
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
|| ফোটোগ্রাফ-৭ ||
বুবুর মেজাজ ঠিক নেই। প্রথমত, একটু বেশি সকালে ঘুম ভেঙেছে। সকাল সাড়ে ছটা। জানুয়ারি ফেব্রুয়ারিতে সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডা থাকে। বাবু অনেক রাত্রি পর্যন্ত জেগে থাকে। নেট সার্ফ করে। ছবি দেখে। পুরনো স্ক্রিপ্টের পাতা ওল্টায়। সেও সকালের দিকটা ওঠে না। ঘুমের পার্ট-টু চলে। বাবু খেয়াল করেছে। ঘুমের পার্ট ওয়ানের থেকে পার্ট-টু বেশি মজাদার। মানুষ অভ্যাসের দাস। পোষমানা পশুপাখিও তাই। বাবু দেরি করে বিছানা ছাড়ে। বুবুও বেলা পর্যন্ত ঘুমোয়। বুবুরই আগে ঘুম ভাঙ্গে। সেই ডেকে ডেকে বাবুকে তোলে।
— বাবু! এই বাবু! বাবু ওঠ! এই বাবু ওঠ! বাবু! এই বাবু।
— বাবু! এই বাবু! বাবু ওঠ! এই বাবু ওঠ! বাবু! এই বাবু।
বুবু জানে কখন গলাকে তীক্ষ্ণ করতে হয়। কখন আদরে গলা ভিজিয়ে দিতে হয়। কে যে তাদের এই ভয়েজ মডিউলেশন শেখায়? রিজেণ্ট পার্ক থেকে বিকেলে বাড়ি ফিরে বাবু, বুবুকে খাঁচার বাইরে ছেড়ে দিলো। খিদে পেলে বা চান করার ইচ্ছে হলে কাকাতুয়া বুবু – কখনও ভাববাচ্যে আবার কখনও বাবুর কাছেই শোনা কথাগুলো বারবার বলে।
— বুবু চান, বুবু চান!
এদিক ওদিক দেখে আবার শুরু হয়।
— বুবু চান করো। বুবু চান করো। বুবু ধরে ধরে খাও। রেস করো বুবু! রেস করো!
এই ‘রেস’ মানে গতি নয় গতিহীনতা। ‘রেস’ হল ট ছাড়া রেস্ট! পূর্ণ বিশ্রাম।
ফল কেটে খাবার টেবলে সাজিয়ে দিতে হয়। বুবু সারা টেবিলে চক্কর দেয়। ঠুকরে ঠুকরে ফল খায়। মাঝে মাঝে বলে—
— বাবু খাবি ? বাবু খাবি? বুবু খাবে বুবু খাবে।
— বুবু চান, বুবু চান!
এদিক ওদিক দেখে আবার শুরু হয়।
— বুবু চান করো। বুবু চান করো। বুবু ধরে ধরে খাও। রেস করো বুবু! রেস করো!
এই ‘রেস’ মানে গতি নয় গতিহীনতা। ‘রেস’ হল ট ছাড়া রেস্ট! পূর্ণ বিশ্রাম।
ফল কেটে খাবার টেবলে সাজিয়ে দিতে হয়। বুবু সারা টেবিলে চক্কর দেয়। ঠুকরে ঠুকরে ফল খায়। মাঝে মাঝে বলে—
— বাবু খাবি ? বাবু খাবি? বুবু খাবে বুবু খাবে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!, পর্ব-১২৫: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৬

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫২: রামের জীবনে জটিলতা ও অনিশ্চয়তার মূলে রয়েছে—নারী

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৬: ব্রিটিশ বাংলার বিপ্লবীরা অনেক সময় পালিয়ে এসে আশ্রয় নিতেন ত্রিপুরায়

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৬ : অগ্নি সংস্কার
দৈনন্দিন জীবন চলে যায়। ধৃতিমানের পৈতৃক উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া একটা বড় অংকের টাকা ছবিতে লাগাতে দেননি অভিজ্ঞ একজন শুভানুধ্যায়ী। ধৃতিমানের প্রোডাকশন ম্যানেজার। শান্তি সর্বজ্ঞ। বয়স্ক মানুষ। ধৃতিমান সকলের মত শান্তিদা বলতো না। শান্তিকাকা বলে ডাকতো। তিনিও আদর করে ধৃতিমানকে ভাইপো বলে ডাকতেন। শান্তি সর্বজ্ঞ ধৃতিমানের বাড়ি ছেড়ে আসা, বাবা-মা’র মৃত্যুর পর তাঁর নিকটাত্মীয়দের দূর্ব্যবহারের ইতিহাস জানতেন। তথাকথিত আত্মীয়স্বজন! তাঁদের স্বার্থপরতা আর তাঁদের অর্থলোভ নিয়ে ধৃতিমানের তীব্র অভিমানের সবটুকু জানতেন শান্তিকাকা। সেই পরমাত্মীয়রা মামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ভাড়াকরা ধুরন্ধর উকিল তাঁদের পরামর্শ দিলেন। ধৃতিমানের ন্যায্যভাগ্যের প্রাপ্যটাকার পুরো না হলেও কিছুটা তাকে দিয়ে দেওয়া উচিত। মুখ বন্ধ থাকবে। কিছু না দিলে ভবিষ্যতে যদি ধৃতিমান কোনওদিন আদালতের দ্বারস্থ হয় বা এখন মামলা করলে যদি উকিল দাঁড় করায় তখন কেলেঙ্কারি। সুদ-সহ ভাগের টাকা তো দিতেই হবে। উপরন্তু নায্যটাকা দাবীর জন্য ধৃতিমানের আদালতের পুরো খরচও দিতে হতে পারে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪২: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — গঙ্গার শুশুক

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৪ : দেবী — ব্যথার পূজা হয়নি সমাপন
টাকাটা সরাসরি ধৃতিমানের ব্যাংকে এসেছিল। তার আগে ধৃতিমানের কাছে ব্যাংক ডিটেলস জানতে চেয়ে ফোন এসেছিল। ধৃতিমান হ্যাঁ হুঁ বলে ফোন রেখে দিয়েছিল। তারপর উকিলবাবু সরাসরি ফোন করেছিলেন। অচেনা নম্বর। ধৃতিমান ফোন দূরে রেখে একটা স্ক্রিপ্ট নিয়ে তাঁর অ্যাসিস্ট্যান্টের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত ছিল। তাই ফোন না ধরে বলেছিল
— দেখুন তো শান্তিকাকা! হয়তো ক্রেডিট কার্ডের ফোন হবে।
— দেখুন তো শান্তিকাকা! হয়তো ক্রেডিট কার্ডের ফোন হবে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৫ : যে জন রহে মাঝখানে

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৯ : দুই সাপের বিবাদ ও রাজকন্যার গুপ্তধন লাভ! প্রাকারকর্ণের চাণক্য-নীতিতে মুগ্ধ উলূকরাজ
শান্তি সর্বজ্ঞ ফোনটা নিয়ে ঘরের বাইরে কলঘরের সামনেটায় চলে গিয়েছিলেন। ওপরপ্রান্তে সেই উকিলবাবু
— ধৃতিমান চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলা যাবে কি?
— কে বলছেন?
— আমি বিকাশ লাহিড়ী! ল’ ইয়ার !
— ধৃতিমান মানে বাবু এখন একটা স্ক্রিপ্ট মিটিং-এর মধ্যে রয়েছে। আমি ধৃতিমানের সব কাজকর্ম দেখাশোনা করি। আমার নাম শান্তি সর্বজ্ঞ। আমাকে আপনি বলতে পারেন।
— ধৃতিমান চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলা যাবে কি?
— কে বলছেন?
— আমি বিকাশ লাহিড়ী! ল’ ইয়ার !
— ধৃতিমান মানে বাবু এখন একটা স্ক্রিপ্ট মিটিং-এর মধ্যে রয়েছে। আমি ধৃতিমানের সব কাজকর্ম দেখাশোনা করি। আমার নাম শান্তি সর্বজ্ঞ। আমাকে আপনি বলতে পারেন।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫১: সুহনু-জাতক—সেয়ানে সেয়ানে

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
বিকাশ লাহিড়ী সহজ ছোট্ট কথায় জানিয়েছিলেন। ধৃতিমান না চাইলেও রানাঘাটের বাড়ির একজন উত্তরাধিকার হিসেবে একটা অর্থ ধৃতিমানের পাওনা। তার কাছে ব্যাংক ডিটেলস চাওয়া হয়েছিল। সে কিছু জানায়নি। বিকাশবাবু অভিজ্ঞ লোক তাই তিনি আন্দাজ করতে পেরেছেন যে শান্তি সর্বজ্ঞ ধৃতিমানের শুভানুধ্যায়ী। শান্তিবাবু যেন ধৃতিমানকে বোঝান যে হাতের লক্ষ্মী- এভাবে পায়ে ঠেলতে নেই। ধৃতিমানের সঙ্গে কথা বলে শান্তি সর্বজ্ঞ যেন অতি সত্বর ধৃতিমানের ব্যাংক ডিটেলস বিকাশ লাহিড়ির কাছে পাঠিয়ে দেন। ধৃতিমানের টাকা ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বিকাশ লাহিড়ীর সহকারি করিমুল নামের একটি ছেলে দলিল নিয়ে আসবে, সেখানে লাগানো নো অবজেকশনের চিঠি থাকবে। শুধু ধৃতিমানের একটা সই চাই।—চলবে।
অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।
















