
ছবি: প্রতীকী।
অযোধ্যার সিংহাসনের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী দশরথপুত্র রামকে, রাজ্যে অধিষ্ঠিত করবার লক্ষ্যে ভরত এসেছেন অরণ্যে। রাম, ভরতের প্রস্তাব দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করলেন। যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির অবতারণা করলেন দুই ভাই। মৃত পিতার কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাম, সত্যপ্রতিজ্ঞারক্ষায় অটল। জীবনের অনিত্যতা, মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবিতা অনুভব করে, পিতার আজ্ঞানুবর্তী রাম ভরতের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর। ভরতেরও প্রচেষ্টার শেষ নেই। সেই মন্দাকিনীতীরে ধার্মিক ভরত, প্রজানুরঞ্জক ধর্মজ্ঞ রামকে অর্থপূর্ণ চিত্তাকর্ষক নানা কথা বলতে লাগলেন। এই পৃথিবীতে রামের সদৃশ কোন ব্যক্তি আছেন? দুঃখবোধ আপনাকে ব্যথিত করেনা। প্রেমানুভব আনন্দ দেয় না।কোন বিষয়ে সংশয় দেখা দিলে সম্মত হয়েও আপনি বৃদ্ধ ব্যক্তিদের মতামত বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন। ন ত্বাং প্রব্যথতয়েদ্দুঃখং প্রীতির্বা ন প্রহর্ষয়েৎ। সম্মতশ্চাপি বৃদ্ধানাং তাংশ্চ পৃচ্ছসি সংশয়ান্।।
ভরতের অনুভবে, যেমন মৃত ব্যক্তি তেমনই জীবিত—এমন তুল্যমূল্যবিচার যাঁর,সেই রাম অনুশোচনা করবেন কেন? মনুজপতি রামের তুল্য যাঁর পরমাত্মজ্ঞান আছে তিনি বিপন্ন অবস্থাতেও বিষণ্ণ হতে পারেন না। দেবোপমচরিত্র, মহান, সত্যপ্রতিজ্ঞ, সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী, বুদ্ধিমান হলেন রাঘব রাম। রামসম্বন্ধে ভরতের মূল্যায়ন হল—অসহনীয় দুঃখও, এমন গুণবান রামকে প্রভাবিত করতে পারে না। ন ত্বামেবং গুণৈর্যুক্তং প্রভবাভবকোবিদম্। অবিষহ্যতমং দুঃখং নাসাদয়িতুমর্হতি।।
গভীর দুঃখের সঙ্গে ভরত জানালেন, তিনি যখন প্রবাসী ছিলেন, তখন ভরতের কারণে, নীচমনা ভরতজননী যে পাপ করেছেন, রাম প্রসন্ন হয়ে সেই ক্ষতিকর কাজটি ক্ষমা করুন। ভরতের অকপট স্বীকারোক্তি—ধর্মের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে, ভরত দণ্ডযোগ্যা পাপিষ্ঠা মাতাকে কঠোর দণ্ড দান করে, হত্যা করেননি।শুভ ও অভিজাত কর্মকারী দশরথের ঔরসজাত সন্তান হয়ে, ধর্ম ও অধর্মবিষয়ে জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও কিভাবে ভরত এই ঘৃণিত কাজটি করতে পারেন? একাধারে গুরু, সক্রিয় ও বৃদ্ধ,পিতা, প্রয়াত হয়েছেন। ভরত, দেবতুল্য পিতার নিন্দা করছেন না। ভরতের কণ্ঠে কিন্তু, পিতার সমালোচনার সুর। এমন কোন ধর্মজ্ঞ আছেন? যিনি পত্নীর প্রিয় কাজ করতে ইচ্ছুক হয়ে, এই ধর্মার্থহীন পাপকাজটি করতে পারেন? মরণকালে বুদ্ধিনাশ—এই জনশ্রুতিকে রাজা কার্যে পরিণত করছেন। জ্যেষ্ঠর কাছে কনিষ্ঠের অনুরোধ—পিতা, সদুদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও ক্রোধ ও মোহবশত, অপরিণামদর্শিতাহেতু, যে ব্যতিক্রমী কাজটি করেছেন আপনি সেটি প্রত্যাহার করুন। সাধ্বর্থমভিসন্ধায় ক্রোধান্মোহাচ্চ সাহসাৎ।তাতস্য যদতিক্রান্তং প্রত্যাহরতু তদ্ভবান্।।
ভরতের অনুভবে, যেমন মৃত ব্যক্তি তেমনই জীবিত—এমন তুল্যমূল্যবিচার যাঁর,সেই রাম অনুশোচনা করবেন কেন? মনুজপতি রামের তুল্য যাঁর পরমাত্মজ্ঞান আছে তিনি বিপন্ন অবস্থাতেও বিষণ্ণ হতে পারেন না। দেবোপমচরিত্র, মহান, সত্যপ্রতিজ্ঞ, সর্বজ্ঞ, সর্বদর্শী, বুদ্ধিমান হলেন রাঘব রাম। রামসম্বন্ধে ভরতের মূল্যায়ন হল—অসহনীয় দুঃখও, এমন গুণবান রামকে প্রভাবিত করতে পারে না। ন ত্বামেবং গুণৈর্যুক্তং প্রভবাভবকোবিদম্। অবিষহ্যতমং দুঃখং নাসাদয়িতুমর্হতি।।
গভীর দুঃখের সঙ্গে ভরত জানালেন, তিনি যখন প্রবাসী ছিলেন, তখন ভরতের কারণে, নীচমনা ভরতজননী যে পাপ করেছেন, রাম প্রসন্ন হয়ে সেই ক্ষতিকর কাজটি ক্ষমা করুন। ভরতের অকপট স্বীকারোক্তি—ধর্মের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে, ভরত দণ্ডযোগ্যা পাপিষ্ঠা মাতাকে কঠোর দণ্ড দান করে, হত্যা করেননি।শুভ ও অভিজাত কর্মকারী দশরথের ঔরসজাত সন্তান হয়ে, ধর্ম ও অধর্মবিষয়ে জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও কিভাবে ভরত এই ঘৃণিত কাজটি করতে পারেন? একাধারে গুরু, সক্রিয় ও বৃদ্ধ,পিতা, প্রয়াত হয়েছেন। ভরত, দেবতুল্য পিতার নিন্দা করছেন না। ভরতের কণ্ঠে কিন্তু, পিতার সমালোচনার সুর। এমন কোন ধর্মজ্ঞ আছেন? যিনি পত্নীর প্রিয় কাজ করতে ইচ্ছুক হয়ে, এই ধর্মার্থহীন পাপকাজটি করতে পারেন? মরণকালে বুদ্ধিনাশ—এই জনশ্রুতিকে রাজা কার্যে পরিণত করছেন। জ্যেষ্ঠর কাছে কনিষ্ঠের অনুরোধ—পিতা, সদুদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও ক্রোধ ও মোহবশত, অপরিণামদর্শিতাহেতু, যে ব্যতিক্রমী কাজটি করেছেন আপনি সেটি প্রত্যাহার করুন। সাধ্বর্থমভিসন্ধায় ক্রোধান্মোহাচ্চ সাহসাৎ।তাতস্য যদতিক্রান্তং প্রত্যাহরতু তদ্ভবান্।।
ভরতের অভিমত—যে সন্তান পিতার ব্যতিক্রমী শুভ উদ্যোগ সঠিক মনে করেন সেই সন্তান সুসন্তান বলে পরিগণিত হযন, এর বিপরীত আচরণকারী কিন্তু তা নয় অর্থাৎ সুসন্তান নয়। রামের কাছে ভরতের আকুতি, আপনার পুত্র নাম সার্থক হোক। পৃথিবীতে, পিতা সুধীজননিন্দিত দুষ্কর্ম করেছেন, আপনি তেমন হবেন না। তদপত্যং ভবানস্তু মা ভবান্ দুষ্কৃতং পিতুঃ। অতি যৎ তৎ কৃতং কর্ম্ম লোকে ধীরবিগর্হিতম্।। কৈকেয়ী, ভরত, পিতা, সুহৃদ, আমাদের বন্ধুগন, পুরজনপদবাসী সকলকে রাম পরিত্রাণ করুন। কোথায় অরণ্য, কোথায় বা ক্ষত্রিয়ধর্ম, কোথায় জটাজুট,আর কোথায় বা প্রজা তথা রাজ্যপালন। এমন সব বিপরীতধর্মী কাজ আপনি করতে পারেন না। ঈদৃশং ব্যাহতং কর্ম্ম ন ভবান্ কর্ত্তুমর্হসি।
ভরতের কণ্ঠে জ্যেষ্ঠর প্রতি অভিযোগের সুর—ক্ষত্রিয়ের প্রথম ধর্ম রাজ্যাভিষেক। তবেই তিনি প্রজাপালনের যোগ্যতা অর্জন করেন। এমন কোন ক্ষত্রিয় আছেন কী? যিনি প্রত্যক্ষ ধর্ম ত্যাগ করে, ভাবিকালের সংশয়ান্বিত, (ক্ষত্রিয়ধর্মের) লক্ষণহীন, অনিশ্চিত ধর্মাচরণ করে থাকেন? ভরতের প্রস্তাব—আর কষ্টকর ধর্মপালন যদি রামের উদ্দেশ্য হয় তবে ধর্মানুসারে চতুর্বর্ণ পালনের মাধ্যমে তিনি সেই ক্লেশ অনুভব করুন।ভরতের উপদেশ— ধর্মবিদগণ, চতুর্বিধ আশ্রমের মধ্যে গার্হস্থ্যাশ্রমকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করেন। রাম কেন সেই আশ্রমত্যাগে উদ্যত হয়েছেন? ভরত গভীর ক্ষোভ ব্যক্ত করলেন—জ্ঞান, বয়স, অবস্থান, জন্ম, এগুলির নিরিখে ভরত, রামের তুলনায় বালক মাত্র। রাম বিদ্যমান, অথচ ভরত কেমন করে রাজ্যপালন করবেন? অতি দুঃখে, ভরত বললেন, অপরিণতবুদ্ধি, গুণহীন, বালক, আমি,অবস্থানগত দিক দিয়েও আমি হীন। আপনাকে ছাড়া থাকতেই উৎসাহ বোধ করি না। হীনবুদ্ধিগুণো বালো হীনস্থানেন চাপ্যহম্। ভবতা চ বিনাভূতো ন বর্ত্তয়িতুমুৎসহে।। ভরতের সনির্বন্ধ অনুরোধ, ধর্মজ্ঞ রাম, এই নিষ্কণ্টক পৈত্রিক বিরাট রাজ্য সবান্ধবে ধর্মানুসারে শাসন করুন। ভরতের প্রস্তাব— এখানেই প্রজাবর্গের সঙ্গে ঋত্বিকগণ, বশিষ্ঠ-সহ মন্ত্রণাবিশারদ মন্ত্রীরা রামকে অভিষিক্ত করুন।
ভরতের কণ্ঠে জ্যেষ্ঠর প্রতি অভিযোগের সুর—ক্ষত্রিয়ের প্রথম ধর্ম রাজ্যাভিষেক। তবেই তিনি প্রজাপালনের যোগ্যতা অর্জন করেন। এমন কোন ক্ষত্রিয় আছেন কী? যিনি প্রত্যক্ষ ধর্ম ত্যাগ করে, ভাবিকালের সংশয়ান্বিত, (ক্ষত্রিয়ধর্মের) লক্ষণহীন, অনিশ্চিত ধর্মাচরণ করে থাকেন? ভরতের প্রস্তাব—আর কষ্টকর ধর্মপালন যদি রামের উদ্দেশ্য হয় তবে ধর্মানুসারে চতুর্বর্ণ পালনের মাধ্যমে তিনি সেই ক্লেশ অনুভব করুন।ভরতের উপদেশ— ধর্মবিদগণ, চতুর্বিধ আশ্রমের মধ্যে গার্হস্থ্যাশ্রমকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করেন। রাম কেন সেই আশ্রমত্যাগে উদ্যত হয়েছেন? ভরত গভীর ক্ষোভ ব্যক্ত করলেন—জ্ঞান, বয়স, অবস্থান, জন্ম, এগুলির নিরিখে ভরত, রামের তুলনায় বালক মাত্র। রাম বিদ্যমান, অথচ ভরত কেমন করে রাজ্যপালন করবেন? অতি দুঃখে, ভরত বললেন, অপরিণতবুদ্ধি, গুণহীন, বালক, আমি,অবস্থানগত দিক দিয়েও আমি হীন। আপনাকে ছাড়া থাকতেই উৎসাহ বোধ করি না। হীনবুদ্ধিগুণো বালো হীনস্থানেন চাপ্যহম্। ভবতা চ বিনাভূতো ন বর্ত্তয়িতুমুৎসহে।। ভরতের সনির্বন্ধ অনুরোধ, ধর্মজ্ঞ রাম, এই নিষ্কণ্টক পৈত্রিক বিরাট রাজ্য সবান্ধবে ধর্মানুসারে শাসন করুন। ভরতের প্রস্তাব— এখানেই প্রজাবর্গের সঙ্গে ঋত্বিকগণ, বশিষ্ঠ-সহ মন্ত্রণাবিশারদ মন্ত্রীরা রামকে অভিষিক্ত করুন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৫: অগ্নির কি শুধুই দহনজ্বলা? মহর্ষি মন্দপালের অগ্নিস্তুতিতে অগ্নির কোন সদর্থকতার ইঙ্গিত?

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৬: বিপদে মোরে রক্ষা করো
বাসব ইন্দ্র যেমন আত্মশক্তিবলে লোকসমূহ জয় করে,দেবগণের সঙ্গে অমরাবতীতে প্রবেশ করেছিলেন, অভিষিক্ত রামও, সকলের সঙ্গে প্রজাপালনের নিমিত্ত ফিরে চলুন অযোধ্যায়। তিনটি ঋণ (দেব-ঋণ, পিতৃঋণ ও ঋষি-ঋণ) পরিশোধ করে, শত্রুদের নিঃশেষে নির্মূল করে, সুহৃদবর্গের কামনা পূরণ করে, এখন রাম ভরতকে শাসন করুন। রামের রাজ্যাভিষেকে সুহৃৎগণ আনন্দিত হোন। রামের দুর্ধর্ষ শত্রুরা ভীত হয়ে দশ দিকে পালিয়ে যাক্। ভরতজননীর প্রতি রামের যত আক্রোশ, সব মুছে যাক। মাননীয় পিতাকে সমস্ত পাপ হতে মুক্তিদান করুন, রাম। ভরত নতমস্তকে প্রার্থনা জানালেন, মহেশ্বর শিব যেমন সর্ব প্রাণীর প্রতি করুণাময় তেমনই রাম, ভরতকে দয়া করুন। ভরত জানালেন, যদি ভরতের প্রস্তাব মান্য না করে,রাম বনের অন্যত্র চলে যান, তবে ভরত রামের সঙ্গে সেখানেই যাবেন।
ভরত, রামের প্রসন্নতাবিধানের জন্যে নতমস্তকে কাতর অনুনয় করতে থাকলেও, পিতার বচনের প্রতি দায়বদ্ধ উদারমনা রাম, অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনে সায় দিলেন না। সমবেত জনগণ রাঘবের এই বিস্ময়কর ধৈর্য্য দেখে একাধারে আনন্দ ও দুঃখ অনুভব করলেন। অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনে অনিচ্ছুক রাম তাঁদের বিষণ্ণ করে তুলল,আবার রামের প্রতিজ্ঞার দৃঢ়তাদর্শনে, তাঁরা সন্তোষ অনুভব করলেন। ঋত্বিকগণ, পুরবাসী ও কুলপ্রধানেরা, সাশ্রুনেত্র সংজ্ঞাহীনপ্রায় মায়েরা অনুরোধকারী ভরতের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন। নতশিরে প্রণতি জানিয়ে সকলে রামকে অযোধ্যায় ফিরে যাবার প্রার্থনা জানালেন।
ভরত, রামের প্রসন্নতাবিধানের জন্যে নতমস্তকে কাতর অনুনয় করতে থাকলেও, পিতার বচনের প্রতি দায়বদ্ধ উদারমনা রাম, অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনে সায় দিলেন না। সমবেত জনগণ রাঘবের এই বিস্ময়কর ধৈর্য্য দেখে একাধারে আনন্দ ও দুঃখ অনুভব করলেন। অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনে অনিচ্ছুক রাম তাঁদের বিষণ্ণ করে তুলল,আবার রামের প্রতিজ্ঞার দৃঢ়তাদর্শনে, তাঁরা সন্তোষ অনুভব করলেন। ঋত্বিকগণ, পুরবাসী ও কুলপ্রধানেরা, সাশ্রুনেত্র সংজ্ঞাহীনপ্রায় মায়েরা অনুরোধকারী ভরতের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন। নতশিরে প্রণতি জানিয়ে সকলে রামকে অযোধ্যায় ফিরে যাবার প্রার্থনা জানালেন।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৭: রবীন্দ্রনাথ ব্যারিস্টার হতে চেয়েছিলেন

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৮: হেলিকপ্টারে সওয়ার হয়ে চূড়ার কাছাকাছি গিয়ে পাহাড় দেখার রোমাঞ্চটাই আলাদা
জ্ঞাতিদের সম্মুখে, ভরতের অনুরোধের পুনরাবৃত্তি হতে থাকলে ভরতাগ্রজ রাম,প্রত্যুত্তরে দিলেন। রাজশ্রেষ্ঠ দশরথের ঔরসে রানি কৈকেয়ীর গর্ভে ভরতের জন্ম,তাই ভরতের অনুরোধ যথাযোগ্য ও যুক্তিপূর্ণ বটে। কিন্তু শোন ভাই, পূর্বে আমাদের পিতা যখন তোমার জননীকে বিবাহ করেছিলেন তখন পিতা, তোমার মাতামহের কাছে রাজ্যটিতে শুল্করূপে (যৌতুক) দান করবেন, এমন এক ব্যতিক্রমী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন। পুরা ভ্রাতঃ পিতা নঃ স মাতরং তে সমুদ্বহন্। মাতামহে সমাশ্রৌষীদ্রাজ্যশুল্কমনুত্তমম্।।
রাম জানালেন, দেবাসুরের সমরকালে জননীর সেবায় অতিশয় সন্তুষ্ট রাজা,তাঁকে বরদানের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভরতের বহমাত্রিক যশস্বিনী মা, পুরুষশ্রেষ্ঠ রাজাকে, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করে,দুটি বর প্রার্থনা করেন, ভরতের জন্যে রাজ্য ও রামের নির্বাসন। রানির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, রাজা বরদানে বাধ্য হলেন। সেই বরদান অনুসারে, রাম চৌদ্দ বৎসরের জন্যে এই বিজনবনে পিতৃপ্রযুক্ত নির্বাসনে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন। সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে একত্রে সত্যরক্ষার্থে রামের এই নির্জন অরণ্যবাস।ভরতের উচিতকর্তব্য, সত্বর অভিষিক্ত হয়ে পিতৃসত্য রক্ষা করা।রামের উপদেশ—হে ধর্মজ্ঞ ভরত,রামের কারণে, পিতাকে ঋণমুক্ত করে, পরিত্রাণ কর, জননীকে অভিনন্দিত কর। ঋণান্মোচয় রাজানং মৎকৃতে ভরত প্রভুম্।পিতরং ত্রাহি ধর্মজ্ঞ মাতরঞ্চাভিনন্দয়।।
রাম জানালেন, দেবাসুরের সমরকালে জননীর সেবায় অতিশয় সন্তুষ্ট রাজা,তাঁকে বরদানের প্রতিশ্রুতি দেন। পরে ভরতের বহমাত্রিক যশস্বিনী মা, পুরুষশ্রেষ্ঠ রাজাকে, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করে,দুটি বর প্রার্থনা করেন, ভরতের জন্যে রাজ্য ও রামের নির্বাসন। রানির কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, রাজা বরদানে বাধ্য হলেন। সেই বরদান অনুসারে, রাম চৌদ্দ বৎসরের জন্যে এই বিজনবনে পিতৃপ্রযুক্ত নির্বাসনে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন। সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে একত্রে সত্যরক্ষার্থে রামের এই নির্জন অরণ্যবাস।ভরতের উচিতকর্তব্য, সত্বর অভিষিক্ত হয়ে পিতৃসত্য রক্ষা করা।রামের উপদেশ—হে ধর্মজ্ঞ ভরত,রামের কারণে, পিতাকে ঋণমুক্ত করে, পরিত্রাণ কর, জননীকে অভিনন্দিত কর। ঋণান্মোচয় রাজানং মৎকৃতে ভরত প্রভুম্।পিতরং ত্রাহি ধর্মজ্ঞ মাতরঞ্চাভিনন্দয়।।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৭৯: সময় বুঝে প্রত্যাঘাতের জন্য রাজনীতিতে অনেক সময় পিছিয়েও দাঁড়াতে হয়

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-৯৯: সারদা মায়ের রোগ নিরাময়ের প্রচেষ্টা
এই প্রসঙ্গে রাম, গয়াতীর্থের মাহাত্ম্য বর্ণনা করলেন,শোনা যায়, গয়নামক এক যশস্বী, ধীমান যজমানপিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে এই শ্রুতিটি গেয়েছিলেন — ‘পুৎ’নামক নরক হতে যেহেতু পিতাকে পরিত্রাণ করেন পুত্র, তাই সে পুত্র নামে অভিহিত। বহু গুণবান ও বিদ্বান পুত্র কাঙ্খিত হয়, কারণ তাদের মধ্যে যেন একজন অন্তত গয়ায় যেতে পারে। সব রাজর্ষিদের এমনই বিশ্বাস। রামের অনুরোধ — তাই পুরুষোত্তম, ভরতের পিতাকে নরক হতে পরিত্রাণ করা কর্তব্য। তস্মাৎ ত্রাহি নরশ্রেষ্ঠ পিতরং নরকাৎ প্রভো।
ভরত, অযোধ্যায় ফিরে গিয়ে শত্রুঘ্ন এবং দ্বিজাতিসহ প্রজাদের অনুরঞ্জন করুন। রাম সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে অবিলম্বে দণ্ডকারণ্যে প্রবেশ করবেন। রাম বললেন, হে ভরত, তুমি স্বয়ং মানুষের রাজা হও, আমি হই বন্য মৃগদের রাজা। ত্বং রাজা ভরত ভব স্বয়ং নরাণাং বন্যানামহমপি রাজরাণ্মৃগানাম্। রাম প্রীত হয়ে বললেন, ভরত, সন্তুষ্টমনে ফিরে যান, শ্রেষ্ঠ নগরী অযোধ্যায়।রামও আনন্দিত মনে দণ্ডকারণ্যে প্রবেশ করবেন। ভরতের মাথার ওপরে সূর্যের উত্তাপনিবারক শীতল ছায়া বর্ষিত হোক, আমিও অরণ্যের এই গাছের অতি গভীর ছায়া ধীরে ধীরে আশ্রয় করি। ছায়াং তে দিনকরভাঃ প্রবাধমানং বর্ষত্রং ভরত করোতু মূর্দ্ধ্নি শীতাম্। এতেষামহমপি কাননদ্রুমানাং ছায়াং তামতিশয়নীং শনৈঃ শ্রয়িষ্যে।।
রাম আশ্বস্ত করলেন, বুদ্ধিতে নিপুণ, শত্রুঘ্ন ভরতের সহায়। সৌমিত্রি লক্ষ্মণ তো রামের প্রধান মিত্র বলে খ্যাত। চার ভাইকে ঐক্য সূত্রে গাঁথলেন রাম। আমরা চারজন, রাজার চার শ্রেষ্ঠ পুত্র। আমরা রাজেন্দ্র দশরথের সত্যরক্ষা করব। ভরত, তুমি বিষণ্ণ হয়ো না। চত্বারস্তনয়বরা বয়ং নরেন্দ্রং সত্যস্থং ভরত চরাম মা বিষীদ।।
রামকে অযোধ্যায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে অনুজ, কৈকেয়ীপুত্র ভরতের প্রচেষ্টার শেষ নেই। যুক্তির পরে যুক্তি সাজিয়ে দুই ভাই যেন অলিখিত বাকযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। ঐহিক সুখের অনিত্যতা, নশ্বরতা, উপলব্ধি করে রাম উদাস হলেন। অযোধ্যার রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার বিষয়ে রামের এই দার্শনিক মতকে উপেক্ষা করার সাধ্য নেই ভরতের। প্রয়াত পিতার নিধনবার্তা রামকে বিচলিত করেছে কিন্তু আত্মশক্তির বিচক্ষণতায় মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবিতা অনুভব করে স্থিতধী রাম মৃত্যুশোক জয় করে, এই বিচ্ছেদকে জীবনের একটি অপরিহার্য, অমোঘ, অবস্থান্তর বলে মনে করেছেন। স্থিতধী মুনিদের এই কাঙ্খিত লক্ষণ রামের মধ্যে দেখা দিয়েছে।
ভরত, অযোধ্যায় ফিরে গিয়ে শত্রুঘ্ন এবং দ্বিজাতিসহ প্রজাদের অনুরঞ্জন করুন। রাম সীতা ও লক্ষ্মণের সঙ্গে অবিলম্বে দণ্ডকারণ্যে প্রবেশ করবেন। রাম বললেন, হে ভরত, তুমি স্বয়ং মানুষের রাজা হও, আমি হই বন্য মৃগদের রাজা। ত্বং রাজা ভরত ভব স্বয়ং নরাণাং বন্যানামহমপি রাজরাণ্মৃগানাম্। রাম প্রীত হয়ে বললেন, ভরত, সন্তুষ্টমনে ফিরে যান, শ্রেষ্ঠ নগরী অযোধ্যায়।রামও আনন্দিত মনে দণ্ডকারণ্যে প্রবেশ করবেন। ভরতের মাথার ওপরে সূর্যের উত্তাপনিবারক শীতল ছায়া বর্ষিত হোক, আমিও অরণ্যের এই গাছের অতি গভীর ছায়া ধীরে ধীরে আশ্রয় করি। ছায়াং তে দিনকরভাঃ প্রবাধমানং বর্ষত্রং ভরত করোতু মূর্দ্ধ্নি শীতাম্। এতেষামহমপি কাননদ্রুমানাং ছায়াং তামতিশয়নীং শনৈঃ শ্রয়িষ্যে।।
রাম আশ্বস্ত করলেন, বুদ্ধিতে নিপুণ, শত্রুঘ্ন ভরতের সহায়। সৌমিত্রি লক্ষ্মণ তো রামের প্রধান মিত্র বলে খ্যাত। চার ভাইকে ঐক্য সূত্রে গাঁথলেন রাম। আমরা চারজন, রাজার চার শ্রেষ্ঠ পুত্র। আমরা রাজেন্দ্র দশরথের সত্যরক্ষা করব। ভরত, তুমি বিষণ্ণ হয়ো না। চত্বারস্তনয়বরা বয়ং নরেন্দ্রং সত্যস্থং ভরত চরাম মা বিষীদ।।
রামকে অযোধ্যায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে অনুজ, কৈকেয়ীপুত্র ভরতের প্রচেষ্টার শেষ নেই। যুক্তির পরে যুক্তি সাজিয়ে দুই ভাই যেন অলিখিত বাকযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। ঐহিক সুখের অনিত্যতা, নশ্বরতা, উপলব্ধি করে রাম উদাস হলেন। অযোধ্যার রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার বিষয়ে রামের এই দার্শনিক মতকে উপেক্ষা করার সাধ্য নেই ভরতের। প্রয়াত পিতার নিধনবার্তা রামকে বিচলিত করেছে কিন্তু আত্মশক্তির বিচক্ষণতায় মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবিতা অনুভব করে স্থিতধী রাম মৃত্যুশোক জয় করে, এই বিচ্ছেদকে জীবনের একটি অপরিহার্য, অমোঘ, অবস্থান্তর বলে মনে করেছেন। স্থিতধী মুনিদের এই কাঙ্খিত লক্ষণ রামের মধ্যে দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন:

গীতা: সম্ভবামি যুগে যুগে, পর্ব-২৩: বন্ধু হে আমার…

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০১: ছিট ঘুঘু
সুদীর্ঘ বনবাসজীবন কী তাঁর এই মানসিক পরিবর্তনের উৎস? নির্জন নিরালায় একান্ত যাপন মানুষকে চলমান, গতিশীল, জীবনসম্বন্ধে, নিস্পৃহ ঔদাসীন্যে ভরিয়ে দেয়। জীবনের সহস্র প্রলোভন থেকে তখন তাঁর সাময়িক বিরতি। রামসম্বন্ধে ভরতের মূল্যায়নে রামের যে স্থিতপ্রজ্ঞ ভাবমূর্তি সেটি হয়তো জ্যেষ্ঠর প্রতি কনিষ্ঠের শ্রদ্ধার্ঘ্যমাত্র। তাতে হয়তো রয়েছে অতিরঞ্জনের প্রলেপ। রামের জীবনে মানবিক অনুভূতির দোলাচল আছে, আছে পিছুটান, পিতৃপুরুষের মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বস্ততা, তাই মুনিজনসদৃশ আনন্দবিষাদহীনতার ঊর্দ্ধে নন তিনি। অযোধ্যা ও ইক্ষ্বাকুকুল তাঁর বিচরণ ভূমি, সেখানে আছে বংশানুক্রমিক দায়বদ্ধতা পালনের পরম্পরাগত অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার তিনি অস্বীকার করতে পারেননি।
ক্ষত্রিয়োচিত বর্ণধর্ম হল রাজধর্ম অর্থাৎ রাজ্যপালনরূপ ধর্ম। জটাধারণের অনুষঙ্গ গার্হস্থ্যাশ্রমের সঙ্গে যুক্ত নয়। রাম সেই গার্হস্থ্যাশ্রম ত্যাগ করে অরণ্যবাসী হয়েছেন, যেটি এখন তাঁর জন্যে অসময়। ভরত রামকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, রামের গার্হস্থ্যাশ্রম অস্বীকারের সিদ্ধান্ত এখন প্রশ্নচিহ্নের সম্মুখীন।কোথায় রাজধর্মপালন আর কোথায় বা জটাধারণ, এই বৈপরীত্য রামের মতো ব্যক্তিত্বের কাছে অভীপ্সিত নয়। সব যুক্তি নস্যাৎ করে পিতৃপ্রযুক্ত শর্তপালনে অনমনীয় রাম নিজের সিদ্ধান্তে অটল রইলেন। এই দৃঢ়তাই হয়তো তাঁর চরিত্রের অতিলৌকিক বৈশিষ্ট্য। রাম একটি নতুন তথ্য সংযোজিত করলেন,যেটি পিতার অযৌক্তিক আচরণের সপক্ষে, নিঃসন্দেহে একটি শক্ত প্রমাণ।
ক্ষত্রিয়োচিত বর্ণধর্ম হল রাজধর্ম অর্থাৎ রাজ্যপালনরূপ ধর্ম। জটাধারণের অনুষঙ্গ গার্হস্থ্যাশ্রমের সঙ্গে যুক্ত নয়। রাম সেই গার্হস্থ্যাশ্রম ত্যাগ করে অরণ্যবাসী হয়েছেন, যেটি এখন তাঁর জন্যে অসময়। ভরত রামকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, রামের গার্হস্থ্যাশ্রম অস্বীকারের সিদ্ধান্ত এখন প্রশ্নচিহ্নের সম্মুখীন।কোথায় রাজধর্মপালন আর কোথায় বা জটাধারণ, এই বৈপরীত্য রামের মতো ব্যক্তিত্বের কাছে অভীপ্সিত নয়। সব যুক্তি নস্যাৎ করে পিতৃপ্রযুক্ত শর্তপালনে অনমনীয় রাম নিজের সিদ্ধান্তে অটল রইলেন। এই দৃঢ়তাই হয়তো তাঁর চরিত্রের অতিলৌকিক বৈশিষ্ট্য। রাম একটি নতুন তথ্য সংযোজিত করলেন,যেটি পিতার অযৌক্তিক আচরণের সপক্ষে, নিঃসন্দেহে একটি শক্ত প্রমাণ।

ছবি: প্রতীকী।
পিতা দশরথ ভরতকে রাজ্যরূপ যৌতুক প্রদান করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কারণ তিনি, ভরতের মাতামহের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।পরবর্তীকালে সময় ও সুযোগ বুঝে রানি কৈকেয়ী দুটি বর প্রার্থনা করেছিলেন।ভরতের রাজ্যলাভ, পিতার প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষার অন্যতম শর্ত। রামের বনবাসযাপনের অঙ্গীকারও পিতৃশর্তপালনের দায়বদ্ধতামাত্র। এই প্রসঙ্গে গয়াতীর্থমাহাত্ম্যবর্ণনা রামায়ণের ভৌগোলিক তথ্য পরিবেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বলা যায়। নির্লিপ্ত উদাসীন রামের বয়ানানুসারে রাম ও ভরতের দুই বিপরীতমুখী জীবনচিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।
ভরত হবেন মানুষদের রাজা, রাম? তিনি হবেন বন্য মৃগদের রাজা। ভরতের মাথায় থাকবে আতপনিবারক রাজছত্র আর রামের মাথার ওপরে ছায়া বিস্তার করবে নিবিড় বনরাজির ঘনায়মান ছায়া। এই দুই জীবনের বৈপরীত্য রামের মনে সম্পর্কের নরম পেলব বাঁধনে ভাঙ্গন ধরাতে পারেনি। তিনি শেষ পর্যন্ত চার ভাইয়ের ঐক্যসূত্র অটুট রেখেছেন। পিতার প্রতি বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য সন্তানদের ঐক্যের ভিত গড়ে তোলে। ভারতবর্ষের যৌথ পরিবারের আদর্শগত দিক হল,জ্যেষ্ঠর স্তম্ভ হয়ে দায়িত্বপালন। জ্যেষ্ঠ সেই পারস্পরিক সম্পর্কের সূত্রকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখেন। জ্যেষ্ঠ রামের এই আদর্শবোধ হয়তো আজও বহু যৌথ পরিবারের ঐক্যবন্ধনের অনুপ্রেরণা।—চলবে।
ভরত হবেন মানুষদের রাজা, রাম? তিনি হবেন বন্য মৃগদের রাজা। ভরতের মাথায় থাকবে আতপনিবারক রাজছত্র আর রামের মাথার ওপরে ছায়া বিস্তার করবে নিবিড় বনরাজির ঘনায়মান ছায়া। এই দুই জীবনের বৈপরীত্য রামের মনে সম্পর্কের নরম পেলব বাঁধনে ভাঙ্গন ধরাতে পারেনি। তিনি শেষ পর্যন্ত চার ভাইয়ের ঐক্যসূত্র অটুট রেখেছেন। পিতার প্রতি বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য সন্তানদের ঐক্যের ভিত গড়ে তোলে। ভারতবর্ষের যৌথ পরিবারের আদর্শগত দিক হল,জ্যেষ্ঠর স্তম্ভ হয়ে দায়িত্বপালন। জ্যেষ্ঠ সেই পারস্পরিক সম্পর্কের সূত্রকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখেন। জ্যেষ্ঠ রামের এই আদর্শবোধ হয়তো আজও বহু যৌথ পরিবারের ঐক্যবন্ধনের অনুপ্রেরণা।—চলবে।
* মহাকাব্যের কথকতা (Epics monologues of a layman): পাঞ্চালী মুখোপাধ্যায় (Panchali Mukhopadhyay) অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা, সংস্কৃত বিভাগ, যোগমায়া দেবী কলেজে।


















