
ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।
পুরনো অ্যালবামে অনেক ছবি। গ্রুপের ছবি। দুলালের একার আবৃত্তি করার ছবি, দু’জনের ছবি —সে ছবিতে স্নিগ্ধা পাশে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ দৃষ্টিতে দুলালকে দেখছে! দুলালের আবৃত্তির সঙ্গে মঞ্চে স্নিগ্ধা নাচছে। দুলাল ও স্নিগ্ধা পাশাপাশি দু’জনের হাতে পুরস্কারের ট্রফি! কোন ছবির কি ইতিহাস এই সব বিস্তারিত বলছিলেন ছন্দা। নাচের ছবিটাতে এসে রবি ঠাকুরের কোন কবিতা সেটা মনে করতে পারছিলেন না।
—এটা সেই রবি ঠাকুরের কবিতা রে! ওই যাতে নটী বাসবদত্তা আর সেই সন্ন্যাসী উপগুপ্ত!
—এটা সেই রবি ঠাকুরের কবিতা রে! ওই যাতে নটী বাসবদত্তা আর সেই সন্ন্যাসী উপগুপ্ত!
চা আর চিপস নিয়ে এসে স্নিগ্ধা টেবিলে রেখে মুখে গড় গড় করে কবিতার লাইন বলতে বলতে সঙ্গে সঙ্গে নাচতে শুরু করল।
সন্ন্যাসী উপগুপ্ত
মথুরাপুরীর প্রাচীরের তলে
একদা ছিলেন সুপ্ত-
নগরীর দীপ নিবেছে পবনে,
দুয়ার রুদ্ধ পৌর ভবনে,
নিশীথের তারা শ্রাবণগগনে
ঘন মেঘে অবলুপ্ত…>
মথুরাপুরীর প্রাচীরের তলে
একদা ছিলেন সুপ্ত-
নগরীর দীপ নিবেছে পবনে,
দুয়ার রুদ্ধ পৌর ভবনে,
নিশীথের তারা শ্রাবণগগনে
ঘন মেঘে অবলুপ্ত…>
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-২৪

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৬: বাজ

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬১: রাস্তায় গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেলে দুর্গতির কোনও সীমা থাকবে না
নাচ থমিয়ে ওড়নায় মুখ গলার ঘাম মুছতে মুছতে বলল—
—রবিঠাকুরের অভিসার!
—বাঃ এখনো তুমি সুন্দর নাচতে পারো!
তৃপ্তির প্রশংসায় ছন্দা যেন নতুন উদ্যম পেলো।
—আমি তো বলি খুকি কে, নাচটা ছাড়িস না! লোকে মাথা খুঁড়েও নাচগান শিখতে পারে না। আর তোর এতো ট্যালেন্ট!
—কাকিমা ঠিকই বলেছেন। তোমার নাচটা ছাড়া ঠিক হবে না!
জানলার দিকে তাকিয়ে উদাস ভাবে স্নিগ্ধা বলল—
—নাহ, সে একটা সময় ছিল তখন করেছি। সে সময়টাও ফিরে আসবে না। সেই সময়ের মনটাও ফিরবে না!
এরপরে বেশিক্ষণ কথা আর এগোয়নি কিছুটা চিপস আর চা খেয়ে তৃপ্তি চলে এসেছিল।
—রবিঠাকুরের অভিসার!
—বাঃ এখনো তুমি সুন্দর নাচতে পারো!
তৃপ্তির প্রশংসায় ছন্দা যেন নতুন উদ্যম পেলো।
—আমি তো বলি খুকি কে, নাচটা ছাড়িস না! লোকে মাথা খুঁড়েও নাচগান শিখতে পারে না। আর তোর এতো ট্যালেন্ট!
—কাকিমা ঠিকই বলেছেন। তোমার নাচটা ছাড়া ঠিক হবে না!
জানলার দিকে তাকিয়ে উদাস ভাবে স্নিগ্ধা বলল—
—নাহ, সে একটা সময় ছিল তখন করেছি। সে সময়টাও ফিরে আসবে না। সেই সময়ের মনটাও ফিরবে না!
এরপরে বেশিক্ষণ কথা আর এগোয়নি কিছুটা চিপস আর চা খেয়ে তৃপ্তি চলে এসেছিল।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২২: মহর্ষির নির্দেশে ঘণ্টা বাজত জোড়াসাঁকোয়

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২১: খেলা শুরুর প্রস্তুতি
মা মেয়ে যে চেষ্টাটা করেছিল তাতে তারা সফল হয়েছে। দুলালের মনের মধ্যে কোথাও কখনও যে স্নিগ্ধার একটা স্থায়ী জায়গা ছিল সেটা তৃপ্তির মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া গিয়েছে। তৃপ্তি ছোট থেকেই খুব চুপচাপ। এ নিয়ে সে দুলালকে কিছু বলেনি। দুলালের মার কাছেও কিছু জানতে চায়নি। তবে এখন সে বাজার যাওয়াটা একটু কমিয়ে দিয়েছে। দুলালকে বলেছে বিকেলের দিকটা খুব আলস্য, সন্ধেবেলায় দুলাল ফিরলে একসঙ্গে বাজারে যাবে। দুলাল কোনও আপত্তি করেনি। দোকান-বাজারে যেতে এমনিতেই তৃপ্তি খুব একটা পছন্দ করে না! তার ওপরে বাড়িতে তো কোন কাজের লোক নেই। আগে মা করতেন এখন তৃপ্তি সবকিছু করে ফলে শারীরিক খাটাখাটনি যথেষ্ঠ হয়, ক্লান্তি লাগাটা স্বাভাবিক।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২০: সত্য ও ন্যায় পরস্পরের সম্পূর্ণ বিরোধী নয়, তবে? ঔজ্জ্বল্য বেশি কার?

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৫: সমাপ্তি: শেষ হয়ে হইল না শেষ
স্নিগ্ধা বুঝতে পারছে না ঘটনাটা কি ঘটল? সচরাচর মেয়েরা দোকান-বাজার করতে জিনিসের দর করতে খুব পছন্দ করে, তৃপ্তি সেগুলো পছন্দ করে না। বরের প্রতি মাথায় একটা সন্দেহ ঢুকিয়ে দিলে মেয়েদের না খাওয়া বন্ধ হবার যোগাড় হয়। তৃপ্তির কি কোনও প্রতিক্রিয়াই নেই! দুলালের সঙ্গে তৃপ্তির ঘরের মধ্যে সংঘাত সংঘর্ষ কথা কাটাকাটি হচ্ছে কিনা সেটা জানবার জন্য ছটফট করছে স্নিগ্ধা !
এর মাঝে কোন একটা শুক্র-শনি ছুটি ছিল। ছোট ননদ মণি এসেছিল তার বরকে নিয়ে! শুক্রবার সকালে এসে রবিবার দিন বিকেলবেলায় ফিরে গেল। কটা দিন বাড়িটা খুব জমজমাট। শুক্র-শনি দুদিনেই দুলাল অন্যদিনের তুলনায় তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরল। বেশি করে মাছমাংস মিষ্টি নিয়ে এল জামাইয়ের জন্য। মণি এতো কিছু করতে মানা করেছিল ছোট ভগ্নিপতির আড়ালে মণির সামনে দুলাল মাকে বলল—
—দেখো মা, দাদা চটকলে কাজ করে বলে আমার ছোট বোন দাদার পয়সা বাঁচাতে চাইছে!
মণি হাঁহাঁ করে উঠল। মাকে বলল, এমনকি নতুন বৌদিকেও বলল দাদাকে সামলানোর জন্য দাদাকে এসব আজেবাজে কথা বলতে মানা করো মা। তুমি কিছু বলবে না বৌদি।
এর মাঝে কোন একটা শুক্র-শনি ছুটি ছিল। ছোট ননদ মণি এসেছিল তার বরকে নিয়ে! শুক্রবার সকালে এসে রবিবার দিন বিকেলবেলায় ফিরে গেল। কটা দিন বাড়িটা খুব জমজমাট। শুক্র-শনি দুদিনেই দুলাল অন্যদিনের তুলনায় তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরল। বেশি করে মাছমাংস মিষ্টি নিয়ে এল জামাইয়ের জন্য। মণি এতো কিছু করতে মানা করেছিল ছোট ভগ্নিপতির আড়ালে মণির সামনে দুলাল মাকে বলল—
—দেখো মা, দাদা চটকলে কাজ করে বলে আমার ছোট বোন দাদার পয়সা বাঁচাতে চাইছে!
মণি হাঁহাঁ করে উঠল। মাকে বলল, এমনকি নতুন বৌদিকেও বলল দাদাকে সামলানোর জন্য দাদাকে এসব আজেবাজে কথা বলতে মানা করো মা। তুমি কিছু বলবে না বৌদি।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৩: দুর্জনের সম্মান, সাধুর জন্য ফাঁদ

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৫: মা সারদার সাধুভক্তি
মণির চোখে জল চলে এল। বাবার পরেই তার জীবনে তার দাদার জায়গা। দাদার সামান্য অপমান বা অনাদর সে সহ্য করবে না! তৃপ্তি জড়িয়ে ধরে ননদকে শান্ত।
—আমার থেকে অনেক বেশি দিন তুমি তোমার দাদাকে চেনো! ও যে মজা করছে এটা বুঝতে পারো না।
—এসব নিয়ে মজা করা ঠিক নয়। আর কোনওভাবে যদি ওর কানে যায় কী ভাববে?
দুলাল হাসতে থাকে।
—থাকলে বলতাম না, দেখলাম চান করতে গিয়েছে তাই বললাম।
এবার সবাই মিলে হেসে ওঠে।
এই সময় দুলালকে অনেকটা বিশ্বস্ত মনে হয়। যার ওপর আজীবন নির্ভর করা যায়। কিন্তু স্নিগ্ধা আর স্নিগ্ধার মা ছন্দা কাকিমা যে দুলালের গল্প করছিলেন তৃপ্তি তাকে চেনে না। অথচ দুলালের সেই অজানা অস্তিত্ব মাঝেমধ্যে তাকে ভিতরে ভিতরে দূর্বল করে দিচ্ছে কেন?—চলবে।
—আমার থেকে অনেক বেশি দিন তুমি তোমার দাদাকে চেনো! ও যে মজা করছে এটা বুঝতে পারো না।
—এসব নিয়ে মজা করা ঠিক নয়। আর কোনওভাবে যদি ওর কানে যায় কী ভাববে?
দুলাল হাসতে থাকে।
—থাকলে বলতাম না, দেখলাম চান করতে গিয়েছে তাই বললাম।
এবার সবাই মিলে হেসে ওঠে।
এই সময় দুলালকে অনেকটা বিশ্বস্ত মনে হয়। যার ওপর আজীবন নির্ভর করা যায়। কিন্তু স্নিগ্ধা আর স্নিগ্ধার মা ছন্দা কাকিমা যে দুলালের গল্প করছিলেন তৃপ্তি তাকে চেনে না। অথচ দুলালের সেই অজানা অস্তিত্ব মাঝেমধ্যে তাকে ভিতরে ভিতরে দূর্বল করে দিচ্ছে কেন?—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।


















