শনিবার ৭ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

রাজা সাজা।

একঝলকে

● ছবি : রাজা সাজা
● পরিচালনা : বিকাশ রায়
● ছবির নায়িকা: সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়
● অভিনীত চরিত্রর নাম : অবিনাশ
● মুক্তির তারিখ : ০৮/০১/১৯৬০
● প্রেক্ষাগৃহ : রূপবাণী, অরুণা ও ভারতী

‘মরুতীর্থ হিংলাজ’-র পর উত্তম- সাবিত্রী ও বিকাশ রায়ের আবার ট্রায়ো। এবারের কাহিনি অনেকটা অন্যরকম। উত্তমবাবু প্রতিবছরই গতানুগতিক বা বাঁধা ছন্দ থেকে নিজেকে ভেঙেচুরে অন্যরকম ভাবে প্রকাশ করতে উদ্যোগী থাকতেন। পরিচিত পরিচালক প্রযোজকরা একটু সচেতন ভাবে উত্তম বাবুর এ সত্তাটির প্রকাশ জানতেন ও সুযোগের অপেক্ষায় থাকতেন।
যে বছর ‘রাজা সাজা’ মুক্তি পেয়েছিল তার সাত দিন আগেই ‘মায়া মৃগ’ ছবি বাজারে রমরমিয়ে চলতে শুরু করেছে। সেই সময় ‘রাজা সাজা’-র মতো ছবির আবেদন সত্যি তুলনাহীন হয়েছিল। শিক্ষা ব্যবস্থার অন্দরমহলে ঢুকে তারই ময়নাতদন্ত এবং সমাধান এ দুটোর মিশেল ছবিটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছিল।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৬ : মায়ামৃগ

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১২: এ দিন যাবে, রবে না

পিতার ঔজ্জ্বল্য কখনও ম্লান হয়নি পুত্রের খ্যাতিতে

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৬: বক্সনগরে আবিষ্কৃত হয়েছে বৌদ্ধ স্তুপ, চৈত্যগৃহ ও একটি মঠ

ছবির কাহিনি যদি গতানুগতিকতা মুক্ত না হয় তাহলে সে আর যাই হোক মানুষের মনোজাগতিক সত্তায় বাস্তবে কোনও ছাপ ফেলতে পারে না। শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক নিয়ে গত বছরই ‘হেডমাস্টার’ নামক একটি ছবি অগ্রগামীর পরিচালনায় ছবি বিশ্বাস রূপায়ণ করেছেন। তারও কিছুদিন আগে দাদাঠাকুর শরৎ পন্ডিতকে নিয়ে একটি ছবির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু উত্তম কুমার যেখানে পাশের বাড়ির দাদা কখনও প্রেমিক কখনও স্বামীরূপে মানুষের মন জয় করেছেন সেখানে এরকম একটি গতানুগতিকতা বিরোধী ছবির আধান পরিচালককে ভাবিয়ে তুলেছিল।
কলকাতায় বৃষ্টি
আমরা ছবিটির অন্দরমহলে ঢুকলে দেখতে পাবো কাহিনি, চিত্রনাট্য সবকিছুই বিকাশবাবু নিজের হাতে করেছিলেন। এবং ছবিটির সারস্বত মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখেই বলতে হচ্ছে তপন সিনহা ,অজয় কর বা অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ পরিচালকরা যে ছবি নির্মাণ করে ছিলেন পূর্ণ সময়ের অভিনেতা হয়েও বিকাশ সেই মর্যাদা দিয়েছিলেন। হিন্দিতে ‘শোলে’ ছবি যখন রিলিজ করে তার নেপথ্যে চিত্রনাট্য রচনা করেছিলেন সেলিম জাভেদের মতো হেভি ওয়েট লেখকরা। পরিচালক রমেশ সিপ্পীকে সে ধরনের কোন স্ক্রিপ্ট লেখার দায় নিতে হয়নি।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩০: কাদাখোঁচা

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৪৭: আকাশ এখনও মেঘলা

বাংলায় চিত্রটা অন্যরকম। পরিচালককে চিত্রনাট্যের গতিপথ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়। এ প্রসঙ্গে একটি কথা অবান্তর হবে না আশা করি উত্তমবাবু নিজের পরিচালনায় যে কটি ছবি করেছেন প্রত্যেকটির চিত্রনাট্যের খুঁটিনাটি নিজে তদারকি করতেন। অর্থাৎ যদি উনি আরও কুড়ি বছর বাঁচতেন আর ক্যামেরার পিছনে দাঁড়াতেন মনে হয় আরো ভালো ছবি আমরা ওঁর থেকে উপহার পেতাম। যাই হোক কাহিনির গঠনগত যে সৌকার্য সে কথা থেকে বেরিয়ে এসে এবার ভাবতে হবে ছবিটির প্লেয়ার কাস্টিং যা অন্যতম মূলধন
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৫: জরুরি একটি ফোন

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪০: রামের সত্যরক্ষা, প্রবাদপ্রতিম রামরাজ্যের স্রষ্টার বৈরাগ্যের রূপ

একজন মাস্টারমশাই যিনি প্রকৃতিগতভাবে কলকাতার জমিদার বাড়ির ছেলে এবং গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রতিবাদ করার জন্য বেছে নিয়েছিলেন ছাত্রদের নিয়ে মাছ ধরা- কুকুরের বনভোজন এবং রাস্তার সামনে ট্রাফিক সিগন্যাল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়া। আজকে যে জীবনমুখী শিক্ষার প্রচলন সারা ভারত জুড়ে চলছে তার সূত্রপাত এই ছবি।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৭ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: দেখা হবে চন্দনের বনে

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৩: মাঝ-রাতে আশ্রমে একটি বালক কাঁদছিল কেন?

ছবিটির প্রত্যেকটি আর্টিস্ট নিজে দক্ষতায় নিজেদের সেরা দিয়েছেন। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে, যদি ছবিটির ফ্রেম টু ফ্রেম আলোচনা করি সেখানে দেখতে পাই,পরিচালক বিকাশ রায় যখন জমিদার বাড়ির নায়েবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বিশেষত সুইচ বোঝানোর দৃশ্যটি এত মনোজ্ঞ যে সমস্ত ছবির প্রাণকেন্দ্র।
এ দৃশ্যে একাধারে অনেকগুলি বার্তা পরিচালক দিতে চেয়েছেন। এরপর আসি সংগীত পরিচালনা। সংগীত পরিচালক কালিপদ সেনের তত্ত্বাবধানে ছবির প্রতিটি অংশের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বিশেষত অতি উত্তম মানদণ্ড চরম উৎকর্ষ স্পর্শ করেছিল।উত্তম বাবু সবশেষে কোর্ট সিনে যখন অভিনয় করছেন তখন সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর যে আন্তরিক আকুতি এবং সেটাকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য চোখের যে এক্সপ্রেশন দেখিয়েছেন তা যে কোন দেশের অভিনয় শিল্পের একটা মানদন্ড হয়ে থাকতে পারে বলে মনে হয়।
কলকাতায় বৃষ্টি

১৯৬০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা ছবির তালিকা।

আমাদের দেশে সিনেমা নামক শিল্পচর্চার যে কয়টি মাধ্যম বা টেক্সটবুক পড়ানো হয় সেখানে উত্তমবাবুর এ ধরনের আত্মত্যাগ অনেকটা ছাত্রদেরকে এগিয়ে রাখে। তাই এ ছবির প্রতিটি অংশ মানুষের গ্রহণযোগ্যতায় কানায় কানায় ফুটে উঠেছে।—চলবে।

* উত্তম কথাচিত্র (Uttam Kumar–Mahanayak–Actor) : ড. সুশান্তকুমার বাগ (Sushanta Kumar Bag), অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, মহারানি কাশীশ্বরী কলেজ, কলকাতা।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content