বুধবার ১১ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

পিশাচপাহাড় আপাত শান্ত ছোট্ট একটা জনপদ, যার বাসিন্দার সংখ্যা মেরে-কেটে কয়েক হাজার।

ডাক্তারের বয়স বেশি না, ইয়াং। সম্ভবত এটিই প্রথম পোস্টিং। চোখমুখ ফোলা দেখে সহজেই অনুমান করা যায়, শুয়ে পড়েছিলেন। পাশেই কোয়াটার্স। নার্স এবং একজন মেল অ্যাটেনডেন্টও পাশেই থাকেন। পুলিশ এসেছে শুনে তাঁরা সকলেই একটু তটস্থ। তবে আর একজন সিনিয়র ডাক্তারকে আনা হয়েছে আহত এবং অসুস্থ অবস্থায়—এ-কথা শোনার পর তাঁদের চোখমুখ বদলে গেল। অতি দ্রুত তাঁরা সামলে নিলেন। এমার্জেন্সি এই প্রথম নয়। এ-জাতীয় হেলথ-সেন্টারে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে যাঁরা আসেন, তাঁদের কেস জরুরি ভিত্তিতে সামাল দিতে হয়। গ্রুপ ডি স্টাফ একজন আছেন। তাঁর মুখ দিয়ে ভুরভুর করে দিশি মদের গন্ধ বেরুচ্ছিল, সেই অবস্থায় এসে তিনি চেম্বার কাম অফিসঘর খুলে দিলেন। শাক্য, সুদীপ্ত বসল না যদিও।

জীবনবাবু এবং মেল অ্যাটেনডেন্ট দুজনে ধরাধরি করে সত্যব্রতকে নিয়ে গিয়ে বেডে শুইয়ে দিল। ডাক্তার এক্সামিন চেম্বারের পর্দা টেনে দিলেন। নার্স দরকারি কিছু সরঞ্জামের ট্রে নিয়ে সেখানে ঢুকলেন। শাক্য উদ্বিগ্ন মুখে সেদিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ, তারপর একসময় বেরিয়ে এল বাইরে। যদিও সে ঈশ্বর-বিশ্বাসী নয়, তবুও মনে-মনে সে চাইছিল, যে-ভাবেই হোক সত্যব্রত যেন সুস্থ হয়ে ওঠেন। ভুলটা তারই। সে আগেই অনুমান করেছিল যে, সত্যব্রতর ওপর লাইফ-থ্রেড হতে পারে, তা-সত্ত্বেও সে কোন প্রোটেকশনের ব্যবস্থা করেনি। আসলে সে ভেবেছিল, এত তাড়াতাড়ি কিছু ঘটবে না। পরে ব্যবস্থা করা যাবে। কিন্তু অপরপক্ষ অনেক চটপটে। তারা অ্যাকশন নিতে দেরি করে না। ইস, হাতটা মুঠি করল শাক্য। যদি আর-একটু সাবধান হতো সে!
কালদেও-কেসে সত্যব্রত কেবল গুরুত্বপূর্ণ ক্লু-ই দেননি, নিজেও কৌতূহল থেকে তদন্ত শুরু করেছিলেন এবং শাক্য শুনে যতটুকু বুঝেছে, তা হল, সেই তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছিল। বুধনের মৃত্যুর পিছনে যে-রহস্য আছে, তা যে কালাদেও নামক কোনও অন্ধকার-মিথের কাজ নয়, এটি অনুমান করতে পেরেছিলেন প্রথম সত্যব্রতই। আর তাঁর এই কৌতূহল, কয়েক মাস অতীতের ঘটনা নিয়ে নাড়াচাড়া করা—কেউ বা কারা সতর্ক দৃষ্টিতে লক্ষ্য রাখছিল, তারই পরিণাম হিসেবে আজকের হামলা। অবশ্য এর মাঝে নুনিয়ার সঙ্গে সত্যব্রতর ঘনিষ্ঠতা মৌচাকে ঢিল মেরেছিল। ওরা সেজন্য তক্কেতক্কে ছিল। এখন সুযোগ পেয়ে ঝোপ বুঝে কোপ মেরেছে। কিন্তু সত্যব্রতর কিছু যাতে না হয়, সেটা দেখা পুলিশের কর্তব্য। কারণ, তিনি একজন সরকারি অফিসার নন, একইসঙ্গে পুলিশকে এই কেসে সহযোগিতা করছেন বলে, তাঁকে রক্ষা করার দায় পুলিশের ওপরেই বর্তায়। আর যে সে-কথা অস্বীকার করুক না কেন, শাক্য করবে না। সুদীপ্তকে দিয়ে ফোন করালে ভালো হতো। সে কোথায়? শাক্য চারপাশে তাকালো।

সুদীপ্ত তখন ব্লাডারে চাপ পড়ায় একটু দূরে গিয়ে একটি গাছের গোড়ায় জলবিয়োগ করছিল। সেইসঙ্গে হ্যাং হয়ে যাওয়া মাথাটা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে সিগারেটও ধরিয়েছিল। পিশাচপাহাড়ে একের-পর-এক বছরখানেক ধরে যা-সব ঘটছে। এখন যেন আরও বেড়ে গেছে। আরও অনেকের মতো সে যদিও কালাদেওর তত্ত্বে বিশ্বাস করে না। কিন্তু যে বা যারা এই অপরাধগুলি করছে, তারা কেন করছে, এটা আগে পরিষ্কার না হলে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোন রাস্তা সে খুঁজে পায় নি এখনও। রাস্তার মাঝে গাড়ির সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়া লোকটি যে পিশাচপাহাড় হেলথ-সেন্টারের ডাক্তার সত্যব্রত হতে পারে, এটা সে স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি। সে ভেবেছিল হয় মাতাল, নয় শত্রু। কিন্তু গাড়ি থেকে নেমে সত্যব্রতকে দেখে সে অবাক না হয়ে পারেনি। আর তখনই তার মনে পড়েছিল, শাক্য সিংহের কথা, “সুদীপ্ত, ডাক্তার নিজের বিপদ নিজেই ডেকে এনেছেন। আমাদের ওঁর ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে!”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৪: অনুসরণ

শারদীয়ার গল্প-৬: দুর্গা রাগ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৩: মহর্ষিকে অনুসরণ করে তাঁর পত্নীও বাড়ির পুজোতে যোগ দিতেন না

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২০ কামপাখি

সতর্কতা বলতে পুলিশ-প্রোটেকশন বোঝায়। কিন্তু পিশাচপাহাড় আপাত শান্ত ছোট্ট একটা জনপদ, যার বাসিন্দার সংখ্যা মেরে-কেটে কয়েক হাজার, সেখানকার থানায় কতজন পুলিশ পোস্টেড হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। অতএব প্রোটেকশন চাইলেই দেওয়া খুব কঠিন। একে স্টাফ বাড়ন্ত, তার উপর কালাদেওর ঘটনাগুলি ঘটার পর থেকে পুলিশের মধ্যেও একটা চাপা আতঙ্ক কাজ করছে। ফলে রাত-পাহারায় অনেকেই রাজি নয়। পুলিশের রুটিন পেট্রলিং অবশ্য বজায় আছে। সেখানে যেহেতু দু-তিনজন একসঙ্গে জিপে করে পেট্রলিং-এ বেরোয়, ফলে অসুবিধা হয় না। কিন্তু আলাদাভাবে একা-একা পাহারা দেওয়ার ব্যাপারে থানার ফোর্সের মধ্যে তেমন উৎসাহ দেখেনি সে। যদিও ঘটনাটি স্বাভাবিক। কে বা আর চায়, বেঘোরে প্রাণ দিতে? তাছাড়া, এত তাড়াতাড়ি যে সত্যব্রতর উপরে হামলা হবে, সেটাও সে তো বটেই, শাক্যদাও নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারেননি। কিন্তু সে ভেবে পাচ্ছিল না যে, সত্যব্রত এই অবস্থায় কীভাবে এসে পৌঁছলেন! নিজের হেলথ্‌-সেন্টার থেকে এতদূরে তিনি এলেনই বা কী করে? কোন কাজের সূত্রে এদিকে এসেছিলেন কি? আর যদি এসেও থাকেন, এখানে তাঁকে অ্যাটাক করা হল কীভাবে? শত্রুপক্ষ কি তবে তাঁকে অনুসরণ করে পিছু-পিছু এসেছিল? সত্যব্রত সুস্থ না-হয়ে ওঠা পর্যন্ত এ-সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয় যাবে না।
“সুদীপ্ত!” শাক্যর ডাক শুনে সুদীপ্ত ঘুরে তাকাল।
শাক্য বলল, “আপনার হয়ে গেলে একটু আসবেন। কয়েকটা ফোন করতে হবে!”
সুদীপ্ত তাড়াতাড়ি সিগারেট মুখ থেকে ছুঁড়ে ফেলে এগিয়ে এল। হেলথ-সেন্টারের বাইরে একটা সিমেন্টের বেদির ওপর ওয়াটার-ট্যাংক বসানো, সেখানে হাত ধুয়ে রুমালে মুছতে-মুছতে শাক্যর সামনে এসে সুদীপ্ত বলল, “বলুন দাদা!”
“সুদীপ্ত, মালাকারবাবুকে একটা ফোন করো। এক্ষুনি। বল যে, সত্যব্রতবাবুর হেলথ-সেন্টারে গিয়ে এখনি খোঁজখবর করতে যে, সত্যব্রত কেন এদিকে এসেছিলেন? কখন বেরিয়েছিলেন? তাঁর কি রাতে ফেরার কথা ছিল? এইসব আর-কি। তবে রুটিন-এনকোয়ারি যেন না হয়, আমার ডিটেইল চাই!”
“আর কিছু?”
“নাহ্‌। আমি আপাতত, এসডিপিওকে একটা ফোন করে খবরটা দিই। ওঁরও জানা উচিৎ। পিশাচপাহাড় একটি বর্ডার এরিয়া, সেখানে যে নজরদারি আরও বাড়ানো উচিৎ, বিশেষ করে এখনকার সিচ্যুয়েশনে, এটা তাঁর বোঝা দরকার!”
“আগে ছিল কিন্তু। আগের এসডিপিও যিনি ছিলেন, তিনি বর্ডার এলাকাগুলিতে বেশি ফোর্স পাঠিয়ে অবস্থা আয়ত্তে এনে ফেলেছিলেন। তাছাড়া রেগুলার বেসিসে রুটিন-চেকিং, সাশপিসাস ডেনগুলিতে সাডেন ভিজিট—আরও কিছু-কিছু ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। আমি যদিও সে-সবের শেষদিকে এসেছি। পিশাচপাহাড় বর্ডারে একটি বড় গ্যাং বে-আইনি অস্ত্রশস্ত্রসমেত ধরাও পড়েছিল মূলত তাঁরই জন্য। আমি ওই টিমটাই লাকিলি ছিলাম। দেখেছি, তাঁর সিদ্ধান্ত-গ্রহণের দক্ষতা, ইনট্যুইশন সাঙ্ঘাতিক। কিন্তু ওই সাকসেসফুল অপারেশনের পরেই তাঁকে কলকাতায় বদলি করে ট্র্যাফিক-কন্ট্রোলের দায়িত্বে নিয়ে যাওয়া হল। বুঝতেই পারছেন, পলিটিক্যাল পার্টিগুলির হাত বড় লম্বা। তা-না-হলে যে অফিসার সাফল্যের সঙ্গে অপারেশন চালান, তাঁকে কেউ প্রোমোশনের নামে ট্র্যাফিক-গার্ডের মতো জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় ?”
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২: মালা বেঁধে দিল বন্ধনহীন গ্রন্থি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

শাক্য চাপা দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলল। এই জাতীয় ঘটনার সঙ্গে সে পরিচিত। আকছার হচ্ছে। যে রাজনৈতিক দল যখন ক্ষমতায় থাকেন, তখন তারা পুলিশকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করতে চায়। যতদিন-না বিচার-বিভাগের সঙ্গে পুলিশ-বিভাগকে যুক্ত করে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা না দেওয়া হচ্ছে, ততদিন এইরকম চলতেই থাকবে। একেজি স্যার আক্ষেপ করে একদিন বলছিলেন তাকে, “কী জানো, গোটা সিস্টেমের মধ্যেই ঘুণপোকা বাসা বেঁধে আছে, ভিতর থেকে পুরো ফোঁপরা করে দিয়েছে, আমার আর তোমার সাধ্য কী যে তাকে পুরো সারিয়ে তোলা? তাও চেষ্টা করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত মাথা উঁচু করে কাজ করা যায়, ততদিন পর্যন্ত নিজের ভিতরেই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। অন্তত সিস্টেমের কিছু অংশ যদি বেঁচে যায়, জানবে সেটাও অনেক!”

কথাটা শাক্য মানে। সে নিজে দেখেছে অনেক তুখোড় অফিসার রাজনৈতিক নোংরামির শিকার হয়ে আক্ষেপ আর হতাশার অন্ধকারে তিলে-তিলে হারিয়ে গেছেন। একেজি স্যারকে শ্রদ্ধা করলেও তার মনে হয়, এই যে মেনে নেওয়া, যা আসলে আপস করারই নামান্তর মাত্র, তা-ও তো ওই ঘুণপোকাই। সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে তার নিজের হাত থেকেও অনেক কেস চলে গেছে আপসপন্থী সহকর্মীর হাতে। সে কিচ্ছু করতে পারেনি। এখানেও সেইরকম কোনও প্রভাবশালী আসলে অস্ত্রপাচার কিংবা বর্ডারের হাজারো অবৈধ ডিলিং-এর কিং-পিন, সেইকারণেই রুলিং-পার্টি এত সক্রিয়।

আসলে এই সমস্ত কিং-পিন এবং তাদের দলবলেরাই বছরের পর বছর একই পার্টির নির্বাচনে জেতার মূল কাণ্ডারি। অতএব তাদের সুখসুবিধা তো দেখতেই হবে! ফিল্মে-ওয়েবসিরিজে যে-সব অপ্রতিরোদ্ধ পুলিশ অফিসারকে দেখা যায়, যাঁরা যা খুশি তা-ই করতে পারে, বাস্তবে তার সিকিভাগও আসলে নেই। থাকলে তাঁদের সবাইকে ওই ট্র্যাফিক-গার্ডের দায়িত্বের মতো কোনও একটা ‘দুদুভাতু’ গোছের দায়িত্বে পাঠিয়ে প্রোমোশনের নামে শাস্তি দেওয়া হতো। সে নিজে ঠিক করেছে, যদি সে দেখে নিজের বিবেকের সঙ্গে লড়াইয়ে সে হেরে যাচ্ছে ক্রমাগত, তাহলে এক কথায় এই চাকরি ছেড়ে দিয়ে জিম-ট্রেনারের কাজ করবে আর অবসর সময়ে ক্যামেরা নিয়ে বেরিয়ে পড়বে ফোটোগ্রাফি করতে।
আরও পড়ুন:

আমার দুর্গা: বিজ্ঞানী রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩২: লৌকিকও অলৌকিকের টানাপোড়েনের বিনির্মাণ—ঋষিকবির মহাকাব্য রামায়ণ

সুদীপ্ত আরও অনেক কথাই বলে যাচ্ছিল। তাকে বলতে দিল শাক্য। সে থামলে বলল, “সুদীপ্ত, আমাকে-আপনাকে এ-সব নিয়েই সিধে থাকতে হবে। যতদিন পারা যায়। তাই না?”
সুদীপ্ত মাথা নেড়ে সায় দিল।
শাক্য বলল, “আপনি মালাকারবাবুকে ফোনটা করুন। আমি এসডিপিওকে ধরছি আর ডিএম সাহেবকে একটা মেসেজ পাঠিয়ে রাখছি। উনি বিজি মানুষ, সময় করে ঠিক দেখে রিপ্লাই দেবেন কিংবা ফোন করবেন, আশা করি।”
সুদীপ্ত ফোন করে মালাকারকে বলতে যাবে, এমনসময় হেলথসেন্টারের ডাক্তার বেরিয়ে এলেন। ডাকলেন তাদের, “অফিসার…!”
শাক্য আগে ডিএমকে মেসেজ করতে যাচ্ছিল, ডাক্তারের ডাক শুনে সে আপাতত মেসেজ পাঠানো বন্ধ রেখে এগিয়ে গেল, বলল, “কেমন বুঝছেন?”
“চিন্তার কোন কারণ নেই। খুব দুর্বল। ক’দিন কিছু খাননি বলে মনে হচ্ছে। হাতে-পায়ে কাটাছেঁড়ার দাগ আছে, তবে গাড়ির আঘাতে উণ্ডেড হওয়ার চিহ্ন নয়। সম্ভবত কাঁটাজাতীয় ঝোপঝাড়ের থেকে হয়েছে। উনি ছুটে আসছিলেন বলছিলেন, সম্ভবত সে-সময়েই। তার উপর ভয় এবং দুশ্চিন্তা থেকেই হার্টবিট আর পালস্‌রেট হাই হয়ে গিয়েছিল। একটা ইঞ্জেকশন দিয়েছি, স্যালাইন চালু করেছি, আশা করছি কাল সকালেই অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠবেন। ক’দিন রেস্ট নিন। ঠিক হয়ে যাবেন। ওঁর এখন প্রপার ঘুম আর খাওয়াদাওয়া, সেই সঙ্গেই রেস্টের দরকার!”
“হ্যাঁ, বুঝলাম। তাহলে আজকে আর কোনভাবেই ওঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না, তাই তো?”
“প্রশ্নই ওঠে না। ওঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছে। আপাতত কাল সকাল পর্যন্ত টানা ঘুম। তারপর জেরা করবেন না হয়। তবে খেয়াল রাখবেন, বেশি উত্তেজনা শরীরের পক্ষে ভালো নয় এখন ক’দিন। তবে উনি নিজে যেহেতু ডাক্তার, অতএব সেটা উনি নিজেই ভালো জানেন। আপনারা একটু বুঝেশুনে জেরা করলেই চলবে আর-কি!” হাসলেন ডাক্তার।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

শাক্য হাসি ফিরিয়ে দিল। তারপর বলল, ‘আপনি তাহলে পেশেন্টের কনডিশন জানিয়ে একটা রিপোর্ট লিখে দিন ডক্টর। সেইসঙ্গে প্রেসক্রিপশন। আমি একটু অফিসিয়াল বসদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানাই। আমার মনে হয়, এখানে, এই হেলথসেন্টারে পুলিশ-প্রোটেকশনের ব্যবস্থা এখনই করা দরকার!”
“কেন? ওঁকে কি কেউ আক্রমণ করতে পারে? সেই ভয়েই কি উনি দৌড়াচ্ছিলেন? মানে কেসটা ঠিক…। আসলে ভুল বুঝবেন না, এখানে আমরা ক’জন মাত্র, তাও তো দেখছেন, কী অবস্থা। বাউণ্ডারি-ওয়াল পর্যন্ত নেই। এখন হুলিগানদের আক্রমণ হলে কীভাবে নিজেদের বাঁচাবো, কীভাবে ডক্টর সত্যব্রতকে, সে-ভেবেই বলা!” ডাক্তার বললেন।
“আপনি উদ্বিগ্ন হবেন না। কেবল সত্যব্রত নয়, আপনারাও যাতে সুরক্ষিত থাকেন, সে-ব্যবস্থাই করতে চাইছি। আর সত্যব্রতর ঠিক কী হয়েছিল, তা আমরা জানি না। কারণ, তাঁর সঙ্গে এ-ব্যাপারে আমাদের কথা বলার সুযোগ হয় নি। আমি অনুমানের কথা বলছি। আর কিছু নয়!”
শাক্যর কথা শুনে ডাক্তার কতটা আশ্বস্ত হলেন কে জানে, তবে আর কথা না বাড়িয়ে ভিতরে চলে গেলেন, সম্ভবত রিপোর্ট লেখার জন্য।
শাক্য মনে-মনে অজানা কাউকে ধন্যবাদ দিল। যাক, আপাতত প্রাণটা রক্ষা পেল সত্যব্রতর। না-হলে যে কী হত? আসলে হয়ত সবটাই ডেস্টিনি। কপালে না থাকলে শরীরকে কেউ হনন করতে পারে না।— চলবে

* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content