এই দেশ এই মাটি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৬: বাজ

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৬: বাজ

শাবাজ আকারে একটা দাঁড়কাকের সমান। কাঁধ বেশ চওড়া, শরীর গাঁট্টাগোট্টা, আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি। অন্য পাখিদের তুলনায় এদের অক্ষিগোলক মনে হয় এজন্যই বেশ বড়ো। এদের পিঠের দিকের রং শ্লেটের মতো। মাথা আর মুখের দু’পাশের রং কালো। শরীরের নীচের দিকের রং লালচে-বাদামি এবং তার উপর খুব সরু কালো ডোরা। গলার রং সাদা। ডানাদুটো বেশ লম্বা আর ছুঁচালো। ডানার প্রান্ত কালো, আর তলার রং লালচে-বাদামি।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৫: বীরবিক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ  হল নতুন ভাবে ‘রাজমালা’র প্রকাশ

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৫: বীরবিক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হল নতুন ভাবে ‘রাজমালা’র প্রকাশ

বীরবিক্রমের সাহিত্য প্রতিভার কিছুটা আঁচ পাওয়া যায় তাঁর রচনায়। প্রত্যন্ত এক পার্বত্য রাজ্যের রাজা ভারতীয় সংস্কৃতির গভীরে ডুব দিয়ে তুলে ধরেন ভারতের উৎসব ঐতিহ্যকে। রাজার সোনামুড়া ও উদয়পুর ভ্রমণের বিবরণীতে রয়েছে তাঁর গদ্যের আরও নিদর্শন। ‘আমার সোনামুড়া ও উদয়পুর বিভাগ পরিভ্রমণ’ নামে রাজার ডায়েরী গ্রন্হ হিসেবে প্রকাশিত হয়।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৩: অসমের লুপ্তপ্রায় দুই বিখ্যাত কুটির শিল্প

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৩: অসমের লুপ্তপ্রায় দুই বিখ্যাত কুটির শিল্প

আহোম রাজত্বে অসমের জোরহাটে এবং শিবসাগরে আতির দাঁতের সামগ্রী নির্মাণ করার দক্ষ শিল্পী ছিলেন। আহোম রাজারা হাতির দাঁতের তৈরি জিনিসপত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। মিস্টার আই ডুয়াল্ড-এর ‘Monogragh of Ivory Carving in Assam’ নামক গ্রন্থে অসমের হাতির দাঁত দিয়ে তৈরি সুন্দর সুন্দর জিনিস তৈরি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এই শিল্পীদের বলা হয় বক্তার খনিকড়।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৫: গাঙচিল

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৫: গাঙচিল

গাঙচিলদের প্রিয় খাদ্য হল মাছ, চিংড়ি ও মাছের পরিত্যক্ত অংশ। অবশ্য এগুলো হল ওদের শীতকালের খাবার। প্রজনন ঋতুতে ওরা এসব খাবার ছাড়াও পোকামাকড়, শুয়োপোকা, ইঁদুর, শামুক, ঝিনুক, কেঁচো ইত্যাদি খায়। সমুদ্রের বেলাভূমি ও নদীর মোহনা ছাড়াও এদের কৃষিজমিতেও দেখা যায় জানা গেছে। চাষের সময় মাঠে উঠে আসা নানা পোকামাকড় বা কৃষিজমিতে জমা জলে মাছ, চিংড়ি ইত্যাদিও খায়। অবশ্য কৃষিজমিতে গাঙচিলদের আমি কখনও দেখিনি।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৪: ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাগণ সাহিত্য সংস্কৃতির অকৃপণ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৪: ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাগণ সাহিত্য সংস্কৃতির অকৃপণ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন

পূর্বতন রাজাদের মতো বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্যও সাহিত্য সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাঁর উদ্যোগেই প্রকাশিত হয় ‘শ্রীরাজমালা’। তিনি পৃথক ভাবে ‘রাজমালা’ সংক্রান্ত গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যালয় স্হাপন করেছিলেন। ‘রবি’ সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশেও রাজা পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। বীরবিক্রম একজন কবি ও নাট্যকার ছিলেন। অবশ্য তাঁর সাহিত্য বিষয়ক তৎপরতা মূলত রাজপরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি হোলি বিষয়ক একটি সঙ্গীত গ্রন্হ রচনা করেছিলেন।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৪: ভুবন চিল ও শঙ্খচিল

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৪: ভুবন চিল ও শঙ্খচিল

কবি জীবনানন্দ দাশের এ স্বপ্ন মনে হয় আজ বাংলার সমস্ত প্রকৃতিপ্রেমিক, সমস্ত পক্ষিপ্রেমিকের স্বপ্ন। কারণ এই শস্যশ্যামলা বঙ্গভূমির সুনীল আকাশ থেকে শঙ্খচিলেরা মনে হয় সত্যিই হারিয়ে গিয়েছে। তাই পরজন্মে শঙ্খচিল হয়ে ফিরতে পারলে কী ভালোই না হত! আমাদের সুন্দরবন অঞ্চলে খুব ছোটো বেলা এদের দেখেছি। আজকাল আর দেখতে পাই না। ‘Chill’ হয়ে গিয়েছে চিলেদের আকাশ! তাই ওরা এখন আমার কাছে মন খারাপ করা কিছু স্মৃতি ছাড়া আর কিছু নয়।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৫: বীরবিক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ  হল নতুন ভাবে ‘রাজমালা’র প্রকাশ

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৩: শিক্ষা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষতায় বীরবিক্রম

ত্রিপুরার রাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য তাঁর পূর্বপুরুষদের মতোই ছিলেন শিক্ষা ও সংস্কৃতির গভীর অনুরাগী। রাজ্যে শিক্ষা বিস্তারে তিনি যেমন বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তেমনই সাহিত্য সংস্কৃতিরও উদার পৃষ্ঠপোষকতা করে গিয়েছেন এই রাজা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘ভারত ভাস্কর’ উপাধি দিয়েছিলেন তিনি। কলকাতায় রবীন্দ্র মেলার উদ্বোধন করেছেন বীরবিক্রম। কবির অনুরোধে শান্তিনিকেতন সফরও করেছেন তিনি।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫২: গায়ে মেখলা-চাদর, গলায় গয়না! বাহারি রূপে ধরা দেন অসমের নারী-পুরুষরা

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫২: গায়ে মেখলা-চাদর, গলায় গয়না! বাহারি রূপে ধরা দেন অসমের নারী-পুরুষরা

সম্ভ্রান্ত পরিবারের নারী-পুরুষেরা থুরিয়া দুল কানে পরেন। কিংকিনি নামক হারে ফুলের নকশা দেখা যায়। অসমের এই নিজস্ব শৈলীর গয়নাগুলিতে উজ্জ্বল লাল, দামি পাথর, রুবি বা মিনা ব্যবহার করা হয়। সোনার গয়নার উপর সবুজ, লাল বা কালো পাথরের কারুকার্যের জন্য এই সব গয়না খুবই রঙিন এবং জীবন্ত হয়ে উঠে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৩: জলপিপি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৩: জলপিপি

এক বছরে সাধারণত তিন-চারবার স্ত্রী ঘুঘু ডিম পাড়ে। সময় বিশেষে এর চেয়ে বেশিবারও ডিম পাড়তে পারে। স্ত্রী কণ্ঠী ঘুঘুর সঙ্গে মিলনে ইচ্ছুক পুরুষ কণ্ঠী ঘুঘু অন্যান্য ঘুঘুদের মতোই তার বিচিত্র ভঙ্গিমা প্রদর্শন করে। সে তার বসে থাকা অবস্থান থেকে দ্রুত ও সশব্দ ডানার সঞ্চালনের মাধ্যমে সোজা ওপরের দিকে অনেকটা উঠে যায়। তারপর ডানা ঝাপটানো বন্ধ করে দুটো ডানাকে দেহ থেকে কিছুটা নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিয়ে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে নিচের দিকে নেমে এসে যেখানে বসেছিল সেখানে ফিরে আসে।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬২: এক নির্বাসিত রাজপুত্রের কথা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬২: এক নির্বাসিত রাজপুত্রের কথা

মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেব এবং তাঁর অবিশ্বাসী, কূটিল চরিত্রের কথা আমরা কে না জানি! কিন্তু ঔরঙ্গজেব কন্যা জেবুন্নিসা বেগমের কথা? কেউ কেউ জানলেও বেশিরভাগই জানেন না এই জেবুন্নিসা ছিলেন তদানীন্তন মোগল ভারতের এক বিশিষ্ট কবি। একদিন এই কবির জীবনে নীরবে এসেছিল প্রেম। হতভাগ্য লাহোরের শাসনকর্তা আকিল খাঁ! সম্রাট দুহিতার সঙ্গে গোপন প্রণয়ের পরিণতিতে নির্মম ভাবে মৃত্যু ঘটেছিল তার।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫১: বানভাসি অসম

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫১: বানভাসি অসম

অসম একটি নদী মাতৃক রাজ্য। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদ এবং বরাক নদী। এ ছাড়া রয়েছে অনেক ছোট বড় নদী। ভরা বর্ষায় এই সব ছোট ছোট নদীও অনেক সময় বড় আকার ধারণ করে। ব্রহ্মপুত্র স্বমহিমায় অসমের বুকে প্রবাহিত হয়ে চলেছে। তেমনি হাজার হাজার মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-ভরসার কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে বরাক নদীর সঙ্গে। কত কত মানুষের দৈনন্দিন উপার্জন নির্ভর করে এই নদীগুলির উপর।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০২: কণ্ঠী ঘুঘু

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০২: কণ্ঠী ঘুঘু

কণ্ঠী ঘুঘু লম্বায় হয় ৩০ থেকে ৩৩ সেন্টিমিটার, আর ওজন হয় ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম। এদের পিঠের দিকের পালকের রং হালকা বাদামি বা বালিরঙা ধূসর। দুই ডানার রঙ কালচে ধূসর, আর প্রান্তের দিকের রং কালো। তবে বুকের কাছে রং সামান্য গোলাপি আভাযুক্ত। আর পেট ছাইরঙা। আগেই বলেছি এদের ঘাড়ের কাছে একটা কালো রঙের অসম্পূর্ণ বলয় আছে। এই বলয়টা আজকালকার দিনে অনেকে ঘাড়ে ইয়ারফোন ঝুলিয়ে রাখলে যেমন লাগে অনেকটা তেমন দেখায়!

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬১: বাংলা গদ্য-পদ্যের ইতিহাসে ত্রিপুরা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬১: বাংলা গদ্য-পদ্যের ইতিহাসে ত্রিপুরা

প্রাচীন বাংলা গদ্য সাহিত্য সৃষ্টির ইতিহাসের সঙ্গে কোচবিহারের নাম শুনে আসছি আমরা। সেই ষোড়শ শতকে দোর্দ্দন্ড প্রতাপ কোচ নৃপতি নরনারায়ণ আহোম রাজা চুকামফা স্বর্গদেবকে যে পত্র দিয়েছিলেন সেটাই বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রাচীনতম দলিল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই পত্র লেখার বহু বছর আগে, এমনকি ত্রিপুরায় বহুকথিত বহু চর্চিত ধর্ম্ম মানিক্যের আমলের 'রাজমালা' সৃষ্টিরও অনেক আগেই নাকি বাংলা গদ্যে লেখা হয়ে গিয়েছিল 'ত্রিপুরা রাজাবলী'। একদা এই গ্ৰন্হ আবিষ্কৃত হয়েছিল এশিয়াটিক সোসাইটির পুস্তকালয়ে। আর আবিষ্কারকর্তা...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০১: ছিট ঘুঘু

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০১: ছিট ঘুঘু

ঘুঘু পাখি সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় বেশি দেখা যায়। অবশ্যই স্ত্রী ও পুরুষ ছিট ঘুঘুর জোড়। কিন্তু বাইরে থেকে দেখে কোনটি স্ত্রী আর কোনটি পুরুষ চেনা যায় না। সারা বছর ধরেই এদের প্রজনন হলেও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রজননের হার বেশি। একটা স্ত্রী ও পুরুষ ছিট ঘুঘুর জোড় স্থায়ী হয়। অর্থাৎ কোনও জোড়ের একটি স্ত্রী বা পুরুষ পাখি, একাধিক সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে প্রজননে লিপ্ত হয় না। পুরুষ ছিট ঘুঘু বোঝা যায় আচার-আচরণ দেখে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০০: নীল কটকটিয়া

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০০: নীল কটকটিয়া

বছর পনেরো আগের কথা। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি। শীত যাই-যাই করছে। ক’দিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেদিন সকালে দাঁত মেজে চা খাওয়ার জন্য রান্নাঘরের সামনের ছোট্টো একফালি বারান্দায় বেঞ্চের উপর বসেছিলাম। সামনেই পুকুর। আর আমার থেকে আট-দশ ফুট দূরে পুকুর পাড়ে একটা মাঝারি সাইজের আমগাছ। দু’চারটে আমও ঝুলছিল সেই গাছ থেকে। সবে চায়ের কাপ হাতে নিয়েছি, হঠাৎই সেই আমগাছের দিক থেকে ভেসে এল একটা মৃদু শিসধ্বনি— ‘উই উই উই উই উই উই উই উই উইইইইইই’! চায়ের কাপ আর ঠোঁট পর্যন্ত পৌঁছোল না। শব্দটা কানে আটকে গেল। পাখির এমন ডাক তো আগে...

read more

Skip to content