বুধবার ১৭ জুন, ২০২৬

এই দেশ এই মাটি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৩: জলপিপি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৩: জলপিপি

এক বছরে সাধারণত তিন-চারবার স্ত্রী ঘুঘু ডিম পাড়ে। সময় বিশেষে এর চেয়ে বেশিবারও ডিম পাড়তে পারে। স্ত্রী কণ্ঠী ঘুঘুর সঙ্গে মিলনে ইচ্ছুক পুরুষ কণ্ঠী ঘুঘু অন্যান্য ঘুঘুদের মতোই তার বিচিত্র ভঙ্গিমা প্রদর্শন করে। সে তার বসে থাকা অবস্থান থেকে দ্রুত ও সশব্দ ডানার সঞ্চালনের মাধ্যমে সোজা ওপরের দিকে অনেকটা উঠে যায়। তারপর ডানা ঝাপটানো বন্ধ করে দুটো ডানাকে দেহ থেকে কিছুটা নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিয়ে চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে নিচের দিকে নেমে এসে যেখানে বসেছিল সেখানে ফিরে আসে।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬২: এক নির্বাসিত রাজপুত্রের কথা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬২: এক নির্বাসিত রাজপুত্রের কথা

মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেব এবং তাঁর অবিশ্বাসী, কূটিল চরিত্রের কথা আমরা কে না জানি! কিন্তু ঔরঙ্গজেব কন্যা জেবুন্নিসা বেগমের কথা? কেউ কেউ জানলেও বেশিরভাগই জানেন না এই জেবুন্নিসা ছিলেন তদানীন্তন মোগল ভারতের এক বিশিষ্ট কবি। একদিন এই কবির জীবনে নীরবে এসেছিল প্রেম। হতভাগ্য লাহোরের শাসনকর্তা আকিল খাঁ! সম্রাট দুহিতার সঙ্গে গোপন প্রণয়ের পরিণতিতে নির্মম ভাবে মৃত্যু ঘটেছিল তার।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫১: বানভাসি অসম

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫১: বানভাসি অসম

অসম একটি নদী মাতৃক রাজ্য। এর মধ্যে প্রধান হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদ এবং বরাক নদী। এ ছাড়া রয়েছে অনেক ছোট বড় নদী। ভরা বর্ষায় এই সব ছোট ছোট নদীও অনেক সময় বড় আকার ধারণ করে। ব্রহ্মপুত্র স্বমহিমায় অসমের বুকে প্রবাহিত হয়ে চলেছে। তেমনি হাজার হাজার মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-ভরসার কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে বরাক নদীর সঙ্গে। কত কত মানুষের দৈনন্দিন উপার্জন নির্ভর করে এই নদীগুলির উপর।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০২: কণ্ঠী ঘুঘু

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০২: কণ্ঠী ঘুঘু

কণ্ঠী ঘুঘু লম্বায় হয় ৩০ থেকে ৩৩ সেন্টিমিটার, আর ওজন হয় ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম। এদের পিঠের দিকের পালকের রং হালকা বাদামি বা বালিরঙা ধূসর। দুই ডানার রঙ কালচে ধূসর, আর প্রান্তের দিকের রং কালো। তবে বুকের কাছে রং সামান্য গোলাপি আভাযুক্ত। আর পেট ছাইরঙা। আগেই বলেছি এদের ঘাড়ের কাছে একটা কালো রঙের অসম্পূর্ণ বলয় আছে। এই বলয়টা আজকালকার দিনে অনেকে ঘাড়ে ইয়ারফোন ঝুলিয়ে রাখলে যেমন লাগে অনেকটা তেমন দেখায়!

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬১: বাংলা গদ্য-পদ্যের ইতিহাসে ত্রিপুরা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬১: বাংলা গদ্য-পদ্যের ইতিহাসে ত্রিপুরা

প্রাচীন বাংলা গদ্য সাহিত্য সৃষ্টির ইতিহাসের সঙ্গে কোচবিহারের নাম শুনে আসছি আমরা। সেই ষোড়শ শতকে দোর্দ্দন্ড প্রতাপ কোচ নৃপতি নরনারায়ণ আহোম রাজা চুকামফা স্বর্গদেবকে যে পত্র দিয়েছিলেন সেটাই বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রাচীনতম দলিল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই পত্র লেখার বহু বছর আগে, এমনকি ত্রিপুরায় বহুকথিত বহু চর্চিত ধর্ম্ম মানিক্যের আমলের 'রাজমালা' সৃষ্টিরও অনেক আগেই নাকি বাংলা গদ্যে লেখা হয়ে গিয়েছিল 'ত্রিপুরা রাজাবলী'। একদা এই গ্ৰন্হ আবিষ্কৃত হয়েছিল এশিয়াটিক সোসাইটির পুস্তকালয়ে। আর আবিষ্কারকর্তা...

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০১: ছিট ঘুঘু

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০১: ছিট ঘুঘু

ঘুঘু পাখি সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় বেশি দেখা যায়। অবশ্যই স্ত্রী ও পুরুষ ছিট ঘুঘুর জোড়। কিন্তু বাইরে থেকে দেখে কোনটি স্ত্রী আর কোনটি পুরুষ চেনা যায় না। সারা বছর ধরেই এদের প্রজনন হলেও সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে প্রজননের হার বেশি। একটা স্ত্রী ও পুরুষ ছিট ঘুঘুর জোড় স্থায়ী হয়। অর্থাৎ কোনও জোড়ের একটি স্ত্রী বা পুরুষ পাখি, একাধিক সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে প্রজননে লিপ্ত হয় না। পুরুষ ছিট ঘুঘু বোঝা যায় আচার-আচরণ দেখে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০০: নীল কটকটিয়া

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০০: নীল কটকটিয়া

বছর পনেরো আগের কথা। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি। শীত যাই-যাই করছে। ক’দিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলাম। সেদিন সকালে দাঁত মেজে চা খাওয়ার জন্য রান্নাঘরের সামনের ছোট্টো একফালি বারান্দায় বেঞ্চের উপর বসেছিলাম। সামনেই পুকুর। আর আমার থেকে আট-দশ ফুট দূরে পুকুর পাড়ে একটা মাঝারি সাইজের আমগাছ। দু’চারটে আমও ঝুলছিল সেই গাছ থেকে। সবে চায়ের কাপ হাতে নিয়েছি, হঠাৎই সেই আমগাছের দিক থেকে ভেসে এল একটা মৃদু শিসধ্বনি— ‘উই উই উই উই উই উই উই উই উইইইইইই’! চায়ের কাপ আর ঠোঁট পর্যন্ত পৌঁছোল না। শব্দটা কানে আটকে গেল। পাখির এমন ডাক তো আগে...

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬০: কবিগুরুর শিলং সফর

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬০: কবিগুরুর শিলং সফর

১৩২৬ বঙ্গাব্দে (১৯১৯ সালে) কবি শিলং সফর করেন। সেবারই গুয়াহাটি হয়ে তাঁর মণিপুর যাবার কথা ছিল। ১৯১৯ সালের ৩০ অক্টোবর শিলং থেকে কবি লিখছেন—’কাল আমি শিলং ছেড়ে গৌহাটি যাবো-তারপর সেখান থেকে আমাদের মণিপুর যাবার কথা চলছে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য কবির আর মণিপুর যাওয়া হয়নি। কবি গুয়াহাটি হয়ে সিলেট যান। তারপর সিলেট থেকে আসেন ত্রিপুরায়।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫০: শিলচর শহরের অতীতের গল্প

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৫০: শিলচর শহরের অতীতের গল্প

“ঘড়িটি বলছে শুনো টিক টিক / সময় যায় যে উড়ে ঠিক ঠিক।” ছোটবেলায় পড়া একটি ছড়ার এই লাইনটি যে কতটা সত্যি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সূর্যচন্দ্র যেমন রোজ আমাদের সঙ্গে থাকে তেমনি সময়ের হাত ধরে পরিবর্তনও আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী হয়ে উঠে। তবে এই পরিবর্তনের চেহারা বড় শান্ত, বড় ধীর লয়ে চলে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-৯৯: বসন্ত-বৌরি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-৯৯: বসন্ত-বৌরি

বসন্ত বৌরি পাখি রূপে অতুলনীয়। তার বর্ণময়তা নয়নমনোহর। সারা পিঠ, ডানা, লেজ ও পেটের রঙ সবুজ। তবে পেটের সবুজ রঙ সামান্য ফিকে। চোখের উপর ও নিচে এবং গলায় উজ্জ্বল হলুদ রঙের ছোপ দেখে মনে হয় যেন গায়ে হলুদ মেখে বিয়ের পিঁড়িতে বসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে! কপাল আর বুকে টকটকে লাল ছোপ। চোখের হলুদ ও কপালের লাল ছোপের পেছনে এবং বুকের লাল ছোপের দু’পাশে কালো দাগ ছোপগুলোকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-৯৮: হরিয়াল

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-৯৮: হরিয়াল

পুকুরঘাটের পাশেই ছিল কয়েকটা বড় পেয়ারা গাছ ও সবেদা গাছ। যখন হরিয়ালদের ঝাঁক এসে সেই গাছে বসত তার ডানার শব্দ ঘরের মধ্যে থেকেই শোনা যেত। তখন মাকে বলতে শুনেছি, “ওই দেখ ঢপঢপে পাখিরা এসেছে।” অমনি ছুটতাম দেখার জন্য। খুঁজে পেতে কিন্তু বেশ সমস্যা হত কারণ গাছের সবুজ পাতার সঙ্গে ওদের গায়ের রঙ দারুণভাবে মিশে যেত।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৫৯: রবীন্দ্রনাথ আগরতলা ও সিলেটে মণিপুরী নৃত্য-গীত দেখে মুগ্ধ হন

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৫৯: রবীন্দ্রনাথ আগরতলা ও সিলেটে মণিপুরী নৃত্য-গীত দেখে মুগ্ধ হন

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের স্নেহ স্পর্শে শান্তিনিকেতনে কয়েকটি বছর কাটিয়েছিলেন নীলেশ্বর। এমন কি, শান্তিনিকেতনের সেদিনের ছাত্রী ইন্দিরা গান্ধীও তাঁর কাছে নৃত্যের তালিম নিয়েছিলেন। বিভিন্ন সঙ্গীতে মণিপুরী নৃত্য কৌশল সংযোজনেও নীলেশ্বরবাবুর অবদান ছিল। এই কাজে শান্তিদেব ঘোষ তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে জড়িত ছিলেন।

read more
ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৫৮: ‘চিত্রাঙ্গদা’ নৃত্যনাট্য দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলেছিল

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৫৮: ‘চিত্রাঙ্গদা’ নৃত্যনাট্য দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সাড়া ফেলেছিল

আধুনিক ভারতীয় নৃত্যকলার ক্ষেত্রে শান্তিনিকেতনের এই নৃত্য চর্চার ইতিহাস নিঃসন্দেহে এক অন্যতম আলোচনার বিষয়। ‘বহু’-কে ‘এক’-এর মধ্যে মেলানো যে রবীন্দ্র শিল্প চেতনার মূল লক্ষ্য-তাই প্রতিফলিত হয়েছে শান্তিনিকেতনের নৃত্য ধারায়। কবি শান্তিদেব ঘোষকে দেশ বিদেশের নানা জায়গায় পাঠিয়েছিলেন সেই সব এলাকার নৃত্যকলা রপ্ত করতে। শান্তিদেব নানা অঞ্চলের নৃত্যের নানা ভঙ্গি রপ্ত করেছিলেন। তিনি নানা ধারার নৃত্য শৈলীর মিশ্রণ ঘটিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে।

read more
অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৪৯: পান-সুপারি ছাড়া অসম্পূর্ণ অসমীয়া খাবারের থালি

অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৪৯: পান-সুপারি ছাড়া অসম্পূর্ণ অসমীয়া খাবারের থালি

অসমীয়াদের খাবার দাবার নিয়ে মজা করে বলা হয়, ‘খার খোয়া অসমীয়া’। এই ‘খার’ অসমীয়া রন্ধন শৈলীর এক উপকরণ। কলা গাছের একটি অংশ পুড়িয়ে ছাই তৈরি করে এই খার তৈরি করা হয়। এই খার রান্নায় ব্যবহার করা হয়। এই খার অসমীয়া রান্নায় এক বিষেশ ধরনের স্বাদ আনয়ন করে। তবে মূল উপাদান ভাত। ভাতের সঙ্গে খার মিশ্রিত বিভিন্ন রকমের রান্না থাকে। এক সময় নুনের বদলে খার রান্নায় ব্যবহার করা হত।

read more
সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-৯৭: পাতি সরালি

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-৯৭: পাতি সরালি

পাতি সরালি জলাশয়ের আশেপাশে বাসা বাঁধে। জলাশয়ের পাশে তাই ঝোপঝাড় থাকা খুব জরুরি। শুকনো লতাপাতা, ঘাস ইত্যাদি দিয়ে ঝোপঝাড়ের মধ্যে বাসা বানায়। তবে অল্প উচ্চতায় জলাশয়ের পাশে থাকা কোনও বৃক্ষের কোটরে কিংবা কাক, চিল ইত্যাদির পরিত্যক্ত বাসায় এদের ডিম পাড়তে দেখা গিয়েছে। নারকেল গাছেও বাসা করতে দেখা যায়।

read more

Skip to content