কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

ফাদার স্যামুয়েল বিশ্বাসের আগে এই চার্চে ছিলেন ফাদার মরিস। তাঁর সঙ্গে তৃপ্তির শ্বশুরমশাই শিক্ষক অমৃতলাল সেনের খুব ঘনিষ্ঠতা ছিল। শ্বশুরমশাইকে তৃপ্তি ছবিতেই দেখেছে। কিন্তু এটা জানে তিনি সকলের খুব শ্রদ্ধেয় মানুষ ছিলেন। আজ তাঁর ছেলে দুলাল সেনের চরিত্রকে কালিমালিপ্ত করে জেলে পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে মনে জানে এটা অন্যায় এটা চক্রান্ত, কিন্তু সামনে এসে সে কথা বলবে না কেউ। আর বলবে না বলেই সুযোগসন্ধানীরা এভাবে মানুষকে মিথ্যে অপবাদ দিতে পারে।
আইনকানুন এমন যে, কোনও মহিলা যদি যৌনহেনস্থার অভিযোগ করে তখন পুরুষ মানুষটিকে কিছু বলতে না দিয়ে তাকে অপরাধী সাব্যস্ত করে দেওয়াটাই এখন রীতি। নারী অবলা। সে যখন মুখ ফুটে তার অপমানের কথা বলছে তার মানে বিশাল কিছু ঘটে গিয়েছে। শতকরা নব্বই ভাগ ক্ষেত্রে এটা সত্যি হলেও দশ ভাগ ক্ষেত্রে এটা ডাহা মিথ্যে!

ফাদার স্যামুয়েল সবটা শুনলেন। তৃপ্তি অতনুকে সঙ্গে করে নিয়ে যাবে ভেবেছিল কিন্তু পরের সিদ্ধান্ত নিল সে একা যাবে সবটা গিয়ে খুলে বলবে। আগে কথা বলে এসে পরে অতনুকে নিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৪৬: আকাশ এখনও মেঘলা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১১: স্বপ্নভূমি তিলজলা

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৩: গর্গজাতক: হাঁচি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৯: রাজসূয় মহাযজ্ঞের মাহাত্ম্য ও আধুনিকতা

যিশুখ্রিস্টের বেদির সামনে বসে বেঞ্চে মুখ নামিয়ে রেখে অস্ফুটস্বরে তৃপ্তি সবটুকু বলল। যে কথা এভাবে আর কাউকে কখনও বলেনি সেভাবে বলল। একেবারে বিয়ের বৌভাতের দিন থেকে শুরু করে থানা থেকে সেদিন রাত্রিবেলা ফেরার সময় স্নিগ্ধার সঙ্গে কথোপকথনের সবটুকু। ফাদার স্যামুয়েল যিশুখ্রিস্টের দিকে তাকিয়ে বললেন—
— উনি সব শুনেছেন! উনি নিশ্চয়ই এর বিচার করবেন। কিন্তু দেখা হলে দুলালবাবুকে বলবেন এই ভয়ংকর মানসিক অবসাদের মধ্যে তিনি যেন কোন ভুল না করে বসেন। আর আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন মা! আমি জানি শহরতলি অঞ্চলে এসব ঘটনার পর স্কুলে পড়াশোনা করা বড় শক্ত হয়ে যাবে। নানান অপমান কটূক্তি সইতে হবে অতনুকে। আমি চেষ্টা করছি ওকে অন্য কোথাও একটা মিশনারি স্কুলে ভর্তি করে দেবো। হস্টেলে থাকবে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৩: আঁধারে আছে আততায়ী

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৫: ছবিমুড়ার ভাস্কর্য ত্রিপুরার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্ন সম্পদ

—ফাদার আপনি তো সবই জানেন আমার স্বামী চটকলে কাজ করেন, সে চটকল বহুদিন বন্ধ। মাইনেপত্র বন্ধ। এখন ওর কেসের ব্যাপারে অনেক খরচ। আমি আমার গয়নাপত্র বিক্রি করে সে খরচ যোগাবার চেষ্টা করছি আর সেই গয়নারই কিছু দিয়ে আমি আমার ছেলের পড়াশোনার ব্যবস্থা করব।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪২: কাদম্বরীর পিতামহ ছিলেন ঠাকুরবাড়ির পাহারাদার, পিতা ছিলেন বাজারসরকার

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৬ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী?

—মা! আপনার এই ভয়ংকর বিপদের সময় সরাসরি আমি কোনও অর্থকড়ি সাহায্য করতে পারবো না। আপনি যেভাবে ভেবেছেন আপনার সঞ্চয় ভেঙে সেভাবে লড়াই করুন। কিন্তু অতনুর পড়াশোনা বা তার ভবিষ্যতের ভরণপোষণের জন্য আপনাদের কোন চিন্তা করতে হবে না। আপনি আপনার স্বামীকে গিয়ে বলবেন তিনিও যেন এ বিষয়ে নিশ্চিন্তে থাকেন। বলবেন ফাদার স্যামুয়েল অতনুর সব দায়িত্ব নিয়েছেন।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৫ : অবাক পৃথিবী

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৮: সোনালি বাটান

তৃপ্তির চোখ জলে ভিজে গিয়েছিল।
পাঁচদিনের পুলিশ কাস্টডির পর দুলাল সেনকে আবার কাঠগড়ায় তোলা হলো। শুরু হল কুৎসিত কালিমা লেপন। স্নিগ্ধা ইনিয়ে বিনিয়ে কোর্টে নানান মিথ্যে কথা বলল। বলল এই দুলাল সেন তার বিবাহিত জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। দুলালকে জিজ্ঞেস করা হলে সে এ ব্যাপারে কোন উত্তর দিল না। আর বহু খরচাপাতি করে গয়নাবন্ধক রেখে টাকা ধার করে মণির বর যে উকিল জোগাড় করেছিলেন। তিনিও শুরুতে দুলালের পক্ষে নানান যুক্তি সাজালেও পরের দিকে অদ্ভুতভাবে চুপ করে গেলেন। বাইরে থেকে সব চেষ্টা করলেও তৃপ্তি কখনও কোর্টে যায়নি। মণির বরের কাছেই শুনল দুলালের এবার পনেরো দিনের জেলকাস্টডি হয়েছে। তার মানে আবার খরচ! আরও একদিন এই দামী উকিলের খরচ যোগাতে হবে। কোথা থেকে আসবে টাকা!

মণির বর জানালো যদিও দুলাল তৃপ্তিকে কোনোভাবেই জেলের পরিবেশে আনতে চায় না তবু সে একটিবার তার সঙ্গে কথা বলতে চায়। —চলবে।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content