এই দেশ এই মাটি

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭০: ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭০: ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে

বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ বাংলার স্বাধীনতা আন্দোলনের ছোঁয়া যখন ত্রিপুরায় লেগেছিল তখন আদিবাসীরা যে ভাবে বিপ্লবীদের সাহায্য করেছিলেন, কেউ কেউ বিপ্লবী তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, তেমনই ঊনবিংশ শতাব্দীতে সিপাহি বিদ্রোহের সময়ও বিদ্রোহী সিপাহিদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন পার্বত্য ত্রিপুরার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। দুই শতাব্দীর এই সব ঘটনাবলী বিশ্লেষণে এটা স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৫: অসমের কয়েকটি জনপ্রিয় খেলা

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৫: অসমের কয়েকটি জনপ্রিয় খেলা

খেলাধুলা মানুষের জীবনের অঙ্গ। আজকের এই ‘টু মিনিট নুডলস’ সময়ের দৌড়েও মানুষ কিন্তু তার বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে খেলতে এখনও পছন্দ করে। খেলাধুলা মানুষের মনে বিপুল আনন্দ প্রদান করে, জীবনী শক্তিতে ভরিয়ে দেয়। বৃহত্তর পরিসরে শুধুই মনোরঞ্জনের জন্য খেলা নয়, দেশ কিংবা রাজ্যের জন্য যখন খেলোয়াড়রা খেলেন তখন তার মধ্যে এক বিশেষ ভাবনা বা অনুভূতি কাজ করে।অসমে প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন ধরনের খেলা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ধোপখেল’। এই খেলাটি বল নিয়ে খেলা হয়। এতে ১১ জন করে দুটি দলের প্রয়োজন হয়। মাঠে ৪টি পতাকা থাকে। একটি...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১০: ভুতুম প্যাঁচা

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১০: ভুতুম প্যাঁচা

“প্যাঁচা কয় প্যাঁচানি, খাসা তোর চ্যাঁচানি। শুনে শুনে আনমন নাচে মোর প্রাণমন।” (প্যাঁচা আর প্যাঁচানি / সুকুমার রায়) প্যাঁচার চ্যাঁচানি শুনে প্যাঁচানির প্রাণ নেচে উঠলেও সাধারণ মানুষের কিন্তু বুক ধুকপুক করে ওঠে ভয়ে। কারণ প্যাঁচার ডাক। রাতের নিস্তব্ধতা খানখান করে যখন ‘তু-হু-হু’ কিংবা ‘বুম বুম’ শব্দে প্যাঁচা ডেকে ওঠে তখন গা ছমছম করে ওঠে। তার ওপর এদের মুখের গড়ন পাখিদের মতো নয়। মাথাটা চেহারার চেয়ে অনেক বড়। চ্যাপ্টা মুখমন্ডল। আর ড্যাবা-ড্যাবা দুটো চোখ মানুষের চোখের মতো থাকে মুখমন্ডলের সামনে। আবার এদের ঘোরাফেরা রাতের...

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৯: চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম কারিগর ছিলেন অম্বিকা চক্রবর্তী

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৯: চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম কারিগর ছিলেন অম্বিকা চক্রবর্তী

খিলাফৎ ও অসহযোগ আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে কৈলাসহরে যে ধর্মসভা স্হাপিত হয়েছিল তার নেতৃত্বে ছিলেন সতীশচন্দ্র চৌধুরী ও আব্দুল মুজাহির মজুমদার। ১৯৪২ সালে কৈলাসহর বাজার এলাকায় মিলন সমিতি নামে একটি সংগঠন গড়ে উঠেছিল। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের অন্যতম অম্বিকা চক্রবর্তী দু’বার কৈলাসহর সফর করে মিলন সমিতির সদস্যদের উৎসাহিত করেন। কৈলসহরের জনমানসেও সেদিন স্বদেশানুরাগের প্রাবল্য ছিল।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৯: কোটরে প্যাঁচা

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৯: কোটরে প্যাঁচা

ছোটবেলা থেকে সুন্দরবনের মানুষের মুখে শুনে এসেছি এই কোটরে প্যাঁচারা হল অলক্ষুণে। এদের দেখা বা এদের ডাক শোনা অমঙ্গলের প্রতীক। অবশ্য আমাদের বাড়িতে প্যাঁচাদের নিয়ে এমন কুসংস্কার কোনওদিনই ছিল না। কোটরে প্যাঁচার ডাক বেশিরভাগ মানুষের কাছে বিকট শোনালেও পৌরাণিক কাহিনিতে কিন্তু এর গুণগান করা হয়েছে। নারদ মুনিকে নাকি প্যাঁচার কাছে গান শেখার জন্য মানস সরোবরের কাছে পাঠানো হয়। আবার প্যাঁচাকেই জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা দিয়েছিল দোর্দন্ডপ্রতাপ মোঙ্গোল সম্রাট চেঙ্গিস খান। এ নিয়ে এক চিত্তাকর্ষক কাহিনি আছে।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৮: সভা-সমাবেশ বন্ধের জন্য ত্রিপুরার রাজ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলে ইংরেজরা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৮: সভা-সমাবেশ বন্ধের জন্য ত্রিপুরার রাজ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বলে ইংরেজরা

১৯২৭-২৮ সালের কোনও এক সময় কৈলাসহরের মনুভ্যালি চা বাগানে আত্মগোপন করেছিলেন বিখ্যাত বিপ্লবী দীনেশ গুপ্ত। পুলিশের চোখে ধূলো দিয়ে তিনি পালিয়ে এসেছিলেন সীমান্ত সংলগ্ন এই চা বাগানটিতে।বিখ্যাত অলিন্দ যুদ্ধের তিন নায়ক বিনয়-বাদল-দীনেশের কথা কে না জানে! কিন্তু এদের মধ্যে দীনেশ যে কিছু দিনের জন্য হলেও কৈলাসহরের মনুভ্যালিতে আত্মগোপন করে ছিলেন তা অনেকেরই অজানা। মনুভ্যালিতে থাকার সময়ে দীনেশের বিপ্লবী তৎপরতা সম্পর্কে অবশ্য কিছু জানা যায়নি।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৮: লক্ষ্মী প্যাঁচা

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৮: লক্ষ্মী প্যাঁচা

অন্যান্য পাখিদের মতো লক্ষ্মী প্যাঁচার নির্দিষ্ট কোনও ডাক নেই। শিকারের সময় এক রকম, প্রজননের সময় এক রকম, শিকার সেরে বাসায় ফিরে এক রকম, আবার ভয় পেলে আর একরকম শব্দ করে। কখনও তীক্ষ্ণ চ্যাঁ-চ্যাঁ, কখনও সাঁ-সাঁ, কখনও বা হিসহিস শব্দ শোনা যায়। সম্ভবতঃ জিভ সঞ্চালন করেই ওরা শব্দের এই বৈচিত্র্য আনে। তবে শব্দ যেমনই হোক না কেন রাতের আঁধারে ওই শব্দ শুনলে গা ছমছম করতে পারে।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৭: বিপ্লবীদের প্রতি রাজার গোপন সহানুভূতি ভালো চোখে দেখত না ইংরেজরা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৭: বিপ্লবীদের প্রতি রাজার গোপন সহানুভূতি ভালো চোখে দেখত না ইংরেজরা

বিপ্লবীদের প্রতি রাজার গোপন সহানুভূতি ছিল বলে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ প্রায়ই ত্রিপুরার রাজ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করত। বিপ্লবীদের প্রতি রাজ সরকারের গোপন নৈতিক সমর্থনও থাকত বলে কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন। একবার পিস্তল চুরির অভিযোগে দুজন বিপ্লবীকে ধরার জন্য কুমিল্লা পুলিশ পার্বত্য ত্রিপুরার সোনামুড়া অঞ্চলে প্রবেশ করলে রাজা আগে ভাগেই তাঁর লোকজন মারফৎ এই দুই বিপ্লবীকে পাহাড়ি এলাকার মাঝ দিয়ে রাজধানীতে নিরাপদে সরিয়ে আনেন।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৪: অসমের বিখ্যাত হস্তশিল্প

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৪: অসমের বিখ্যাত হস্তশিল্প

অসমের প্রাকৃতিক পরিবেশে অনেক রকমের বনজ উদ্ভিদ, গাছ দেখা যায়। এর মধ্যে বাঁশ গাছ বিশেষ উল্লেখ যোগ্য। অসমের মাটিতে অনেক রকমের বাঁশ গাছ জন্মায়। আর এই সব বাঁশ গাছের উৎপাদনও যথেষ্ট ভালো। বাঁশ-বেতের শিল্প অসমের বহু দিনের সম্পদ। অসমের এই হস্তশিল্পের চাহিদা সমগ্র ভারতে যেমন রয়েছে, তেমনি বিদেশেও এই বাঁশ বেতের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র সমাদৃত। অসম তথা সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় বহু প্রজাতির বাঁশ উৎপাদন হয়। উল্লেখ্য, সমগ্র পৃথিবীতে ৭৫ জাতির এবং ১২৫০ প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়। আর ভারতে তার ২২টি জাতি এবং ১২৬টি...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৭: আমুর বাজ

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৭: আমুর বাজ

আমুর বাজের আকার আগেই বলেছি অন্যান্য বাজের থেকে ছোট। আকারে প্রায় পায়রার মতো। ওজন মাত্র ১৮০ গ্রাম। এদের স্ত্রী পুরুষ আলাদা ভাবে চেনা যায়। পুরুষদের মাথা ও পিঠের রং কালচে ধূসর, গলা ও বুকের রং হালকা ধূসর এবং উদরের তলদেশের রং ইটের মতো। এদের পুরো পালক লালচে বাদামি এবং ডানার নিচের রং সাদা। স্ত্রী আমুর বাজের উপর দিকের রং হালকা ধূসর, মাথার রং স্লেট পাথরের মতো।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৬: সিপাহি বিদ্রোহের ছোঁয়া লেগেছিল ত্রিপুরাতেও

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৬: সিপাহি বিদ্রোহের ছোঁয়া লেগেছিল ত্রিপুরাতেও

ত্রিপুরার রাজাদেরও কেউ কেউ স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। ব্রিটিশদের প্রবল চাপের মধ্যে থাকায় তারা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নীরব সমর্থক ছিলেন বলে মনে হয়। বঙ্গভঙ্গ রদ আন্দোলনের সময় ত্রিপুরার সিংহাসনে ছিলেন রাধাকিশোর মাণিক্য।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৬: বাজ

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৬: বাজ

শাবাজ আকারে একটা দাঁড়কাকের সমান। কাঁধ বেশ চওড়া, শরীর গাঁট্টাগোট্টা, আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিশক্তি। অন্য পাখিদের তুলনায় এদের অক্ষিগোলক মনে হয় এজন্যই বেশ বড়ো। এদের পিঠের দিকের রং শ্লেটের মতো। মাথা আর মুখের দু’পাশের রং কালো। শরীরের নীচের দিকের রং লালচে-বাদামি এবং তার উপর খুব সরু কালো ডোরা। গলার রং সাদা। ডানাদুটো বেশ লম্বা আর ছুঁচালো। ডানার প্রান্ত কালো, আর তলার রং লালচে-বাদামি।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৫: বীরবিক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ  হল নতুন ভাবে ‘রাজমালা’র প্রকাশ

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬৫: বীরবিক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য কাজ হল নতুন ভাবে ‘রাজমালা’র প্রকাশ

বীরবিক্রমের সাহিত্য প্রতিভার কিছুটা আঁচ পাওয়া যায় তাঁর রচনায়। প্রত্যন্ত এক পার্বত্য রাজ্যের রাজা ভারতীয় সংস্কৃতির গভীরে ডুব দিয়ে তুলে ধরেন ভারতের উৎসব ঐতিহ্যকে। রাজার সোনামুড়া ও উদয়পুর ভ্রমণের বিবরণীতে রয়েছে তাঁর গদ্যের আরও নিদর্শন। ‘আমার সোনামুড়া ও উদয়পুর বিভাগ পরিভ্রমণ’ নামে রাজার ডায়েরী গ্রন্হ হিসেবে প্রকাশিত হয়।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৩: অসমের লুপ্তপ্রায় দুই বিখ্যাত কুটির শিল্প

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫৩: অসমের লুপ্তপ্রায় দুই বিখ্যাত কুটির শিল্প

আহোম রাজত্বে অসমের জোরহাটে এবং শিবসাগরে আতির দাঁতের সামগ্রী নির্মাণ করার দক্ষ শিল্পী ছিলেন। আহোম রাজারা হাতির দাঁতের তৈরি জিনিসপত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। মিস্টার আই ডুয়াল্ড-এর ‘Monogragh of Ivory Carving in Assam’ নামক গ্রন্থে অসমের হাতির দাঁত দিয়ে তৈরি সুন্দর সুন্দর জিনিস তৈরি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এই শিল্পীদের বলা হয় বক্তার খনিকড়।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৫: গাঙচিল

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৫: গাঙচিল

গাঙচিলদের প্রিয় খাদ্য হল মাছ, চিংড়ি ও মাছের পরিত্যক্ত অংশ। অবশ্য এগুলো হল ওদের শীতকালের খাবার। প্রজনন ঋতুতে ওরা এসব খাবার ছাড়াও পোকামাকড়, শুয়োপোকা, ইঁদুর, শামুক, ঝিনুক, কেঁচো ইত্যাদি খায়। সমুদ্রের বেলাভূমি ও নদীর মোহনা ছাড়াও এদের কৃষিজমিতেও দেখা যায় জানা গেছে। চাষের সময় মাঠে উঠে আসা নানা পোকামাকড় বা কৃষিজমিতে জমা জলে মাছ, চিংড়ি ইত্যাদিও খায়। অবশ্য কৃষিজমিতে গাঙচিলদের আমি কখনও দেখিনি।

read more

Skip to content