পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি

পর্ব-৯১: যারা সময়ের স্রোতে নত হতে জানে, তারাই টিকে যায়; যারা আগুনে ঝাঁপায়, তারাই পুড়ে মরে

পর্ব-৯১: যারা সময়ের স্রোতে নত হতে জানে, তারাই টিকে যায়; যারা আগুনে ঝাঁপায়, তারাই পুড়ে মরে

কোনও এক শান্ত, সবুজে ঘেরা গ্রামে বাস করতেন এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ—নাম তাঁর হরিদত্ত। জন্মে ব্রাহ্মণ হলেও জীবিকা ছিল কৃষিকাজ। প্রতিদিন ভোরে তিনি নিজের ক্ষেতে যেতেন, রোদে-জলে খেটে মরতেন, তবু ফসল হত না তেমন কিছুই। বছরের পর বছর তাঁর জীবনে যেন অভাবই যেন ছিল একমাত্র ধ্রুব সত্য।

read more
পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

ঘন অরণ্যের গভীরে, এক উঁইয়ের ঢিবির ভিতরে বাস করতো এক ভয়ঙ্কর কেউটে সাপ—নাম তার অতিদর্প। নামের মতোই সে ছিল অহংকারী, শক্তিশালী আর উদ্ধত। সাধারণত সে ঢিবির প্রশস্ত মুখ দিয়েই আসা-যাওয়া করতো। কিন্তু একদিন কেবল খেয়ালখুশিতে সে সরু এক ফাঁক গলে বেরোতে চাইল। বিপদ হল সেখানেই। তার মোটা ও বিশাল শরীর সেই সরু পথের জন্য ছিল একেবারেই বেমানান। জোর করে বেরোতে গিয়ে শরীর ক্ষতবিক্ষত হল তার; গা থেকে রক্ত ঝরতে লাগল।

read more
পর্ব-৮৯: ক্ষুদ্র শক্তি সংগঠিত হলে বড় শত্রুও হার মানে

পর্ব-৮৯: ক্ষুদ্র শক্তি সংগঠিত হলে বড় শত্রুও হার মানে

দ্বিতীয় ধূর্ত ব্যক্তিটি তৈরিই ছিল। মিত্রশর্মা ছাগলটিকে নিয়ে কিছু দূর এগোতেই দ্বিতীয় ধূর্তটি এসে উপস্থিত হল তাঁর সামনে। সে যদিও আগের ধূর্তটির মতো তীব্রভাবে বলল না, বরং একটু বিনয়ের সঙ্গেই বলল, “হে ব্রহ্মন্‌! বুঝতে পারছি এই মৃত বাছুরটি আপনার অত্যন্ত প্রিয়, তথাপি একে কাঁধে করে নিয়ে যাওয়াটা একেবারেই অনুচিত। স্মৃতিশাস্ত্রে বলে, মৃত পশুপক্ষী বা মৃত মানুষকেও যদি কেউ স্পর্শ করে তাহলে সে পঞ্চগব্য অর্থাৎ দই, দুধ, ঘি, গোবর এবং গোমুত্র খেয়ে কিংবা চান্দ্রায়ণ ব্রত পালন করে শুদ্ধ হয়। আপনি ব্রাহ্মণ মানুষ। আপনাকে এ সব বলা যদিও ধৃষ্টতা।”

read more
পর্ব-৮৮: নীতি কেবল মুখোশ, রাজনীতির মূল হল কৌশল আর ছলনা

পর্ব-৮৮: নীতি কেবল মুখোশ, রাজনীতির মূল হল কৌশল আর ছলনা

একদিন—মাঘ মাসের কনকনে শীতের ভোরে, যখন হালকা বাতাস বইছে আর ঝিরঝির করে বৃষ্টিও পড়ছে—মিত্রশর্মা গৃহকার্যের পর গ্রামান্তরে যাত্রা করলেন। উদ্দেশ্য, আসন্ন যজ্ঞের জন্য যজমানের কাছ থেকে পশুদানের আবেদন করা। গ্রামান্তরে এক যজমানের বাড়িতে গিয়ে মিত্রশর্মা বললেন, “ওহে যজমান! আগামী অমাবস্যায় একটি যজ্ঞ করব স্থির করেছি। তাই আমাকে একটি পশুদিন—তত্‍ দেহি মে পশুম্‌ একম্‌।”

read more
পর্ব-৮৭: শুধু মুখে ধর্মের বুলি আওড়ালেই কেউ ধার্মিক হয়ে যায় না

পর্ব-৮৭: শুধু মুখে ধর্মের বুলি আওড়ালেই কেউ ধার্মিক হয়ে যায় না

একটানা ধর্মকথা শুনিয়ে, তীক্ষ্ণ দাঁতের সেই সাধুবেশী বিড়ালটি শেষমেশ বলেই ফেলল,“ভয় পেয়ো না, আমি তোমাদের খেতে আসিনি, তন্ন অহং ভক্ষযিষ্যামি। বরং আমি তোমাদের এই বিবাদের বিচার করব, জয়-পরাজয় নির্ধারণ করব। তবে একটা কথা আছে, এখন আমি বয়সে একটু বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি। আগের মতো কান ভালো কাজ করে না। তোমাদের কথাবার্তা ঠিকঠাক বুঝতে পারি না যদি দূরে থাকো। তাই একটু কাছে এসো, আমি ভালো করে শুনি তোমাদের দ্বন্দ্বটা কী নিয়ে। বোঝার পর নিরপেক্ষভাবে বিচার করব যাতে কোনও অন্যায় না হয়। আমি তো এখন তপস্বী, ভুল বিচার করলে পরলোকে আমার বিপদ হবে!”

read more
পর্ব-৮৬: আমরা আসলে কাকে পুজো করছি? ঈশ্বরকে, নাকি রক্তমাখা অভ্যাসকে?

পর্ব-৮৬: আমরা আসলে কাকে পুজো করছি? ঈশ্বরকে, নাকি রক্তমাখা অভ্যাসকে?

কপিঞ্জল তখন একটু চিন্তা করে সেই খরগোশ শীঘ্রগকে বলল, বেশ! তবে তাই হোক! যদি স্মৃতিকেই তুমি প্রমাণ বলে স্বীকার করো তবে এখনই চলো কোনও এক স্মৃতিপাঠকের কাছে। ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষের জ্ঞান যার আয়ত্তে। তার রায়ই হবে চূড়ান্ত। তিনি যাঁর সপক্ষে রায় দেবেন—এই গাছের কোটরটি তারই হবে।

read more
পর্ব-৮৫: অধিকার নয়, অবস্থানই বলে দেয় জায়গা কার– মালিকের? না দখলদারের?

পর্ব-৮৫: অধিকার নয়, অবস্থানই বলে দেয় জায়গা কার– মালিকের? না দখলদারের?

“এইটা তো আমার বাসা! এখানে তুই এলি কী করে? তৎ শীঘ্রং নিষ্ক্রম্যতাম্‌ — এখনই ওখান থেকে বেরিয়ে আয়।” — ধমকে উঠল কপিঞ্জল। তার স্বর কাঁপছিল রাগে, আর গলায় ফুটে উঠছিল মালিকানা হারানোর যন্ত্রণা।

read more
পর্ব-৮৪: যুদ্ধ করতে সব সময় পেশীশক্তি নয়, দরকার বিশ্বাসের গল্পও

পর্ব-৮৪: যুদ্ধ করতে সব সময় পেশীশক্তি নয়, দরকার বিশ্বাসের গল্পও

খরগোশটি বক্তব্য হল, এতো সহজে হার মেনে এই পিতৃপিতামহের ভূমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কোনও মানেই হয় না। সেই হাতির দলকে এমন কিছুর ভয় দেখাতে হবে যাতে তারা আর এই জায়গায় ফিরে না আসে। রাজনীতি শাস্ত্রে বলা হয়েছে, নির্বিষ সাপেরও ফণা তুলে ভয় দেখানো উচিত। কারণ বিষ আছে কি নেই—সেই চিন্তা লোকে করে না। সকলেই সাপের ফণাকেই ভয় পায়। অর্থাৎ আমাদের ক্ষমতা কতটা সেটা ভেবে লাভ নেই। কীভাবে আমরা তাদেরকে ভয় দেখাতে পারবো সেই উপায় ভাবতে হবে।

read more
পর্ব-৮৩: দুর্জনের সম্মান, সাধুর জন্য ফাঁদ

পর্ব-৮৩: দুর্জনের সম্মান, সাধুর জন্য ফাঁদ

  কাকোলূকীযম্‌ পরিশেষে সেই কাকটি বলল, পক্ষীরাজ গরুড়ের এমনই মহিমা যে তাঁর নাম শুনলেইশত্রু আর তোমাদের দিকে এগোতে সাহস পায় না।রাজার এমনই ক্ষমতা হওয়া উচিত যে তাঁর নাম শুনলেই শত্রু ভয় পাবে।শাস্ত্রেও বলে যে দুর্জন লোকের সামনে কেউ যখন নিজের প্রভুর নাম নিয়ে বলেন, “আমরা মহামহিমশালী অমুক রাজার প্রজা” তখন প্রজাদেরও মঙ্গল হয়।ফলে এই উলূকের মতন যাকে তাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে রাজা করার কোনো মানেই হয় না। বংশ-পরম্পরাক্রমে রাজনীতিতে দক্ষ প্রভাবশালী ব্যক্তিকেই রাজা করা উচিত। মহান পুরুষের নাম নিলে অনেক লাভ হয়; খরগোশদের...

read more
পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

যেভাবে একজন অভিজ্ঞলোক ঘাটে নেমে গভীর জলের মধ্যেও তল খুঁজে পান তেমনই ভাবে গুপ্তচরেরাও মন্ত্রী-প্রভৃতি আঠেরো প্রকার তীর্থদের মধ্যে নিজের একটা জায়গা করে নিয়ে সকলের সঙ্গে মিলেমিশে শত্রুরাজার কাজকর্ম সম্পর্কে খবর জোগাড় করে আনতে পারেন। বৃদ্ধমন্ত্রী স্থিরজীবীর কথা শুনে মেঘবর্ণ বললেন, হে তাত! দয়া করে বলবেন আমাদের এই কাক-সমাজের সঙ্গে উলূক-সমাজের এইরকম প্রাণঘাতী শত্রুতার কারণ কী?

read more
পর্ব-৮১: সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য চালাতে গেলে নিজের লোকেদের পিছনেও চর নিয়োগ করতে হয়

পর্ব-৮১: সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য চালাতে গেলে নিজের লোকেদের পিছনেও চর নিয়োগ করতে হয়

বহু দৃষ্টান্ত দিয়ে অবশেষে বৃদ্ধমন্ত্রী স্থিরজীবী শেষে বললেন, সুতরাং এই পরিস্থিতিতে দ্বৈধীভাবকেই আশ্রয় করা উচিত। মানে, শত্রুর ক্ষমতা ভালোভাবে বুঝে নিয়ে সামনাসামনি শত্রুর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ দেখিয়ে মনে মনে সবসময় তার ক্ষতি করবার চেষ্টা করতে হবে। সোজাকথায় মুখে এক কিন্তু কাজে আরেক রকম হতে হবে। তাই নিজের স্থান এই বৃক্ষদুর্গকে ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং শত্রুকে নানাভাবে প্রলুব্ধ করে মূল থেকে তাকে উচ্ছেদ করতে হবে।

read more
পর্ব-৮০: রাজনীতিতে সবাই চায় সবলের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে, দুর্বলরা সব সময়ই একা

পর্ব-৮০: রাজনীতিতে সবাই চায় সবলের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে, দুর্বলরা সব সময়ই একা

চিরঞ্জীবী বললেন, হে দেব! এ পরিস্থিতিতে সন্ধি-বিগ্রহ প্রভৃতি কূটনীতির ছ’টি উপায়ের মধ্যে আমার মনে হয় ‘সংশ্রয়’ অবলম্বন করাই শ্রেয়। অন্য শক্তিশালী ও পরাক্রমী রাজার কাছে আশ্রয় নেওয়াকেই কূটনীতির পরিভাষায় বলা হয় ‘সংশ্রয়’। কারণ, অত্যন্ত তেজস্বী এবং পরাক্রমী হলেও সহায়হীন একলা ব্যক্তি শত্রুরাজার প্রবল প্রতিরোধের সামনে কিই বা করতে পারে?

read more
পর্ব-৭৯: সময় বুঝে প্রত্যাঘাতের জন্য রাজনীতিতে অনেক সময় পিছিয়েও দাঁড়াতে হয়

পর্ব-৭৯: সময় বুঝে প্রত্যাঘাতের জন্য রাজনীতিতে অনেক সময় পিছিয়েও দাঁড়াতে হয়

পাশা খেলায় হেরে গিয়ে বাধ্য হয়ে পাণ্ডবরা দেশত্যাগ করে বারো বছরের বনবাসে চলে যান। পরে বিরাটরাজ্যে অজ্ঞাতবাসের শেষে তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন এবং বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণের ভোগিনী সুভদ্রার পুত্র অভিমণ্যূর সঙ্গে বিরাট রাজকন্যা উত্তরার বিবাহে ভারতবর্ষের সকল রাজাদের মিলিত সহায়তায় বলবান হয়ে তাঁরা রাজ্য লাভের জন্য কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গণে কৌরবদের মুখোমুখি হন। রাজনীতিতে জিততে গেলে মাঝে মাঝে পিছনেও হাঁটতে হয়।

read more
পর্ব-৭৮: রক্তে ভেজা মাটিতে গড়ে ওঠে সত্যিকার প্রাপ্তি

পর্ব-৭৮: রক্তে ভেজা মাটিতে গড়ে ওঠে সত্যিকার প্রাপ্তি

 কাকোলূকীযম্‌ উজ্জীবীর কথা শেষ হলে বায়সরাজ মেঘবর্ণ সঞ্জীবীকে ডেকে বললেন, “ভদ্র! তবাভিপ্রাযমপি শ্রোতুমিচ্ছামি”। হে ভদ্র! আপনার অভিমতও আমি শুনতে চাই। উজ্জীবী তখন বললেন, হে দেব! আমার মনে হয় শত্রুর সঙ্গে সন্ধি করাটা উচিত হবে না। শাস্ত্রে বলে, শত্রুর সঙ্গে সন্ধি করলেও তার সঙ্গে বেশি মেলামেশা করাটা একদম উচিত নয়। আগুনে তপ্ত হয়ে জল অত্যন্ত গরম হলেও সে কিন্তু আগুনের সঙ্গে সখ্যতা করে না, অনায়াসেই সে আগুনকে নিভিয়ে দিতে পারে। জলের সঙ্গে অগ্নির যেমন সহজাত বিরোধ তেমনই অর্থাৎ সন্ধি করলেও জাত শত্রু কখনই শত্রুতা ত্যাগ করে...

read more
পর্ব-৭৭: কথায় কথায় বিদ্রোহ নয়, বিনম্র আচরণেই লুকিয়ে থাকে প্রকৃত বিজয়

পর্ব-৭৭: কথায় কথায় বিদ্রোহ নয়, বিনম্র আচরণেই লুকিয়ে থাকে প্রকৃত বিজয়

বায়সরাজ মেঘবর্ণের কথা শুনে সচিবেরা সকলে বললেন, হে রাজন্‌! আপনি যথার্থই প্রশ্ন করেছেন। শাস্ত্রে বলে, কিছু কিছু পরিস্থিতি আসে যখন রাজা পরমর্শ না চাইলেও মন্ত্রীদের যেচে পরামর্শ দেওয়া উচিত। এমনকি সেই পরামর্শ রাজার পছন্দও হতে পারে আবার অপছন্দও হতে পারে। তাও অপ্রিয় সত্যি মন্ত্রীদের বলা উচিত নিজের স্বার্থে এবং রাজ্যের স্বার্থে।

read more

Skip to content