রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
তৃপ্তিকে নিয়ে মা-মেয়ে এমন বাড়াবাড়ি শুরু করল যে দেখে তৃপ্তির নিজেরই ভীষণ অবাক লাগছিল! স্নিগ্ধা বলেছে তার মা দেখা করতে চেয়েছেন তাই অনেকবার না বলার পরেও তৃপ্তি আজ এসেছে। কিন্তু বাজারে আর কতক্ষণ সময় লাগতে পারে তাই আসার পর থেকেই তৃপ্তি বাড়ি ফেরার জন্য ছটফট করছিল।
—আরে বাবা যাবি খ’ন। দেরি হলে বাড়িতে বকবে বুঝি?
প্রথম দিনের আলাপেই স্নিগ্ধার মা সন্ধ্যা তাকে তুই বলে সম্বোধন করেছেন, তৃপ্তির ভালোই লাগলো।
—এখানে আসবো বলে কিছু বলে আসিনি তো!
—কেন বলে আসিসনি কেন?
তৃপ্তি কিছু বলার আগেই স্নিগ্ধাই তার মুখের কথা কেড়ে নিয়ে নিজেই উত্তর দিয়ে দেয়।
—না আমি মানা করেছিলাম।
—মানা করেছিলি কেন?
—তুমি তো জানো যে…
—দুলাল?
—ধ্যাৎ। দুলালদা কেন? দুলালদার মা! মাসিমা আমাদের খুব একটা…
—সে ছাড় বয়স্ক মানুষ! এখানে এসেছে জানলে কিছু বলবে না। যাই হোক, এখন একটা ফোন করে, ও হরি দুলাল তো ফোন নেয়নি! কিছু মনে করিস না তোর বরটা বড় কিপটে বাপু। আজকের দিনে ফোন টিভি ফ্রিজ যেগুলো তো আর বড়লোকি নয় প্রয়োজন!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-২৩: আকাশ এখনও মেঘলা

মুভি রিভিউ: সত্যিই তো, সবার নিজের নিজের মতো করে সবটাই নর্মাল

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২১: মহারাজ অফ শান্তিনিকেতন

তৃপ্তি জবাব না দিয়ে চুপ করেছিল। স্নিগ্ধা আর চোখে দেখে নিয়েই মাকে আটকে দিল—
—ছাড়ো তো ওসব ।
প্রথম এলি। তুই কি খাবি বল!
—না না মাসিমা আপনি…
তৃপ্তিকে স্নিগ্ধা ধরিয়ে দেয়
—দুলালদা মাকে কাকিমা বলে!
—ওহো, যাই হোক! আপনি এত ব্যস্ত হবেন না। আর আজ দুপুরে আমাদের খেতে একটু বেলাই হয়েছে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৬: বাজ

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৪: মা সারদার নিত্যলীলা

—তা হোক। ভালো দার্জিলিং-টি আছে। কলকাতার বড়বাজার থেকে আনানো! চিপসটা বার কর। চা দিয়ে একটু চিপস খা! নতুন বৌ। মিষ্টিমুখ করানো উচিত। তুইও খুকি আচ্ছা হয়েছিস! আসার সময় তো একটু মিষ্টি নিয়ে আসতে পারত সঙ্গে করে!
—তৃপ্তি মিষ্টি পছন্দ করে না, ওর ঝাল নোনতা এসব পছন্দ!
—ওমা তাই বুঝি! এই আমাদের বাড়ির মোড়ে তো একটা ছেলে খুব ভালো এগরোল বানায়। কিন্তু সে তো বসবে সন্ধ্যের মুখে!
—না না, ওসব কিছ্যু না ! আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৪: রিলেটিভিটি ও বিরিঞ্চিবাবা

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬০: পাহাড়ের চূড়ায় বসে দেখলাম হিমবাহের সেই অপরূপ শোভা

স্নিগ্ধা নাকি চা খুব ভালো করে। তাই তাকে চা করতে পাঠালেন ছন্দা।
—তুই তো আমার আরেক মেয়ের মতোই। যখন শুনলুম ছোটবেলায় তোর মা বাবা দু’জনেই চলে গিয়েছে খুব কষ্ট হয়েছিল। তারপর বড় বয়সে এসে ছোট ভাইকেও হারিয়েছিস।
তৃপ্তি এই প্রসঙ্গটা উঠলে ভীষণভাবে ভাবলে ভাবলেশহীন হয়ে বসে থাকে। ছোট থেকে এতবার এই প্রসঙ্গে অকারণ সহানুভূতি পেয়েছে, সে বিষয়টা আর নিতে পারে না।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২০: সত্য ও ন্যায় পরস্পরের সম্পূর্ণ বিরোধী নয়, তবে? ঔজ্জ্বল্য বেশি কার?

দুলালের বিয়ে শুনে খুব খুশি হয়েছিলুম! ভেবেছিলাম স্নিগ্ধার সঙ্গে দুলালের সম্বন্ধ করব। ছোটবেলা থেকে চেনা-জানা একসঙ্গেই প্রায় বেড়ে উঠেছে। স্নিগ্ধা খুব দুলালদা দুলালদা করতো। একসঙ্গে আবৃত্তির অনুষ্ঠান নাচের অনুষ্ঠান, আর দু’জনকে মানাতোও খুব সুন্দর। কিন্তু দুলাল স্নিগ্ধা দু’জনেই রাজি হল না। ওরা বড় হয়েছে ওদের কথা তো মেনে চলতে হবে। যাই হোক একমেয়ের সঙ্গে হয়নি নয় অন্য মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হল। এই দেখ ওদের সব পুরনো ছবি। তাক থেকে ছন্দা নামালেন নামালেন পুরনো অ্যালবাম।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content