
মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়।
১৯৮৬ সাল। ২৬ সেপ্টেম্বর। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভাসলো কলকাতা। গুগল জানাচ্ছে, সেদিন কলকাতায় ২৫৯.৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। তখন সবে পঁচিশ টপকানো যুবক। জল ভেঙে ঝোড়ো বাতাসের মধ্যে আমরা হাঁটছি। আমি নিশীথদা আর দীপকদা।
ইনফোকম সংস্থার প্রযোজনায় তৈরি হচ্ছে মনিশংকর মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় উপন্যাস সোনার সংসার। কলকাতা দূরদর্শনের ১৩ পর্বের স্পনসর্ড ধারাবাহিক। মোটামুটি এপ্রিল মাস থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। দূরদর্শনের ধারাবাহিক নিয়ে তখন কারোরই স্পষ্ট ধারণা ছিল না। রবীন ঘোষ বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের ইকোনমিস্ট। কিন্তু মাথার মধ্যে এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কিছু করার জন্য ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছিল। নিশ্চিন্ত চাকরি ছেড়ে অনিশ্চিত ব্যবসায় ঝাঁপিয়ে পড়লেন। গোটা একটাতলা জুড়ে ফ্লোর এডিটিং কনসোল-সমেত মিণ্টো পার্কের অনতিদূরে তৈরি হলো ইনফোকম। সোনার সংসার দিয়ে হাতেখড়ি।
ইনফোকম সংস্থার প্রযোজনায় তৈরি হচ্ছে মনিশংকর মুখোপাধ্যায়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় উপন্যাস সোনার সংসার। কলকাতা দূরদর্শনের ১৩ পর্বের স্পনসর্ড ধারাবাহিক। মোটামুটি এপ্রিল মাস থেকে প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল। দূরদর্শনের ধারাবাহিক নিয়ে তখন কারোরই স্পষ্ট ধারণা ছিল না। রবীন ঘোষ বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্সের ইকোনমিস্ট। কিন্তু মাথার মধ্যে এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কিছু করার জন্য ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছিল। নিশ্চিন্ত চাকরি ছেড়ে অনিশ্চিত ব্যবসায় ঝাঁপিয়ে পড়লেন। গোটা একটাতলা জুড়ে ফ্লোর এডিটিং কনসোল-সমেত মিণ্টো পার্কের অনতিদূরে তৈরি হলো ইনফোকম। সোনার সংসার দিয়ে হাতেখড়ি।
আমি তখন চাকরি করছি আর নিয়মিত রেডিও নাটক লিখছি। শ্রাবন্তী মজুমদার ও কর্ণেল বোসের (সিভি) লিভিং সাউন্ড স্টুডিয়োর জন্য লিখছি বোরোলিনের সংসার, কেয়োকার্পিনের নাটকের আসর। রবীনদা আমায় সোনার সংসার উপন্যাসটা পড়ে পাঁচ পাতার একটা সারসংক্ষেপ লিখে আনতে বললেন। মনে আছে, এক রোববার সকালে সার্কাস অ্যাভিনিউতে ওঁর বাড়িতে গিয়ে শুনিয়েছিলাম। বললেন—
—প্রথম এপিসোডটা লিখে ফেলো। তেইশ মিনিট মতো।
—আমি?
—পারবে না?
—আমাকে একটা দিন সময় দিন কাল আপনাকে ফোন করবো।
—প্রথম এপিসোডটা লিখে ফেলো। তেইশ মিনিট মতো।
—আমি?
—পারবে না?
—আমাকে একটা দিন সময় দিন কাল আপনাকে ফোন করবো।
গোটা রাত ভাবলাম। মনে হল আমি যদি না পারি তাহলে তো অন্য কেউ লিখবেনই। কিন্তু একবার চেষ্টা করে দেখতে দোষ কোথায়?
আরও পড়ুন:

চলে গিয়েছেন অমলেন্দু, চলে গিয়েছেন সোমনাথ…

শ্রীলা মজুমদারের যেমন সুমধুর কণ্ঠস্বর তেমন অসাধারণ অভিনয় প্রতিভা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস : এই ভাষাতেই করি গান

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৪ : গরুর পালে বাঘ

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৮: শূন্যতা ও পূর্ণতার প্রতীক, রামের প্রিয় অপরূপ হেমন্ত
শুরু হল। সেই প্রথম নিশীথদার সঙ্গে আলাপ। নিশীথ বন্দ্যোপাধ্যায়। অগ্রদূতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফিল্মস ডিভিশনের বড়কর্তা ছিলেন। তখন রিটায়ার করেছেন। অমায়িক ভদ্রলোক। জীবনে এতকিছু দেখেছেন কিন্তু আমার মতো একেবারে নভিসকে এতও উৎসাহ দিলেন, এতও সাহস যোগালেন। নিশীথদার সঙ্গী হয়ে গেলাম ডানকান হাউসে।
ঝাঁ-চকচকে অফিসঘরে বসেছিলেন মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। ডানকান গ্রুপের পিআরও (জনসংযোগ আধিকারিক)। নিশীথদা আলাপ করিয়ে দিলেন। আমি প্রণাম করলাম। খুব ব্যস্ত মানুষ। অনবরত ফোন বাজছে। তার মধ্যেই ডানকানের দামি চা এসে গিয়েছে। ব্যস্ততার মধ্যেই একটুখানি স্ক্রিপ্ট শুনলেন। নিশীথদার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক। প্রোডাকশনের নানাদিক নিয়ে ওঁদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল। গল্পের অনুমতি আগেই রবীনদাকে দিয়েছিলেন। হয়তো যে লিখছে তাকে একবার চোখে দেখতে চেয়েছিলেন। ভাগ্যিস। না হলে তো ওরকম অসামান্য প্রতিভাধর একজন মানুষের সঙ্গে দেখাই হতো না। আরও একবার দেখা নয়, টেলিফোনে কথা হয়েছিল। সে প্রসঙ্গে পরে আসবো।
এর আগে প্রদীপ মুখোপাধ্যায় এবং শ্রীলা মজুমদারের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে সোনার সংসারের প্রসঙ্গ এসেছে। সোনার সংসারের সংসার ভেঙে গতকাল মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় চলে পেলেন । তাঁর লেখার আকর্ষণের মূল চাবিকাঠি বা আজকের ভাষায় ইউএসপি প্রসঙ্গে একবার আনন্দবাজারের একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন—
—আমি লেখার টেক অফ আর ল্যান্ডিংটাকে ঠিক রাখি। ক্রুজিং হাইটে গল্প তো ভেসে ভেসে বয়ে যায়।
ঝাঁ-চকচকে অফিসঘরে বসেছিলেন মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়। ডানকান গ্রুপের পিআরও (জনসংযোগ আধিকারিক)। নিশীথদা আলাপ করিয়ে দিলেন। আমি প্রণাম করলাম। খুব ব্যস্ত মানুষ। অনবরত ফোন বাজছে। তার মধ্যেই ডানকানের দামি চা এসে গিয়েছে। ব্যস্ততার মধ্যেই একটুখানি স্ক্রিপ্ট শুনলেন। নিশীথদার সঙ্গে খুব ভালো সম্পর্ক। প্রোডাকশনের নানাদিক নিয়ে ওঁদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল। গল্পের অনুমতি আগেই রবীনদাকে দিয়েছিলেন। হয়তো যে লিখছে তাকে একবার চোখে দেখতে চেয়েছিলেন। ভাগ্যিস। না হলে তো ওরকম অসামান্য প্রতিভাধর একজন মানুষের সঙ্গে দেখাই হতো না। আরও একবার দেখা নয়, টেলিফোনে কথা হয়েছিল। সে প্রসঙ্গে পরে আসবো।
এর আগে প্রদীপ মুখোপাধ্যায় এবং শ্রীলা মজুমদারের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে সোনার সংসারের প্রসঙ্গ এসেছে। সোনার সংসারের সংসার ভেঙে গতকাল মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় চলে পেলেন । তাঁর লেখার আকর্ষণের মূল চাবিকাঠি বা আজকের ভাষায় ইউএসপি প্রসঙ্গে একবার আনন্দবাজারের একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন—
—আমি লেখার টেক অফ আর ল্যান্ডিংটাকে ঠিক রাখি। ক্রুজিং হাইটে গল্প তো ভেসে ভেসে বয়ে যায়।
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২২ : জনঅরণ্য ও পরশপাথর— যে জন থাকে মাঝখানে

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২২: সঞ্চারিত অনুরাগের রেশ
তখন কত অজানারে, সীমাবদ্ধ, জন-অরণ্য, চৌরঙ্গী পড়া হয়ে গিয়েছে। পাড়ার লাইব্রেরীতে তখন এই বইগুলোর খুব চাহিদা। কিন্তু বয়স অল্প বলেই বোধহয় তখন যেসব মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ এসেছে, তাঁদের প্রতিভার পরিমাপ করতে পারিনি বলে আজকে কোথাও যেন একটা আক্ষেপ হয়।
সোনার সংসার যাঁরা পড়েছেন তাঁরা এই অর্থ বনাম আদর্শের লড়াইয়ের গল্প জানেন। ডলারের টাকায় উথলে ওঠে আদর্শবান শিক্ষকের টানাটানি সংসার। বড়ছেলে জীবন গড়তে আমেরিকা গিয়েছিল। এয়ারপ্যাসেজ ছিল না। বাবার বন্ধুর মেয়ের সঙ্গে ছিল প্রেম। সেই মেয়ে নিজের মায়ের সোনারহার তুলে দিল প্রেমিকের হাতে। ছেলে সফল হল। সংসার সোনায় মুড়ে গেল। প্রতিশ্রুতি ভুলে ছেলে শ্বেতাঙ্গী বিদেশিনীর প্রেমে পড়ল। সেই মেয়ে বিদেশ থেকে দেখতে এলো তার ভবিষ্যতের স্বজনদের। আদর্শবান শিক্ষককে দোটানায় ফেলে দেয় পরিস্থিতি। কী করে উদ্ধার করবেন তিনি তাঁর সংসার, তাঁর অমলিন আদর্শ আর অসুস্থ বন্ধুর মেয়ের নিখাদ নির্মল ভালোবাসাকে ? সেই নিয়ে কাহিনির চূড়ান্ত পরিণতি।
জগদীশ পাধিয়ার ছিলেন ক্যামেরায়। দীপকদাও ছিলেন। অভিনয়ে প্রদীপ মুখোপাধ্যায় শ্রীলা মজুমদারের সঙ্গে ছিলেন, নেপাল নাগ স্মিতা সিনহা। সুনীলদা (মুখোপাধ্যায়) অদ্ভুত এক পাগলের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। মূল কাহিনিতেও পাগল ছিল। কিন্তু সোনার সংসার ধারাবাহিকের যে পাগল, সে আমার দেখা। খুব চেনা। ছোটবেলার এক চরিত্র ‘কালাম’। মাথা ঠান্ডা থাকলে শ্যামল মিত্রের গান গাইত। “আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যে থাকে”—সুনীলদাও এই গান গেয়েছিলেন। সায়নী মিত্র, অঙ্গনা বসু, বিজুরিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, শীলাদিত্য পত্রনবিশ, বিমল দেব, দুলাল লাহিড়ী ছিলেন।
সোনার সংসার যাঁরা পড়েছেন তাঁরা এই অর্থ বনাম আদর্শের লড়াইয়ের গল্প জানেন। ডলারের টাকায় উথলে ওঠে আদর্শবান শিক্ষকের টানাটানি সংসার। বড়ছেলে জীবন গড়তে আমেরিকা গিয়েছিল। এয়ারপ্যাসেজ ছিল না। বাবার বন্ধুর মেয়ের সঙ্গে ছিল প্রেম। সেই মেয়ে নিজের মায়ের সোনারহার তুলে দিল প্রেমিকের হাতে। ছেলে সফল হল। সংসার সোনায় মুড়ে গেল। প্রতিশ্রুতি ভুলে ছেলে শ্বেতাঙ্গী বিদেশিনীর প্রেমে পড়ল। সেই মেয়ে বিদেশ থেকে দেখতে এলো তার ভবিষ্যতের স্বজনদের। আদর্শবান শিক্ষককে দোটানায় ফেলে দেয় পরিস্থিতি। কী করে উদ্ধার করবেন তিনি তাঁর সংসার, তাঁর অমলিন আদর্শ আর অসুস্থ বন্ধুর মেয়ের নিখাদ নির্মল ভালোবাসাকে ? সেই নিয়ে কাহিনির চূড়ান্ত পরিণতি।
জগদীশ পাধিয়ার ছিলেন ক্যামেরায়। দীপকদাও ছিলেন। অভিনয়ে প্রদীপ মুখোপাধ্যায় শ্রীলা মজুমদারের সঙ্গে ছিলেন, নেপাল নাগ স্মিতা সিনহা। সুনীলদা (মুখোপাধ্যায়) অদ্ভুত এক পাগলের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। মূল কাহিনিতেও পাগল ছিল। কিন্তু সোনার সংসার ধারাবাহিকের যে পাগল, সে আমার দেখা। খুব চেনা। ছোটবেলার এক চরিত্র ‘কালাম’। মাথা ঠান্ডা থাকলে শ্যামল মিত্রের গান গাইত। “আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যে থাকে”—সুনীলদাও এই গান গেয়েছিলেন। সায়নী মিত্র, অঙ্গনা বসু, বিজুরিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, শীলাদিত্য পত্রনবিশ, বিমল দেব, দুলাল লাহিড়ী ছিলেন।

নিশীথদার সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগাযোগ ছিল। সম্পর্ক সিরিজের জন্য নিশীথদার জন্যে আশাপূর্ণা দেবীর শোক গল্পের চিত্রনাট্য লিখেছিলাম। আবার শংকর, আবার নিশীথ বন্দ্যোপাধ্যায়। লিখলাম নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি।
আসলে যে কোনও ভালোকাজের পিছনে ভালো প্রযোজক থাকাটা খুব জরুরি। নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি নিয়ে প্রযোজক অসহযোগিতা শুরু করলেন। এমনকি আমার লেখা চিত্রনাট্যের পর্ব এধার ওধার করে তার নিজের নামে দূরদর্শনে প্রচার করা শুরু করলেন। তখন বয়স অল্প। চিন্তাভাবনা ছিল না। আদালতে অভিযোগ জানালাম। আদালতের ইনজাঙ্কশনে ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে গেল। প্রযোজক সংস্থা আপ্রাণ চেষ্টা করেও চিত্রনাট্য যে তাঁদের লেখা এটা প্রমাণ করতে পারলেন না। আদালতে কেস চলতে লাগলো। শুটিং আটকে, ধারাবাহিক বন্ধ। এই সময় একবার শ্রদ্ধেয় মনিশংকর মুখোপাধ্যায়ের টেলিফোন পেয়েছিলাম। উনি বলেছিলেন আউট অফ দা কোর্ট মীমাংসা করে নিতে। আমি শ্রদ্ধেয় লেখককে জানিয়েছিলাম আমি রাজি আছি। হয়তো ওঁর মধ্যস্থতাতেই প্রযোজক মীমাংসাতে রাজি হলেন। আদালত রায় জানালেন চিত্রনাট্যের কোনও অংশের সঙ্গে প্রচারিত কোনও পর্বের কোনও মিল থাকলে আমি আবার আদালতের দ্বারস্থ হতে পারব। কিন্তু লেখা চিত্রনাট্য থেকে দূরে সরে থাকার চেষ্টায় শেষমেষ একটা বকচ্ছপ তৈরি হল। এত নিম্নমানের পরিবেশনার সঙ্গে আর নিজেকে জড়াতে ইচ্ছে হয়নি। আর সেবারই কোর্টকাছারি নিয়ে এমন একটা অনীহা তৈরি হয়েছিল যে হালে আমার পুনরায় রুবি রায় নাটকের থেকে মূল ভাবনা ব্যবহার করেই তৈরি হওয়া বাণিজ্যিক হিন্দি ছবির ক্ষেত্রে অনেকের পরামর্শ সত্ত্বেও আমি আর আদালতমুখী হইনি। আরও একটা কারণ, এই নাটক থেকেই তৈরি হওয়া বাংলা বাণিজ্যিক ছবি বুমেরাং তখন রিলিজ করবে। বাংলা ছবির প্রযোজক সংস্থাও ছবি নিয়ে অকারণ বিতর্ক চায়নি। মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের সোনার সংসার খুব পছন্দের ধারাবাহিক ছিল। তাই তিনি নিজের বইয়ের প্রচ্ছদ বদলে ধারাবাহিকের চরিত্রদের ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে তা হয়নি।
আসলে যে কোনও ভালোকাজের পিছনে ভালো প্রযোজক থাকাটা খুব জরুরি। নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি নিয়ে প্রযোজক অসহযোগিতা শুরু করলেন। এমনকি আমার লেখা চিত্রনাট্যের পর্ব এধার ওধার করে তার নিজের নামে দূরদর্শনে প্রচার করা শুরু করলেন। তখন বয়স অল্প। চিন্তাভাবনা ছিল না। আদালতে অভিযোগ জানালাম। আদালতের ইনজাঙ্কশনে ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে গেল। প্রযোজক সংস্থা আপ্রাণ চেষ্টা করেও চিত্রনাট্য যে তাঁদের লেখা এটা প্রমাণ করতে পারলেন না। আদালতে কেস চলতে লাগলো। শুটিং আটকে, ধারাবাহিক বন্ধ। এই সময় একবার শ্রদ্ধেয় মনিশংকর মুখোপাধ্যায়ের টেলিফোন পেয়েছিলাম। উনি বলেছিলেন আউট অফ দা কোর্ট মীমাংসা করে নিতে। আমি শ্রদ্ধেয় লেখককে জানিয়েছিলাম আমি রাজি আছি। হয়তো ওঁর মধ্যস্থতাতেই প্রযোজক মীমাংসাতে রাজি হলেন। আদালত রায় জানালেন চিত্রনাট্যের কোনও অংশের সঙ্গে প্রচারিত কোনও পর্বের কোনও মিল থাকলে আমি আবার আদালতের দ্বারস্থ হতে পারব। কিন্তু লেখা চিত্রনাট্য থেকে দূরে সরে থাকার চেষ্টায় শেষমেষ একটা বকচ্ছপ তৈরি হল। এত নিম্নমানের পরিবেশনার সঙ্গে আর নিজেকে জড়াতে ইচ্ছে হয়নি। আর সেবারই কোর্টকাছারি নিয়ে এমন একটা অনীহা তৈরি হয়েছিল যে হালে আমার পুনরায় রুবি রায় নাটকের থেকে মূল ভাবনা ব্যবহার করেই তৈরি হওয়া বাণিজ্যিক হিন্দি ছবির ক্ষেত্রে অনেকের পরামর্শ সত্ত্বেও আমি আর আদালতমুখী হইনি। আরও একটা কারণ, এই নাটক থেকেই তৈরি হওয়া বাংলা বাণিজ্যিক ছবি বুমেরাং তখন রিলিজ করবে। বাংলা ছবির প্রযোজক সংস্থাও ছবি নিয়ে অকারণ বিতর্ক চায়নি। মণিশংকর মুখোপাধ্যায়ের সোনার সংসার খুব পছন্দের ধারাবাহিক ছিল। তাই তিনি নিজের বইয়ের প্রচ্ছদ বদলে ধারাবাহিকের চরিত্রদের ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরির ক্ষেত্রে তা হয়নি।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৯: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — চিতল হরিণ

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৪ : শুন বরনারী
জন অরণ্য, সীমাবদ্ধ নিয়ে অসাধারণ দুটি ছবি তৈরি করেছেন সত্যজিৎ রায়। পিনাকী ভূষণ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় চৌরঙ্গী তো ইতিহাস। ৭০-এ চৌরঙ্গী থেকে মঞ্চসফল নাটকও হয়েছিল।
সম্প্রতি মেঘে ঢাকা ঘটক নাটক লিখতে গিয়ে জেনেছি ‘কত অজানারে’ উপন্যাসকে কি অসাধারণ মাত্রায় ভেবেছিলেন ঋত্বিক ঘটক। সুরমা ঘটকের বইতে উল্লেখ আছে, বেশ কিছু অংশ শুটিং হয়ে যাওয়া সেই ছবিতে বারওয়েল সাহেবের ভূমিকায় নাকি দারুণ অভিনয় করেছিলেন কালী বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি বিশ্বাস, উৎপল দত্ত , করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়, গীতা দে, অসীম কুমার, জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়, কেষ্ট মুখোপাধ্যায়, জহর রায় ও সতীন্দ্র ভট্টাচার্যের সঙ্গে শঙ্করের ভূমিকায় ছিলেন অনিল চট্টোপাধ্যায়। এমন ছবিটি যে হলো না, সে দুর্ভাগ্য কার?
সম্প্রতি মেঘে ঢাকা ঘটক নাটক লিখতে গিয়ে জেনেছি ‘কত অজানারে’ উপন্যাসকে কি অসাধারণ মাত্রায় ভেবেছিলেন ঋত্বিক ঘটক। সুরমা ঘটকের বইতে উল্লেখ আছে, বেশ কিছু অংশ শুটিং হয়ে যাওয়া সেই ছবিতে বারওয়েল সাহেবের ভূমিকায় নাকি দারুণ অভিনয় করেছিলেন কালী বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি বিশ্বাস, উৎপল দত্ত , করুণা বন্দ্যোপাধ্যায়, গীতা দে, অসীম কুমার, জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়, কেষ্ট মুখোপাধ্যায়, জহর রায় ও সতীন্দ্র ভট্টাচার্যের সঙ্গে শঙ্করের ভূমিকায় ছিলেন অনিল চট্টোপাধ্যায়। এমন ছবিটি যে হলো না, সে দুর্ভাগ্য কার?
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৬ : ‘চণ্ডাল-কূপ’ ও অস্পৃশ্যতা: পঞ্চতন্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন ভারতের এক দগদগে ইতিহাস

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
উত্তরে যেন চেতনা প্রযোজনা মেঘে ঢাকা ঘটক নাটকের কথক ও চরিত্র সুরমা ঘটকের কথার অনুরণন শুনতে পাচ্ছি!
—দুর্ভাগ্য আমাদের! ক্ষতি আমাদের!
বয়স তো থামিয়ে দেবেই। কিন্তু মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের মতো বিরল সাহিত্যিকের মহাপ্রস্থানও সাহিত্যক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি।
—দুর্ভাগ্য আমাদের! ক্ষতি আমাদের!
বয়স তো থামিয়ে দেবেই। কিন্তু মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের মতো বিরল সাহিত্যিকের মহাপ্রস্থানও সাহিত্যক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।/i>


















