বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

আমেরিকায় ড. ভূপেন হাজারিকার সঙ্গে বিলাসবহুল লিমুজিন গাড়ির সামনে শিল্পী সরোজ বড়ুয়া।

প্রাককথন: আমাদের আশেপাশে কত মানুষ, কত তাঁদের গুণ, কত তাঁদের অধ্যাবসায়, মনের মধ্যে কত জমে থাকা কথা। সে মানুষকে জানা হয় না, চেনা হয় না। কারণ আমরা সাফল্যের পোস্টার দেখে মানুষের গুণের বিচার করি। অসংখ্য প্রতিভা নানা কারণে যাঁদের জীবন সেভাবে আলোকোজ্জ্বল হয়ে ওঠেনি। মুখ্য আলোকবৃত্তের বাইরে গৌণ থেকে গিয়েছে যাঁদের অধ্যাবসায়, গুণ, কৃতিত্ব আমার খুব ঘনিষ্ঠ তেমন দু’জন অত্যন্ত গুণীজনের সঙ্গে আমার এবারের পুজোর আড্ডা। দুজনেই কলকাতার বাসিন্দা। একজন মধ্য কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার, অন্যজন দক্ষিণে বেহালার আর্কেডিয়া এলাকার। মোবাইল ফোনের আবিষ্কর্তা মোটোরোলা কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার মার্টিন কুপারের দৌলতে কলকাতা থেকে মহারাষ্ট্র এই প্রায় এক হাজার ৯০০ কিলোমিটারের দূরত্ব ঘুচিয়ে দুরন্ত আড্ডা দিলাম এঁদের সঙ্গে সেই কথোপকথনের বিবরণ নিয়ে এবারের পুজোয় নতুন প্রতিবেদন। এবারের অন্তরালের তারায় কলকাতার অন্যতম সেরা ম্যান্ডোলিন শিল্পী সরোজ বড়ুয়া

সরোজদাকে আমার দেখা অনেক আগে, পরিচয় পরে। দর্শক হিসেবে সরোজদাকে দেখেছিলাম প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ড. ভূপেন হাজারিকার মঞ্চ বা দূরদর্শন প্রতিটি অনুষ্ঠানেই অন্যতম যন্ত্রশিল্পীর ভূমিকায়। তারও অনেক পরে সরোজদার বেহালার ব্রাহ্মসমাজ রোডের আগের বাড়িতে আলাপ। তারপর অনেক স্মৃতি। আমার চিত্রনাট্যে ওমপুরী অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘের হিন্দি ছবিতে সলিল চৌধুরীর সঙ্গীত পরিচালনায় সরোজদার বাজানো।
●● সরোজ: আনন্দদার সঙ্গে দেখা ১৯৮২ ওঁর ট্রুপে মিউজিশিয়ান দরকার ছিল। আমার বাজনা শুনতে চাইলেন। ব্যাস সেই শুরু হল। ওঁর সঙ্গে ইস্ট আফ্রিকা বেলজিয়াম জার্মানি আর দেশের যে কত জায়গায় বাজিয়েছি, সে তো লম্বা তালিকা!

● জিৎ: কলকাতায় ভায়োলিন শিল্পী হিসেবে এক অন্যতম নাম দিলীপ রায়। তাঁর সঙ্গে তো তোমার পারিবারিক যোগাযোগ ছিল। আমার সঙ্গেও ছিল, আজ তোমারটা শুনবো।
●● সরোজ: দিলীপদার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল ৪০ বছর আগে, দিলীপদা বেহালা বকুলতলায় থাকতেন, বাড়িতেও গেছি বহুবার। ওঁর প্রায় সব রেকর্ডিং-এই আমায় থাকতে হতো একসঙ্গে বাজিয়েছি, তা প্রায় ২৫ বছর। একই অঞ্চলের মানুষ বলে রেকর্ডিং এর সময় দিলীপদার সঙ্গেই যাতায়াত করেছি! দিলীপ রায় ছিলেন অসম্ভব ব্যস্ত এরেঞ্জার, তপন সিনহার ছবির বিজিএম করতেন। তপন সিনহার অন্তর্ধান, হুইলচেয়ার, এইসব ছবিতে দিলীপ রায়ের অ্যারেঞ্জমেন্টে বাজিয়েছি। সেইসময় আমাদের প্রোজেকশন দেখে দেখে বাজাতে হতো। নোটেশন দেখতে হোত আবার অ্যারেঞ্জারের হাতের সাইন না দেখলেও চলবে না। ফলে বোধহয় আমাদের মা দূর্গার মতো ত্রিনয়নের ক্ষমতা ছিল। তবে এই ত্রিনয়নের ব্যবহার স্টুডিওর বাইরে কখনও করিনি (হাসি) ও হোঃ একটা দারুণ মজার স্মৃতি! ছবির নাম অন্তর্ধান; একটা চড়ের শব্দ ম্যাচ করাতে হবে। বার বার চেষ্টা করেও আগে পরে হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ একবার পারফেক্টলি ম্যাচ করে গেল সবাই খুশি একজন মিউজিশিয়ান বাদে। সে বেচারি মাটিতে গড়াগড়ি যাচ্ছে, টাইম ম্যাচ করে চড়টা ইচ্ছে করে আরেক মিউজিশিয়ান তার গালেই মেরেছে। (হাসি) হ্যাঁ, আমি সত্যজিৎ বাবুর সুরেও বাজিয়েছি।

● জিৎ: তাই? কোন ছবি?
●● সরোজ: দেখো সত্যি কথা বলতে আমি অত ছবির নামটাম মনে রাখি না। রেকর্ডিং-এ গেলাম, নোটেশন দেখলাম, বাজালাম বাড়ি চলে এলাম! ৯১-র কোনও একটা সময় ছবির নাম বোধহয় গুপী বাঘা ফিরে এলো, সত্যজিৎ রায়ের আবহ।

● জিৎ: ওটা সন্দীপ রায়ের পরিচালনা।
●● সরোজ: আমি জানতাম সত্যজিৎ রায়ের ছবি। ওঁর সুর, নিজে মিউজিক রেকর্ডিংয়ে এসেছিলেন। তারপর শেষের দিকে তো রেকর্ডিং টেকনিকের বদল হল। তখন ট্র্যাক বাজিয়ে আসতাম। তারপর সেটা কে গাইলেন, কোন ছবিতে কোথায় বাজলো, সে সব কখনও খোঁজ নিতাম না। অঞ্জন চৌধুরীর, শত্রু তারপর ইন্দ্রজিৎ ছবিতেও বাজিয়েছি।
আরও পড়ুন:

অন্য পুজো: আনন্দশঙ্করের অনুষ্ঠানের জন্য রুদালীর রেকর্ডিংয়ে বম্বে যেতে পারিনি: সরোজ বড়ুয়া

দশভুজা : আমার দুর্গা—বিজ্ঞানী রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩২: কবিকন্যা মীরার স্বামী রবীন্দ্রনাথকে ভর্ৎসনা করেছিলেন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৮: ছোট বাবুইবাটান

● জিৎ: ভূপেনদার পরে কার সঙ্গে বাজালে?
●● সরোজ: রেকর্ডিং তো প্রায় সকলের সঙ্গেই করেছি স্টেজ প্রোগ্রাম ভূপেনদার পরে অনুপ ঘোষাল বলেছিলেন ওঁর সঙ্গে বাজাতে!

● জিৎ: আর সলিল চৌধুরী?
●● সরোজ: সলিলদার সঙ্গে নানান গল্প আছে। উনি যখন বম্বে থেকে কলকাতায় পাকাপাকিভাবে চলে এলেন, এখানে আমার বাড়ির কাছেই বেহালা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে ওঁর স্টুডিও তৈরি হল। আমি তখন ওই স্টুডিয়োতে মাঝে মাঝে রেকর্ডিং এর কাজ করতাম। সলিলদার নয়, বাইরের কাজ। সলিলদার কাজও করতাম। এরপর এলো তোমার চিত্রনাট্যে সেই শর্ট ফিল্মের কাজ!

● জিৎ: হ্যাঁ, প্রেমচন্দের গল্প!
●● সরোজ: সোয়া সের গেহুঁ, ওম পুরী, শ্রীলা মজুমদার। সলিলদার গান, আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, আমরা বাজালাম। তুমি তো ছিলে রেকর্ডিংয়ে।

● জিৎ: হ্যাঁ মনে আছে!
●● সরোজ: একটা দারুণ গল্প আছে। তোমরা জানো না, প্রথমদিন গান রেকর্ডিং ছিল তারপরের আমরা ছবির কিছুটা মিউজিক ম্যাচ করালাম, মিউজিশিয়ানরা সব যন্ত্রপাতি গুটিয়ে চলে গেছে আমিও যাব। হঠাৎ সলিলদা একা, কেউ নেই হারমোনিয়াম নিয়ে বসলেন। দেখি একটা অদ্ভুত সুর বাজাচ্ছেন। চেনা ছকের বাইরে। আমি যন্ত্র রেখে সলিলদার পাশে বসে পড়লাম। সলিলদা চোখ বুজে সুরটা বাজাচ্ছেন, একটা অদ্ভুত সুর ! বাজানো শেষ হলে আমি জিজ্ঞেস করলাম “সলিলদা এটা কিসে যাবে?” উনি বললেন, “ভায়োলিনে”! পরের দিন রেকর্ডিং। আমি সুরটা মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। আমি এমনিতে অনেকরাত অব্দি জেগে থাকি সেদিন, বাড়ি ফিরে নোটেশনটা লিখে ম্যান্ডোলিন ধরতে গিয়ে দেখছি যে আমি বাজাতে পারছি না, হাত আটকে যাচ্ছে! এমন অদ্ভুত একটা চলন এমনভাবে পর্দা নিয়ে এসেছেন, জেদ চেপে গেল। অনেক রাত পর্যন্ত বারবার ম্যান্ডোলিনে বাজিয়ে শেষ পর্যন্ত সুরটাকে পাকাপোক্ত করে ফেললাম। পরদিন রেকর্ডিং। সলিলদা চারটে ভায়োলিন নিয়েছেন, নোটেশন দিয়েছেন। কিন্তু তারা কিছুতেই সেই সুরটা আর বাজাতে পারছেন না। বারবার চেষ্টা করেও হচ্ছে না! সলিলদার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে গেল। দাদা রেকর্ডিং রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন! খানিকক্ষণ পরে ভয়ে ভয়ে সলিলদাকে গিয়ে বললাম “দাদা পিসটা কি আমি ম্যাণ্ডোলিনে বাজাতে পারি? গম্ভীর উত্তর” নাঃ! এটা ম্যান্ডোলিনের পিস হলে তো তোমাকে আমি আগে বলতাম”! আর কিছু বলার নেই। সলিলদার আক্ষেপটা বুঝতে পারছিলাম, যে মানুষটা বম্বেতে দুএক খানা চেলো ৩০/৪০টা ভায়োলিন নিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড কম্পোজ করেছেন, তাঁকে কলকাতায় ফিরে ছবির বাজেটের সঙ্গে খাপ খাইয়ে মাত্র চারটে ভায়োলিনে কাজটা করতে হচ্ছে বলে সলিল চৌধুরীর মতো প্রজ্ঞার একজন কম্পোজার তো তাঁর সংগীতভাবনায় সমঝোতা করতে পারবেন না! এমন একটা সুর যেখানে চারজনের একজনেরও একসুতো কমবেশি বাজালে কানে ধরা পড়ে যাবে। শেষে করিয়ে ছাড়লেন! আর একটা সাংঘাতিক ঘটনা! নবেন্দু ঘোষের তৃষাগ্নি ছবির বিজিএম রেকর্ডিং। স্টুডিওতে আমরা তিনজন মিউজিশিয়ান; সলিলদা নিজে, আমি আর সলিলদার মেয়ে অন্তরা চৌধুরী। আর রেকর্ডিং করছেন আরেক মিউজিসিয়ান সলিলদার ছেলে সঞ্জয় চৌধুরী (পিপি)। সলিলদা নিজে কখনও বাজান না কিন্তু এটা ব্যতিক্রম। আমায় বলে দিয়েছেন ‘সরোজ আজ হোল নাইট রেকর্ডিং করে কাজ শেষ করতে হবে।’ সন্ধ্যের সময় একটা ব্রেক হল সলিলদাকে বললাম “দাদা একটু বাড়ি ঘুরে আসি?” সলিলদা জানতেন কাছেই বেহালাতেই আমার বাড়ি। বললেন “হ্যাঁ ঘুরে এসো দেরি করো না।” আমি চুপচাপ বেরিয়ে এলাম, কিন্তু গন্তব্য তো বাড়ি নয়, শরৎ সদন। সেখানে ভূপেনদার প্রোগ্রাম। একই দিনে এমন দুজন ব্যক্তিত্বের কাজ যাদের দুজনকেই আমি না বলতে পারব না। মিথ্যে বলিনি কিন্তু সত্যিও তো কাউকেই বলিনি। ভাগ্যিস তখন মোবাইল ফোন আসেনি। শরৎসদনে পৌঁছে ভূপেনদার সঙ্গে বাজালাম! প্রোগ্রাম শেষ হল। ভূপেনদা বললেন “চলো এত কাছে এসেছি, তোমার বাড়ি ঘুরে যাই”! আমার তো তখন উভয় সংকট অবস্থা! রেকর্ডিং-এ আর দেরি করা যাবে না! ঢোঁক গিলে বললাম—
—না মানে আমি এখন একটু।
—রেকর্ডিং আছে বুঝি কোথায়? চলো নামিয়ে দিই।
আমি ভাবছি দুজনে মুখোমুখি হলে এখন কি হবে? বললাম—
—দূরে নয় এই বেহালাতেই স্টুডিও।
—বেহালাতেই? কোন স্টুডিও? সলিলবাবুর নতুন স্টুডিও?
—হুঁ।
ব্যাস! মুখ ফসকে যখন বলে ফেলেছি তখন পরিণতিটা আমার জানা।
—আরে বলবে তো! চলো চলো বম্বে থেকে ফেরার পর ওঁর সঙ্গে আর দেখাই হয়নি!

ভুপেনদা খানিকক্ষণ বসলেন মিউজিক রেকর্ডিং দেখলেন, তারপর গুডনাইট বাই বাই করে চলে গেলেন। আমরা কাজ করছি, সলিলদাও কাজে ব্যস্ত! আমি নিশ্চিন্ত যাক বাবা কাজের মধ্যে সলিলদা ভুলে গেছেন। খানিকটা কাজ বাকি আছে রাত্রি তিনটে বাজে সলিলদা সিগারেট খেতে উঠলেন, তখন বললেন, “শরৎ সদনে প্রোগ্রাম ছিল একবার বলবে তো”। আমার আর জবাব দেওয়ার মতো ক্ষমতা নেই। ভোর সাড়ে চারটের সময় কাজ শেষ হল। শেষ রাতে পরিচালক নব্যেন্দু ঘোষ ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সলিলদা ডাকলেন, “নবেন্দু ওঠো! ছবি রেডি”। মাঝে মাঝে ভাবি ঈশ্বর আমায় এমন এমন মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন, আমার মনপ্রাণ ভরে গেছে, আর কিছু চাইনা, আমি নিজের একটা অর্কেস্ট্রার কথা ভেবেছিলাম- সেটা করতে পেরেছি, বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকি এখনও নিয়মিত চর্চা করি, স্টুডেন্টদের শেখানোর মধ্যে দিয়েও চর্চা হয়।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৪: অনুসরণ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

● জিৎ: সুর করবার ইচ্ছে?
●● সরোজ: ও সবে অনেক ছুটোছুটি করতে হবে! মিউজিশিয়ান জোগাড় করতে হবে। হয়ত টেম্পারামেন্ট ম্যাচ করবে না! আমি আসলে ওসব ভাবিইনি।

● জিৎ: সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক?
●● সরোজ: একটাই করেছিলাম!

● জিৎ: কী ছবি?
●● সরোজ: হীরের আংটি!
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩২: লৌকিকও অলৌকিকের টানাপোড়েনের বিনির্মাণ—ঋষিকবির মহাকাব্য রামায়ণ

● জিৎ: ঋতুপর্ণ ঘোষ?
●● সরোজ: হ্যাঁ! তুমি যে বাড়িতে গেছো ব্রাহ্মসমাজ রোডের ওই বাড়িতেই এসে আলোচনা করতো।

● জিৎ: তোমার নাম তো মিউজিক কোর্ডিনেটর হিসেবে গেছে আবহসঙ্গীতে তো…
●● সরোজ: নাম কি গেছে না গেছে সে নিয়ে আমি খুব একটা ইন্টারেস্টেড নই। আমি কাজটা মন দিয়ে করেছি ব্যাস! ছবিতে মিউজিকের একটা ইউজ নিয়ে একটু…।
● জিৎ: মতানৈক্য?
●● সরোজ: ক্রিয়েটিভ কনফ্লিক্ট! তারপরে ওঁর সঙ্গে আর কখনও দেখা হয়নি!
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

● জিৎ: এখন আর নতুন করে?
●● সরোজ: তুমি তো জানো এই সমস্ত লাইনে পিআর-টা খুব জরুরি! যেটা আমার একদম নেই! এখন তো আমি কারো নাম-টামই জানিনা। তবে আমি এখনও পুরোপুরি সক্ষম। একটা ইউটিউব চ্যানেল আছে www.youtube.com/@TheSarojbarua । আর আছে আমার স্টুডেন্ট। আমার সঙ্গে অর্কেস্ট্রায় যারা বাজায়, আর ওই জাভেদ আক্তারের লাইন আছে না, ম্যায় অউর মেরি তনহাই… ওইরকম ম্যায় অউর মেরি মিউজিক! (হাসি) এভাবেই বাকি জীবন কাটিয়ে দেবো।
কলকাতায় বৃষ্টি

কার্শিয়াং এর পথে সংগীতশিল্পী ড. ভূপেন হাজারিকার সঙ্গে সরোজ বড়ুয়া।

● জিৎ: দারুণ শেষ করলে সরোজদা একদম লিরিক্যাল শায়েরি দিয়ে ফিনিশ!
●● সরোজ: বহুক্ষণ তোমার সঙ্গে ফোনে কথা বললাম, বিশ্বাস করো এত কথা আমি কক্ষনো বলি না! ভাগ্যিস ওপ্রান্তে তুমি খুব ভালো থেকো তোমরা! পুজো সকলের ভালো কাটুক। সময় আপডেটস-এর (www.samayupdates.in) সকলে ভালো থাকুন!
● জিৎ: তুমি ভালো থাকো, পরিবারের সকলকে নিয়ে।
—সমাপ্ত।
শারদ অষ্টমী শারদ নবমী ও বিজয়া দশমী পরবর্তী এই তিনপর্বে চিত্রপরিচালক অঞ্জন মুখার্জী।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ । এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content