রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। ছবি: সংগৃহীত।

তখন বিয়ের ভিডিয়ো তোলার রীতি চালু হয়েছে। যদিও দুলাল কিছুতেই সেই ‘বাজে খরচ’ করতে রাজি হল না। তার মা-ছেলের অভাবের সংসার, বাড়িতে টিভি পর্যন্ত নেই। সেখানে এই সব বড়লোকিপনা করার কোনও মানে নেই। টিভি ভিসিপি ভাড়া করে নিয়ে এসে বচ্ছরান্তে একবার বিয়ের ভিডিয়ো দেখার জন্য এতগুলো টাকা খরচা? পার্টির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যে ছেলেটি ছবি তোলে সেই কমখরচায় বিয়ের ছবি তুলে দেবে ঠিক হল।
স্নিগ্ধা আসার পরেই নতুন বরকনের সঙ্গে ছবি তোলার, কনের সঙ্গে ছবি তোলার আবদার শুরু হলো। দুলাল ছেলেটিকে বলেছিল খুব বেশি ছবি না তুলতে। সে ইতস্তত করছে দেখে স্নিগ্ধা বাড়াবাড়ি শুরু করল দুলাল অনিচ্ছা সত্ত্বেও চোখের ইশারায় সম্মতি জানালো। কিন্তু এরপর সকলকে চমকে দিয়ে স্নিগ্ধা দুলালদার সঙ্গে আলাদা ছবি তোলার জন্য ঝুলোঝুলি শুরু করল। দুলাল যেন স্পষ্ট বুঝতে পারছিল, যতটা না তার ইচ্ছে নতুন বউ তৃপ্তিকে দেখিয়ে স্নিগ্ধার বাড়াবাড়িটা তত বেশি। বৌভাতের রাত, তাই অনেক মানুষের ভিড়ে তৃপ্তি সেভাবে কাউকেই আলাদা করে লক্ষ্য করেনি, কিন্তু এবার খুব ভালো করে স্নিগ্ধাকে লক্ষ্য করল, দুলালের মা, ছোটবোন মণি বা দিদিরাও ব্যাপারটা ভালোভাবে নেয়নি। মণির বর দুই জামাইবাবু খাওয়াদাওয়ার তদারকিতে ব্যস্ত। কিন্তু মণির শ্বশুর শাশুড়ি সেখানে উপস্থিত। তাঁরা স্নিগ্ধাকে আলাদা করে কখনও দেখেননি। এর ওপর ইচ্ছে করেই ঘিয়ে আগুন ঢেলে দিলেন স্নিগ্ধার মা ছন্দা।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-২০: আকাশ এখনও মেঘলা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০২: কণ্ঠী ঘুঘু

—দাঁড়া না বাবা দুলাল একটিবার! ছেলেবেলা থেকে জানিস তো স্নিগ্ধা কি রকম নাছোড়বান্দা! মাথায় একবার ঢুকেছে যখন ছবি না তুলে কিছুতেই তোকে ছাড়বে না!
দুলাল তার মাকে প্রায়ই প্রায় বলতো।
—আমাদের মণি কিন্তু খুব ম্যাচিওরড মা। চোক্ষের নিমেষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়!
সেদিন আবার সেটা দুলাল উপলব্ধি করল। মণি কয়েকমূহুর্ত স্নিগ্ধার নাটক দেখল তারপর এগিয়ে এসে একহাতে দুলাল ও অন্যহাতে স্নিগ্ধাকে ধরে দুজনের মাঝে গিয়ে দাঁড়াল
—চটপট চটপট তুলুন!
ছবি তোলা হয়ে গেলে ক্যামেরাম্যান ছেলেটিকে সকলের সামনেই বলে দিল।
—শুধু দাদা-বৌদির পোট্রেট ছবি ছাড়া আজ আর দাদাকে আটকাবেন না। শেষমেশ ওই ছবিগুলোই থাকবে! আর আজ ওর অনেক কাজ যা যা দাদা, বড়জামাইবাবু দু-দুবার তোকে খাবারজায়গায় ডেকে পাঠিয়েছে!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৬: রাম যৌথ পরিবারের আদর্শনিষ্ঠ জ্যেষ্ঠ, তাঁর যেন এক ঘরোয়া ভাবমূর্তি

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১: খাওয়াব আজব খাওয়া

মণি সেদিন পরিস্থিতি সামলে দিলেও স্নিগ্ধা যা চেয়েছিল সেটা করতে পেরেছে। তৃপ্তির মনের মধ্যে স্নিগ্ধার অস্তিত্ব নিয়ে একটা প্রশ্নবোধক খোঁচা তৈরি করে দিয়েছে! কাজকর্ম মিটতে মিটতে অনেক রাত হল। পাশের বাড়ির দুজন বৌদি আর ছোটবোন মণি ফুলশয্যার নিয়মকানুন সেরে যখন ঘর ছাড়ল তখন রাত একটা!
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮১: সুষ্ঠুভাবে শাসনকার্য চালাতে গেলে নিজের লোকেদের পিছনেও চর নিয়োগ করতে হয়

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৮: হেলিকপ্টারে সওয়ার হয়ে চূড়ার কাছাকাছি গিয়ে পাহাড় দেখার রোমাঞ্চটাই আলাদা

মণি আর তার বর মিলে রজনীগন্ধার মালা দিয়ে ঘরটা সাজিয়ে দিয়েছে। সমবয়সী বিবাহিত বন্ধুবান্ধবেরা অনেক টিপস দিয়ে গিয়েছে। পাঞ্জাবি খুলতে খুলতে দুলাল জিজ্ঞেস করলো
—তৃপ্তি!
—উঁ
—এখানে কেন অসুবিধে হচ্ছে না তো
—না না
একটানা ফ্যানঘোরার খিঁচখিঁচ শব্দ, দুলাল ওপরে ফ্যানের দিকে তাকিয়ে বিরক্ত হল
—ফ্যানটা দেখাতে হবে!
আবার নতুন বউকে বলল
—এখানে তোমার কেমন লাগছে?
—ভালো!
আবার নৈঃশব্দ্য। হঠাৎ তৃপ্তি দুলালকে বলল।
—একটা কথা বলবো।
—হ্যাঁ বল না!
—ওই মেয়েটা কে?
— কোন মেয়েটা?
— ওই যে কালো শাড়ি, মাথায় জুঁইফুলের মালা বিয়েওলা!
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৮: কবির ভালোবাসা, কবির জন্য ভালোবাসা

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০১: মা সারদার মায়িকবন্ধন ত্যাগ

দুলাল স্পষ্ট বুঝতে পেরেছিল তৃপ্তি কার কথা বলছে। তার মনে হল কী দরকার স্নিগ্ধাকে অকারণ গুরুত্ব দিয়ে, সত্যিই তো স্নিগ্ধার কোনও অস্তিত্ব নেই তাদের জীবনে। আর স্নিগ্ধা আর ছন্দা কাকিমা যা যা করেছে বা কদিন আগে রাস্তায় স্নিগ্ধা যে বেয়াদবি করেছিল সেসব বৃত্তান্ত টেনে আনার কোনও অর্থ হয় না। তাই সে চোখ বুজে সিগারেট খেতে লাগলো।
তৃপ্তি আবার বলে উঠল—
—কি গো?(চলবে।)
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content