রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

নেহা’জ বুটিকের মালিক নেহা দাদলানি। কলকাতায় জন্ম, পড়াশোনা বেড়ে ওঠা। শুধু পদবিটুকু না জানলে তার কথা শুনে কেউ বুঝতেই পারবে না নেহা অবাঙালি! ভবানীপুরে পৈতৃকবাড়ি। দুর্গাপুজো, ফুচকা, তেলেভাজায় রসনা তৃপ্ত করে শাড়ি সালোয়ারকামিজ জিন্সে সারা কলকাতা চষে বেড়ানো মেয়ে। নেহা’জ বুটিক এই মুহূর্তে কলকাতার অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং পরিচিত ফ্যাশন স্টেটমেন্ট। টালিগঞ্জের সিরিয়াল ও ছবির হিরোইনরা নেহার পোশাক পরেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সেটা প্রচার করেন। এটা নেহার বিজ্ঞাপনের একটা ধরণও।

ঝাঁ-চকচকে কোয়েস্ট মলের দোতলায় নেহা’জ বুটিকের শোরুম। তার সামনেটায় গোল একটু চত্বর মতো আছে। বসার জায়গা আছে সেখানে। সেখানেই নেহাকে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। মলের চলাফেরা করা লোকজনকেও ভাবতেই পারেনি, বসে থাকা মহিলা বেঁচে নেই। মানে একেবারে নিষ্প্রাণ।
মৃতদেহ আবিষ্কারটা একদম ইংরেজি ছবির মতো। শট টু শট। নিখুঁতভাবে সাজানো। ষাটোর্দ্ধ একজন লোক চাকরি থেকে রিটায়ার করেছেন, কিন্তু প্রেম থেকে রিটায়ার করেননি। স্ত্রী ছেলেমেয়ে বর্তমান। তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে কমবয়সী বান্ধবীদের সঙ্গে দূরভাষে সম্পর্ক করা তার নেশা। বাড়িতে নয়। বাড়ির বাইরে। তাই সকালবেলা নিয়ম করে অফিস করার মতোই খেয়েদেয়ে বেরিয়ে পড়েন। বাড়ির সকলে জানেন রিটায়ার করার পরেও একটিভ থাকার জন্য কর্মযোগী মানুষটি নতুন কাজ খুঁজছেন, যাতে শারীরিক মানসিক সক্ষমতা বজায় থাকে। সংসারে কিছুটা আয়ের একটা সংস্থান হয়। মধ্যবিত্ত জীবনে অর্থের যোগান থাকাটা খুব জরুরি। অর্থ জড়িয়ে থাকলে সেখানে আপত্তি সন্দেহ বাধা এগুলো আসে না। এই প্রবীণ প্রেমিক নিয়ম করে বিভিন্ন মলে যান, সেখানকার চত্বরে বসে থাকেন দু’চোখ ভরে নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করেন। আর ফোনে নতুন নতুন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৭: গ্রিন টি /৫

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৫: পাতি গাঙচিল

পৃথিবীর সর্বোচ্চ একক আর্চ ব্রিজের নির্মাণে বিনয়ী এক অধ্যাপিকা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩০: চুপি-চুপি আসে

পর্ব-৩৭: বানরেন্দ্র-জাতক: শক্তি না বুদ্ধি?

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৮: স্ত্রী সীতার ব্যক্তিত্বের প্রভায় রামচন্দ্রের আলোকিত উত্তরণ সম্ভব হয়েছে কি?

লোকটি সেদিনও ঠিক তেমনই করছিল। পিছনে একজন মহিলা বসে আছেন জেনেও লোকটির কথাবার্তায় কোনও আগল ছিল না। হঠাৎ কি হল পাশের বসে থাকা মহিলাটি আচমকাই এই লোকটির পিঠের ওপর ঢলে পড়লেন। ঘুরে দেখতে গিয়ে দেখলেন মহিলার মুখ থেকে ফেনা বের হচ্ছে। চিৎকার চেঁচামেচি আতঙ্কের মধ্যে লোকটিকে সিকিউরিটি গার্ডেরা নিয়ে গিয়ে তাদের অফিসে বসিয়ে চোখে মুখে জল দিয়ে শান্ত করলেন। পুলিশ এল এবং খুব স্বাভাবিক কারণে এই প্রবীণ প্রেমিককে থানায় গিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ-এর মুখে পড়তে হল।

মেয়েটির আশেপাশে কিছু দেখেছিলেন কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে হঠাৎ খেয়াল পড়ল মেয়েটির হাতে ধরা গ্রিন টি’র কাপ থেকে চা চলকে তার প্যান্টে পড়েছিল। চায়ের কাপটা সম্ভবত বসার বেঞ্চের নিচে এখনও পড়ে রয়েছে। একদিনে তিন তিনটে অস্বাভাবিক মৃত্যু। সাতসকালে নিউআলিপুরে নিজের বাড়িতে রিয়া সেন, খানিক পরে ইএম বাইপাসের ধারের তারকা হোটেলে অনন্যা প্যাটেল সেনগুপ্ত সকাল গড়িয়ে একটু বেলা হতে কোয়েস্ট মলে নিজের কাজের জায়গার সামনে নেহা দাদলানি!
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৩: রাজা গোবিন্দমাণিক্য চেয়েছিলেন ঘরে ঘরে পুরাণ পুঁথির প্রচার হোক

সরকার বিরোধীপক্ষ খবরের কাগজ টেলিভিশন চ্যানেল এবং ইউটিউবের নিউজ চ্যানেলের সকলে ভৈরব চক্রবর্তী এবং তার ডিপার্টমেন্টকে তুলোধোনা করছে। তদন্ত নয়, এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উপায় বের করার জন্য রুদ্ধদ্বার বৈঠক ডেকেছেন বিভাগীয় প্রধান ভৈরব চক্রবর্তী।
—নাও সাজেস্ট মি হাউ টু হ্যান্ডেল ইট!
—স্যার আমার একটা সাজেশন আছে!
ধৃতিমান কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গেই ভৈরব চক্রবর্তী ঘুরে তাকালেন—
—ইয়েস সিওর!
—দেরি না করে থানায় ওই লোকটির প্যান্ট জমা দিতে বলুন!
প্রস্তাব শুনে সকলে হতবাক !খুব স্বাভাবিকভাবে বড়কর্তাই কথা বললেন—
—মানে কার প্যান্ট?
—ওয়েস্ট মলে যে মানুষটি এই মৃতদেহ প্রথম দেখেছেন।
—কেন?
—এই প্রথম একজন জীবিত মানুষের পোশাকের অংশ থেকে হয়ত আমরা মৃত্যুর কারণ আন্দাজ করতে পারব এবং আমার বিশ্বাস এই একটি কারণের অনুসন্ধান আমাদের আজকের তিন তিনটি রহস্যমৃত্যুর একটা দিশা দেখাবে।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩০: ঠাকুরবাড়ির জামাই রমণীমোহনকে মন্ত্রী করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৭: গ্রিন টি /৫

নির্দেশ গেল নির্দিষ্ট থানায়। মানসিকভাবে পূর্ণপ্রেমিক যুবক, চেহারায় ও বয়সে প্রৌঢ় লোকটি, প্যান্ট থানায় রেখে যেতে হবে শুনে আঁতকে উঠলেন! থানার মেজবাবু মানে এএসআই হুকুম জারি করে গাড়ি নিয়ে পেট্রোলিংয়ে বেরিয়ে গেলেন। ওসি কাগজপত্র নিয়ে কি একটা জরুরি দরকারে মুখ্যসচিবের দপ্তরে ছুটেছেন। থানায় দায়িত্বে রয়েছেন নতুন চাকরিতে ঢোকা এক তরুণী। সহজ বুদ্ধি লাগিয়ে সে বুঝতে পেরে গিয়েছে লোকটির কোথায় সমস্যা হচ্ছে। লোকটির মনের আসল সমস্যা না জেনেই সেই তরুণী বলে দেয়।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

—দেখুন আমি আপনার অসুবিধেটা বুঝতে পারছি, কিন্তু হিসেব মতো প্যান্টটা তো আপনাকে থানায় দিয়ে যেতেই হবে। বাড়িতে খবর পাঠালে আপনার অস্বস্তি হবে। আবার আপনাকে আমি বাড়িতে গিয়ে প্যান্ট পাল্টে আবার এই প্যান্ট থানায় দিয়ে যেতে বলবার ঝুঁকি নিতে পারবো না!
—তাহলে উপায়!
আজকের জেনারেশনের বুদ্ধিমতী মেয়ে। এই কম্প্রোমাইজ করার জায়গাটিতেই নিয়ে যেতে চাইছিলেন প্রৌঢ়কে।
—আপনি বয়স্ক মানুষ আপনাকে সাহায্য করাটা আমাদের কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
কিছু মানুষ আছেন যারা খুব কঠিন কথা কঠোর কথা কমবয়সী মহিলার মুখ থেকে শুনলে সহজেই মেনে নেন। অথচ সেই কথাটাই কোন এক পুরুষমানুষ সে যে কোনও বয়সেরই হোক না কেন বললে লোকটি ‘কে রে কে রে’ করে মারতে তেড়ে যাবেন। লোকটির মুখ দেখে তরুণী পুলিশকর্মী বুঝে ফেলল এখন যে কোন ডিল তিনি মেনে নেবেন।
—আমাদের থানার ঠিক বাইরে ডানদিকে ছোট ডিপার্টমেন্টাল শপ আছে। ওখানে আপনি জিন্সের প্যান্ট পেয়ে যাবেন। ওখানে যান সঙ্গে আমাদের এক কনস্টেবল যাবেন। সঙ্গে সঙ্গে মানে অনেক দূরে দাঁড়িয়ে থাকবেন, এটা জাস্ট প্রটেকশন আর কি। ট্রায়াল রুমে গিয়ে নতুন প্যান্টটা পরবেন। ঠিকঠাক ফিট করল কিনা দেখে নিলেন। তারপর আবার পুরনো প্যান্টটা পরে বিলটা মেটাবেন আবার ট্রায়াল রুমে যাবেন। জিন্সের নতুন প্যান্ট পরবেন। পুরনো প্যান্টটা নতুন ব্যাগে ভরবেন হাতে বিলটা নিয়ে গেটে দেখিয়ে বেরিয়ে আসবেন। থানায় এসে আপনার পুরনো প্যান্টটা জমা দিয়ে দেবেন। সিম্পল! —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content