রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


চিঠিটা ৩-৪ বার পড়ার পর অমলেন্দু ঠিক কী করবে বুঝে উঠতে পারল না। এদিকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, না হলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটা একটা ভাঙচির চিঠি। হতে পারে সত্যি সত্যি কোনও ছেলের সঙ্গে প্রতিমার কোনও সম্পর্ক রয়েছে। আবার নাও হতে পারে। পারিবারিক আপত্তির জেরে অনেক সময় এই ধরনের চিঠিচাপাটি দিয়ে ক্ষতি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অমলেন্দু এই চিঠিটাকে খুব হালকা ভাবে নিতে পারল না। তার সেজমামার বিয়ের সময় একই ঘটনা ঘটেছিল। তখন সময় আরও কম ছিল। শেষ মুহূর্তে এরকম একটা ভাঙচির চিঠি এসেছিল সেজমামার কাছে। সেজমামা চিঠিটায় কোন গুরুত্ব দেননি। পরে কিন্তু সেজোমামার বিয়েটা টেকেনি। জানা গিয়েছিল, চিঠিতে যা বলা ছিল সেটাই সত্যি, যার সঙ্গে সেজোমামার বিয়ে হয়েছিল সেই মহিলার পূর্ব-সম্পর্ক ছিল।
লালদীঘির শেষ মাথায় টেলিফোন ভবনের বাইরে পরপর টেলিফোন করবার পিসিও, সময় নষ্ট না করে অমলেন্দু সেখান থেকেই ফোন করলো একজনকে। যিনি এই বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যস্থতা করেছেন, প্রতিমাদের বাড়ির সব খোঁজখবরও এঁর কাছ থেকেই পাওয়া গিয়েছে।
—হ্যালো অম্বরমামা!
—বলছি।
—আমি অমলেন্দু!
—হ্যাঁ হ্যাঁ, অমলেন্দু বল বল কী ব্যাপার? বিয়েবাড়ি লেগে গিয়েছে তো?
—হ্যাঁ, মানে ওই আর কী! আচ্ছা একটা ব্যাপার একটু জানাবেন এই যে পাত্রী প্রতিমা, তার কি কোনও মামাতো ভাই আছে যার নাম কুন্তল?
—হ্যাঁ আছে তো! ব্যবসা করে, পয়সাওয়ালা ছেলে। তুমি জানলে কী করে!
কোনও গতিকে যা হোক একটা উত্তর দিয়ে ফোন কেটে দিল অমলেন্দু।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮১: অনুসরণ/২

বিখ্যাতদের বিবাহ-বিচিত্রা, পর্ব-১৭: একাকিত্বের অন্ধকূপ/২: অন্ধকারের উৎস হতে

বাড়ির দিকে পা না বাড়িয়ে হাওড়া স্টেশনগামী মিনিবাসে চড়ে বসলো সে। অমলেন্দুর মাথায় এখন আগুন জ্বলছে। ঠকে যাবার আগুন। মিথ্যে শোনার আগুন। সে যদি আলাদা করে প্রতিমার সঙ্গে কথা না বলত, তাহলে তার এত রাগ হতো না। কিন্তু বিশেষভাবে এই প্রশ্নটা করার পরেও প্রতিমা তাকে জানিয়েছে যে তার এই বিয়েতে মত আছে। তাই এবার সে সরাসরি গিয়ে প্রতিমাকে জিজ্ঞেস করবে যে এই চিঠিতে যা লেখা আছে সেগুলো সত্যি না মিথ্যে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৭৮: রক্তে ভেজা মাটিতে গড়ে ওঠে সত্যিকার প্রাপ্তি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৩: একটি হিংসা অনেক প্রতিহিংসা, জিঘাংসা, হত্যা এবং মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে সর্বত্র

শ্রীরামপুরে ট্রেনে চড়ে একটার পর একটা স্টেশন পেরিয়ে যাচ্ছে। অমলেন্দু ঠিক বুঝতে পারছি না সে যেটা করতে যাচ্ছে সেটা উচিত হচ্ছে কিনা। সম্বন্ধ ঠিক হওয়ার পর কোনও পাত্র এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে ঠিক এরকমই কোনও সিদ্ধান্ত নিতো কিনা? এইসব ভাবতে ভাবতেই তাকে শ্রীরামপুর স্টেশনে নেমে পড়তে হল।
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-৯৭: শ্রীমার কথায় ‘ঠাকুরের দয়া পেয়েচ বলেই এখানে এসেচ’

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৫: সর্বত্র বরফ, কোত্থাও কেউ নেই, একেবারে গা ছমছম করা পরিবেশ

অনেক সময় ভাগ্য সাহসীদের সঙ্গী হয়। অমলেন্দুর ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হলো না। স্টেশন থেকে রিক্সা করে প্রতিমাদের বাড়ি পর্যন্ত যাওয়া এবং প্রতিমার সঙ্গে আলাদা করে কথা বলতে চাওয়া এই সব কিছুই খুব সহজ হতো না। কিছুদিন আগেই সে এসে মেয়ের সঙ্গে কথা বলে গিয়েছে বিয়ের কাজকর্ম চালু হয়েছে, হয়তো প্রেস থেকে বিয়ের কার্ড চলে এসেছে এমন একটা সময়ে আবার পাত্রের বাড়িতে এসে পাত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাওয়া খুবই অস্বাভাবিক।
আশ্চর্যভাবে স্টেশনেই ওভারব্রিজের সিঁড়ি টপকাতে দেখলো প্রতিমাকে পা চালিয়ে দুটো দুটো করে সিঁড়ি টপকে অমলেন্দু পৌঁছে গেল প্রতিমার ঠিক পিছনে। প্রতিমা কি কলকাতা গিয়েছিল? নাকি হাওড়ার পরের কোনো স্টেশন থেকে উঠেছে? সেটা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়! এরই মধ্যে সিঁড়ি থেকে প্রতিমার পাটা ওভারব্রিজে সচল হবার পর অমলেন্দু ডাকল
—প্রতিমা!
চমকে ফিরে তাকিয়ে হতভম্ব হয়ে গেল প্রতিমা।
—আপনি?
—হ্যাঁ! একটা খুব জরুরি দরকারে আসতে হল!
—কী হয়েছে?
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-৯৭: পাতি সরালি

পঁচিশে বৈশাখ

প্রতিমার গলা শুনে মনে হল সে একটু উদ্বিগ্ন। তারমানে সে কি এই পারিবারিক অবৈধতা থেকে বের হতে চাইছে? তার মানে চিঠিটা কে দিয়েছে? কুন্তল কাউকে দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে? প্রতিমা নিজেই পাঠিয়েছে নাকি পুরোটাই মিথ্যে? একটা বানানো অপবাদ? —চলবে।
 

অমলেন্দু পাল মৃত্যুরহস্য। পরবর্তী পর্ব আগামী বৃহস্পতিবার ২২ মে ২০২৫

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।/strong>

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content