
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
গোপালের মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে দিয়া মনে মনে বলছে—
এমন নয় যে বিতানের জন্য কোনও টান রয়েছে মনে। স্কুলেও ছিল না। আজও নেই। কিন্তু বিতান-বিনির সাজানো সংসার দেখে অদ্ভুত একটা লোভ হচ্ছিল আজ। বিতানের গাড়িতে আসতে আসতে বিতানের প্রতি নয় ওর শরীরের কোলোনের গন্ধতে যেন সেই নিশ্চিন্ত বিবাহিত জীবনের অস্তিত্ব। এটা তো অন্যায়! এটা মনে মনে ভাবাটাও তো পাপ! মা তো চাইছেন। আমি হ্যাঁ বললেই মা বিয়ের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু একটা অচেনা মানুষকে বিয়ে করে সুখী হতে পারবো? আমার মাকে দেখার কেউ নেই। তারা আমার সমস্যা বুঝবেন? কেমন মানুষ হবেন সেই অচেনা অজানা স্বামী মানুষটি? বিশ্বাস করতে পারবো? ভালোবাসতে পারবো ? যদি ঠকে যাই! আমার জীবন তো বটেই আমার দুঃখী মায়ের জীবনটা যে ছারখার হয়ে যাবে। এতো সব সংশয় থেকেই আমার মনে বিতানের মতো পরিচিত একটা সুখী সংসার আমাকে এভাবে দূর্বল করে দিচ্ছে।
এমন নয় যে বিতানের জন্য কোনও টান রয়েছে মনে। স্কুলেও ছিল না। আজও নেই। কিন্তু বিতান-বিনির সাজানো সংসার দেখে অদ্ভুত একটা লোভ হচ্ছিল আজ। বিতানের গাড়িতে আসতে আসতে বিতানের প্রতি নয় ওর শরীরের কোলোনের গন্ধতে যেন সেই নিশ্চিন্ত বিবাহিত জীবনের অস্তিত্ব। এটা তো অন্যায়! এটা মনে মনে ভাবাটাও তো পাপ! মা তো চাইছেন। আমি হ্যাঁ বললেই মা বিয়ের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু একটা অচেনা মানুষকে বিয়ে করে সুখী হতে পারবো? আমার মাকে দেখার কেউ নেই। তারা আমার সমস্যা বুঝবেন? কেমন মানুষ হবেন সেই অচেনা অজানা স্বামী মানুষটি? বিশ্বাস করতে পারবো? ভালোবাসতে পারবো ? যদি ঠকে যাই! আমার জীবন তো বটেই আমার দুঃখী মায়ের জীবনটা যে ছারখার হয়ে যাবে। এতো সব সংশয় থেকেই আমার মনে বিতানের মতো পরিচিত একটা সুখী সংসার আমাকে এভাবে দূর্বল করে দিচ্ছে।
মাকে এসে মেয়েকে দেখে অবাক।
— কিরে? আজ হঠাৎ গোপালকে ধূপ দিচ্ছিস? ভর সন্ধেবেলায় আবার কী চাই আমার গোপালের কাছে?
— শক্তি!
— কিসের শক্তি? ছোটবেলা থেকেই তো খুব মনের জোর।
— সব দূর্বলতা কাটিয়ে গোপাল যেন আমার মনে ছোটবেলার শক্তি ফিরিয়ে দেন সেই প্রার্থনা করছি।
— কিরে? আজ হঠাৎ গোপালকে ধূপ দিচ্ছিস? ভর সন্ধেবেলায় আবার কী চাই আমার গোপালের কাছে?
— শক্তি!
— কিসের শক্তি? ছোটবেলা থেকেই তো খুব মনের জোর।
— সব দূর্বলতা কাটিয়ে গোপাল যেন আমার মনে ছোটবেলার শক্তি ফিরিয়ে দেন সেই প্রার্থনা করছি।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!, পর্ব-১৪০: অমিতাভ হত্যারহস্য / ২১

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৭৩ : পিঞ্জরে অচিন পাখি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০৫: পদ বা ক্ষমতা পেলেই কি ভিতরের স্বভাব বদলে যায়? পঞ্চতন্ত্রের অমোঘ শিক্ষা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯৪ : শেষ অঙ্ক
রাতে দিয়া বিতানকে অতনু সেনের নাম আর তার স্টার্ট আপ ‘টেক সলিউশন কলকাতা’র ঠিকানা হোয়াটসঅ্যাপ করে পাঠিয়ে দিল।
অতনু সেন কিন্তু থেমে নেই। সে ধীরস্থির ভাবে তাঁর লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।
বাবা দুলাল সেন ওয়েলেসলি জুটমিলে টাইম অফিসের কর্মী ছিলেন। জুট মজদুর ইউনিয়নের নেতা। আজ তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এক অপরাধী। সৎ নির্লোভ শ্রমিকনেতা দুলালকে কিছুতেই বাগে আনতে পারছিলেন না মালিক ব্যবসায়ী কানাই লাল মহেশ্বরী। প্রতিশোধ নিতে দুলালের পূর্বপরিচিতা স্নিগ্ধাকে টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করে মিথ্যে শ্লীলতাহানির মামলায় ফাঁসানো হল।
অতনু সেন কিন্তু থেমে নেই। সে ধীরস্থির ভাবে তাঁর লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।
বাবা দুলাল সেন ওয়েলেসলি জুটমিলে টাইম অফিসের কর্মী ছিলেন। জুট মজদুর ইউনিয়নের নেতা। আজ তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত এক অপরাধী। সৎ নির্লোভ শ্রমিকনেতা দুলালকে কিছুতেই বাগে আনতে পারছিলেন না মালিক ব্যবসায়ী কানাই লাল মহেশ্বরী। প্রতিশোধ নিতে দুলালের পূর্বপরিচিতা স্নিগ্ধাকে টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করে মিথ্যে শ্লীলতাহানির মামলায় ফাঁসানো হল।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৭: ধেড়ে ইঁদুর

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬৪: ভাবি প্রশাসক রামের প্রশিক্ষণের সূচনা—রাক্ষস খরের সঙ্গে সংঘাত
এই স্নিগ্ধা কম বয়েসে পাড়ারই দুলালের বাবা মাস্টারমশাই অমৃতলাল সেনের কাছে টিউশন নিতে যেত। যুবক দুলাল নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে থাকতো। এই স্নিগ্ধা দুলালের সঙ্গে দ্বৈত-আবৃত্তিতে সঙ্গী হতো। আবৃত্তি-গীতি আলেখ্যে অংশ নিতে নিতে স্নিগ্ধা দুলালের ঘনিষ্ঠ হবার সুযোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়। স্নিগ্ধার অন্যত্র বিয়ে হলেও সেখানে দাম্পত্য জটিলতায় স্নিগ্ধা শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে ফিরে আসে। দুলাল তখন বিবাহিত, তাদের সন্তান আছে। কিন্তু স্নিগ্ধা দুলালের প্রতি তখনও আসক্ত। হঠাৎ করে সুযোগ এসে গেল জুটমিলের মালিকের টাকা নিয়ে নিছক নাটক করে দুলালকে জেলে ভরা হল। টাকা নিয়ে দুলালের উকিলকে কিনে নেওয়া হল। দুলালের শাস্তি হল। আক্ষেপে দুলালের স্ত্রী তৃপ্তি বাড়ির ছাদ থেকে নিচের উঠোনে লাফিয়ে পড়ে আত্নহত্যা করে।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০২ : ত্রিপুরার রাজপরিবারে সতীদাহ প্রথা

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
দুলালের পরামর্শে দুলাল ও তৃপ্তির একমাত্র সন্তানকে রেভারেন্ড স্যামুয়েল বিশ্বাসের আশ্রয়ে রেখে এসেছিল। স্ত্রীর দাহকার্য্যের জন্য পারোলে শ্মশানে এসেছিলেন। স্নিগ্ধা এসেছিল তৃপ্তির সৎকার দেখে শান্তি পাবার জন্য। আত্মঘাতী তৃপ্তিকে সম্মান জানাতে কি দুলাল নিজের হাতে আইন তুলে নিয়েছিল? কিছুটা দূরেই খুশি খুশি স্নিগ্ধাকে দেখেই ফিরে যেতে চেয়েছিল দুলাল সেন। কাছাকাছি পোঁছেই এক ঝটকায় কনস্টেবলের রাইফেল তুলে নিয়ে ভয়ংকর আঘাত করেছিল স্নিগ্ধার মাথায় ঠিক মাঝখানে! রক্তাক্ত শরীরটা সামনে লুটিয়ে পড়েছিল। ভয়ংকর দুলাল তখন সব বাধার বাইরে। রাইফেল প্রায় আহত স্নিগ্ধার শরীরে ঠেকিয়ে মুখে আর মাথায় দুবার গুলি চালিয়ে রাইফেল তুলে হাত তুলে আত্মসমর্পণ করেছিলেন দুলাল সেন। ভিড়ের হুড়োহুড়ির মধ্যে হতভম্ব ইন্সপেকরের রিভলবার তাক করার আগেই সবটা ঘটে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৬০ : কাকজাতক — ভেবে দেখ মন
ফাঁসি নিশ্চিত ছিল। দুলাল মানসিকভাবে তৈরি ছিল। কিন্তু প্রখ্যাত অ্যাডভোকেট অবনী চৌধুরী বিনা পয়সায় প্রো-বোনো কেস লড়ে সাজা ফাঁসি থেকে যাবজ্জীবন করেছিলেন। ফাদার স্যামুয়েল বিশ্বাসের কাছে দুলাল ও তৃপ্তির একমাত্র সন্তান এই অতনু সেন। পিতৃমাতৃহীন অতনুকে পুত্রস্নেহে চার্চে রেখে মানুষ করেছেন ফাদার। অতনুর কাছে অতীতের সবকিছু বলেছেন।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















