
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
ওয়েলেসলি জুটমিলের টাইম অফিসের কর্মী ছিল দুলাল সেন। মজদুর ইউনিয়নের সেই জুটমিলের মালিক কানাইলাল মহেশ্বরী। আরও আনুষাঙ্গিক ক’জন। সেই ভয়ংকর রাতে স্নিগ্ধার শ্লীলতাহানির মিথ্যে অভিযোগে দুলালকে দোষী সাজানোর কারিগর। হঠাৎ উপস্থিত হওয়া সেই দু’জন, বিয়েবাড়ির ভিডিওগ্রাফার আর তার শাকরেদ। ওয়েলেসলি জুট মিলের গাড়ির ড্রাইভার যে মিথ্যে সাক্ষী দিয়েছিল।
থানার ওসি বীরেশ দও। সৎ স্বচ্ছ সাব-ইন্সপেক্টর হাসান আলি অনেক চেষ্টা করেও ওসির বিরোধিতার জন্য দুলাল বা তাঁর স্ত্রী তৃপ্তিকে কোনওভাবেই সাহায্য করতে পারেননি। আরও ছিলেন দুলালের মামলার প্রথম উকিল হরিদাস সাহা। যিনি দুপুরে আদালতে মুখে চাবি দিয়ে দুলালকে হারিয়ে দেবার জন্যে চিরকুট পেয়েছিলেন। কয়েকটা সাবধানবাণী আর একটা ঠিকানা পেয়েছিলেন সেই চিরকুটে। স্পষ্ট অক্ষরে বাংলায় লেখা ‘কেসে মাথা না ঘামালে বিনাশ্রমে পুরস্কার। সন্ধে ছটায় ১১নং সিআর অ্যাভিনিউ। এই কাগজ না ছিঁড়ে ফেললে পারিবারিক দুর্গতি।’ ১১নং সিআর অ্যাভিনিউ। একটা বার কাম রেস্টুরেন্টের ঠিকানা। জঘন্য অপেশাদার একটা অপরাধ করার জন্য সেখানে গিয়ে কী পুরস্কার পেয়েছিলেন জেলা আদালতের ছাপোষা উকিল সেটা জানাও বাকি আছে অতনুর।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৭৯ : আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৭ : শাক্য সিংহের খোঁচর!

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৯: মেঠো ইঁদুর

এই দেশ এই মাটি, পর্ব-১০৬ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা /৫
এই অতনু সেনের সবটুকু না হলেও অনেক খবরাখবর নিয়ে কলেজ রোডের ‘ রং দে বাসন্তী’ রেস্তঁরায় বিতান ডাকলো দিয়াকে। গিয়ে দেখা গেলো সেখানে ভেজিটেরিয়ান খাবারদাবার। বিতানের আমিষ পছন্দ। একেবারে এক নম্বরে ফিশফ্রাই। নলবনের দিকে একটু এগোলে রেড এক্সপ্রেস বলে ননভেজ রেস্তঁরায় খেতে খেতে কথা হল। পছন্দের ফিশফ্রাই না হলেও প্যানফ্রাই ফিস গার্লিক। আর কফি। দিয়া বিতানের মতো মেছো নয়। তাই সে বেশ বড়সড় মাছের পিস থেকে একটুকরো চামচে দিয়ে ভেঙে নিজের প্লেটে নিল।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৯: যুধিষ্ঠির-আয়োজিত রাজসূয়যজ্ঞের মহাসম্মেলন ও চেদিরাজ শিশুপালের ভূমিকা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৬ : উত্তরায়ণ
— মানুষটা আনিউজুয়াল।
— মিট করলি?
— হ্যাঁ অফিসে। আমার সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রোপসাল নিয়ে।
— না বলল?
— সেটা স্বাভাবিক! ছোট্ট অফিস! খুব কম স্টাফ! কিন্তু কাজ করে অনেক। বিদেশে ভালো ক্লায়েন্ট। আর এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড দুর্দান্ত! শিবপুর থেকে বিটেক ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) থেকে মাস্টার্স। বিদেশে সাঙ্ঘাতিক চাকরি পেয়েও ছেড়ে চলে এসেছে ।
— মিট করলি?
— হ্যাঁ অফিসে। আমার সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রোপসাল নিয়ে।
— না বলল?
— সেটা স্বাভাবিক! ছোট্ট অফিস! খুব কম স্টাফ! কিন্তু কাজ করে অনেক। বিদেশে ভালো ক্লায়েন্ট। আর এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড দুর্দান্ত! শিবপুর থেকে বিটেক ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (MIT) থেকে মাস্টার্স। বিদেশে সাঙ্ঘাতিক চাকরি পেয়েও ছেড়ে চলে এসেছে ।
আরও পড়ুন:

মুভি রিভিউ: আজও অর্ধাঙ্গিনী: ভালোবাসার পরেও যে সম্পর্ক বেঁচে থাকে

দশভুজা : আমি আর কখনওই ফিরে আসার প্রত্যাশা করি না…
দিয়ার মনে হল সে টেক সলিউশন কলকাতা নিয়ে অনেক খবর নিয়েছিল। কারণ ইন্টারভিউতে এটা জরুরি। কিন্তু টেক সলিউশনের ফাউন্ডার সিইও অতনু সেনের এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে খোঁজ করেনি। আগে এই লোকটিকে নিয়ে তো আকর্ষণ তৈরি হয়নি। তাকে দেখার পর তার সঙ্গে কথা বলার পর বিতানের কথাটাই মনে হয়েছিল প্রথমে মানুষটা আনিইজুয়াল। কিন্তু কেন অন্যরকম। আর পাঁচটা সাধারণ ছেলের মতো বিদেশে চাকরি পেয়েও সেখানে না থেকে চাকরি ছেড়ে চলে এলো কেন? কী আকর্ষণ ছিল এদেশে? প্রেমিকা?
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা
তারিয়ে তারিয়ে মাছের প্রিপারেশনটা খেতে খেতে বিতান মাথা নাড়িয়ে উত্তরে বলেছিল
— উহুঁহুঁ! প্রেমট্রেম করে না। এখনও অবিবাহিত। বন্ধু সেরকম কেউ নেই। যা কিছু সবই চুঁচুড়ার এক চার্চে। ফাদার স্যামুয়েল বিশ্বাস অতনু সেনের সবটুকু।
— অরফ্যান নাকি?
— না! মা মারা গিয়েছেন। সুইসাইড!
— সেকী?
— বাবার কোনও সমস্যা?
— না, চেনা সিরিয়ালের ছকে পড়ে না অতনু সেনের জীবনযুদ্ধ!
— মানে?
— অনেকটা লম্বা গল্প! তোর লাঞ্চ টাইম শেষ, আমার দুটো মিটিং আছে! ফেরার সময় কলেজ মোড় থেকে একটু এগিয়ে দাঁড়াস। বাকিটা তখন বলবো। তবে একটা ওয়ান লাইনার। তোদের চেনা পাত্রীর পাত্র হিসেবে কেমন হবে জানি না। এমনি খারাপ নয়, কিন্তু অতনু সেনের জীবনটা খুব জটিলতার মধ্যে জড়িয়ে আছে।
দিয়া সচরাচর লাঞ্চে বাইরে যায় না। আজ গিয়েছিল। মায়ের দেওয়া টিফিনটা সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। দামি দোকানে টিফিনকৌটো খুলে খেতে পারেনি। —চলবে।
— উহুঁহুঁ! প্রেমট্রেম করে না। এখনও অবিবাহিত। বন্ধু সেরকম কেউ নেই। যা কিছু সবই চুঁচুড়ার এক চার্চে। ফাদার স্যামুয়েল বিশ্বাস অতনু সেনের সবটুকু।
— অরফ্যান নাকি?
— না! মা মারা গিয়েছেন। সুইসাইড!
— সেকী?
— বাবার কোনও সমস্যা?
— না, চেনা সিরিয়ালের ছকে পড়ে না অতনু সেনের জীবনযুদ্ধ!
— মানে?
— অনেকটা লম্বা গল্প! তোর লাঞ্চ টাইম শেষ, আমার দুটো মিটিং আছে! ফেরার সময় কলেজ মোড় থেকে একটু এগিয়ে দাঁড়াস। বাকিটা তখন বলবো। তবে একটা ওয়ান লাইনার। তোদের চেনা পাত্রীর পাত্র হিসেবে কেমন হবে জানি না। এমনি খারাপ নয়, কিন্তু অতনু সেনের জীবনটা খুব জটিলতার মধ্যে জড়িয়ে আছে।
দিয়া সচরাচর লাঞ্চে বাইরে যায় না। আজ গিয়েছিল। মায়ের দেওয়া টিফিনটা সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। দামি দোকানে টিফিনকৌটো খুলে খেতে পারেনি। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















