কলকাতায় বৃষ্টি
তার কখনও ভালো কিছু হতে পারে তৃপ্তি সেটা ভাবতে পারতো না। তারপর তার বিয়ে হল। কিন্তু বৌভাতের রাতে স্নিগ্ধার ভাবসাব দেখে তার খুব ভয় লেগেছিল। তবে ক্রমশ ভয় কেটে গিয়েছিল। তারপর সন্তান অতনু এল। একটু একটু করে বড় হতে লাগলো। মনে হয়েছিল অভিশাপ কেটে গেছে। কিন্তু নিচের কলঘরের শেওলাতে পড়ে গিয়ে শাশুড়ি মা’র মাথায় চোট পাওয়া এবং পরে মৃত্যুতে আবার সব হারানোর ভয়টা জাঁকিয়ে বসেছিল। থানা থেকে সেদিন ফেরার মুখে আবার স্নিগ্ধাকে দেখে সে বুঝতে পারল, তার ক্ষতি করার জন্যই স্নিগ্ধা তার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছিল।
সদর দরজায় চাবি দিয়ে গিয়েছিলো তৃপ্তি! চাবি খুলতেই বাড়ির ভেতর থেকে অতনু এসে মাকে জড়িয়ে ধরেছিল।
—মা! বাবা কোথায়?
—বলছি!
কলঘরে স্নান করার নাম করে ঢুকে নিঃশব্দে অনেকক্ষণ কাঁদলো তৃপ্তি। মাঝরাতে চৌবাচ্চায় ধরা কনকনে ঠান্ডা জল মাথার ওপর থেকে ঢালছে আর হাউ হাউ করে কাঁদছে। শরীরের বাইরের আর ভিতরের অবিরল জলের ধারায় মনটা যেন ক্রমশ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠল। কাপড়জামা বদলে দোতলার অন্ধকার ছাদে নিয়ে গেল ছেলে অতনুকে!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৪৫: আকাশ এখনও মেঘলা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১০: চাঁদের ওপিঠে কালো

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৭: জৌরালি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৬ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী?

তৃপ্তি সেই তারাভরা খোলাআকাশের নিচে দাঁড়িয়ে ছেলেকে বলল—
—একা একা ভয় পেয়েছিলি?
— হ্যাঁ!
—ভয় বড় ছোঁয়াচে তনু! একজনের জ্বর হলে যেমন অন্যকে জ্বরে ধরে। একজনের বসন্ত হলে যেমন অন্যের বসন্ত হয়, তেমনি একজন ভয় পেলে অন্যজন সেই দেখে ভয় পায়। আমি ছোটবেলা থেকে সেই ভয় নিয়ে বেঁচে আছি তনু! নিচের কলঘরে সব ভয় এবার ধুয়ে দিয়ে এলাম! আর ভয় পাবো না! তোকেও ভয় পেলে চলবে না। যখন ভয় পাবি। যখন একা লাগবে। তখন অন্ধকারে খোলা আকাশের নিচে এসে দাঁড়াবি। মাথা উঁচু করে মাথার উপরের তারা ভরা আকাশকে দেখবি! দেখবি ভয় কেটে যাবে। আকাশের কালো মেঘ কেটে গেল যে রকম আলো ফোটে, তেমনই ভয় কেটে গেলেই দেখবি সাহস ফিরে এসেছে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৩: আঁধারে আছে আততায়ী

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪১: ঘটি চেয়ে বঁটি

—বাবা, কোথায় মা?
—তোর বাবাকে থানায় ধরে নিয়ে গিয়েছে!
—বাবা কি অন্যায় করেছে?
—বাবা অন্যায় সহ্য করেননি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। তাই তাকে …
—এখন আমরা কী করবো?
—আমরা তো চিরকাল থাকবো না তনু! বাবা থাকবেন না, আমি থাকবো না! তোকে টিকে থাকতে হবে একা!
—বাবাকে ছাড়বে না!
—সুবিচার হলে ছাড়বে! কিন্তু তোকে সাহস করে লড়াই করতে হবে! তোকে মন দিয়ে পড়াশোনা করে এত বড় হতে হবে… এতও বড়! যাতে কেউ তোর নাগাল না পায়। কেউ তোকে ছুঁতে না পারে। তোর গায়ে কালি দিতে না পারে!
—এসব কেন বলছ?
—জানি না! অনেক রাত হলো চল আমরা শুয়ে পড়ি। কাল থেকে অনেক লড়াই!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

উত্তম কথাচিত্র পর্ব-৭৩ : ‘খেলাঘর’

পরদিন আদালতের লড়াইয়ে তাঁর উকিল যে ওয়াকওভার দিয়েছেন সেটা দুলাল এবং তৃপ্তি দুজনেই বুঝতে পারলো। থানার সাব-ইন্সপেক্টর হাসান আলি নিজে এসে বলেছিল দুলালবাবু খুব বড় চক্রান্তের শিকার! তৃপ্তি যেন আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে কোনও ভালো উকিলের ব্যবস্থা করে। তৃপ্তি বুঝতে পারছিল না কার সঙ্গে কথা বলবে। তাই ছেলেকে নিয়ে সে থানায় দুলালের সঙ্গে দেখা করলো।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৩: ত্রিপুরা : ঊনকোটির বহু মূর্তি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে

পিতার ঔজ্জ্বল্য কখনও ম্লান হয়নি পুত্রের খ্যাতিতে

এতদিন ধরে মানুষটাকে দেখছে মা’র মৃত্যুতেও এতটা ভেঙে পড়েনি। অতনুকে জড়িয়ে ধরে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলল মানুষটা! তৃপ্তি তাকে সান্ত্বনা দেয়।
—ছেলের সামনে কান্নাকাটি করো না! তুমি তো কোন অন্যায় করোনি !
—সেটা প্রমাণ করবে কে?!
—আমি যে করে হোক বড় উকিল জোগাড় করবো!
—এতো টাকা কোথায় পাবে?
—গয়না আছে!
—ছেলেটাকে মানুষ করতে হবে তৃপ্তি!
— তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করার আছে তুমি একবার বলেছিলে না, এখানকার চার্চের ফাদারকে ধরে অতনুকে কলকাতায় কোন মিশনারি স্কুলে ভর্তি করে দেবে।
— হ্যাঁ, আমি তো ফাদার স্যামুয়েলের কাছে ওকে নিয়েও গিয়েছিলাম! কিন্তু এসব ঘটনার পরে আর কাল আমি নিজে অতনুকে নিয়ে যাবো। ফাদারকে সব খুলে বলবো! আর উকিলের ব্যাপারটাও দেখছি!
ছোটবোন মণির বর এসেছিল। সে তাঁর জানাশোনা এক উকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করল। তৃপ্তি ফাদার স্যামুয়েল বিশ্বাস এর কাছে গেল। —চলবে।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content