
ছবি: প্রতীকী।
রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে শহর কলকাতা জলমগ্ন। কেই কেই মনে করছেন, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোরের মধ্যে কলকাতায় মেঘভাঙা বৃষ্টি (ক্লাউডবার্স্ট) হয়েছে। যদিও আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কলকাতায় মেঘভাঙা বৃষ্টি হয়নি। তবে সেই সঙ্গে এও জানানো হয়েছে, এক ঘণ্টায় ২ মিলিমিটার বেশি বৃষ্টি হলেই এই বর্ষণকে মেঘভাঙা (ক্লাউডবার্স্ট) বৃষ্টি বলা যেত।
সাধারণত ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টি হলে তাকে মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা হয়। কলকাতায় রাত ৩টে থেকে ভোর ৪টের মধ্যে, এক ঘণ্টায় ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ, আর ২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেই ভূগোলের পরিভাষায় এটিকে মেঘভাঙা বৃষ্টি বলা যেত। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ২৫১.৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। রাত আড়াইটে থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ১৮৫.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৭: আবাবিল

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৩: এ কে? এ কে গো?

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৩: আকাশ এখনও মেঘলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ
আবহাওয়া দফতর আগেই জানিয়েছিল, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় সেটি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর ওড়িশা উপকূলের উপর অবস্থান করছিল। তা ছাড়া একই সময়ে ওই এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সেটার স্থান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই দুইয়ের জেরেই রাতভর কলকাতায় এত প্রবল বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। তা ছাড়া বৃহস্পতিবার উত্তর-পশ্চিম এবং সংলগ্ন মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। সেটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শুক্রবার অন্ধ্র এবং ওড়িশা উপকূলের মধ্যবর্তী কোনও স্থানে পৌঁছোতে পারে। এর প্রভাবে আপাতত কলকাতা এবং দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩১: মহর্ষি চেয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে মৃত্যু

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ
মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং কলকাতায়। এই তিন জেলায় কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পুরুলিয়া জেলার বিস্তীর্ণ অংশেও। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন অংশে। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩০: অলৌকিকতার আবরণে লৌকিক-অনুভবের পরশ
বুধবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কোনও কোনও অংশে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বুধবার। বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে। বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে। শনিবার ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে ঝাড়গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু এলাকায়। বিক্ষিপ্ত ভাবে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। রবিবার এবং সোমবারও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তরবঙ্গে কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার পর্যন্ত কলকাতায় খানিক অস্বাভাবিক বৃষ্টিই হয়েছে। তবে এই ঘটনা নজিরবিহীন নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি জানান, ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিলই। কিন্তু গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ২৫১.৪ মিলিমিটার (অতি ভারী) বৃষ্টি হয়েছে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

















