
মিঃ শর্মা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে শাক্যর মুখের দিকে তাকিয়ে অস্ফুট স্বরে বললেন, “ও মাই গস্! এ আমি কী দেখছি? রাতের বেলা হলে ভাবতাম ভূত দেখছি, কিন্তু এখন বেলা এগারোটা বাজে প্রায়, এখন কি…” তিনি বাক্যহারা হয়ে গেলেন।
শাক্য একদৃষ্টিতে পেশেন্টের স্ট্রেচারে শায়িত আন্তোনিওর মুখের দিকে তাকিয়েছিল। সেই অবস্থাতেই সে বলল, “ভূতেরা যে কেবল রাতের বেলা বেরোয়, এ কিন্তু আপনার ভুল ধারণা মিঃ শর্মা। আপনি ভূতেদের আন্ডার-এস্টিমেট করছেন। মানহানির মোকদ্দমা হতে পারে ভৌতিক আদালতে। আমাদের বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ঠিক দুক্কুর বেলা, ভূতে মারে ঢেলা! তা ভূতেরা যদি দুপুরবেলা না-ই বেরোয়, তাহলে ঢেলা মারবে কী করে শুনি? তাই তো ফাদার?”
ফাদার আন্তোনিও বাক্রহিত অবস্থায় তাকিয়ে ছিলেন অপর আন্তোনিওর দিকে। তার মনে কী খেলা করছিল, তা তিনিই জানেন। কিন্তু শাক্যর কথার কোন জবাব দিলেন না।
সুদীপ্ত বলল, “ফাদার আন্তোনিও ফাদার রডরিগকে সেবাযত্ন করতেন বলে শুনেছি। কিন্তু তার ফল যে এভাবে মারাত্মক হয়ে উঠেছে, এটা ধারণাতেও ছিল না। এ যে একেবারে অবিকল রূপ ধারণ করেছে। মনে হচ্ছে কেউ যেন, ফাদার আন্তোনিওকে ফোটোকপিয়ার মেশিনে ফেলে ডুপ্লিকেট বের করেছে! বাপস্, প্রকৃতির এমন খেল প্রথম দেখলাম, শুনলাম!”
“কেন সুদীপ্ত তুমি ট্যুয়াইন কেসগুলির কথা শোনোনি?” শাক্য জিজ্ঞাসা করল।
“শুনেছি স্যার, কিন্তু এভাবে দেখতে হবে কখন ভাবিনি! সে-কারণে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি অবাক হচ্ছি!”
“মাঝে মাঝে অবাক হওয়া ভালো বুঝলে। আর যখনই অবাক হবে, তখনই মনে-মনে ভাববে কেন অবাক হলাম? অবাক হওয়ার কি সত্যিই কোন সঙ্গত কারণ ছিল? দেখবে, তাতে বুদ্ধির গোড়ায় বেশ ধোঁয়া দিতে পারবে। বুদ্ধিও খোলতাই হবে!”
মিঃ শর্মা ফাদার আন্তোনিওর দিকে তাকিয়ে বললেন, “ফাদার, আপনি কি এ-ব্যাপারে কিছু বলবেন?”
ফাদার কোনও উত্তর দিলেন না এবারেও।
শাক্য একদৃষ্টিতে পেশেন্টের স্ট্রেচারে শায়িত আন্তোনিওর মুখের দিকে তাকিয়েছিল। সেই অবস্থাতেই সে বলল, “ভূতেরা যে কেবল রাতের বেলা বেরোয়, এ কিন্তু আপনার ভুল ধারণা মিঃ শর্মা। আপনি ভূতেদের আন্ডার-এস্টিমেট করছেন। মানহানির মোকদ্দমা হতে পারে ভৌতিক আদালতে। আমাদের বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, ঠিক দুক্কুর বেলা, ভূতে মারে ঢেলা! তা ভূতেরা যদি দুপুরবেলা না-ই বেরোয়, তাহলে ঢেলা মারবে কী করে শুনি? তাই তো ফাদার?”
ফাদার আন্তোনিও বাক্রহিত অবস্থায় তাকিয়ে ছিলেন অপর আন্তোনিওর দিকে। তার মনে কী খেলা করছিল, তা তিনিই জানেন। কিন্তু শাক্যর কথার কোন জবাব দিলেন না।
সুদীপ্ত বলল, “ফাদার আন্তোনিও ফাদার রডরিগকে সেবাযত্ন করতেন বলে শুনেছি। কিন্তু তার ফল যে এভাবে মারাত্মক হয়ে উঠেছে, এটা ধারণাতেও ছিল না। এ যে একেবারে অবিকল রূপ ধারণ করেছে। মনে হচ্ছে কেউ যেন, ফাদার আন্তোনিওকে ফোটোকপিয়ার মেশিনে ফেলে ডুপ্লিকেট বের করেছে! বাপস্, প্রকৃতির এমন খেল প্রথম দেখলাম, শুনলাম!”
“কেন সুদীপ্ত তুমি ট্যুয়াইন কেসগুলির কথা শোনোনি?” শাক্য জিজ্ঞাসা করল।
“শুনেছি স্যার, কিন্তু এভাবে দেখতে হবে কখন ভাবিনি! সে-কারণে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি অবাক হচ্ছি!”
“মাঝে মাঝে অবাক হওয়া ভালো বুঝলে। আর যখনই অবাক হবে, তখনই মনে-মনে ভাববে কেন অবাক হলাম? অবাক হওয়ার কি সত্যিই কোন সঙ্গত কারণ ছিল? দেখবে, তাতে বুদ্ধির গোড়ায় বেশ ধোঁয়া দিতে পারবে। বুদ্ধিও খোলতাই হবে!”
মিঃ শর্মা ফাদার আন্তোনিওর দিকে তাকিয়ে বললেন, “ফাদার, আপনি কি এ-ব্যাপারে কিছু বলবেন?”
ফাদার কোনও উত্তর দিলেন না এবারেও।
অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে স্ট্রেচারে যিনি শুয়ে ছিলেন, তিনি যে গুরুতর অসুস্থ, তা অবশ্য কাউকে বলে দিতে হল না। বোঝাই যাচ্ছিল। ক্ষীণকায় শরীর, অস্থিচর্মসার বলতে যা বোঝায় তাই, চোখ বন্ধ, সম্ভবত ঘুমাচ্ছেন কিংবা যাতে ঘুমিয়ে থাকেন, সেজন্য সিডেটিভ দেওয়া হয়েছে।
শাক্য ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেওয়া লোকটিকে হাতের ইশারায় ডাকল। লোক না বলে যুবক বলাই সঙ্গত। চোখের চাউনি চঞ্চল। তার অর্থ মনে পাপ আছে। ধরা পড়ার ভয়ও আছে। ইচ্ছাকৃত সতর্কতা দেখাতে গেলে চোখ এভাবেই চঞ্চল হয়ে ওঠে। একে ভাক্লো করে বাজাতে হবে।
তরুণ ডাক্তারটি কাছে এলে শাক্য বলল, “ডক্টর, আপনি এমবিবিএস নাকি এমডি করেছেন?”
“এমবিবিএস। এমডির সুযোগ পাইনি এখনও!” জিভ দিয়ে বারদুয়েক নিচের ঠোঁট চেটে নিল সে।
“তাহলে নিশ্চয়ই মানবেন, এই যিনি শুয়ে আছেন, তাঁর নাম যাই হোক না কেন, তাঁকে যদি আর-একটু বেটার ডক্টর দেখান হয়, যিনি এমডি এবং অভিজ্ঞতার দিক থেকে বয়স্ক, হাতযশও আছে, তেমন ডক্টরকে দেখালে সিওর বেটার ইমপ্রুভমেন্ট হতে পারত। তাই না?”
“হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। বিশেষজ্ঞ সব সময়েই বিশেষজ্ঞ। আমরাও কোন সমস্যায় পড়লে তাঁদেরই পরামর্শ নিই!”
“বাহ্, বেশ। শুনে খুশি হলাম। আপনার মধ্যে সত্যটাকে স্বীকার করার সৎ-সাহস আছে। আচ্ছা, আপনি যখন ফাফদারকে দেখছেন, তখন নিশ্চয়ই আপনি তাঁর অসুস্থতার নিদান দিয়েছেন, আই মিন প্রেসক্রিপশান?”
“হ্যাঁ। অফকোর্স!”
“তাহলে একটু ভেবে বলবেন, সেখানে এঁর নামের জায়গায় কী লিখেছিলেন?”
“ফাদার রডরিগকে ফাদার রডরিগ বলেই তো লিখ, তাও না?”
“সে-তো আপনিই জানেন। সেই কারণেই তো আপনাকেই জিজ্ঞাসা করছি। বলুন। মনে রাখবেন, আপনার বয়ান কিন্তু আদালতে পেশ করা হবে মহামান্য বিচারপতির টেবিলে। সুতরাং যা বলবেন ভেবেচিন্তে বলবেন!”
ডাক্তার ঢোঁক গিলল। তারপর জিভ দিয়ে নিচের ঠোঁট চেটে বলল, “মনে করতে পারছি না। আমার তো আর একটাই পেশেন্ট নেই!”
“তবুও…! সব পেশেন্ট নিশ্চয়ই চার্চের প্রধান পাদরী নয়! সেক্ষেত্রে স্পেশাল কেস বলে ফাদারের কথা আপনার মনে থাকাই উচিত। বলুন, কী নাম লিখেছিলেন? আর এজ?”
“আমার ম…” কঁকিয়ে কঁকিয়ে বলে উঠল তরুণ ডাক্তার।
শাক্য ডাক্তার হিসেবে পরিচয় দেওয়া লোকটিকে হাতের ইশারায় ডাকল। লোক না বলে যুবক বলাই সঙ্গত। চোখের চাউনি চঞ্চল। তার অর্থ মনে পাপ আছে। ধরা পড়ার ভয়ও আছে। ইচ্ছাকৃত সতর্কতা দেখাতে গেলে চোখ এভাবেই চঞ্চল হয়ে ওঠে। একে ভাক্লো করে বাজাতে হবে।
তরুণ ডাক্তারটি কাছে এলে শাক্য বলল, “ডক্টর, আপনি এমবিবিএস নাকি এমডি করেছেন?”
“এমবিবিএস। এমডির সুযোগ পাইনি এখনও!” জিভ দিয়ে বারদুয়েক নিচের ঠোঁট চেটে নিল সে।
“তাহলে নিশ্চয়ই মানবেন, এই যিনি শুয়ে আছেন, তাঁর নাম যাই হোক না কেন, তাঁকে যদি আর-একটু বেটার ডক্টর দেখান হয়, যিনি এমডি এবং অভিজ্ঞতার দিক থেকে বয়স্ক, হাতযশও আছে, তেমন ডক্টরকে দেখালে সিওর বেটার ইমপ্রুভমেন্ট হতে পারত। তাই না?”
“হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। বিশেষজ্ঞ সব সময়েই বিশেষজ্ঞ। আমরাও কোন সমস্যায় পড়লে তাঁদেরই পরামর্শ নিই!”
“বাহ্, বেশ। শুনে খুশি হলাম। আপনার মধ্যে সত্যটাকে স্বীকার করার সৎ-সাহস আছে। আচ্ছা, আপনি যখন ফাফদারকে দেখছেন, তখন নিশ্চয়ই আপনি তাঁর অসুস্থতার নিদান দিয়েছেন, আই মিন প্রেসক্রিপশান?”
“হ্যাঁ। অফকোর্স!”
“তাহলে একটু ভেবে বলবেন, সেখানে এঁর নামের জায়গায় কী লিখেছিলেন?”
“ফাদার রডরিগকে ফাদার রডরিগ বলেই তো লিখ, তাও না?”
“সে-তো আপনিই জানেন। সেই কারণেই তো আপনাকেই জিজ্ঞাসা করছি। বলুন। মনে রাখবেন, আপনার বয়ান কিন্তু আদালতে পেশ করা হবে মহামান্য বিচারপতির টেবিলে। সুতরাং যা বলবেন ভেবেচিন্তে বলবেন!”
ডাক্তার ঢোঁক গিলল। তারপর জিভ দিয়ে নিচের ঠোঁট চেটে বলল, “মনে করতে পারছি না। আমার তো আর একটাই পেশেন্ট নেই!”
“তবুও…! সব পেশেন্ট নিশ্চয়ই চার্চের প্রধান পাদরী নয়! সেক্ষেত্রে স্পেশাল কেস বলে ফাদারের কথা আপনার মনে থাকাই উচিত। বলুন, কী নাম লিখেছিলেন? আর এজ?”
“আমার ম…” কঁকিয়ে কঁকিয়ে বলে উঠল তরুণ ডাক্তার।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৮২: ডাবল ধামাকা

সংস্কৃত দিবস

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১১১ : কবি রাজার বিবসনা রমণীর চিত্রাঙ্কন / ৪

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৭৪: সোনার হরিণ কোথায় নেই? আছে সর্বত্র
“আজকাল সমস্ত ডক্টররা তাঁদের প্রেসক্রিপশনের ডুপ্লিকেট কপি রাখে। আপনারাও রাখা সঙ্গত। সেগুলি একটু দেখতে চাই।”
“কিন্তু আমি রাখি না। চার্চের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা আছে, তাঁরা এ-ব্যাপারে সাহায্য করলেও করতে পারেন। আমি না!”
“এক কাজ করুন, আপনি চার্চ-হাসপাতালে ফোন করে প্রেসক্রিপশনটা আনাবার ব্যবস্থা করুন। এক্ষুনি! নিন, হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকবেন না। না বোঝার মতো কিছু বলিনি। আপনি নিজেই বলেছেন, চার্চের হাসপাতালে প্রেসক্রিপশনসহ যাবতীয় ট্রিটিমেন্টের খুঁটিনাটির ব্যাক-আপ থাকে। এক্ষুনি সেগুলি ফাইল করে আপনাকে মেইল করতে বলুন। নাহলে কিন্তু আপনাকে অ্যারেস্ট করতে বাধ্য হব!”
“ফাদার, আপনি বলুন না…! তার চোখে কাতর অনুনয়।
“আমি কী করে জানব? তোমরা কে কী ভুলভাল কাজ করছ, তার খেসারৎ আমায় দিতে হবে কেন?” ফাদার দাঁতমুখ খিঁচিয়েই বললেন প্রায়। তাঁর মাথার দীর্ঘ চুল অবিন্যস্ত হয়ে কেমন যেন লাগছে, চোখে গভীর শঙ্কার মেঘ কিংবা কালি!
“চিকিৎসায় ভুলত্রুটি কিছু পেলে আমাদের দোষ তাতে ষোলো আনা সন্দেহ নেই। কিন্তু কোন ব্যক্তি, যাঁর সঙ্গে আবার চার্চের নিবিড় সম্পর্ক, তাঁর সঠিক নামটা কি চার্চেরই আগে থেকে বলে দেওয়া উচিৎ নয়? তাছাড়া আপনিই তো এই আজ সকালেও চার্চের সর্বনিয়ন্তা শক্তি ছিলেন?” ইনি ফাদার রডরিগ নাকি অন্য কেউ, তা বলতে পারছেন না?” তরুণ ডাক্তার এবার প্রতিবাদী হয়ে উঠল। যদিও ফাদারের তাতে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। তিনি ভাবলেশহীন মুখে তাকিয়ে রইলেন কেবল।
“কিন্তু আমি রাখি না। চার্চের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা আছে, তাঁরা এ-ব্যাপারে সাহায্য করলেও করতে পারেন। আমি না!”
“এক কাজ করুন, আপনি চার্চ-হাসপাতালে ফোন করে প্রেসক্রিপশনটা আনাবার ব্যবস্থা করুন। এক্ষুনি! নিন, হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকবেন না। না বোঝার মতো কিছু বলিনি। আপনি নিজেই বলেছেন, চার্চের হাসপাতালে প্রেসক্রিপশনসহ যাবতীয় ট্রিটিমেন্টের খুঁটিনাটির ব্যাক-আপ থাকে। এক্ষুনি সেগুলি ফাইল করে আপনাকে মেইল করতে বলুন। নাহলে কিন্তু আপনাকে অ্যারেস্ট করতে বাধ্য হব!”
“ফাদার, আপনি বলুন না…! তার চোখে কাতর অনুনয়।
“আমি কী করে জানব? তোমরা কে কী ভুলভাল কাজ করছ, তার খেসারৎ আমায় দিতে হবে কেন?” ফাদার দাঁতমুখ খিঁচিয়েই বললেন প্রায়। তাঁর মাথার দীর্ঘ চুল অবিন্যস্ত হয়ে কেমন যেন লাগছে, চোখে গভীর শঙ্কার মেঘ কিংবা কালি!
“চিকিৎসায় ভুলত্রুটি কিছু পেলে আমাদের দোষ তাতে ষোলো আনা সন্দেহ নেই। কিন্তু কোন ব্যক্তি, যাঁর সঙ্গে আবার চার্চের নিবিড় সম্পর্ক, তাঁর সঠিক নামটা কি চার্চেরই আগে থেকে বলে দেওয়া উচিৎ নয়? তাছাড়া আপনিই তো এই আজ সকালেও চার্চের সর্বনিয়ন্তা শক্তি ছিলেন?” ইনি ফাদার রডরিগ নাকি অন্য কেউ, তা বলতে পারছেন না?” তরুণ ডাক্তার এবার প্রতিবাদী হয়ে উঠল। যদিও ফাদারের তাতে কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না। তিনি ভাবলেশহীন মুখে তাকিয়ে রইলেন কেবল।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!, পর্ব-১৫০: হার্ড ড্রাইভ হত্যারহস্য / ৩০

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৮: স্তাবক-পরিবেষ্টিত রাজা কেবল অন্ধই হন না, নিজের দুর্গেই জ্যান্ত সেদ্ধ হন!
শাক্য এইসময় শায়িত দ্বিতীয় আন্তোনিওএ নাড়ি পরীক্ষা করল। নাড়ির গতি দুর্বল, তবে নিয়মিত। চেষ্টা করলে প্রাণে বাঁচানো অসম্ভব নয়। মনে মনে ভাবল সে, আগে এঁকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করতে হবে। নাহলে অপরাধী-পুলিশ দ্বৈরথে এই দ্বিতীয় আন্তোনিওর প্রাণ বিপন্ন হলেই বিপদ। সে সুদীপ্তকে বলল, “সুদীপ্ত তুমি একবার এসপি সাহেবকে ফোন কর। আমার নাম করে বলবে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে উইথ সরকারি ডক্টর, নার্স অ্যাণ্ড লাইফ-সাপোর্ট। যেভাবেই হোক এই দ্বিতীয় ফাদার আন্তোনিওকে বাঁচাতেই হবে।”
তরুণ ডাক্তারটি প্রতিবাদ করে উঠল। বলল, “স্যার, উনি আমাদের পেশেন্ট। চার্চের দায়িত্ব ওঁকে প্রয়োজনমতো কোথায় ট্রিটমেন্ট করতে হবে তা ঠিক করা। এভাবে আপনারা পেশেন্টকে ইচ্ছেমতো যেখানে খুশি নিয়ে যেতে পারেন না। আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি!”
“সেই প্রতিবাদ আপাতত থানায় গিয়ে জানাবেন। আর আমাদের কী করা উচিৎ, কী করা উচিত নয়, সে-বিষয়ে আপনি মাথা না ঘামিয়ে পেশেন্টের কী নাম লিখেছিলেন, সেটা মনে করুন। আমি দ্যাম শিওর যে, ফাদার আন্তোনিও লেখেননি। অন্য কোন নাম লিখেছেন। কারণ, এই চার্চে দু’জন ফাদার আন্তোনিও থাকতে পারেন না! সুদীপ্ত তুমি দেরি কর না। ফোনটা কর। আমাদের প্রতিটা মুহূর্ত মূল্যবান!”
“লুক, অফিসার!” ফাদার আন্তোনিও এতক্ষণে সরব হলেন, “পেশেন্ট আমার মতো দেখতে, এটা পৃথিবীর কোনও কোর্টের কাছেই অপরাধ বলে গণয় হবে না। তাই না ? আর এটা ছাড়া আপনি কিন্তু আর কোনও অপরাধ বা অন্যায়ের স্ট্রেস খুঁজে পাননি অ্যাম্বুলেন্স থেকে। অতএব আমার বিশ্বাস, পেশেন্টকে নিয়ে আমরা আমাদের গন্তব্যে রওনা দিতে পারি…!”
“এখনই নয় ফাদার। আগে সরকারি চিকিৎসক এসে দেখুন, রিপোর্ট দিন, তারপর ডিসাইড করব আমরা যে, আপনাদের ছেড়ে দেওয়া হবে কী হবে না!”
“আপনি কিন্তু আমাকে বাধ্য করছেন, কোর্টে ছুটতে! আর তাছাড়া, চার্চের হাত কিন্তু অনেক ওপর পর্যন্ত লম্বা। একটা ফোন করলেই…”
“করুন। কাকে ফোন করবেন করুন। তার আগে একটা জবাব দিন। এঁর আসল নাম কী?”
“আমি বলব না!” ফাদার একগুঁয়ে মুখ করে বললেন।
“আমি হিন্টস্ দিচ্ছি। দেখুন মনে করে। আপনি পেনসেলভেনিয়ার বাসিন্দা। সেখানে আপনাদের বংশের বেশ নাম আছে। আপনারা তিন ভাই। এক ভাই, ধরে নিলাম, আপনি, চার্চে যোগ দিয়েছেন, আর এক ভাই পেনসেলভেনিয়াতেই থাকেন, মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত একজন বিজনেসম্যান, বাকি রইল আর এক ভাই। অনেকদিন আগে কুসঙ্গে পড়ে সেই ভাই নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে আর কোন খোঁজ নেই তার। সকলেই ধরে নিয়েছে, সেই ভাই আর বেঁচে নেই। আর সেই নিরুদ্দেশ ভাইটি ছিল আপনার যমজ। কী ঠিক তো?”
তরুণ ডাক্তারটি প্রতিবাদ করে উঠল। বলল, “স্যার, উনি আমাদের পেশেন্ট। চার্চের দায়িত্ব ওঁকে প্রয়োজনমতো কোথায় ট্রিটমেন্ট করতে হবে তা ঠিক করা। এভাবে আপনারা পেশেন্টকে ইচ্ছেমতো যেখানে খুশি নিয়ে যেতে পারেন না। আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি!”
“সেই প্রতিবাদ আপাতত থানায় গিয়ে জানাবেন। আর আমাদের কী করা উচিৎ, কী করা উচিত নয়, সে-বিষয়ে আপনি মাথা না ঘামিয়ে পেশেন্টের কী নাম লিখেছিলেন, সেটা মনে করুন। আমি দ্যাম শিওর যে, ফাদার আন্তোনিও লেখেননি। অন্য কোন নাম লিখেছেন। কারণ, এই চার্চে দু’জন ফাদার আন্তোনিও থাকতে পারেন না! সুদীপ্ত তুমি দেরি কর না। ফোনটা কর। আমাদের প্রতিটা মুহূর্ত মূল্যবান!”
“লুক, অফিসার!” ফাদার আন্তোনিও এতক্ষণে সরব হলেন, “পেশেন্ট আমার মতো দেখতে, এটা পৃথিবীর কোনও কোর্টের কাছেই অপরাধ বলে গণয় হবে না। তাই না ? আর এটা ছাড়া আপনি কিন্তু আর কোনও অপরাধ বা অন্যায়ের স্ট্রেস খুঁজে পাননি অ্যাম্বুলেন্স থেকে। অতএব আমার বিশ্বাস, পেশেন্টকে নিয়ে আমরা আমাদের গন্তব্যে রওনা দিতে পারি…!”
“এখনই নয় ফাদার। আগে সরকারি চিকিৎসক এসে দেখুন, রিপোর্ট দিন, তারপর ডিসাইড করব আমরা যে, আপনাদের ছেড়ে দেওয়া হবে কী হবে না!”
“আপনি কিন্তু আমাকে বাধ্য করছেন, কোর্টে ছুটতে! আর তাছাড়া, চার্চের হাত কিন্তু অনেক ওপর পর্যন্ত লম্বা। একটা ফোন করলেই…”
“করুন। কাকে ফোন করবেন করুন। তার আগে একটা জবাব দিন। এঁর আসল নাম কী?”
“আমি বলব না!” ফাদার একগুঁয়ে মুখ করে বললেন।
“আমি হিন্টস্ দিচ্ছি। দেখুন মনে করে। আপনি পেনসেলভেনিয়ার বাসিন্দা। সেখানে আপনাদের বংশের বেশ নাম আছে। আপনারা তিন ভাই। এক ভাই, ধরে নিলাম, আপনি, চার্চে যোগ দিয়েছেন, আর এক ভাই পেনসেলভেনিয়াতেই থাকেন, মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত একজন বিজনেসম্যান, বাকি রইল আর এক ভাই। অনেকদিন আগে কুসঙ্গে পড়ে সেই ভাই নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে আর কোন খোঁজ নেই তার। সকলেই ধরে নিয়েছে, সেই ভাই আর বেঁচে নেই। আর সেই নিরুদ্দেশ ভাইটি ছিল আপনার যমজ। কী ঠিক তো?”
আরও পড়ুন:

জন্মশতবর্ষে উত্তমকুমার : শতফুল বিকশিত হোক

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৬৪: গোখরো
ফাদার বিস্ময়বিস্ফারিত চোখে শাক্যর দিকে তাকিয়েছিলেন। শাক্য যে তাঁর নাড়িনক্ষত্র ইতিমধ্যেই জেনে ফেলেছে, এটা তিনি স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি। চমকে উঠে বললেন, “এ-সব কোথা থেকে আপনি জানলেন?”
“ফ্রম হর্সেস মাউথ! এখন প্রশ্ন, আপনার সেই যমজ ভাইয়ের নাম কী ছিল?”
“তার কথা এখানে উঠছে কেন ? আপনি কি মনে করেন, ওই যিনি অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে আছেন, তিনি আমার সেই মৃত যমজ ভাই? যত্ত সব অ্যাবসার্ড কথাবার্তা! তাছাড়া আমার সঙ্গে আমার পরিবারের সম্পর্ক অনেকদিন আগেই বিচ্ছিন্ন হয়েছে, এখন আমি যে জীবন কাটাচ্ছি, সেখানে ফেলে আসা পরিবারের প্রসঙ্গ উঠতেই পারে না। অতএব সে-সব কথা জানতে চাওয়াও অপরাধ!”
“তাহলে আপনি বলবেন না? বেশ, ঠিক আছে, আমরা অবশ্য ঠিক জেনে যাব!”
“বেশ, বলছি। তার নাম জেনে যদি আপনারম শান্তি হয়, তাহলে বলছি। তার নাম, আনাতোল…”
“এই পেশেন্ট যে আনাতোল নয়, তা আপনি নিশ্চিত হলেন কী করে?”
“আচ্ছা কথা বলছেন তো? আমার যমজ ভাই হলে আমি চিনতে পারব না? এ কখনই আনাতোল নয়, যে মারা গিয়েছে, সে কীভাবে আনাতোল হবে? একে আমরা অসুস্থ অবস্থায় একটি রেলস্টেশন থেকে নিয়ে এসেছিলাম। এইজাতীয় কাজ করা চার্চের ডিউটির মধ্যে পড়ে। তখনই চেহারার সিমিলারিটি দেখে আমরা অবাক হয়ে যাই। ডক্টররা বলেন, সিয়ামিজ ট্যুইনের মতো সারা পৃথিবীতে একই রকম দেখতে চারজন মানুষ থাকেন। এই মানুষটি তেমনই হয়ত অনাকটা আমার ক্লোন। কিন্তু এ আনাতোল নয়। আনাতোলের ডান কানে একটা তিল ছিল…! জন্মতিল। এর কানে কোন তিল নেই!”
“ফ্রম হর্সেস মাউথ! এখন প্রশ্ন, আপনার সেই যমজ ভাইয়ের নাম কী ছিল?”
“তার কথা এখানে উঠছে কেন ? আপনি কি মনে করেন, ওই যিনি অ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে আছেন, তিনি আমার সেই মৃত যমজ ভাই? যত্ত সব অ্যাবসার্ড কথাবার্তা! তাছাড়া আমার সঙ্গে আমার পরিবারের সম্পর্ক অনেকদিন আগেই বিচ্ছিন্ন হয়েছে, এখন আমি যে জীবন কাটাচ্ছি, সেখানে ফেলে আসা পরিবারের প্রসঙ্গ উঠতেই পারে না। অতএব সে-সব কথা জানতে চাওয়াও অপরাধ!”
“তাহলে আপনি বলবেন না? বেশ, ঠিক আছে, আমরা অবশ্য ঠিক জেনে যাব!”
“বেশ, বলছি। তার নাম জেনে যদি আপনারম শান্তি হয়, তাহলে বলছি। তার নাম, আনাতোল…”
“এই পেশেন্ট যে আনাতোল নয়, তা আপনি নিশ্চিত হলেন কী করে?”
“আচ্ছা কথা বলছেন তো? আমার যমজ ভাই হলে আমি চিনতে পারব না? এ কখনই আনাতোল নয়, যে মারা গিয়েছে, সে কীভাবে আনাতোল হবে? একে আমরা অসুস্থ অবস্থায় একটি রেলস্টেশন থেকে নিয়ে এসেছিলাম। এইজাতীয় কাজ করা চার্চের ডিউটির মধ্যে পড়ে। তখনই চেহারার সিমিলারিটি দেখে আমরা অবাক হয়ে যাই। ডক্টররা বলেন, সিয়ামিজ ট্যুইনের মতো সারা পৃথিবীতে একই রকম দেখতে চারজন মানুষ থাকেন। এই মানুষটি তেমনই হয়ত অনাকটা আমার ক্লোন। কিন্তু এ আনাতোল নয়। আনাতোলের ডান কানে একটা তিল ছিল…! জন্মতিল। এর কানে কোন তিল নেই!”
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

এআই যুগেও উপনিষদের আবেদন অমলিন, কেন?
শাক্য এগিয়ে গিয়ে ঝুঁকে পড়ে শায়িত দ্বিতীয় আন্তোনিওর ডান কান পরীক্ষা করল। নাহ্, সত্যিই সেখানে কোনও তিল নেই। সে সোজা হয়ে বলল, “হ্যাঁ, আপনি ঠিক বলেছেন, এঁর ডান কানে কোন তিল নেই!”
“যাক্, এতক্ষণে যে মানলেন, এ আমার যমজ ভাই আনাতোল নয়, তাতেই খুশি হলাম। প্রভু যিশু আপনার যাবতীয় অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করুন!”
“করেছেন। আমি বলেছি, শায়িত অসুস্থ মানুষটি আনাতোল নয়, কারণ, আপনার কথামতো আনাতোলের ডান কানে একটা তিল ছিল। জন্মতিল। এঁর কানেও নেই। কিন্তু আমি যে এখন আপনার ডান কান পরীক্ষা করিনি ফাদার…”
ফাদার চিৎকার করে উঠলেন, “কী বলতে চাইছেন কী?”
“বলতে চাইছি, আপনার কথাই ঠিক। এই মানুষটি কীভাবে আনাতোল হবে? আনাতোল যখন স্বয়ং সামনে দাঁড়িয়ে ফাদার আন্তোনিওর ভূমিকায় অভিনয় করছে!”
“কী?” এবারের চিৎকারটি সকলের। মায় ডাক্তারেরও।
“হ্যাঁ। আপনাদের সামনে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন সুস্থ-সবল শরীরে, তিনিই আনাতোল, ফাদার আন্তোনিওর হারিয়ে যাওয়া যমজ ভাই। আর যিনি অসুস্থ অবস্থায় স্ট্রেচারে শুয়ে আছেন, তিনিই হলেন, আসল ফাদার আন্তোনিও। কী ঠিক বলছি তো আনাতোল?”
ফাদার আন্তোনিও ওরফে আনাতোলের মুখ থেকে দ্রুত কেউ রক্ত শুষে নিচ্ছিল। কপালে বিন্দু-বিন্দু ঘাম। তিনি পকেটে হাত দিলেন। রুমাল বের করার জন্য হয়তো। কিন্তু না! মুহূর্তে তাঁর হাতে উঠে এল রিভলভার। সেটি তাক করে বললেন, কেউ যদি আমাকে ধরার চেষ্টা করেন তো আমি ওই আন্তোনিও-সমেত আপনাদের এখানেই শ্যুট করব। আমার এটা অটোমেটিক রিভলভার। ছ’টা বুলেট আছে এতে। আর আনাতোলের নিশানা কখন টার্গেট মিস্ করে না!” —চলবে।
“যাক্, এতক্ষণে যে মানলেন, এ আমার যমজ ভাই আনাতোল নয়, তাতেই খুশি হলাম। প্রভু যিশু আপনার যাবতীয় অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করুন!”
“করেছেন। আমি বলেছি, শায়িত অসুস্থ মানুষটি আনাতোল নয়, কারণ, আপনার কথামতো আনাতোলের ডান কানে একটা তিল ছিল। জন্মতিল। এঁর কানেও নেই। কিন্তু আমি যে এখন আপনার ডান কান পরীক্ষা করিনি ফাদার…”
ফাদার চিৎকার করে উঠলেন, “কী বলতে চাইছেন কী?”
“বলতে চাইছি, আপনার কথাই ঠিক। এই মানুষটি কীভাবে আনাতোল হবে? আনাতোল যখন স্বয়ং সামনে দাঁড়িয়ে ফাদার আন্তোনিওর ভূমিকায় অভিনয় করছে!”
“কী?” এবারের চিৎকারটি সকলের। মায় ডাক্তারেরও।
“হ্যাঁ। আপনাদের সামনে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন সুস্থ-সবল শরীরে, তিনিই আনাতোল, ফাদার আন্তোনিওর হারিয়ে যাওয়া যমজ ভাই। আর যিনি অসুস্থ অবস্থায় স্ট্রেচারে শুয়ে আছেন, তিনিই হলেন, আসল ফাদার আন্তোনিও। কী ঠিক বলছি তো আনাতোল?”
ফাদার আন্তোনিও ওরফে আনাতোলের মুখ থেকে দ্রুত কেউ রক্ত শুষে নিচ্ছিল। কপালে বিন্দু-বিন্দু ঘাম। তিনি পকেটে হাত দিলেন। রুমাল বের করার জন্য হয়তো। কিন্তু না! মুহূর্তে তাঁর হাতে উঠে এল রিভলভার। সেটি তাক করে বললেন, কেউ যদি আমাকে ধরার চেষ্টা করেন তো আমি ওই আন্তোনিও-সমেত আপনাদের এখানেই শ্যুট করব। আমার এটা অটোমেটিক রিভলভার। ছ’টা বুলেট আছে এতে। আর আনাতোলের নিশানা কখন টার্গেট মিস্ করে না!” —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















