
সলিল চৌধুরী।
“…সেজো মামার কাছেই আমি গাড়ি চালানো শিখি। তখন আমার ছিল একটা নাক চ্যাপ্টা বেললিলা ফিয়াট (Bellila Fiat)। সেজোমামাই পছন্দ করে কিনিয়ে দিয়েছিলেন। সেজমামা বলতেন, ‘গাড়ি চালাবার সময় মনে রাখবে সামনে থেকে আসা সব গাড়িই তোমাকে ধাক্কা মারতে আসছে। আর যত লোক রাস্তা দিয়ে চলছে, সবাই তোমার গাড়ির তলায় পড়ে আত্মহত্যা করতে চাইছে। তাহলেই আর অ্যাক্সিডেন্ট হবে না।”

অন্তরালের তারা: ম্যান্ডোলিন শিল্পী সরোজ বড়ুয়া/৩: সলিলদা নিজে কখনও বাজান না কিন্তু এটা ব্যতিক্রম : সরোজ বড়ুয়া

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৭: কেমন আছেন সুনীতি, নদীর নরম ছেড়ে সমুদ্রের নুনে!

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৮: পার্ক স্ট্রিট থেকে মহর্ষি ফিরে এসেছিলেন জোড়াসাঁকোয়

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৭: ডেসডিমোনার রুমাল/৬
“সত্যিই এই থিয়োরি আমার ভীষণ কাজে লেগেছে। বহু অ্যাক্সিডেন্টের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। ওই ফিয়াটটা ছিল দারুণ গাড়ি! একটানা বড়জোর ২০০ গজ গিয়েই হাঁপিয়ে পড়তো, থেমে যেত। ধাক্কা মেরে স্টার্ট না করলে আর তিনি চলতেন না। আমাদের কসবার বাড়িতে যে সব বন্ধুরা যেমন দ্বিজেন, শ্যামল, নির্মল, সতীনাথ প্রমুখরা আসতেন তাঁদের আমি লিফট দেবো বলে গাড়ি চড়াতাম। আর অনিবার্যভাবে তাদের গাড়ি ঠেলতে হতো। শেষ পর্যন্ত এমন হল যে, দূর থেকে আমার গাড়ি আসছে দেখলেই ওঁরা ছুটে পালাতেন। লিফট নেবার ভয়ে।”

উত্তম কথাচিত্র,পর্ব-৭২ : গলি থেকে রাজপথ

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৫: সুন্দরবনের পাখি: বিলের বালুবাটান

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮২: ত্রিপুরা : উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রত্নভূমি ঊনকোটি
“… সেজো মামাকে বললুম, ‘যত টাকা লাগে গাড়িটা সারিয়ে দিন। আমার ইজ্জত পাংচার হয়ে যাচ্ছে!
সেজোমামা বললেন, ‘বাবা তুমি গাড়ি কিনেছে দু’ হাজারে কিন্তু সারাতে লাগবে তিন হাজার। তার চেয়ে তিন হাজারে ওই বিউটি জুয়েলার্স কিনতে চাইছে ওদের বেচে দাও!”
“তাই করা হল। রোজই ভাবি ওই বিউটি জুয়েলার্স-এর মালিক আমাকে রাস্তায় একলা পেলেই ঠ্যাঙাবে। ওকে ঠকিয়েছে বলে। কিন্তু আশ্চর্য! ভদ্রলোক একদিন ডেকে গাড়িটার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে আমাকে চা টোস্ট খাইয়ে দিলেন।”

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪১: কারুর কেউ নই-কো আমি…

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!
“পরে সেজো মামা বললেন:
কি ভুলই করেছি! জানিস তো গাড়িটার কোনও ডিফেক্টই ছিল না। শুধু ‘কাট আউটটা’ বদলি করেই গাড়িটা এখন দারুণ চলছে।’
শুনলাম সেই গাড়ি একটু রংচং করে ৫০০০ টাকায় বিউটি জুয়েলার্স বেচে দিচ্ছে এবং প্রথম প্রেফারেন্স নাকি আমার! বুঝুন বেনে কাকে বলে?
দো বিঘা জমিনের পরে বোম্বে থেকে কলকাতায় ফিরে আবার আমি তখন বেকার। গাড়ি বেচার তিন হাজার টাকা কবে ফুটকড়াই হয়ে গেছে। কোথায় পাবো পাঁচ হাজার টাকা, কিন্তু বিউটি জুয়েলার্সকে বললাম, ‘পুরনো গাড়ি আর নয়। ডিসগাস্টেড! কিনি তো এবার নতুন গাড়ি কিনব!’
তার পরেই বিমলদার টেলিগ্রাম এলো ‘বিরাজ বহু’ ছবির মিউজিক করার জন্য। সেই আমার পাকাপাকি কলকাতা ছাড়া ১৯৫৫ সালে।” ….

রেকর্ডিয়ের আগে রিহার্সালের সময় সলিল চৌধুরীর বাঁদিকে আমি। ডানদিকে জনৈক সঙ্গীতশিল্পী। ১৯৮৮ সাল।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















