
রবীন্দ্রনাথ।
একঝলকে

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৮ : কুহক

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৮: অসম-মিজোরাম সীমান্তে ঘাড়মুড়ার নব আবিষ্কৃত ভাস্কর্যও সুপ্রাচীন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩২: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— গন্ধগোকুল

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৫: পোষা হরিণকে সাঁওতালপাড়ায় মারা হয়েছিল তির ছুঁড়ে

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৪: রাঙা মেঘের বেলাভূমি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৭: মধ্যরাতের অভিযান


উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৫০

দশভুজা, অন্য লড়াই: এই স্বাধীনতার জন্য আমরা লড়াই করিনি
কিন্তু প্রত্যেকের চেষ্টাকে সাফল্যের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার যে সারস্বত-গুণ থাকা দরকার ছিল সেই গুণের অধিকারী যাঁরা ছিলেন তাদের মধ্যে উত্তম কুমার এগিয়ে ছিলেন। সালতামামির ইতিহাস দাবি করবে তিনি কি সময়ের থেকে এগিয়ে ছিলেন! আমি বলব ‘না’। তিনি কখনো চাননি সময়ের থেকে এগিয়ে থাকতে। এই ‘উত্তরমেঘ’ ছবিটা পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করলে আমরা দেখতে পাব, ছবির পরতে পরতে তিনি সময়কেই চ্যালেন জানিয়েছেন।
সমকালীন সমাজ ব্যবস্থা কি চাইছে, বুনিয়াদি ব্যবস্থা ভেঙে কিভাবে আণবিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠছে সেই পরিবর্তিত ও পরিস্থিতির জরিপকার্যের নিখুঁত কারিগরের নাম ছিল উত্তম কুমার। বর্তমান প্রতিবেদকের উদ্দেশ্য নয়, ছবির আলোচনা প্রসঙ্গে উত্তমপ্রশস্তি বা তর্পণ করা। কিন্তু একটি ছবির নির্মাণ ব্যবস্থায় নতুন নায়িকা সুপ্রিয়া চৌধুরী। ঋত্বিক ঘটকের মতো পরিচালকের চোখের ইশারায় হাতে খড়ি হলেও বাণিজ্যিক ছবির ভাষা কিভাবে রপ্ত করতে হয় ফ্রেমের পর ফ্রেমে উত্তমবাবু দাবি করতেন তিনিই এ বিষয়ের সূচীপত্র।
ছবিটিতে সুপ্রিয়া চৌধুরীর অভিনয় যথেষ্ট মর্যাদাপূর্ণ ছিল। যে উত্তমকুমার সংলাপের বাঁধুনীতে দাবি করছিলেন তিনি নিছক ম্যাটিনি আইডল হিসাবে সীমাবদ্ধ থাকতে জন্মাননি। উদভ্রান্ত বাংলা ও বাঙালিয়ানার স্মৃতি-সত্তা-ভবিষ্যতের অবলম্বন হতে এসেছেন তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সুপ্রিয়ার অভিনয় যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে।

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৭ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: দেখা হবে চন্দনের বনে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪২: রামায়ণে মহর্ষি অগস্ত্যের তপস্যালব্ধ শুভশক্তির আবেদন চিরন্তন
ছবিটিকে সর্বাঙ্গ সুন্দর করতে রবীন চট্টোপাধ্যায়ের মতো সুরকারের শুধু গানের জাদু নয়, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও অন্যতম ভূমিকা হয়ে উঠেছিল। আমরা উপেক্ষা করি ছবির আবহসংগীত নির্মাণের রসদকে। ভারত বিখ্যাত যে ছবি আজও পঞ্চাশ বছরের বয়সের ভার নিয়ে ভারতবাসীকে আনন্দ দিচ্ছে সেই ‘শোলে’ ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অত্যন্ত মূল্যবান তথা ছবির অন্যতম সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। কারণ একটি অপরিচিত ঘটনাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য রাহুল দেব বর্মন নামক ক্ষণজন্মা একজন সুরের জাদুকর যে এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছিলেন তা, অত্যন্ত যথাযথ হয়েছিল। ছবিটির প্রাণ সঞ্চার করতে তাঁর মত সাংগীতিক দখল নেওয়া মানুষ খুব কমই দেখা গিয়েছে। আমরা ‘শোলে’ ছবির অন্যান্য সম্পদ আলোচনা করলেও তার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিককে নিয়ে অবহেলাই করেছি।

১৯৬০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা ছবির তালিকা।
ছবিটির এই যে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম কাজ, তাকে মাথায় রেখে ক্যামেরার সামনে নিজেকে মেলে ধরা এবং সহশিল্পীর আবেদনটিতে যথাযথ সাড়া দেওয়ার যে মানের দক্ষতা সেটাই আগামী দিনের মহানায়ককে তৈরি করেছিল।
সবদিক দিয়ে বিচার বিবেচনা করলে দেখা যাবে উত্তম কুমারের ফিল্মি কেরিয়ারে এ ছবি অন্য একটা মাইলস্টোন যা বহু জায়গাতেই উপেক্ষিত রয়ে গিয়েছে।—চলবে।
* উত্তম কথাচিত্র (Uttam Kumar–Mahanayak–Actor) : ড. সুশান্তকুমার বাগ (Sushanta Kumar Bag), অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, মহারানি কাশীশ্বরী কলেজ, কলকাতা।


















