রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

কোটির থেকে এক কম, এটাই হল ঊনকোটির আক্ষরিক অর্থ, খুবই চিত্তাকর্ষক ও আকর্ষণীয় গল্প চালু আছে এই ঊনকোটিকে ঘিরে।

রাধাকিশোর মাণিক্যও (১৮৯৬-১৯০৯ খ্রি:) ঊনকোটি গিয়েছিলেন। কালের কবলে পড়ে ভূমিকম্প- সহ নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ঊনকোটির অনেক মূর্তি ইতিমধ্যেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। শতাধিক বছর আগেই পণ্ডিত চন্দ্রোদয় লিখেছেন, ‘পর্ব্বত পার্শ্বে বহুসংখ্যক মূর্ত্তি খোদিত ছিল, কালক্রমে সমস্তই বিনষ্ট হইয়া গিয়াছে। এখন যাহা আছে, তাহাও আর বেশি দিন থাকিবে বলিয়া বোধ হয় না। কারণ প্রস্তর ক্রমে ধসিয়া পড়িতেছে।’
প্রায় একশ বছর আগে ব্রজেন্দ্র চন্দ্র দত্ত তাঁর “ত্রিপুরা রাজ্যে ত্রিশ বছর, কৈলাসহর বিভাগ” গ্রন্থে ঊনকোটির বিগ্রহ সকল সম্পর্কে লিখেছিলেন, “শত শত বৎসরের সুপ্রাচীন এই সকল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কালের প্রভাবে এখন ধ্বংসের মুখে।” ‘শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি লিখেছেন, “খৃষ্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে কালা পাহাড় কর্ত্তৃক বহুস্হানের দেবমূর্ত্তি বিভগ্ন হয়, ঊনকোটি তীর্থের দুর্দ্দশাও তৎকর্ত্তৃক সাধিত হইয়াছিল বলিয়া অদ্যাপি কথিত হয়।”
আরও পড়ুন:

অন্তরালের তারা: ম্যান্ডোলিন শিল্পী সরোজ বড়ুয়া/৩: সলিলদা নিজে কখনও বাজান না কিন্তু এটা ব্যতিক্রম : সরোজ বড়ুয়া

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৭: কেমন আছেন সুনীতি, নদীর নরম ছেড়ে সমুদ্রের নুনে!

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৮: পার্ক স্ট্রিট থেকে মহর্ষি ফিরে এসেছিলেন জোড়াসাঁকোয়

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮২: ত্রিপুরা : উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রত্নভূমি ঊনকোটি

যাইহোক, ঊনকোটির পীঠ মাহাত্ম্যের কথা নানা প্রাচীন গ্রন্থে বর্ণিত আছে। ‘রাজমালা’তে রয়েছে রাজাদের ঊনকোটি পরিদর্শনের কথাও। ধারণা করা হয়েছে রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সেখানে মন্দির নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু ঊনকোটির বিগ্রহ সমূহের সৃষ্টির তথ্য নেই প্রাচীন পুস্তকাদিতে। ত্রিপুরার মাণিক্য রাজবংশের প্রতিষ্ঠা পঞ্চদশ শতকে। আর প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, ঊনকোটির বিগ্রহ সমূহের সৃষ্টি শুরু হয় অষ্টম-নবম শতাব্দীতে। অর্থাৎ মাণিক্য রাজবংশের অনেক অনেক আগের সৃষ্টি ঊনকোটি।কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা যাদেরই থাক না কেন বিগ্রহ নির্মাণ সহ পীঠভূমি সৃষ্টিতো হয়েছিল এই ভূখণ্ডেই!তাই ঊনকোটির আবৃত ইতিহাস উন্মোচন খুবই প্রয়োজন। কারণ এই ভূখণ্ডের ইতিহাসের সঙ্গে ঊনকোটি অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র,পর্ব-৭২ : গলি থেকে রাজপথ

সুন্দরবনের বারোমাস্যা পর্ব-১২৬: সুন্দরবনের পাখি: গুলিন্দা বাটান

এবার কাছাড়ের ভুবন পাহাড়ের কথায় আসা যাক। ভুবন পাহাড়ে রয়েছে নানা দেবদেবীর বিগ্রহ, সুড়ঙ্গ পথ। তবে বহুআগে থেকেই বিগ্রহের ভগ্ন দশা চলছে। ইতিমধ্যেই অনেক বিগ্রহ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এক সময় ভুবন পাহাড়ে প্রস্তর নির্মিত মন্দির ছিল। কথিত আছে যে, পাহাড়ের উপরের একটি বৃহৎ প্রস্তর স্হানচ্যুত হয়ে মন্দির ও অনেক বিগ্রহ বিধ্বস্ত হয়। ত্রিপুরার ঊনকোটির মতো কাছাড়ের ভুবনও এক শৈব তীর্থ। কেউ কেউ এমনও মনে করেন যে ঊনকোটিরও আগে ভুবনের সৃষ্টি শুরু হয়েছিল।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৯: ডেসডিমোনার রুমাল/৮

সুদূর অতীতে কাছাড়ের ভুবন ও সন্নিহিত অঞ্চলে ত্রিপুরার রাজাদের রাজত্ব ছিল। ‘কাছাড়ের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে, সুপ্রাচীন কালে ভুবন পাহাড় থেকে আজকের ত্রিপুরার কৈলাসহর পর্যন্ত এক বিস্তীর্ণ জনপদ ছিল এবং কালক্রমে তা ঘোর অরণ্যে পরিণত হয়। এ থেকে ঊনকোটির শিল্পকর্মের সঙ্গে ভুবনের এক যোগসূত্রের ধারণা করা যেতে পারে। শিলচর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে মণিপুর সীমান্তে ভুবন পাহাড়ের অবস্থান। পাহাড়টির সর্বোচ্চ অংশের উচ্চতা প্রায় তিন হাজার ফুট হবে। এক সময় ভুবন পাহাড়ে ছড়িয়ে ছিল বহু দেবদেবীর বিগ্রহ। কিন্তু কালের কবলে পড়ে, অযত্নে অবহেলায় তার অধিকাংশই আজ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪১: কারুর কেউ নই-কো আমি…

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

শতাধিক বছর আগে প্রকাশিত ‘কাছাড়ের ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থে ‘ভুবনেশ্বর’ বিগ্ৰহের এরকম বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, “এক্সকৌপিনবস্ত্র পরিহিত, দ্বিভুজ, দ্বিনেত্র, কৃশোদর, বাম হস্ত বাম জানুর নিম্নে রক্ষিত এবং দক্ষিণ হস্ত হৃদয়ে ধারণ করত পূর্ব্বাভিমুখে পাষাণোপরি দণ্ডায়মান। গলদেশে প্রস্তর নির্ম্মিত মালা শোভা পাইতেছে। বিগ্ৰহের উচ্চতা প্রায় সার্দ্ধ দুই হস্ত।’ অনুরূপ ভাবে ‘ভুবনেশ্বরী’ বিগ্রহ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘…এই বিগ্রহের দক্ষিণ হস্ত ভগ্ন,মস্তক হইতে কটির উপরিভাগ পর্য্যন্ত অনাবৃত, কটিদেশ হইতে জানু পর্য্যন্ত প্রস্তরবসন পরিহিত এবং তম্নিম্নভাগ ভূমিতে প্রোথিত।”—চলবে।

* ত্রিপুরা তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে পান্নালাল রায় এক সুপরিচিত নাম। ১৯৫৪ সালে ত্রিপুরার কৈলাসহরে জন্ম। প্রায় চার দশক যাবত তিনি নিয়মিত লেখালেখি করছেন। আগরতলা ও কলকাতার বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে ইতিমধ্যে তার ৪০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের ইতিহাস ভিত্তিক তার বিভিন্ন গ্রন্থ মননশীল পাঠকদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও সে-সব উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। রাজন্য ত্রিপুরার ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সম্পর্ক, লোকসংস্কৃতি বিষয়ক রচনা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জাত ব্যতিক্রমী রচনা আবার কখনও স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস ইত্যাদি তাঁর গ্রন্থ সমূহের বিষয়বস্তু। সহজ সরল গদ্যে জটিল বিষয়ের উপস্থাপনই তাঁর কলমের বৈশিষ্ট্য।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content