্কআউট করতে-করতে সেক্স করা। প্রচুর স্টামিনা আর এনার্জির দরকার হয় এতে। আজকাল এটাই ট্রেন্ড। এক-একটা সেশনে হিউজ মাল্লু পাওয়া যায়। ওইরকম অবস্থায় ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সেক্স করতে সকলে পারে না। আমি করি। হ্যাঁ, এ-নিয়ে তোমার কাছে আমার রাখঢাক গুড়গুড় নেই। আমি তোমার বিবাহিত বর নই যে, তোমাকে এসব করে ডিচ্‌ করছি। তুমি জানো, তোমাকে আমি খুশি রাখি, কারণ একসময় আমরা ভালো বন্ধু ছিলাম। আর আমি চাই না, আনপ্রোটেক্টেড সেক্সের আকর্ষণে তুমি কোনও সেক্স-র্যা কেটে জড়িয়ে পড়ো। তবে একেবারে ফ্রিতেও যে করি তাও তো নয়। তোমার বরের মারফৎ আনা দারুণ-দারুণ গিফট্‌গুলির লোভ তো আছে। আগের বার এমন একটা পারফিউম দিয়েছিল, যার গন্ধে ক্লায়েন্টরা পাগল হয়ে বার-বার ছুটে এসেছিলো কেবল সেই গন্ধে মেখে সেক্স করবে বলে।”
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৬: শান্তিনিকেতনে কবির প্রথম জন্মোৎসব

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৪: জীবনের নশ্বরতা ও আত্মানুসন্ধান বিষয়ে রামের উপলব্ধি যেন এক চিরন্তন সত্যের উন্মোচন

তৃধা মুখ ফিরিয়ে নিল। সে বিরক্ত না-কি টেনশন-ফ্রি বোঝা গেল না।
অরণ্য বলল, “কী হল? মুখ ফিরিয়ে নিলে যে? আমাকে খারাপ ভাবছ বুঝি? নোংরা জিগোলো ভাবছো? ভাবতে পারো। আমার কিছু যায় আসে না। আমার সম্পদ হচ্ছে আমার দেহ। তাকে ব্যবহার করে, রীতিমতো মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ইনকাম করি। কাউকে ঠকাই না। কাউকে জোর করে রেপ্‌ করি না। যারা আসে, তাদের মনোরঞ্জন করি এইটুকুই। দেখো তৃধা, আমি জানি, আমি খুব অ্যাম্বিশাস নই। কিন্তু আমি সাধু নই। টাকাকড়ি আমি ভালোবাসি। কারণ, ওটা না-হলে ল্যাভিসলি লাইফ কাটাতে পারব না। তবে কাউকে ঠকাতে চাই না বলেই আমি এখনও আনম্যারেড আছি। যদি তেমন কেউ কোনওদিন মেলে, তাহলে সব ছেড়ে দেবো। আই মিন, এমন কেউ, যার জন্য সব ছেড়ে দেওয়া যায়। যতদিন তা না পাচ্ছি…”
তৃধা এতক্ষণে কথা বলল। তার আগে ব্যঙ্গের হাসি হাসল, “এ-জন্মে আর হয়েছে তোমার বিয়ে! বয়সটা কমছে না বাড়ছে?”
“একটা ন্যুড শ্যুট করে ‘ওনলিফ্যানে’ দিলে দেখবে বয়সটা কততে দাঁড়িয়ে। যাক্, এখন এ-সব কথা আলোচনার সময় নয়। তোমার আর আমার বিপদ কাটবে কী করে সেটাই এখন একমাত্র প্রায়োরিটি। থানায় যেতে হবে আজকেই!”
“দরকার হবে না যাওয়ার…” তৃধা বলল।
“মানে?” অবাক গলায় প্রশ্ন করল অরণ্য।
“পর্বত মহম্মদের কাছে না গেলে, মহম্মদ পর্বতের কাছে আসেন। এখানে কে মহম্মদ আর কে পর্বত, তা জানা নেই। তবে এইটুকু জানি, আজ সকালে পুলিশ আবার আসবে। সঙ্গে নিশ্চয়ই লালবাজারের ওই হ্যান্ডসাম অফিসারটিও থাকবেন। উনি তো এসেছেন কালাদেওর ব্যাপারে ইনভেস্টগেট করতে। আর কাপাডিয়ার সঙ্গে যা ঘটেছে, তও তো কালাদেও-সংক্রান্ত কেস। অতএব তাঁকে আসতেই হবে। লোকাল থানার পুলিশ-অফিসারটি কেমন ল্যাং-বোটের মতো ওঁর পাশে—পাশগে ঘুরছিল দেখেছো? তাঁকেও আসতে হবে, না হলে মালাকার না থালাকার কী যেন নাম, ওই হোঁদলকুতকুত টাইপের ওসি—তিনি আসবেন। এখন ভেবে দেখ, থানা যদি নিজেরাই তোমার দুয়ারে এসে উপস্থিত হয়, তাহলে কষ্ট করে থানায় যাওয়ার দরকারটাই-বা-কী?”
আরও পড়ুন:

গীতা: সম্ভবামি যুগে যুগে, পর্ব-২২: সন্ন্যাস

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০০: নীল কটকটিয়া

তৃধার যুক্তিসঙ্গত কথা মানতে বাধ্য হল অরণ্য। ঠিকই বলেছে তৃধা। সেই পুলিশ-অফিসারেরা গতকালই তো এসেছিলেন, আর তখন বলে গিয়েছিলেন, দরকার হলে আজ সকালে আসবেন এবং যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আলাদাভাবে কথা বলবেন সকলের সঙ্গে। তা বলে যখন গিয়েছেন, তখন নিশ্চয়ই আসবেন। তৃধা কেন, সকলেই এ-কথা জানে, যারা গতকাল রাতে এখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু তৃধা সে-কথা মাথায় রেখেছে এবং হয়তো তার বলার আগেই ঠিক করে নিয়েছে, পুলিশের দ্বারস্থ হবে। বুদ্ধিমান মেয়ে। সে-ই কেবল বোকা থেকে গেল। মনে-মনে আফসোস হল তার।
“তৃধা, আমি ভাবছি এবার কলকাতায় আমার চেনা ল-ইয়ারের সঙ্গে কনসাল্ট করবো। দেখা যাক, তিনি কী বলেন। কিন্তু যাই বলুন, আমি নিজে তো জানি, এভাবে দিনের-পর-দিন একজন সিটিজেনের পার্সোনাল ফ্রিডমে হাত দেওয়ার ক্ষমতা কারুর নেই। আমাকে এবার মরিয়া হয়ে চেষ্টা করতেই হবে, যাতে কলকাতায় ফিরে যেতে পারি। নাহলে আমার বিজনেস, আমার রেপুটেশন, আমার ক্লায়েন্ট—সমস্তই হাতছাড়া হয়ে যাবে!”
“অরণ্য…!” আনমনে ডাকল তৃধা।
“উঁ…!” অরণ্য মুখ তুলে দেখল তৃধার দিকে।
“আচ্ছা, এমন হতে পারে না যে, যে আড়াল থেকে আমাদের পিঠে ছুরি বসাচ্ছে, নানাভাবে আমাদের ডিসতার্ব করছে, সে-ই চাইছে না যে, আমরা যেন এখান থেকে না যাই?”
“কেন? আমরা এখানে থাকলে সে নিশ্চিন্তে একের পর এক খুন করবে, আঘাত হানবে, এই জন্য?”
“না। কেবল এইজন্য নয়!”
“তাহলে ?”
“দেখ, সে যদি আমাদের পরিচিতর মধ্যে কেউ হয়, কিংবা আমাদের মধ্যেই কেউ, তাহলে সে নিশ্চয়ই জানবে এখান থেকে যেতে না পারলে যেমন তোমার বিজিনেসের ক্ষতি, তেমনই আমি ধরা পড়ে গেলে আমাদের দাম্পত্যের ক্ষতি। আর এই ক্ষতিটাই হোক, তা চাইছে সেই অদৃশ্য আততায়ী। আসলে সে চাইছে সকলকে অন-স্পট না মেরে দগ্ধে-দগ্ধে মারতে। তেমন হলে, সারাজীবন আমাদের জ্বলে-পুড়ে মরতে হবে। আততায়ী সেটাই তো চায়। স্যাডিস্টিক প্লেজার আর-কি!” তৃধার গলায় ভয় এবং সংশয়। সে নিজেও জানে না, যা বলছে, তার আদৌ কোনও ভিত্তি আছে কি-না। কিন্তু সে চাইছে, খুব করে চাইছে, এই বিপদ কেটে যাক। কেউ এসে তাদের এই বিপদ থেকে মুক্তি দিক। সে অরণ্যর দিকে তাকাল। অরণ্য কী-সব ভাবছিল। তার কথার কোনও জবাব দিল না। ঠিক এইসময় রুমের দরজায় কেউ নক্‌ করল। তারা দুজনেই সেই আওয়াজ শুনে ঘুরে তাকাল দরজার দিকে। —চলবে।
* ধারাবাহিক উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer atanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content